উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ রক্ষায় নিহত হয়, সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজের জীবন রক্ষায় নিহত হয়, সে শহীদ। যে ব্যক্তি দ্বীন রক্ষায় নিহত হয়, সে শহীদ। আর যে ব্যক্তি পরিবার রক্ষায় নিহত হয়, সেও শহীদ’ (মুসলিম হা/৪৭৭২; মিশকাত হা/৩৫১২)। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আপনি কী বলেন, যদি কেউ এসে আমার সম্পদ নেওয়ার চেষ্টা করে? তখন কি করতে হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার সম্পদ তাকে দিবে না। সে বলল, যদি সে আমার সঙ্গে যুদ্ধ করে? তিনি বললেন, তুমি তার সঙ্গে যুদ্ধ কর। সে বলল, যদি সে আমাকে হত্যা করে? তিনি বললেন, তুমি শহীদ। সে বলল, যদি আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, সে জাহান্নামী’ (মুসলিম হা/১৪০; মিশকাত হা/৩৫১৩)। যদি কেউ নিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও প্রতিরোধ করে, তবে তা আত্মহত্যা নয় বরং ইসলামে বৈধ সাহসিকতা। কারণ আত্মহত্যা হ’ল নিরর্থক নিজের প্রাণনাশ করা। কিন্তু ন্যায় রক্ষায় আত্মোৎসর্গ আত্মহত্যা নয় বরং ইবাদত ও সাহসিকতা। আছেম ইবনু ছাবেত বলেন, ‘তার এই লড়াই হবে নিজের অথবা নিজের সম্মান রক্ষার জন্য। এমনকি যদি তার ধারণা থাকে যে এতে সে শহীদ হবে তবুও। যদি এই প্রতিরোধের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য (অন্যায় প্রতিরোধ বা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ) অর্জিত হয়, তাহ’লে তা শরী‘আতের দ…ৃষ্টতে বৈধ জিহাদের একটি চেষ্টার অংশ বলে গণ্য হবে (জামে‘উল মাসায়েল ৫/৩২৮-৩২৯)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, তাদের (অর্থাৎ ছিনতাইকারী দলকে) সহজতম উপায়ে প্রতিরোধ করতে হবে। যদি তাদেরকে লড়াই করে সরানোর প্রয়োজন হয়, তাহ’লে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বৈধ। যদি কেউ এই লড়াইয়ের সময় নিহত হয়, তবে সে শহীদ হবে (মাজমূউল ফাতাওয়া ৩৪/২৪২)।
প্রশ্নকারী : আব্দুর রহমান ইব্রাহীম, নাটোর।