উত্তর : পিতা-মাতা নিজেদের ভরণ-পোষণের শর্তে সন্তানকে তাদের সম্পত্তি হেবা করতে পারবেন। এটিকে হেবা বিল-‘এওয়ায (هِبَةٌ بِعِوَضٍ) বা বিনিময়যুক্ত হেবা বলা হয়। চার মাযহাবে এর বৈধতা স্বীকৃত (ইবনু নাজীম, আল-বাহরুর রায়েক্ব, ৭/২৯৫; ইবনু আবেদীন, হাশিয়াহ, ৩/৭২০; ইবনু আব্দিল বার্র, আল-কাফী, ২/১০০৬; নববী, রওযাতুত তালেবীন, ৫/৩৮৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ৬/৬৭)।
হেবা মূলত স্বেচ্ছায় সম্পত্তি প্রদান। কিন্তু এর সঙ্গে যদি সুস্পষ্ট ও বৈধ কোন বিনিময় বা প্রতিদানের শর্ত যুক্ত করা হয়, তাহ’লে তা বিনিময়যুক্ত হেবা হিসাবে গণ্য হবে এবং উক্ত শর্তও কার্যকর হবে। ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন, ‘হেবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও জানা কোন বিনিময়ের শর্ত করা হলে তা ছহীহ হবে’ (আল-মুগনী ৬/৬৭)।
এক্ষেত্রে পিতা-মাতা বলতে পারেন, ‘আমরা অমুক সম্পত্তি তোমাকে হেবা করলাম এই শর্তে যে, তুমি আমাদের জীবদ্দশায় ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবে।’ সন্তান এ শর্তে সম্মত হয়ে হেবা গ্রহণ করলে তার উপর উক্ত দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক হবে।
ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এমন হেবা করে, যার মাধ্যমে সে বিনিময় বা প্রতিদান পাওয়ার আশা করে, সে কাঙ্ক্ষিত প্রতিদান না পেলে হেবা ফিরিয়ে নিতে পারে (বায়হাক্বী হা/১২০২৮; ইরওয়াউল গালীল, হা/১৬১৩; মুওয়াত্ত্বা মালেক, হা/৪২)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তিকে যদি কোন কারণের ভিত্তিতে হেবা দেওয়া হয়, তাহ’লে সেই হেবার বিধান ওই কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে। কারণটি বিদ্যমান থাকলে হেবাটিও বহাল থাকবে; কারণটি বিলুপ্ত হ’লে হেবাটিও বিলুপ্ত হবে’ (আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৪৭২)।
অতএব পিতা-মাতা নিজেদের জীবদ্দশায় ভরণ-পোষণ ও প্রয়োজনীয় সেবাযত্নের শর্তে সন্তানকে সম্পত্তি হেবা করতে পারবেন। সন্তান শর্ত মেনে যথাযথভাবে তাদের ভরণ-পোষণ করলে পরবর্তীতে পিতা-মাতা হেবা প্রত্যাহার করতে পারবেন না। পক্ষান্তরে সন্তান যদি চুক্তিবদ্ধ শর্ত অনুযায়ী তাদের ভরণ-পোষণ ও সেবাযত্ন না করে, তাহ’লে বিষয়টি বিনিময়যুক্ত হেবার বিধান অনুযায়ী বিবেচিত হবে এবং পিতা-মাতার হেবা প্রত্যাহার বা প্রতিকার চাওয়ার অধিকার সৃষ্টি হ’তে পারে (মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়াহ, মাদ্দাহ ক্রমিক ৮৫৫, পৃ. ১৬৪)।