চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে অনেকটাই ধস নেমেছে। গত বছর থেকে পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ কমেছে ৪৩ হাযার ৯৭ জনের। গত এক যুগে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে এমন ধস দেখা যায়নি। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গণিত বিষয়ে বড় ধরনের ফল বিপর্যয় ঘটেছে। পাসের হার কম ছিল ইংরেজীতেও। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে বিপর্যয় ঘটেছে সামগ্রিক ফলাফলে। সব মিলে ধস নেমেছে এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আওয়ামী শাসনামলের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের এ আমলে এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের ছিল না ওভার মার্কিং বা গ্রেস নম্বর দেওয়ার সুযোগ। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন হয়েছে যথাযথভাবে। এর ফলে পাসের হার কমেছে অনেক।
ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবীর বলেন, ‘এবার কোন ধরনের বাড়তি নম্বর বা গ্রেস মার্কস কাউকে দেওয়া হয়নি। মেধার প্রকৃত মূল্যায়নের শতভাগ প্রচেষ্টা করা হয়েছে। পরীক্ষকদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল’।
তবে কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, খাতা মূল্যায়নে স্বল্প সময়, শিক্ষার্থীদের লার্নিং গ্যাপ, বারবার কারিকুলাম পরিবর্তনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রস্ত্ততিতে ঘাটতি এই বিষয়গুলো এবারের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবার এসএসসিতে রাজশাহী বোর্ডে সর্বোচ্চ ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে আর বরিশাল বোর্ডে পাস করেছে মাত্র ৫৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অথচ গত বছরেও বরিশাল বোর্ডে পাস করেছিল ৮৯ দশমিক ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী।