উত্তর : উক্ত হাদীছটি তিরমিযীসহ বিভিন্ন হাদীছ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যায় ছাহেবে মিরক্বাত বলেন, এই হাদীছের উদ্দেশ্য হ’ল মানুষকে সতর্ক করা যেন জমি, সম্পত্তি বা এর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে এত ব্যস্ত হয়ে না পড়ে যে, তা আল্লাহ্র ইবাদত ও আখেরাতের কাজে বাধা সৃষ্টি করে (মিরক্বাত ৮/৩২৪২)। ত্বীবী বলেন, ‘তুমি জমি বা সম্পদে এত লিপ্ত হয়ে যাবে না যে, তা তোমাকে আল্লাহ্র স্মরণ ও ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়’। আল্লাহ বলেন, ‘(মসজিদ আবাদকারী) ঐ লোকগুলি হ’ল তারাই, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্র স্মরণ থেকে এবং ছালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান থেকে উদাসীন করতে পারে না’ (নূর ২৪/৩৭)।
অন্যদিকে, যদি কেউ সেই জমি বা ফসল নিজের প্রয়োজনের জন্য বা অন্য মুসলিমদের উপকারের জন্য চাষাবাদ করে এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন করে, তাহ’লে তার জন্য নেকী অব্যাহত থাকে। মুসলিমের বর্ণনামতে, যে কেউ বৃক্ষ রোপণ করে বা ফসল লাগায়, তার জন্য এটি ছাদাক্বা হবে ক্বিয়ামতের দিন পর্যন্ত এবং ছওয়াব চলবে যতক্ষণ সেই রোপণকৃত বৃক্ষের ফল বা ফসল খাওয়া হবে। এমনকি বৃক্ষ রোপণকারী মারা গেলেও অথবা মালিকানা অন্য কারো হাতে চলে গেলেও তার নেকী অব্যাহত থাকবে (ফাৎহুল বারী ৫/০৪)।
প্রশ্নকারী : শাকীল হোসাইন, ঢাকা।