উত্তর : ছাদাক্বা করার কারণে বান্দার প্রকৃত সম্পদ ও কল্যাণ কমে যায় না। আল্লাহ তাতে বরকত দেন এবং আখেরাতে এর প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করেন। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলেমগণ দু’টি ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন- প্রথমত এর অর্থ হ’ল ছাদাক্বা করার কারণে সম্পদে বরকত দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ক্ষতি থেকে তা রক্ষা করা হয়। ফলে বাহ্যিকভাবে সম্পদ যতটুকু কমে, গোপন বরকতের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। এটি বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রচলিত কার্য-কারণের মাধ্যমেও উপলব্ধি করা যায়। দ্বিতীয়ত বাহ্যিক হিসাবে সম্পদ কমে গেলেও, ছাদাক্বার বিনিময়ে যে ছওয়াব নির্ধারিত রয়েছে, তার মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়; বরং তা বহুগুণে বৃদ্ধি পায় (শরহ মুসলিম ৬/১৬৯)। ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘ছাদাক্বাকারী ব্যক্তির সম্পদ বাহ্যিক হিসাবে কমে যায়। কিন্তু আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সূদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং ছাদাক্বাসমূহকে বৃদ্ধি করেন’ (বাক্বারাহ ২/২৭৬; আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৬/১৬৯)। তাই ছাদাক্বা সম্পদ হ্রাস করে না; বরং তা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুনিয়াতে বরকত এবং আখেরাতের ছওয়াব অর্জনের মাধ্যম। বস্ত্তত ছাদাক্বা যেমন সমাজে সমৃদ্ধি আনে, তেমনি আখেরাতে ছওয়াব বৃদ্ধি পায়। শিল্পপতি শিল্পের যাকাত দিলে গরীবরা সে যাকাত দিয়ে শিল্পের উৎপাদন খরীদ করে। ফলে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি হয়। অন্যদিকে দারিদ্র বিমোচন হয়। এভাবে সমাজে সমৃদ্ধি লাভ হয়। এভাবেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণী সত্য হয়।
প্রশ্নকারী : নাম ও ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।