উত্তর : এমতাবস্থায় গর্ভপাত ঘটানো যাবে না। বরং জন্মগ্রহণের পর স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। হ’তে পারে আল্লাহ তা‘আলা এর মধ্যে শিশুর গঠনে পরিবর্তন করে দিবেন। সেজন্য অনাগত শিশুর সুস্থতার জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা যতদিন তার হায়াত রেখেছেন ততদিন পর্যন্ত সেবা করে যেতে হবে। রাবেতা আ‘লামিল ইসলামীর ফিক্বহ বোর্ডে বলা হয়েছে- ১. যদি গর্ভধারণের সময় ১২০ দিনের কম হয় এবং নির্ভরযোগ্য, দক্ষ মুসলিম চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগারে প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি গুরুতরভাবে বিকলাঙ্গ এবং তার চিকিৎসার কোন সম্ভাবনা নেই এবং গর্ভকাল পূর্ণ করে জন্মালে তার জীবন হবে অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং পরিবারকেও চরম কষ্টে ফেলবে তাহ’লে এই অবস্থায় পিতা-মাতার অনুরোধে গর্ভপাত করা জায়েয হবে। ২. যদি গর্ভধারণের সময়কাল একশত বিশ (১২০) দিন অতিক্রম করে ফেলে, তাহ’লে গর্ভপাত করা জায়েয নয়। যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় যে শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মাবে। তবে যদি বিশ্বস্ত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, গর্ভ ধরে রাখলে মায়ের জীবন হুমকির মুখে পড়বে তাহ’লে এই পরিস্থিতিতে গর্ভপাত জায়েয হবে, শিশু বিকলাঙ্গ হোক বা না হোক, দুই বিপদের মধ্যে বড় বিপদকে ঠেকানোর উদ্দেশ্যে’ (উছায়মীন, লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ৬৪৫/১৩-১৪; রাবেতা আলমে ইসলামী-র ফিক্বহ একাডেমীর সিদ্ধান্ত (১২তম অধিবেশন, মক্কা মুকাররমা, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল মালেক, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।