‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে দু’দিনব্যাপী ৩০তম বার্ষিক তাবলীগী ইজতেমা রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া ট্রাক টার্মিনাল ময়দানে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফালিল্লা-হিল হাম্দ। ১ম দিন বাদ আছর বিকাল সোয়া ৪-টায় তাবলীগী ইজতেমা’২০-এর সভাপতি মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব-এর সভাপতিত্বে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান :

প্রথমে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর হিফয বিভাগের প্রধান হাফেয লুৎফর রহমান এবং তার বঙ্গানুবাদ করেন ‘আল-আওন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির। অতঃপর স্বাগত ভাষণ পেশ করেন তাবলীগী ইজতেমা ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক ও ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল লতীফ। অতঃপর উদ্বোধনী ভাষণ পেশ করেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত। তিনি বলেন, একজন মুসলিমের সবচেয়ে বড় পরিচয় হ’ল সে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত জীবনের সর্বক্ষেত্রে সে নিঃশর্তভাবে আল্লাহর বিধান মেনে চলবে- এটাই তার চিরন্তন বৈশিষ্ট্য। কিন্তু মুসলিম উম্মাহ আজ তার আত্মপরিচয় ভুলতে বসেছে। ফলে ধর্মীয় জীবনে সে যেমন হাযারো কুসংস্কার, শিরক ও বিদ‘আতে আচছন্ন হয়ে পড়েছে, তেমনি সামাজিক জীবনে নানা বাতিল মতবাদের শিকার হয়ে ইসলামের বিশুদ্ধ শিক্ষা থেকে বহু দূরে ছিটকে পড়েছে। এমতাবস্থায় উত্তরণের একমাত্র উপায় হ’ল আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং আল্লাহর দ্বীনকে নিজের জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা। তিনি সকলকে শৃংখলা ও সহমর্মিতার সাথে ইজতেমার ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য বজায় রেখে এখানে দু’দিন অবস্থানের আহবান জানান এবং আল্লাহর নামে দু’দিনব্যাপী তাবলীগী ইজতেমার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

নির্ধারিত বক্তৃতা পর্ব :

উদ্বোধনী ভাষণের পর পূর্ব নির্ধারিত বিষয়বস্ত্ত সমূহের উপর ১ম দিন রাত দুইটা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য পেশ করেন যথাক্রমে (১) ‘আন্দোলন’-এর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক দুররুল হুদা (রাজশাহী) (বিষয় : দাওয়াতের গুরুত্ব ও পদ্ধতি) (২) ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ ঢাকা-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলার সভাপতি হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ (বগুড়া) (পিতা-মাতার অধিকার ও সন্তানের কর্তব্য) (৩) ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব (মারকায) (একজন আদর্শ মুসলিম যুবকের বৈশিষ্ট্য) (৪) ‘আন্দোলন’-এর তাবলীগ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (কুমিল্লা) (সমাজ পরিবর্তনের স্থায়ী কর্মসূচী) (৫) ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ ওলামা ও ইমাম সমিতি’-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল (পাবনা) (সমকালীন কিছু ফিৎনা : উত্তরণের উপায়) (৬) আল-ফুরক্বান ইসলামিক সেন্টার, বাহরাইন-এর দাঈ মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম (রাজশাহী) (কালেমায়ে শাহাদতের তাৎপর্য) (৭) রূহুল আমীন (মুর্শিদাবাদ, ভারত) (অমুসলিমদের দাওয়াত দানের পদ্ধতি) (৮) মাওলানা মুখলেছুর রহমান (নওগাঁ) (সূদ ও ঘুষের ভয়াবহ পরিণতি) (৯) ঢাকা-উত্তর যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিন হাবীব (ইসলামে নারীর মর্যাদা ও পরিবারিক জীবনে তার দায়িত্ব) (১০) নওগাঁ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক আফযাল হোসাইন (সমাজে প্রচলিত বিদ‘আত সমূহ)।

আমীরে জামা‘আতের ১ম রাতের ভাষণ :

এ দিন বাদ এশা মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা বাক্বারার ২১৩ নং আয়াতের আলোকে সারগর্ভ ভাষণ পেশ করেন। তিনি বলেন, অত্র আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম জাতির আক্বীদাগত বিভক্তি ও সামাজিক ভাঙন চিত্র যেমন তুলে ধরেছেন, তেমনি তা থেকে নিষ্কৃতির পথও বাৎলে দিয়েছেন। সাথে সাথে এখানে এটাও বলে দেওয়া হয়েছে যে, যত দলই সৃষ্টি হউক না কেন, একটি দলই মাত্র শুরুতে জান্নাতী হবে, যারা রাসূল (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবায়ে কেরামের আক্বীদা ও আমলের যথার্থ অনুসারী হবে। বনু ইসরাঈল ৭২ ফের্কায় বিভক্ত হয়েছিল। আর উম্মতে মুহাম্মাদী ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। সবাই জাহান্নামে যাবে, একটি দল ব্যতীত। যারা ছাহাবায়ে কেরামের বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমলের অনুসারী হবে। আক্বীদার ক্ষেত্রে এদেশে প্রধানতঃ তিন শ্রেণীর মানুষ বিদ্যমান। তাহ’ল খারেজী, মুরজিয়া ও আহলেহাদীছ। খারেজীরা চরমপন্থী, মুরজিয়ারা শৈথিল্যবাদী আর আহলেহাদীছরা মধ্যপন্থী। যাদের নিকট বিশ্বাস ও স্বীকৃতি হ’ল মূল এবং কর্ম হ’ল শাখা। তারা চরমপন্থায় বিশ্বাসী নয়। তিনি বলেন, সরকার হটানো আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং সরকারকে উপদেশ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের আক্বীদা হবে মযবূত ও আচরণ হবে নম্র। অতঃপর তিনি নাজী ফের্কার বৈশিষ্ট্য সমূহ তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় দিন বাদ ফজর থেকে :

২য় দিন বাদ ফজর ইজতেমা প্যান্ডেলে দরসে কুরআন পেশ করেন ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ সঊদী আরব শাখার সহ-সভাপতি হাফেয আখতার মাদানী (আখেরাতের পথযাত্রা ও তার প্রস্ত্ততি)। একই সময়ে দারুল হাদীছ (প্রাঃ) বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে দরসে হাদীছ পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর দফতর সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক-এর সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (সংগঠনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা)। অতঃপর ইজতেমা প্যান্ডেলে বেলা ৮-টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আলোচনা পেশ করেন যথাক্রমে (১) ‘সোনামণি’র কেন্দ্রীয় পরিচালক মুহাম্মাদ আব্দুল হালীম (মারকায) (আদর্শ সন্তান গড়ার উপায়), (২) জামালপুর-দক্ষিণ যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক ক্বামারুয্যামান বিন আব্দুল বারী (ফের্কাবন্দী ও ইমাম চতুষ্টয়ের নীতি) (৩) মাওলানা মুখলেছুর রহমান (নওগাঁ) (ছালাতের বিশুদ্ধ পদ্ধতি)। এরপর শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মাসিক ‘আত-তাহরীক’-এর সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম ও আল-ফুরক্বান ইসলামিক সেন্টার, বাহরাইন-এর দাঈ মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম (রাজশাহী)।

শিক্ষক সমাবেশ :

ইজতেমার ২য় দিন সকাল সাড়ে ৮-টায় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর পূর্ব পার্শ্বস্থ ময়দানে ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ শিক্ষক সমিতি’-এর উদ্যোগে ‘শিক্ষক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব অসুস্থ থাকায় তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম। ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি মাওলানা দুররুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদান  করেন (১) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন (২) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক দুর্রুল হুদা (৩) ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বোর্ড’-এর চেয়ারম্যান ও ‘যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি  ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব (৪) বোর্ডের সচিব ও মারকাযের শিক্ষক শামসুল আলম। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন (১) জগতপুর বুড়িচং আফতাবিয়া ফাযিল মাদরাসার (কুমিল্লা) ভাইস প্রিন্সিপাল ও কুমিল্লা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ ছফিউল্লাহ (২) লালমাটিয়া কলেজ, ঢাকার সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মাদ আশরাফুল ইসলাম (৩) আইকিউএসি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-ঢাকার অতিরিক্ত পরিচালক জুনাইদ মুনীর (৪) দারুল হাদীছ আহমাদিয়াহ সালাফিইয়াহ, বাঁকাল, সাতক্ষীরার সুপার মাওলানা সারোয়ার হোসাইন (৫) ইছলাহুল উম্মাহ মহিলা মাদরাসা ও ইয়াতীমখানার পরিচালক হাফেয মুখলেছুর রহমান (বগুড়া) (৬) নানিয়ারচর পুনর্বাসন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মুহাম্মাদ ফযলুল বারী (রাঙ্গামাটি)। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নওদাপাড়া মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম। সমাবেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক পরিচালক/সভাপতি, প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

যুব সমাবেশ :

২য় দিন সকাল ১০-টায় আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী নওদাপাড়া, রাজশাহীর পূর্ব পার্শ্বস্থ ময়দানে ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে ‘যুবসমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, তোমরা যুবসমাজ জাতির মেরুদন্ড। তোমাদেরকে হক-এর দাওয়াত নিয়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে হবে। অলসতা ও বিলাসিতা ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে। ভীরু ও কাপুরুষ দিয়ে আন্দোলন চলে না। ‘যুবসংঘ’-এর ত্যাগের মাধ্যমে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তোমরা দাওয়াতী কাজ করবে, দুনিয়া লাভের জন্য নয়। কেননা রূযীর মালিক আল্লাহ। যারা দুনিয়াদার তাদের জন্য ধ্বংস। জীবনে সফলতা লাভ করতে হ’লে যৌবনকালকে কাজে লাগাতে হবে। তোমরা অল্পে তুষ্ট থাকবে; তাহ’লে সুখী হ’তে পারবে। তোমরা মুরববীদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে তাদের দো‘আ নিয়ে দাওয়াতী ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমরা তোমাদেরকে ‘আন্দোলন’-এর সার্বক্ষণিক কর্মী হিসাবে গড়ে উঠার আহবান জানাচ্ছি। 

‘আহলেহাদীছ যুবসংঘে’র কেন্দ্রীয় সভাপতি  ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন (১) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম (২) যুববিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম (৩) তাবলীগ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (৪) দফতর সম্পাদক ও যুবসংঘের সাবেক সভাপতি ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (৫) ‘যুবসংঘ’-এর সাবেক সহ-সভাপতি ও আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রজশাহীর ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম (৬) সাবেক সভাপতি আব্দুর রশীদ আখতার (৭) সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জালালুদ্দীন (৮) ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুস্তাক্বীম আহমাদ ও (৯) যুবসংঘের কাউন্সিল সদস্য ও আল-ফুরক্বান ইসলামিক সেন্টার, বাহরাইন-এর দাঈ মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম মাদানী।

অতঃপর যেলা দায়িত্বশীলদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন (১) ‘যুবসংঘ’ কুমিল্লা যেলা সভাপতি আহমাদুল্লাহ (২) ঢাকা-উত্তর যেলা সভাপতি আল-আমীন (৩) বরিশাল যেলা সভাপতি কায়েদ মাহমূদ ইমরান (৪) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মুছাদ্দিক (৫) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আব্দুর রঊফ ও (৬) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আসাদুল্লাহ আল-গালিব। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক আবুল কালাম। সমাবেশে ‘যুবসংঘে’র বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

জুম‘আর খুৎবা :

ইজতেমার ২য় দিন শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত এবং মারকায জামে মসজিদে সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম জুম‘আর খুৎবা প্রদান করেন। এ সময় মূল প্যান্ডেল ছাড়াও প্যান্ডেলের বাইরে ও মহাসড়কে খোলা স্থানে বসে মুছল্লীগণ খুৎবা শ্রবণ করেন। জুম‘আর খুৎবায় মুহতারাম আমীরে জামা‘আত বলেন, আল্লাহপাক আমাদেরকে অদৃশ্যে বিশ্বাস করতে বলেছেন। আর অদৃশ্যে বিশ্বাসই ঈমান। ঈমানের মৌলিক বিষয় ৬টি। তাহ’ল (১) আল্লাহর উপরে (২) তাঁর ফিরিশতাগণের উপরে (৩) আল্লাহ প্রেরিত কিতাব সমূহের উপরে (৪) রাসূলগণের উপরে (৫) বিচার দিবসের উপরে এবং (৬) তাক্বদীরের ভাল-মন্দের উপরে বিশ্বাস স্থাপন করা (মুসলিম, মিশকাত হা/২)। সূরা বাক্বারার শুরুতে আল্লাহ অদৃশ্যে বিশ্বাস করতে বলেছেন। দেখে কোন কিছু বিশ্বাস করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয় বরং আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ইহূদীরা দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখে বিশ্বাস করতে চেয়েছিল। ফলে তারা গযবপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হয়েছে। নাছারা আল্লাহর বিধান না মেনে পথভ্রষ্ট হয়েছে। আমরা সূরা ফাতিহার মাধ্যমে তাদের থেকে পানাহ চাই। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী শিক্ষা ব্যবস্থা ইহূদী-খৃষ্টানদের চক্রান্ত। আমাদেরকে দ্বীনের স্বার্থে কাজ করতে হবে, দুনিয়ার স্বার্থে নয়। ছবি-মূর্তি ইসলামে হারাম যা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে। মৃত্যুর সময় পবিত্র আত্মা ফেরেশতাদের সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়। তাই উত্তম মৃত্যুর জন্য প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতে হবে। তিনি সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে স্ব স্ব জীবনকে আলোকিত করার আহবান জানান।

এবারে জুম‘আর ছালাতের ২য় রাক‘আতে রুকূ থেকে উঠে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের জন্য দো‘আ করেন। অতঃপর ছালাত শেষে তিনি ইজতেমা প্যান্ডেলে আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর ডাইনিং কর্মচারী হায়দার আলীর বড় ভাইয়ের মৃত জামাই নাহিদ হোসাইন (৪৫, মধ্য নওদাপাড়া, রাজশাহী)-এর জানাযার ছালাত আদায় করান।

২য় দিন বাদ আছর থেকে ফজর পর্যন্ত  :

এদিন বাদ আছর হ’তে পুনরায় ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়ে ফজরের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এদিন নির্ধারিত বিষয়বস্ত্ত সমূহের উপর ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য পেশ করেন (১) ‘আন্দোলন’-এর শূরা সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মাদ জালালুদ্দীন (নরসিংদী) (জিহাদ ও জঙ্গীবাদ) (২) ড. আহসানুল্লাহ বিন ছানাউল্লাহ (ঢাকা) (বিশুদ্ধ আক্বীদার গুরুত্ব) (৩) প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসাইন (সাতক্ষীরা) (ইসলামী আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার) (৪) আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রজশাহীর ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম (মারকায) (যুগে যুগে আহলেহাদীছ : প্রেক্ষিত ভারতীয় উপমহাদেশ) (৫) দফতর সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক-এর সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম (মারকায) (সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার) (৬) ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম (মেহেরপুর) (আহলেহাদীছ আন্দোলন কি চায়, কেন চায় ও কিভাবে চায়?) (৭) তাবলীগ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (মারকায) (সংগঠনের কার্যক্রম উপস্থাপন) (৮) গাযীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমাম হোসাইন (শী‘আ ও কাদিয়ানী আক্বীদার স্বরূপ) (৯) আব্দুল্লাহ সালাফী (ভারত) (দাওয়াত দান করা ‘ফরযে আয়েন’) (১০) ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ সঊদী আরব শাখার সহ-সভাপতি হাফেয আখতার মাদানী (উম্মতের বিভক্তি ও তার প্রতিকার) (১০) খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম (মা‘রেফাতে দ্বীন) (১১) সাতক্ষীরা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান (ইক্বামতে দ্বীন) (১২) হাফেয শামসুর রহমান আযাদী (ঢাকা) (সমাজে প্রচলিত শিরক সমূহ ও তার পরিণতি) (১৩) মাওলানা আবুবকর (রাজশাহী) (গান-বাজনা ও মোবাইলের অপব্যবহার)।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন (১৪) ঢাকা-দক্ষিণ সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি আলহাজ্জ মুহাম্মাদ আহসান (ঢাকা) (১৫) তাযাম্মুল হক (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) সম্পাদক মাসিক ‘সরল পথ’।

আমীরে জামা‘আতের ২য় রাতের ভাষণ :

এ রাতে বাদ এশা মুহতারাম আমীরে জামা‘আত সূরা আলে-ইমরান ১০৩-১০৪ আয়াতের আলোকে ভাষণ পেশ করেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে হাবলুল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে হবে এবং বিভক্তি হ’তে দূরে থাকতে হবে। সেই সাথে ধৈর্য অবলম্বন করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘দ্বীন হ’ল নছীহত’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯৬৬, ৬৭)। প্রত্যেক মুমিন পরস্পরকে হক-এর উপদেশ দিবে। তিনি বলেন, যদি বিশ্বকে অন্যায়-অনাচার ও অশান্তির দাবানল থেকে বাঁচাতে হয়, তাহ’লে পরস্পরকে আল্লাহ প্রেরিত ‘হক’ তথা পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহকে অাঁকড়ে ধরার উপদেশ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হিংসা মানুষের স্বভাবগত বিষয়। বিশেষ করে ভাল-র প্রতি হিংসা। প্রথম আসমানে আদমের প্রতি হিংসা করেছিল ইবলীস। আর যমীনে হাবীলের প্রতি হিংসা করেছিল কাবীল। কাবীল স্রেফ হিংসা বশে হাবীলকে হত্যা করেছিল। সে চায়নি যে, ছোট ভাই হাবীল তার চাইতে উত্তম ব্যক্তি হিসাবে সমাজে প্রশংসিত হৌক। একইভাবে ইহূদী-নাছারারা শেষনবীকে চিনলেও তাকে মানেনি স্রেফ এই হিংসার কারণে যে, ইস্রাঈল বংশে তাঁর জন্ম না হয়ে ইসমাঈল বংশে জন্ম হয়েছিল। এই জ্ঞাতি হিংসা ইহূদীদেরকে মুসলমানদের চিরশত্রুতে পরিণত করেছে।

কিন্তু হিংসার কারণে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। কেননা কিয়ামত পর্যন্ত একটি দল হক-এর উপর বিজয়ী থাকবে। পরিত্যাগকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না (মুসলিম হা/১৯২০)। আর দল থাকলে তার নেতা থাকবেই। আর নেতৃত্বের অধীনে সুশৃংখলভাবে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনায় আহলেহাদীছ আন্দোলন বিশ^াসী। ঐক্যের ভিত্তি একটাই তা হল পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ। তিনি বলেন, ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ দলমত নির্বিশেষে সকল আদম সন্তানকে ইহকালীন মঙ্গল ও পরকালীন মুক্তির জন্য পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ার আহবান জানায়।

ইজতেমায় গৃহীত প্রস্তাব সমূহ :

আমীরে জামা‘আতের ভাষণের পর ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম সরকারের নিকট নিম্নোক্ত প্রস্তাব ও দাবী সমূহ পেশ করেন এবং উপস্থিত সকলে হাত তুলে সমস্বরে সেগুলির প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন।-

(১) পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে দেশের আইন ও শাসন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।

(২) মানুষের রক্তচোষা সূদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা বাতিল করে অনতিবিলম্বে ইসলামী অর্থনীতি চালু করতে হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সূদী এনজিও ও মহাজনী সূদী প্রথা এবং সেই সাথে অফিস-আদালত থেকে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

(৩) দেশের বিভিন্ন শহরে ইসলামী আক্বীদা ও সংস্কৃতি বিরোধী মূর্তি-ভাস্কর্য ও শহীদ মিনার নির্মাণ প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করা এবং উক্ত অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার জন্য এই সম্মেলন সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছে।

(৪) জঙ্গীবাদের বিশ্বাসগত ত্রুটিসমূহ দূর করার জন্য এবং সামাজিক অনাচার সমূহ প্রতিরোধের জন্য শিক্ষার সর্বস্তরে বিশুদ্ধ ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

(৫) মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের সিলেবাস থেকে ডারউইনের নাস্তিক্যবাদী বিবর্তনবাদ সহ সকল প্রকার ইসলাম বিরোধী মতবাদ প্রত্যাহার করতে হবে।

(৬) যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধে মদ-জুয়া, ক্যাসিনোর অবাধ সয়লাব রোধ করতে হবে এবং ইন্টারনেটের অশ্লীল ওয়েবসাইট সমূহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

(৭)  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদেরকে তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়নের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। তাদের মসজিদ সমূহ পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে এ সম্মেলন তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ সম্মেলন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছে।

(৮) এ সম্মেলন বিভিন্ন সরকারী অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের হিজাব ও নিকাব পরিধান ও ছালাত আদায়ের বিরুদ্ধে এবং তাদের নিকট ইসলামী বই খোঁজার নামে যেসব দমননীতি চলছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

(৯) এ সম্মেলন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছে।

বিদায়ী ভাষণ ও দো‘আ :

ইজতেমার ৩য় দিন শনিবার ইজতেমার মূল প্যান্ডেলে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত-এর ইমামতিতে ফজরের জামা‘আত অনুষ্ঠিত হয়। ছালাত শেষে তিনি মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বিদায়ী ভাষণ পেশ করেন এবং সকলে ছহীহ-সালামতে স্ব স্ব গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকটে দো‘আ করেন। অতঃপর সভাপতি হিসাবে তিনি সবাইকে পুনরায় ধন্যবাদ জানিয়ে মজলিস ভঙ্গের দো‘আ পাঠের মাধ্যমে দু’দিনব্যাপী ৩০তম বার্ষিক তাবলীগী ইজতেমার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ইজতেমার অন্যান্য রিপোর্ট :

১. পরিচালকবৃন্দ : দু’দিনব্যাপী তাবলীগী ইজতেমার বিভিন্ন অধিবেশনে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে (১) ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম (২) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম (৩) তাবলীগ সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন (৪) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক দুররুল হুদা (৫) দফতর সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম ও (৬) রাজশাহী সদর সাংগঠনিক যেলা ‘আন্দোলন’-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা দুররুল হুদা।

২. উপস্থাপকবৃন্দ : (১) আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর ভাইস প্রিন্সিপাল ড. নূরুল ইসলাম (২) ‘আন্দোলন’-এর শূরা সদস্য কাযী হারূণুর রশীদ (৩) ‘আন্দোলন’-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুর রশীদ আখতার (৪) ঢাকা দক্ষিণ যেলা ‘আন্দোলন’-এর উপদেষ্টা মুহাম্মাদ তাসলীম সরকার (৫) ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ আবুল কালাম।

৩. অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত : তাবলীগী ইজতেমার বিভিন্ন অধিবেশনে অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত করেন (১) আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর হিফয বিভাগের প্রধান হাফেয লুৎফর রহমান (মারকায), (২) ঢাকা-দক্ষিণ যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ (বগুড়া), (৩) ‘আল-‘আওন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির (মারকায), (৪) মারকাযের মক্তব বিভাগের শিক্ষক ক্বারী আব্দুল আউয়াল (মারকায), (৫) মারকাযের হিফয বিভাগের ছাত্র আরযুল ইসলাম শাফী (রাজশাহী), (৬) হাফেয ইরতিযা আবরার (খুলনা) ও (৭) দারুল হাদীছ একাডেমী, নারায়ণগঞ্জের ছাত্র মুহাম্মাদ যহীরুল ইসলাম।

৪. জাগরণী : ইসলামী জাগরণী পরিবেশন করেন (১) আল-হেরা শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ (বগুড়া), (২) মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান (জয়পুরহাট), (৩) রোকনুয্যামান (সাতক্ষীরা), (৪) ইয়াকূব আলী (মেহেরপুর), (৫) রাক্বীবুল ইসলাম (মেহেরপুর), (৬) ইলিয়াস আহমাদ (বগুড়া) (৭) ফরীদুল ইসলাম (নাটোর), (৮) আলে ইমরান (রাজশাহী), (৯) আব্দুর রহমান (ঢাকা), (১০) বখতিয়ার (যশোর), (১১) আব্দুল্লাহ আল-ফাহাদ (কুমিল্লা) (১২) জসীমুদ্দীন (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) (১৩) রামাযান আলী (রাজশাহী) (১৪) আব্দুল্লাহ আল-মাহী (নওগাঁ) (১৫) রূহুল আমীন (রাজশাহী) ও (১৬) ওবায়দুর রহমান (চাঁপাই নবাবগঞ্জ)।

৫. প্যান্ডেল : এবার মোট ৫টি প্যান্ডেল করা হয়। (১) ট্রাক টার্মিনাল ময়দান (২) ট্রাক টার্মিনালের দক্ষিণ পার্শ্বে স্থানীয় মহিলাদের জন্য পৃথক প্যান্ডেল (৩) মহিলা মাদ্রাসার প্যান্ডেল (৪) মারকাযের পশ্চিম পার্শ্বের ময়দানে প্যান্ডেল (৫) মারকাযের পূর্ব পার্শ্বের ময়দানে প্যান্ডেল। এছাড়াও ছিল মারকাযের নতুন ডাইনিং হল ছাড়াও ট্রাক টার্মিনালে বৃহদাকার ৪টি খাদ্য প্যান্ডেল ও মহিলা প্যান্ডেলে পৃথক খাদ্য ব্যবস্থাপনা। এবারেই প্রথম এলইডি মনিটরের মাধ্যমে ট্রাক টার্মিনাল থেকে সব প্যান্ডেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেই সাথে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সব প্যান্ডেলের ভিডিও ধারণ করা হয়।

৬. টয়লেট : ট্রাক টার্মিনালের পশ্চিম পার্শ্বে হাইওয়ের ক্যানালে ১৪০টি সাময়িক টয়লেট নির্মাণ করা হয়।

৭. বুক স্টল : ট্রাক টার্মিনালের দক্ষিণ পার্শ্বে ৩০টি এবং মারকাযের সম্মুখে ৭টি বুক স্টল। এছাড়াও মহিলা প্যান্ডেলে পৃথক বুক স্টল।

অন্যান্য বারের ন্যায় এবারেও ইজতেমায় দেশের প্রায় সকল যেলা থেকে বিভিন্ন যানবাহন যোগে লক্ষাধিক দ্বীনদার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সঊদী আরব, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন ও ভারত সহ অন্যান্য দেশ থেকেও সদ্য দেশে ফেরা অনেক প্রবাসী কর্মী ও সুধী ইজতেমায় যোগদান করেন। তাছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের হাযার হাযার শ্রোতা ইজতেমার সরাসরি সম্প্রচার দেখেন।

৮. জাতীয় গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান :

বিগত বছরের ন্যায় এবারও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’-এর উদ্যোগে ‘জাতীয় গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচিত গ্রন্থ ছিল ‘রিয়াযুছ ছালেহীন’ (ফাযায়েল অধ্যায় থেকে শেষ)’। এতে শীর্ষস্থান অধিকারী তিনজন হ’ল (১) মুহাম্মাদ এ এইচ মাহফূয (রাজশাহী), (২) মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম (সাতক্ষীরা) ও (৩) মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল-যুবায়ের (পাবনা)। এছাড়া ৫ জনকে বিশেষ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। তারা হ’ল (১) মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম (সিরাজগঞ্জ), (২) ফারূক আহমাদ (কুষ্টিয়া), (৩) আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা), (৪) মুহাম্মাদ আলে-ইমরান (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) (৫) তামীম ফায়ছাল (রাজশাহী)। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন রাতে ইজতেমা মঞ্চে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত। 

৯. দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ :

তাবলীগী ইজতেমা’২০ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া এলাকার পক্ষ থেকে ‘ছওতুল মারকায’ নামে এবং ‘সোনামণি’ মারকায এলাকার পক্ষ থেকে ‘সোনামণি প্রতিভা’ নামে দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যা ইজতেমা প্যান্ডেলের দক্ষিণ পার্শ্বস্থ বুক স্টলের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় প্রদর্শিত হয়।

১০. ফৎওয়া বুথ :

গতবারের ন্যায় এবারও ফৎওয়া বুথের ব্যবস্থা করা হয়। আত-তাহরীক কার্যালয়ে স্থাপিত ফৎওয়া বুথে বিভিন্ন যেলা থেকে আগত কর্মী ও সুধীবৃন্দের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ‘হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’-এর গবেষণা সহকারী মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম। ইজতেমার ২য় দিন বিকাল ৪-টা থেকে রাত ১২-টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

১১. আল-‘আওন :

ইজতেমা ময়দানে ‘স্বেচ্ছাসেবী নিরাপদ রক্তদান সংস্থা’ আল-‘আওন-এর ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পিংয়ে ৩৬০ জনের ব্ললাড গ্রুপিং করা হয় এবং ১৫০ জন ডোনর তালিকাভুক্ত হন।

২০১৭ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারী স্বেচ্ছাসেবী নিরাপদ রক্তদান সংস্থা আল-‘আওন প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত ২৫টি যেলা গঠন করা হয়েছে এবং ৫,৮১৯ জনের অধিক রক্তদাতা সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংস্থার মাধ্যমে ১,৩১৮ জনের অধিক মানুষকে রক্তদান করা হয়েছে। রক্তদানের এ কার্যক্রমে ২০১৯ সালে শ্রেষ্ঠ যেলা নির্বাচিত হয়েছে দিনাজপুর-পশ্চিম ও সিরাজগঞ্জ। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন রাতে তাদের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট তুলে দেন মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

১২. যরূরী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র : ট্রাক টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের উত্তর পার্শ্বে এলোপ্যাথিক ও হোমিওপ্যাথির দু’টি পৃথক যরূরী চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সংগঠনের চিকিৎসক কর্মীগণ সেখানে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করেন। ইজতেমার পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ-পত্র সরবরাহ করা হয়।

১৩. নিরাপত্তা : এবারেই প্রথম প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে ইজতেমা ব্যবস্থাপনার খোঁজ-খবর নেওয়া হয়। তাদের প্রস্তাবক্রমে ৪টি ওয়াচ টাওয়ার ও ২৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা সেট করা হয়। সেই সাথে সংগঠনের ৭৮৫ জন স্বেচ্ছাসেবক দু’দিন আগে থেকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে। এছাড়াও ছিল পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের নিয়মিত তদারকি।

১৪. সাইকেলে আগমন : অন্যান্য বারের ন্যায় এবারও সাইকেলে আসেন সাতক্ষীরা থেকে আব্দুল বারী (৬৪) সাং মানিকহার, উপযেলা তালা। এবারে তিনি ১৬তম বর্ষে ২১ ঘণ্টায় এই দীর্ঘ ২৮৫+১৪= ২৯৯ কি.মি. পথ অতিক্রম করে আসেন। অন্যজন জয়নাল আবেদীন (৮২) সাং কাওনডাঙ্গা, উপযেলা সাতক্ষীরা সদর। এবারে তিনি ১৭তম বর্ষে সাড়ে ২১ ঘণ্টায় এই দীর্ঘ ২৮৫+১৫= ৩০০ কি.মি. পথ অতিক্রম করে আসেন।

ইজতেমার পূর্ব দিনের অনুষ্ঠান সমূহ :

১. র‌্যালি :

তাবলীগী ইজতেমা’২০-কে স্বাগত জানিয়ে ‘সোনামণি’ কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে ২৬শে ফেব্রুয়ারী বুধবার বাদ আছর সোনামণি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি মারকায থেকে শুরু হয়ে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক দিয়ে ওমরপুর হয়ে নতুন বাস-টার্মিনালে উঠে। অতঃপর সেখান থেকে টেক্সটাইল মিলের পাশ দিয়ে ইজতেমা ময়দান ট্রাক টার্মিনালে যায়। সেখান থেকে মহিলা মাদ্রাসার পাশ দিয়ে মারকাযে ফিরে আসে।

২. আল-‘আওনের প্রশিক্ষণ : ইজতেমার পূর্ব দিন ২৬শে ফেব্রুয়ারী বুধবার সকাল ১০.৩০ মিনিট থেকে রাত্রি ১০-টা পর্যন্ত মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ ৩য় তলার মিলনায়তনে ‘নিরাপদ রক্ত দান সংস্থা’ আল-‘আওনের যেলা পরিচালকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আল-‘আওনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. আব্দুল মতীন। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির। প্রশিক্ষণে ১৪টি যেলার ৩৩ জন পরিচালক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথি মুহতারাম আমীরে জামা‘আত উত্তীর্ণদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পুরস্কার প্রাপ্তরা হ’লেন, (১) ডা. ইকবাল বিন জিন্নাহ (পাবনা) (২) রূহুল আমীন (জয়পুরহাট) (৩) ডা. আব্দুল হালীম (নওগাঁ)। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে ‘আন্দোলন’-এর সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে আল-‘আওনের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। প্রত্যেক যেলায় আল-‘আওনের শাখা গঠন করতে হবে। এই নিঃস্বার্থ মানব সেবাকে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য ‘আন্দোলন’ সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করবে। কোথাও কোন অসুবিধা মনে হ’লে আমাদেরকে জানালে ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুত তার সমাধান করব।

৩. ইসলামী জাগরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২০ : এদিন বাদ মাগরিব থেকে রাত ১০.৩০ মি. পর্যন্ত মারকাযের পূর্ব পার্শ্বস্থ ময়দানে  ‘ইসলামী জাগরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২০২০’ অনুষ্ঠিত হয়। আল-হেরা শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক মুস্তাফীযুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আল-হেরা শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. আহমাদ আব্দুল্লাহ ছাকিব এবং খুলনা যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি ও আল-হেরার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম। অতিথিগণ স্ব স্ব ভাষণে সম্মেলনকে স্বাগত জানান ও জাগরণীর মাধ্যমে রাসূল (ছাঃ)-এর আদর্শে সমাজ গড়ার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টার আহবান জানান।

প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে যে ‘জাগরে যুবক নওজোয়ান’ জাগরণী পরিবেশিত হ’ল, তা ১৯৯১ সালের ২৫শে এপ্রিল মারকাযের দক্ষিণ পার্শ্বস্থ ময়দানে অনুষ্ঠিত ২য় জাতীয় সম্মেলনে গাওয়া শফীকুলের ঝংকারী কণ্ঠ স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাকে জান্নাত নছীব করুন-আমীন! আজ শিল্পীদের কণ্ঠে জাগরণী শুনে মনে হচ্ছে এই সবকিছুর নেকীর একটা অংশ শফীকুলের আমলনামায় যোগ হচ্ছে। আজ আল-হেরার জাগরণী সমাজকে জাগিয়ে তুলেছে। তাই একে আমরা গান ও সঙ্গীত বলি না বরং জাগরণী বলি। যারা আগামীতে আল-হেরার নেতৃত্ব দিবে তাদের বলে যাচ্ছি যে, তোমরা ‘জাগরণী’ নামটা বাতিল করো না। কারণ আমাদের জাগরণীর উদ্দেশ্য হ’ল মৃত সমাজকে জাগিয়ে তোলা। মনে রেখ, প্রতিজ্ঞা ও লক্ষ্যে দৃঢ়তা ব্যতীত দুনিয়াতে কেউ কিছুই অর্জন করতে পারে না। যত বাধাই আসুক লক্ষ্যে দৃঢ় থাকবে। কারণ আমার নবী শত কষ্ট সত্ত্বেও লক্ষ্যচ্যুত হননি। তোমরা যে কাজ কর, তা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইখলাছের সাথে কর। তোমরা অন্যের অনুকরণপ্রিয় হয়ো না। আমি দো‘আ করি তোমাদের কণ্ঠই যেন তোমাদের জান্নাতে যাওয়ার অসীলা হয়। সবশেষে তিনি অতিথিবৃন্দ, ‘আন্দোলন’, ‘যুবসংঘ’, ‘সোনামণি’ ও ‘আল-‘আওন’-এর সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও প্রতিযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে কুরআন তেলাওয়াত করেন মারকাযের ছাত্র আরযুল ইসলাম শাফী, আহনাফ মুবাশশির, তাওফীকুল ইসলাম ও মুহাম্মাদ যহীরুল ইসলাম। জাগরণী পেশ করেন আল-হেরার ‘কথা ও সুর’ বিভাগের পরিচালক হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ, ‘জাগরণী’ বিভাগের পরিচালক রাক্বীবুল ইসলাম, আল-হেরার সদস্য মীযানুর রহমান, ইয়াকূব, রোকনুয্যামান, আব্দুল্লাহ সাঈদ (সাতক্ষীরা), ইলিয়াস (বগুড়া),  রাযিউর রহমান (দিনাজপুর), আব্দুল্লাহ আল-ফাহাদ ও ওবায়দুল্লাহ (বগুড়া) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন আল-‘আওনের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ফয়ছাল মাহমূদ ও আল-হেরার কেন্দ্রীয় সহ-পরিচালক এনামুল্লাহ।













আরও
আরও
.