উত্তর : শূকরের গোশত এবং বিসমিল্লাহ ব্যতীত যবেহ করা গোশত গ্রাহকদের নিকট সরবরাহ করা এবং এ কাজকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করা জায়েয নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, (প্রবাহিত) রক্ত, শূকরের গোশত এবং যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে...’ (মায়েদাহ ৫/৩; আন‘আম ৬/১৪৫)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে সহযোগিতা করলে সে গোনাহগার হবে। কারণ সে পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করেছে। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মদ প্রস্ত্ততকারী, প্রস্ত্তত করাতে সহযোগিতাকারী, বহনকারী, যার কাছে তা বহন করে নেওয়া হয়, বিক্রেতা, ক্রেতা, পরিবেশনকারী, পানকারী এবং এর মূল্য ভোগকারীর প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৭৭৬)। এদের অধিকাংশই সরাসরি মদ পান না করলেও তা পান করার কাজে সহযোগিতা করে। একইভাবে, যে অস্ত্র দিয়ে অন্যায়ভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কিংবা ফিৎনার যুদ্ধে লড়াই করা হবে, সে উদ্দেশ্যে অস্ত্র বিক্রি করাও নিষিদ্ধ (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ২২/১৪১)।দ্বিতীয়তমুসলিম ও আহ’লে কিতাব অর্থাৎ ইহূদী ও খৃষ্টানদের আল্লাহর নামে যবেহ করা হালাল প্রাণীর গোশত খাওয়া এবং তা গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করার চাকুরী করা জায়েয। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্ত্তগুলো হালাল করা হ’ল। আর যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে, তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল’ (মায়েদাহ ৫/৫)। তবে গোশটি হারাম হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ জানা থাকলে তা খাওয়া বা সরবরাহ করা জায়েয হবে না।তৃতীয়ত কোন হালাল প্রাণীর গোশত যবহের সময় বিসমিল্লাহ বলা হয়েছিল কি-না, তা জানা না থাকলে, যদি তা এমন উৎস থেকে আসে, যার যবেহ করা গোশত মূলত বৈধ বলে গণ্য হয়, তাহ’লে তা বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া যাবে। একদল লোক রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে। তারা যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম নিয়েছিল কি-না, তা আমরা জানি না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ‘তোমরা বিসমিল্লাহ বলে তা খাও’ (বুখারী হা/২০৫৭; আবুদাঊদ হা/২৮২৯)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ রাইসান, আমেরিকা।