উত্তর : নাফে‘ (রহঃ) হ’তে বর্ণিত হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ)-কে একজন মাইয়েত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল যার উপরে রামাযানের অথবা মানতের ছিয়াম বাকী রয়েছে। জবাবে তিনি বললেন, একজনের ছিয়াম অন্যজন রাখতে পারে না। বরং তোমরা তার মাল থেকে প্রতিদিনের ছিয়ামের বদলে একজন মিসকীনকে এক মুদ (৬২৫ গ্রাম) গম (বা চাউল) ছাদাক্বা কর’ (বায়হাক্বী ৪/২৫৪ পৃ., সনদ ছহীহ; আলবানী, হেদায়াতুর রুওয়াত হা/১৯৭৭; যঈফাহ হা/৪৫৫৭)

ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘একজনের ছালাত অন্যজনে আদায় করতে পারে না, একজনের ছিয়াম অন্যজনে রাখতে পারে না। বরং প্রতিদিনের ছিয়ামের বদলে এক মুদ (সিকি ছা‘) গম ছাদাক্বা কর’ (নাসাঈ কুবরা হা/২৯৩০, সনদ ছহীহ; মির‘আত ৭/২৮ পৃ.)। যদি তা মাইয়েতের রেখে যাওয়া সম্পদের এক তৃতীয়াংশে সংকুলান হয়। নইলে তা পূরণ করা ওয়ারিছের জন্য ওয়াজিব নয় (মির‘আত ৭/৩২ পৃ.)। ছহীহ বুখারীর ভাষ্যকার আল্লামা ‘আয়নী বলেন, বিদ্বানগণ এ ব্যাপারে ইজমা‘ করেছেন যে, একজনের ছালাত ও ছিয়াম অন্যজন রাখতে পারে না। কেননা উভয়টিই দৈহিক ইবাদত (মির‘আত ৭/২৯)। ছাহেবে মির‘আত বলেন, অধিকাংশ বিদ্বানের মতে ছিয়ামের ক্বাযা অন্যের দ্বারা হয়না। কেননা এটি দৈহিক ইবাদত। অতঃপর হাদীছে বর্ণিত,مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صَوْمٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ ‘মাইয়েতের পক্ষে তার উত্তরাধিকারী ছিয়াম রাখবে’ (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/২০৩৩)-এর অর্থ মানতের ছিয়াম (ঐ ৭/৩১ পৃ.)। উত্তরাধিকারীদের জন্য এটি অপরিহার্য নয়, তবে জায়েয। যদি তারা মনে করে (মির‘আত ৭/২৭)। এর পক্ষে তারা হাদীছ এনেছেন, مَنْ مَاتَ وَعَلَيهِ صِيَامٌ فَلْيَصُمْ عَنْهُ وَلِيُّهُ إِنْ شَاءَ ‘যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার উপরে ছিয়াম রয়েছে, তার পক্ষ থেকে তার উত্তরাধিকারী ছিয়াম রাখবে, যদি সে চায়’ (বাযযার, আত-তালখীছুল হাবীর হা/৯২৪, সনদ যঈফ)। ছাহেবে মির‘আত বলেন, যারা ছওম ওয়াজিব নয় বরং জায়েয বলেন, তারা উক্ত হাদীছ থেকে দলীল নিয়ে থাকেন (মির‘আত ৭/২৮)

ইমাম শাওকানী ও ছাহেবে মির‘আত প্রকাশ্য হাদীছ সমূহের আলোকে মাইয়েতের পক্ষে তার ক্বাযা বা মানতের ছিয়াম পালন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন (মির‘আত ৭/২৮, ৩২, ৩৪ পৃ.)। হাসান বাছরী (২১-১১০ হি.) বলেন, ‘যদি মাইয়েতের পক্ষ হ’তে ৩০ জন ব্যক্তি একদিন ছিয়াম রাখে, তবে সেটি জায়েয হবে’ (বুখারী তা‘লীক্ব ‘ছওম’ অধ্যায়-৩০, অনুচ্ছেদ-৪২)। আর যদি তার উত্তরাধিকারীরা ফিদ্ইয়া দেয়, তবে একই দিনে ৩০ জন মিসকীনকে জমা করে পেট ভরে খাইয়ে দিবে। যেমন হযরত আনাস (রাঃ) তাদেরকে গোশত-রুটি খাইয়েছিলেন (ইরওয়া হা/৫২৪, সনদ ‘ছহীহ’)

মূলত দৈহিক ইবাদত নিজেকেই করতে হয়। এগুলি জীবদ্দশায় যেমন অন্যের দ্বারা সম্ভব নয়, মৃত্যুর পরেও তেমনি অন্যের দ্বারা সম্ভব নয়। এগুলির ছওয়াবও অন্যকে দেওয়া যায় না। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি স্ব স্ব কৃতকর্মের নিকট দায়বদ্ধ’ (তূর ৫২/২১)। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ সেটাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে’ (নজম ৫৩/৩৯; বিস্তারিত দ্র. ‘ছিয়াম ও ক্বিয়াম’ বই)

প্রশ্নকারী : রাদমান, বাঘা, রাজশাহী।








বিষয়সমূহ: ছিয়াম-রামাযান
প্রশ্ন (২২/১৪২) : সোনার ব্যবসার নাম করে বিভিন্ন জনের নিকট ২২০০০০ টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এই শর্তে যে, মাসিক ৪৬০০০ টাকা করে ১০ মাস প্রদান করে ৪৬০০০০/= টাকা লভ্যাংশ সহ মূল টাকা পরিশোধ করা হবে। এই ব্যবসা কি জায়েয ?
প্রশ্ন (২২/৩৮২) : ক্বিবলা ভুল করে ছালাত আদায়ের পর ভুল বুঝতে পারলে উক্ত ছালাত কি পুনরায় আদায় করতে হবে?
প্রশ্ন (১১/১১) : মাসআলা-মাসায়েল সাব্যস্তের ক্ষেত্রে ফিক্বহের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? বিভিন্ন জবাবের ক্ষেত্রে কুরআন-হাদীছের সাথে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিদ্বানদের সিদ্ধান্ত আহলেহাদীছ-হানাফী উভয়েরই বই-পত্রে উল্লেখ করা হয়। এক্ষণে ইমামদের মতামত গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের মূলনীতি কি?
প্রশ্ন (১৬/১৩৬) : মাসজিদুল হারামের পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে হারামের ছালাতের জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১৪/১৩৪) : মসজিদের দেয়ালে মুছল্লীদের স্মরণ করার সুবিধার্থে কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ লেখা জায়েয হবে কি? - -আবেদ আলী*, মালদহ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।* [শুধু ‘আবেদ’ লিখুন (স.স.)]
প্রশ্ন (২৩/১৪৩) : ছালাতে সিজদা দেওয়ার সময় আগে নাক ঠেকবে না কপাল ঠেকবে, আর সিজদা থেকে উঠার সময় কপাল আগে উঠবে না নাক উঠাতে হবে?
প্রশ্ন (২৬/২৬) : অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য তাদের বইপত্র পড়া যাবে কি? যেমন বাইবেল, গীতা, রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি?
প্রশ্ন (২৭/৩৪৭) : বিবাহের সময় পাত্র পূর্ণ সম্মতি সহ কেবল আলহামদুলিল্লাহ বললেও সরাসরি ‘কবুল’ বলেনি। উক্ত বিবাহ গ্রহণযোগ্য হবে কি?
প্রশ্ন (১০/৪৫০) : ছেলেদের জন্য রূপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয হবে কি? এটা কোন পর্যায়ভুক্ত পাপ?
প্রশ্ন (৯/৯) : সম্প্রতি বাংলাদেশে সার্বজনীন পেনশন স্কীম চালু হয়েছে। যে পদ্ধতিতে এটি করা হয়েছে তা কি ইসলামী শরী‘আত সম্মত?
প্রশ্ন (৯/৯) : জমি ক্রয়ের কিছুদিন পর খারিজ করতে গিয়ে জানতে পারি যে, জমির একটা অংশ বিক্রেতার ভাইয়ের। বিক্রেতার ঐ ভাই মারা গেছেন বলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান। আবার কখনো বলেন তারা তো জমি দাবী করছে না। আপনার ভোগ করতে সমস্যা কোথায়? এক্ষণে উক্ত জমি ভোগ করা জায়েয হবে কি? আমাদের জন্য ঐ মৃত ভাইয়ের পরিবারকে বিষয়টা জানানো প্রয়োজন কি?
প্রশ্নঃ (৯/৪০৯) : অপবিত্র অবস্থায় বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো যাবে কি?
আরও
আরও
.