উত্তর : দাদার সম্পত্তিতে পৌত্র-পোত্রীদের কোন অংশ নেই। এজন্য যদি তাদের পিতা দাদার জীবদ্দশায় মারা যান, এমন ক্ষেত্রে তারা ওয়ারিছ হয় না। বরং উত্তরাধিকার পায় তাদের চাচারা, অর্থাৎ দাদার জীবিত ছেলেরা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা সূরা নিসায় মাইয়েতের সম্পদ বণ্টনের যে খাতগুলো বর্ণনা করেছেন তাতে পৌত্র-পৌত্রীদের কথা উল্লেখ নেই। আর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ফরয অংশগুলো তাদের প্রাপ্যদের মধ্যে বণ্টন করে দাও, তারপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা সবচেয়ে নিকটবর্তী পুরুষ আত্মীয়কে দেওয়া হবে (বুখারী হা/৬৭৩২; মিশকাত হা/৩০৪২)। অত্র হাদীছে নিকটতম বলতে মাইয়েতের ছেলেদের বুঝানো হয়েছে। তবে যদি দাদা নিজের জীবদ্দশায় সন্তানের অবর্তমানে তার পৌত্র-পৌত্রীদের জন্য কিছু অছিয়ত করে যান, যেমন সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্য থেকে কোন পরিমাণ, সেটা উত্তম হবে। দাদা চাইলে এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ, এক-পঞ্চমাংশ বা নির্দিষ্ট কিছু সম্পদ তাদের জন্য অছিয়ত করে যেতে পারেন।
আর যদি দাদা অছিয়ত না করেও যান, তাহ’লে চাচা বা অন্য ওয়ারিছদের কর্তব্য হবে তাদেরকে সহযোগিতা করা। তবে কেউ যেন ভুল করে এটা মনে না করে যে, পৌত্রদের এই অংশ দেওয়া ফরয বা বাধ্যতামূলক। বরং এটা তাদের প্রতি সহানুভূতি (বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২০/২০৪)। উল্লেখ্য যে, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন হওয়ায় পরিবারের প্রাথমিক দায়িত্ব বহনকারীই আগে সম্পদ পান। সেজন্য নাতী-নাতনীরা দাদার সম্পত্তির সরাসরি অংশীদার হন না। তবে সূরা বাক্বারা ১৮০ নং আয়াতের ভিত্তিতে একদল বিদ্বান মনে করেন, এরূপ অসহায় নাতী-নাতনীদের জন্য দাদার পক্ষ থেকে সম্পদ অছিয়ত করা ওয়াজিব (ইবনু হাযম, আল-মুহাল্লা, ৮/৩৫১)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, নাটোর।