উত্তর : কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে পাওনাদারেরা তাদের প্রাপ্য সম্পদ আনুপাতিকহারে নিয়ে নিতে পারবে। কেউ মওকূফ করে দিলে সেটা তার জন্য ছওয়াবের কাজ হবে। উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) বলেন, আমি নবী করীম (ছাঃ)-কে বললাম, আপনি আমাদেরকে কোন অভিযানে পাঠান। আমরা এমন কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করে না। এ ব্যাপারে আপনি কি মনে করেন? তিনি আমাদের বললেন, তোমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করবে, তারা যদি মেহমানের উপযুক্ত আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে, তবে তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে, তাহ’লে মেহমানের জন্য তাদের ওপর যে পরিমাণ আপ্যায়ন করা কর্তব্য, তোমরা তাদের কাছ থেকে ততটুকু গ্রহণ করে নেবে (বুখারী হা/৬১৩৭; মুসলিম হা/১৭২৭; মিশকাত হা/৪২৪৫)। এর ব্যাখ্যায় হাফেয ইরাক্বী ও ইবনু বাত্ত্বাল (রহঃ) বলেন, ইমাম বুখারী (রহঃ) এই হাদীছ দ্বারা নিজের প্রাপ্য হক আদায় করার মাসআলার দলীল গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, কোন ব্যক্তির যদি অন্যের কাছে কোন হক পাওনা থাকে, কিন্তু সে ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকার করে, তাহ’লে পাওনাদার তার সম্পদ থেকে যতটুকু নিজের হক বাবদ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়, ততটুকু গ্রহণ করতে পারবে। এজন্য ইমাম বুখারী (রহঃ) অধ্যায়ের শিরোনাম দিয়েছেন; ‘মযলূম ব্যক্তি যখন যালিমের সম্পদ পায়, তখন তার পক্ষ থেকে সমপরিমাণ প্রতিকার গ্রহণ করা (ত্বারহুত তাছরীব ৮/২২৬; মা‘আলিমুস সুনান ৩/৯৯)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাত এবং আমাদের পূর্ববর্তী যে সকল বিদ্বানের বক্তব্য সংরক্ষিত হয়েছে, তাঁদের ইজমা এটাই প্রমাণ করে যে, কোন ব্যক্তির অন্য কারো নিকট কোন প্রাপ্য হক থাকলে এবং সে ব্যক্তি যদি তা প্রদান না করে, তাহ’লে পাওনাদার তার নিকট থেকে নিজের প্রাপ্য হক গ্রহণ করতে পারবে (কিতাবুল উম্ম ৬/২৬৭-২৬৮)।
প্রশ্নকারী : ছাদিকুর রহমান, দিনাজপুর।