উত্তর : হাদীছটি হ’ল, আব্দুল্লাহ বিন জা‘ফর (রাঃ) বলেন, নবী (ছাঃ) জা‘ফরের সন্তানদেরকে (জা‘ফর -এর শাহাদাতের জন্য) শোক প্রকাশের জন্য তিনদিন সময় দিলেন। অতঃপর তিনি তাদের কাছে এলেন এবং বললেন, আজকের পর থেকে তোমরা আর আমার ভাইয়ের জন্য কান্নাকাটি করবে না। অতঃপর বললেন, আমার ভাইয়ের সন্তানদের আমার কাছে ডেকে আনো। সেমতে আমাদেরকে আনা হ’ল। যেন আমরা কতকগুলি পাখির ছানা। অতঃপর তিনি বললেন, নাপিত ডেকে আনো। অতঃপর নাপিত এসে আমাদের মাথা মুন্ডন করে দিল (আবুদাউদ হা/৪১৯২; আহমাদ হা/১৭৫০; মিশকাত হা/৪৪৬৩, সনদ ছহীহ)

উক্ত হাদীছের ফলে কারো কারো ধারণা পিতা-মাতা মারা গেলে তিনদিন পরে মাথা মুন্ডন করা কর্তব্য। কিন্তু এই ধারণা ভুল। কেননা উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বিদ্বানগণ বলেন, জা‘ফর (রাঃ)-এর শিশু সন্তানরা যাতে শোকে নিজেদের দেহ ও চুল কালিমালিপ্ত না করে সেজন্য রাসূল (ছাঃ) তাদের মাথা ন্যাড়া করে দিতে বলেন (উছায়মীন, শারহু রিয়াযিছ ছালেহীন হা/১৬৪০-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। তাছাড়া তাদের মা স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোকগ্রস্ত থাকার কারণে হয়ত সন্তানদের চুল পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবে না। এই আশঙ্কায় রাসূল (ছাঃ) তাদের মাথা মুন্ডন করে দেন (আউনুল মা‘বুদ ১১/১৬৪; মিরক্বাত ৭/২৮৩৪)

উল্লেখ্য যে, কারো মৃত্যুতে শোকের নিদর্শন হিসাবে মাথা মুন্ডন করা হারাম। যেটি হিন্দুদের মধ্যে চালু আছে। আবু বুরদাহ (রহঃ) বলেন, ছাহাবী আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তার মাথা তার পরিবারের এক মহিলার কোলে ছিল। মহিলাটি চিৎকার করে উঠলো। কিন্তু তিনি তাকে থামাতে পারছিলেন না। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল তখন তিনি বললেন, আমি তাদের সাথে সম্পর্ক রাখি না, যাদের থেকে রাসূল (ছাঃ) সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। যে সব নারী (মৃতের শোকে) উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করে, মাথার চুল ছিঁড়ে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে, রাসূল (ছাঃ) তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন (বুখারী হা/১২৯৬; মুসলিম হা/১০৪; আলবানী, আহকামুল জানায়েয ৩০ পৃ.)

প্রশ্নকারী : কাযী হারুনুর রশীদ, ফকীরের পুল, ঢাকা।







বিষয়সমূহ: বিবিধ
প্রশ্ন (১৩/১৭৩) : জনৈকা মহিলা প্রতিদিন সন্ধ্যায় জিনের আছরে আক্রান্ত হয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। সে জর্দা দ্বারা পান খাওয়া ব্যতীত কোন কিছুতেই সুস্থ হয় না। এক্ষণে এধরনের হারাম বস্ত্ত দ্বারা চিকিৎসা নেওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (৩৩/২৩৩) : কারণবশতঃ এলাকার মসজিদে ছালাত আদায় না করে দূরের কোন মসজিদে আদায় করলে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি? - -এস.কে. আযহার, কলিকাতা, ভারত।
প্রশ্ন (৮/২৪৮) : জনৈক বক্তা বলেন, কোন ব্যক্তি যদি গোনাহ করে, তাহ’লে গোনাহ লেখক ফেরেশতা ছয় ঘন্টা অপেক্ষা করে। এর মধ্যে যদি সে তওবা করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহ’লে উক্ত গোনাহ লেখা হয় না। আর তওবা না করলে একটি গোনাহ লেখা হয়। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা জানতে চাই। - -জাহিদ হাসান রাজীব, মোহনপুর, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৪০/৩৬০) : ঈসা (আঃ) কি বর্তমানে জীবিত? ক্বিয়ামতের কতদিন পূর্বে তিনি আসবেন এবং কি কি কাজ করবেন?
প্রশ্ন (৩১/৩৫১) : প্রচলিত আছে যে, আরশের নীচে রাসূল (ছাঃ)-এর নাম লেখা ছিল। আদম (আঃ) ঐ নামের অসীলায় ক্ষমা পেয়েছিলেন। এ বক্তব্যের কোন ভিত্তি আছে কি?
প্রশ্ন (১২/২১২) : মসজিদের সামনে জনসাধারণের বসার স্থান তৈরী করা যাবে কি?
প্রশ্ন (৩০/৪৩০) : সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ কুরবানী করেনি। এখন সে ভুল বুঝতে পেরেছে। এক্ষেত্রে করণীয় কি? কুরবানীর ক্বাযা আদায়ের কোন বিধান আছে কি? - -নাজমুল হুদা, চরমোহনপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
প্রশ্ন (২৪/২৬৪) : মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করার পর মানুষ ৪০ কদম পথ অতিক্রম করতেই মৃতের হিসাব শুরু হয়। বহুল প্রচলিত এই কথাটির কোন সত্যতা আছে কি? - -যহূরুল ইসলামবিরামপুর, দিনাজপুর।
প্রশ্ন (৩৬/৩৭৬) : সুন্নাত বা নফল ছালাতে বাংলায় দো‘আ করা যাবে কি? হারামের ইমামদের দেখা যায় তাঁরা রামাযান মাসে বিতর ছালাতে ইচ্ছামত লম্বা দো‘আ আরবী ভাষায় পড়েন। এক্ষণে আরবীতে পড়লে জায়েয, কিন্তু বাংলায় পড়লে নাজায়েয হবে কি? - -শো‘আইব আহমাদ, ডুইসবার্গ, জার্মানী।
প্রশ্ন (৩২/৩৯২) : তিন ব্যক্তির দো‘আ কবুল করা হয় না। (১) যে ব্যক্তির দুশ্চরিত্রা স্ত্রী আছে, কিন্তু সে তাকে তালাক দেয় না। (২) যে ব্যক্তির অন্য লোকের কাছে পাওনা আছে, কিন্তু সে তার স্বাক্ষী রাখেনি। (৩) যে ব্যক্তি নির্বোধ ব্যক্তিকে সম্পদ দিয়ে দেয় অথচ আল্লাহ বলেন, তোমরা নির্বোধদেরকে তোমাদের সম্পদ দিয়ো না’ হাদীছটির বিশুদ্ধতা এবং ব্যাখ্যা জানতে চাই।
প্রশ্ন (৩২/১৯২) : ইবরাহীম (আঃ)-এর স্ত্রী হাজেরার পিতৃ পরিচয় জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (১১/৪৫১) : আমাদের মসজিদে পুরুষদের শেষ কাতার থেকে ১৫ থেকে ২০ ফিট পিছনে মহিলাদের জুম‘আর ছালাত আদায়ের ঘর করা হয়েছে। এক্ষণে মাঝখানে তিন-চার কাতার স্থান খালি রাখলে ছালাত আদায় হবে কি?
আরও
আরও
.