উত্তরঃ যুল কিফল একজন নবী ও একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন। পবিত্র কুরআনে তাকে নবীদের সাথেই উল্লে­খ করা হয়েছে (আম্বিয়া ৮৫-৮৬; ছোয়াদ ৪৮)। হাফেয ইবনু কাছীর বলেন, যুল কিফলের নবী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট (তাফসীরে ইবনে কাছীর, আম্বিয়া ৮৫)।

যুল কিফল সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে দু’স্থানে বর্ণিত হয়েছে অন্যান্য নবীগণের সাথে যুক্ত করে। যেমন সূরা আম্বিয়া ৮৫-৮৬ আয়াতে বলা হয়েছে, وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِّنَ الصَّابِرِينَ، وَأَدْخَلْنَاهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُم مِّنَ الصَّالِحِينَ- ‘আর ইসমাঈল, ইদরীস ও যুল কিফল, সকলেই ছিল ধৈর্যশীলগণের অন্তর্ভুক্ত’। ‘আর আমরা তাদেরকে আমাদের অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছিলাম। নিশ্চয়ই তারা ছিল সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত’ (আম্বিয়া ৮৫-৮৬)। এ আয়াত দ্বয়ের ব্যাখ্যায় ইবনু কাছীর বলেন, فالظاهر من السياق أنه ما قرن مع الأنبياء إلا وهو نبي- ‘পূর্বাপর সম্পর্কে এটা প্রকাশ্য যে, নবীগণের তালিকায় নবী ব্যতীত অন্যদের নাম যুক্ত হয় না’। তবে অন্যেরা কেউ বলেছেন, তিনি একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি ছিলেন, কেউ বলেছেন, তিনি একজন ন্যায়পরায়ন শাসক ছিলেন। ইবনু জারীর এ ব্যাপারে চুপ থেকেছেন’। কুরতুবী ও শওকানী এখানে যুল কিফল সম্পর্কিত তিরমিযী বর্ণিত দু’টি যঈফ হাদীছ উল্লে­খ করে ক্ষান্ত হয়েছেন। আহমাদ, তিরমিযী, হাকেম-এর বর্ণনায় শুধু ‘কিফল’ এসেছে। আলবানী বলেন, ‘ইনি বনু ইস্রাঈলের একজন ব্যক্তি, কুরআনে বর্ণিত যুল কিফল নন’(সিলসিলা যঈফাহ হা/৪০৮৩)। কুরতুবী আবু মূসা আশ‘আরী (রাঃ) প্রমুখাৎ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে একটি হাদীছ এনেছেন যে, إن ذا الكفل لم يكن نبيا ولكنه عبدا صالحًا ‘নিশ্চয়ই যুল কিফল নবী ছিলেন না। বরং তিনি একজন সৎকর্মশীল বান্দা ছিলেন’। অথচ হাদীছটি জাল, যার অবস্থা এই যে, لا أصل له في المرفوع بل موقوف ضعيف أخرجه الطبري وهو منقطع-  ‘এর মরফূ‘ হওয়ার অর্থাৎ রাসূল (ছাঃ) থেকে বর্ণিত হওয়ার কোন ভিত্তি নেই। বরং এটি মওকূফ, অর্থাৎ আবু মূসার নিজস্ব উক্তি। অথচ যার সূত্র যঈফ এবং যা ইবনু জারীর স্বীয় তাফসীরে মুনক্বাতি‘ অর্থাৎ ছিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন (তাহক্বীক্ব কুরতুবী, আম্বিয়া ৮৫)।

(২) আল্ল­াহ বলেন, وَاذْكُرْ إِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِّنْ الْأَخْيَارِ ‘আর তুমি বর্ণনা কর ইসমাঈল, আল-ইয়াসা‘ ও যুল কিফল সম্পর্কে। আর তারা সকলেই ছিল উত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত’ (ছোয়াদ ৪৮)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় কুরতুবী বলেন, أي ممن اخةير للنبوة অর্থাৎ তারা ছিলেন সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে নবুঅতের জন্য বাছাই করা হয়েছিল’। শাওকানী স্বীয় তাফসীর ফাৎহুল ক্বাদীরে বলেন, أنهم من جملة من صبر من الأنبياء- ‘তারা হলেন সেই সকল নবীগণের অন্তর্ভুক্ত যারা বহু কষ্ট সহ্য করেছেন’। অথচ একই তাফসীর গ্রন্থের সারসংক্ষেপ ‘যুবদাতুত তাফসীর’ নামে যা প্রকাশিত হয়েছে রিয়াদ, দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে, সেখানে বলা হয়েছে, الصحيح أنه رجل من بني إسرائيل، كان لا يتورع عن شيئ من المعاصي فتاب فغفر الله له، ليس نبي، وقال جماعة هو نبي- ‘সঠিক কথা এই যে, তিনি বনু ইস্রাঈলের একজন ব্যক্তি ছিলেন। যিনি কোন পাপের কাজে দ্বিধা করতেন না। পরে তিনি তওবা করেন। অতঃপর আল্ল­াহ তাকে মাফ করেন। তিনি নবী নন। তবে একদল বলেছেন যে, তিনি নবী’। প্রশ্ন হ’ল, এমন একজন লোকের কথা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে নবীগণের তালিকায় বর্ণনা করবেন কেন?

আত-তাহরীক অক্টোবর ২০০৬, ১০/৩ সংখ্যার ২১/২১ প্রশ্নোত্তরে যুবদাতুত তাফসীরের বক্তব্যটুকু অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে মাত্র। বাড়তি তাহকীক করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। যেটা ভুল হয়েছে।

আশ্চর্যের বিষয় যে, আধুনিক মুফাসসির আবু বকর জাবের আল-জাযায়েরী স্বীয় ‘আয়সারুত তাফাসীরে’ সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতের তাফসীরের টীকায় লিখেছেন, وأرجح الأقوال ما رواه أبو موسى رضي الله عنه عن النبي صـ أنه قال: ‘সব কথার সেরা কথা হ’ল যা বর্ণনা করেছেন আবূ মূসা (রাঃ) রাসূলুল্ল­াহ (ছাঃ) হতে’- বলেই তিনি যঈফ হাদীছটির অংশবিশেষ উদ্ধৃত করেছেন, যা মূলতঃ কোন হাদীছই নয়, যে সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।

মোটকথা কুরআন যখন ইসমাঈল, ইদরীস, আল-ইয়াসা‘ প্রমুখ নবীগণের সাথে যুল কিফলের নাম একসাথে বর্ণনা করেছে, তখন তিনি নবী ছিলেন, এ বিশ্বাসই রাখতে হবে। এর বিপরীতে কোন বিশুদ্ধ দলীল নেই। এগুলি ইহুদীদের মিথ্যা রটনা হওয়াও বিচিত্র নয়।

উল্লেখ্য যে, ইবনু কাছীর সূরা নেসা ১৬৪ আয়াতের তাফসীরে ‘যুল কিফল’ সহ ২৫জন নবীর তালিকা দিয়েছেন (ঐ, ১/৫৯৯ পৃঃ)। কুরতুবী সূরা আম্বিয়া ৮৫ আয়াতের তাফসীরে বলেছেন, والجمهور على أنه ليس بنبي ‘জমহূর বিদ্বানগণের মতে তিনি নবী ছিলেন না’। কিন্তু সূরা ছোয়াদ ৪৮ আয়াতের তাফসীরে তিনি তাকে নবীগণের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। আসলে ‘জমহূর’ পরিভাষাটি অনেক সময় ভেক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কুরতুবী, ইবনু কাছীর, শাওকানী প্রমুখ মুফাসসিরগণকে বাদ দিয়ে আর কাদেরকে ‘জমহূর’ বলা হবে? আল্ল­াহ সর্বাধিক অবগত।






সংশোধনী
প্রশ্ন (৩৪/২৭৪) : আমি ১৪ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী। নিয়মিত ছালাত ও ছিয়াম পালনের চেষ্টা করি। বয়ঃসন্ধি কালীন শারীরিক পরিবর্তনের কারণে আমি তীব্র জৈবিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছি, যা নিয়ন্ত্রণ করা আমার জন্য অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। হারাম কাজ ও পাপাচার থেকে বেঁচে থেকে আত্মসংযম বজায় রাখার ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় আমি দিশেহারা হয়ে যাই। কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য করণীয় কি?
প্রশ্ন (৩২/১৫২) প্রতি হাযারে একজন জান্নাতে যাবে মর্মে বর্ণিত হাদীছটির ব্যাখ্যা জানতে চাই। - -মুনীর হোসাইন, কাযীরহাট, বরিশাল।
প্রশ্ন (১৩/১৭৩) : জনৈকা মহিলা প্রতিদিন সন্ধ্যায় জিনের আছরে আক্রান্ত হয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। সে জর্দা দ্বারা পান খাওয়া ব্যতীত কোন কিছুতেই সুস্থ হয় না। এক্ষণে এধরনের হারাম বস্ত্ত দ্বারা চিকিৎসা নেওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন (২০/৩৮০) : তাবলীগ জামা‘আতের সাথে ৪০ দিনের চিল্লায় গিয়ে জানতে পারলাম যে, দাওয়াতের কাজে বের হয়ে নিজের প্রয়োজনে ১ টাকা খরচ করলে ৭ লক্ষ টাকা ছাদাক্বা করার সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। একবার সুবহানাল্লাহ বললে ৪৯ কোটি ছওয়াব আমলনামায় লেখা হয়। এসব কথা কি সঠিক? দাওয়াতী কাজের সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (২৯/৩০৯) : আমি পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রেখে তা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দিয়ে যাকাত দিয়েছি এবং বাকী অংশ দান করেছি। এক্ষণে আমার যাকাত কবুলযোগ্য হবে কি? না মূল টাকা থেকে যাকাত বের করতে হবে? - আব্দুল আহাদ, পুঠিয়া, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৭/৪০৭) : ১০ই মুহাররমকে বিশেষ ফযীলত মনে করে উক্ত দিনে বিবাহের দিন ধার্য করা যাবে কি?
প্রশ্ন (২৭/১৮৭) : অর্থ বা মর্ম না বুঝে কেবল কুরআন হেফয করলে নেকী পাওয়া যাবে কি? আর কুরআনের সর্বনিম্ন কতটুকু অংশ হেফয করলে হাফেযের মর্যাদা পাওয়া যাবে?
প্রশ্ন (৪/২০৪) : মুমিন কি সৎকর্মের মাধ্যমে ক্বিয়ামতের দিন নবী-রাসূলগণের মর্যাদায় পৌঁছতে পারবে যেমন কুরআন ও বিভিন্ন হাদীছে দেখা যায়? - -আহমাদ রেযা, বর্ণালী, রাজশাহী।
প্রশ্ন (২৬/৪২৬) : রোগী দেখার সময়সীমা উটের দুধ দোহন পরিমাণ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ?
প্রশ্ন (২/২০২) : কাপড়ে বা দেহের কোন অংশে সাদা স্রাব লেগে গেলে তা সহ ছালাত আদায় করা যাবে কি?
প্রশ্ন (৮/১৬৮) : আমার অন্তরে অনেক সময় শিরকী কথার উদয় হয়। এ কারণে অস্থিরতা বোধ করি। এজন্য আল্লাহ আমাকে পাকড়াও করবেন কি?
আরও
আরও
.