বর্তমানে যেখানে ভাইয়ে-ভাইয়ে বিবাদ মানেই জমিজমা বা অর্থ-সম্পদ দখলের লড়াই, সেখানে সউদী আরবের আল-কাছীমের আল-আসিয়াহ শহরে ঘটে গেছে এক নযীরবিহীন হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। পঁচাত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এবং তাঁর ছোট ভাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কোন সম্পদ ভাগাভাগি করতে নয়, বরং নিজেদের বৃদ্ধা মায়ের সেবার দায়িত্ব কার কাঁধে থাকবে, তা নিশ্চিত করতে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হিজাম আল-গামেদী নামের এক ব্যক্তি। কয়েক বছর ধরে তিনি তাঁর অতিবৃদ্ধা মায়ের সেবা-যত্ন একাই করে আসছিলেন। একদিন তার ছোট ভাই দাবী করলেন, এখন থেকে মায়ের দেখাশোনা এবং খেদমতের দায়িত্ব তিনি পালন করতে চান। কিন্তু হিজাম কিছুতেই রাযী হননি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মায়ের খেদমত করে যেতে চান। দুই ভাইয়ের এই পবিত্র প্রতিযোগিতায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাইলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। আদালতে বিচারক মাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি আপনার কোন ছেলের কাছে থাকতে চান?’ বৃদ্ধা মা তখন আবেগজড়িত কণ্ঠে উত্তর দেন, ‘এরা দু’জন আমার দুই চোখের মতো। একটিকে রেখে আমি অন্যটিকে কিভাবে বেছে নেব? আমি কাউকেই ছাড়তে পারব না’। মায়ের এই উত্তরে আদালত কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিচারক সব দিক বিবেচনা করে দেখলেন যে, বড় ভাই হিজাম নিজেও বেশ বৃদ্ধ হয়ে গেছেন এবং অসুস্থ। তাই মায়ের সঠিক যত্নের কথা চিন্তা করে আদালত ছোট ভাইয়ের পক্ষে রায় দেন এবং মায়ের যিম্মাদারী ছোট ভাইকে প্রদান করেন। রায় শোনামাত্রই ৭৫ বছর বয়সী হিজাম বিচারকের সামনেই অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর এই কান্না কোন মামলা হারার জন্য ছিল না, ছিল না কোন সম্পত্তি হারানোর বেদনা। তাঁর এই কান্না ছিল মায়ের সেবা করার মতো মহান সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কষ্টে।
এই ঘটনাটি সউদী আরবসহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ত্যাগের ও মাতা-পিতার প্রতি ভালোবাসা ও খেদমতের এক অনন্য নযীর সৃষ্টি করে। আধুনিক সমাজে যেখানে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে এই দুই ভাইয়ের লড়াই সারা বিশ্বের সন্তানদের জন্য এক অনন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।