আন্তর্জাতিক বাহিনীর হাতে গাদ্দাফী নিহত

লিবিয়ার অবিসংবাদিত নেতা কর্ণেল মু‘আম্মার আল-গাদ্দাফী সাম্রাজ্যবাদী ইহুদী-খৃষ্টানচক্রের সামরিক জোট ‘ন্যাটো’র বিমান হামলায় গত ২০ অক্টোবর নিহত হন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘ঊন। নিজ জন্মশহর সির্ত থেকে ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮-টার দিকে পালানোর চেষ্টা করেন গাদ্দাফী। এ সময় তার গাড়িবহরে বিমান হামলা চালায় ন্যাটো। হামলায় গাদ্দাফির গাড়ি বহরের ১৫টি ট্রাকই ধ্বংস হয় এবং আরোহী ৫০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন গাদ্দাফী পুত্র মু‘তাছিম ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবূবকর ইউনুস। তবে কয়েকজন সঙ্গীসহ গাদ্দাফী বেঁচে যান। গাছের আড়াল দিয়ে তিনি মূল রাস্তার দিকে দৌড়ে যান এবং পয়ঃনিষ্কাশন পাইপে লুকিয়ে পড়েন। তখন সেখান থেকে তাকে বাইরে নিয়ে আসা হয়। তখন তিনি আহত ছিলেন। তার মাথা ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। এরপর তাকে একটি গাড়ির বনেটের ওপর টেনেহেঁচড়ে তোলা হয়। আবার একইভাবে নামানো হয়। এ সময় একজন তার মাথা বরাবর বন্দুক তাক করে গুলী করলে তিনি নিহত হন। তাঁর লাশ মিসরাতা শহরের এক বাজারে বড় একটি গোশত রাখার হিমঘরে রাখা হয়েছে। এভাবে ১৯৮৬ সাল থেকে পশ্চিমাদের টার্গেটে থাকা দীর্ঘ ৪২ বছরের অধিক লিবিয়ার শাসক গাদ্দাফী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।

[বিস্তারিত আগামী সংখ্যায়]

ফিলিস্তীনকে ইউনেস্কোর সদস্যপদ দিতে সম্মতি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু ও নিরাপত্তা পরিষদে ওবামার ভেটো দেয়ার হুমকি সত্ত্বেও গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পূর্ণ সদস্যপদের জন্য ফিলিস্তীন আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে জাতিসংঘের কাছে। আবেদনপত্রটি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে হস্তান্তর করেন ফিলিস্তীনের প্রেসিডেন্ট মাহমূদ আববাস। তিনি এর মাধ্যমে ১৯৬৭ সালের পূর্ব সীমানা অনুযায়ী সার্বভৌম ফিলিস্তীন রাষ্ট্রের মর্যাদা চান। নিরাপত্তা পরিষদে প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হ’লে আমেরিকার ভেটোর কারণে মাত্র দুই মিনিট আলোচনা চলে। এরপর আলোচনা ভেঙ্গে যায়। এদিকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক শাখা ‘ইউনেস্কো’ ফিলিস্তীনকে তার সদস্যপদ দিতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তীনীদের প্রথম কূটনৈতিক বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিক মহল। তাদের আশা, এ স্বীকৃতির মাধ্যমে ফিলিস্তীন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভের ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। যদিও এ সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ মাসের (অক্টোবর) শেষে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সভায় ফিলিস্তীনের এ বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হবার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া ফিলিস্তীনকে স্বীকৃতি দিলেও ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। আর সাধারণ পরিষদের মোট ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১২২টি দেশ ইতিমধ্যে ফিলিস্তীনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

হামাস-ইসরাঈল বন্দী বিনিময় চুক্তি : হামাসের হাতে আটক ইসরাঈলী সেনা গিলাদ শালিতের মুক্তির বিনিময়ে ১ হাযার ২৭ জন ফিলিস্তীনীকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে ইসরাঈল। গাযা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস শালিতকে ২০০৬ সালে সীমান্ত অঞ্চলে আটক করে। গত ১১ অক্টোবর ইসরাঈল ও হামাসের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে গত ১৮ অক্টোবর প্রথম দফায় ৪৭৭ জন ফিলিস্তীনীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরাঈল। দ্বিতীয় ধাপে শালিতের স্বদেশ  প্রত্যাবর্তনের  পর আগামী দু’মাসের মধ্যে আরো ৫৫০ ফিলিস্তীনীকে মুক্তি দিবে ইসরাঈল।






আরও
আরও
.