উত্তর :প্রথমত, রূহ ও নফসের মধ্যে প্রকৃত অর্থে কোন পার্থক্য নেই। যদিও পারিভাষিক অর্থে পার্থক্য আছে। যেমন প্রাণীকে ‘নফস’ বলা হয়। কিন্তু ‘রূহ’ বা আত্মা বলা হয় না। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)। এতে বুঝা যায় যে, দেহ ও আত্মার মিলিত সত্তাকে ‘নফস’ বলা হয়। আর শুধুমাত্র আত্মাকে ‘রূহ’ বলা হয়। একদা ইহূদীরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘হে নবী! আপনি বলুন, রূহ হ’ল আমার প্রতিপালকের একটি আদেশ মাত্র’ (ইসরা ১৭/৮৫)। যার প্রকৃতি মানুষের জ্ঞানের বাইরে। এমনকি আম্বিয়ায়ে কেরামও এর প্রকৃতি জানতেন না (শাওকানী, যুবদাতুত তাফাসীর, ইসরা ৮৫ আয়াতের ব্যাখ্যা)। আর নফস সেটাই, যা আল্লাহ মানব দেহে ফুঁকে দিয়েছেন। মৃত্যুর সময় যা দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই যখন রূহ কবয করা হয়, তখন তার চোখ তা দেখতে থাকে’ (মুসলিম হা/৯২০; মিশকাত হা/১৬১৯ ‘জানায়েয’ অধ্যায়)। অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা কি দেখনি যে, মৃত্যুর সময় মানুষের চোখ তাকিয়ে থাকে? ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেন, তা তো ঐ সময় যখন তার চোখ তার নফসকে দেখতে থাকে’ (মুসলিম হা/৯২১)। সুতরাং রূহ দেহে প্রাণ সঞ্চারকারী সত্তা। সেই রূহ যখন দেহের সঙ্গে যুক্ত থেকে ব্যক্তির সত্তা, অনুভূতি, ইচ্ছা ও কর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তখন তাকে নফস বলা হয়। তাই একই মানবিক সত্তাকে কখনো রূহ, কখনো নফস বলা হয়। তবে উভয় শব্দের পৃথক ব্যবহারও রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সূরা ফজরের النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ দ্বারা নফসই উদ্দেশ্য, তবে সেই নফসের অর্থ রূহ থেকে আলাদা কোন দ্বিতীয় সত্তা নয়। বরং মুমিনের সেই রূহ, যা ঈমানের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি প্রশান্ত ও সন্তুষ্ট হয়েছে। ইমাম ইবনু জারীর ত্বাবারী (রহঃ) বলেন, নফসে মুত্বমাইন্নাহ বলতে এমন নফসকে বুঝানো হয়েছে, যা আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতির ওপর প্রশান্ত হয়েছে, যা তিনি ঈমানদারদের আখেরাতে সম্মানের জন্য দিয়েছেন’ (তাফসীরে ত্বাবারী, অত্র আয়াতের তাফসীর ২২৪/৪২২)।
প্রশ্নকারী : কাওছার, কুমিল্লা।