উত্তর : জুম‘আর খুৎবা প্রদান এবং মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য সার্টিফিকেটধারী আলিম হওয়া শর্ত নয়। তবে যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা আবশ্যক। তাই একজন সাধারণ মুসলিম তাওহীদ, রিসালাত, আখেরাত, ছালাত, নৈতিকতা ইত্যাদি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে যা জানে, তা প্রচার করতে পারে; কিন্তু মতভেদপূর্ণ বা জটিল ফিক্বহী মাসআলা, আক্বীদার সূক্ষ্ম বিষয় বা ফৎওয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি বল এটাই আমার পথ। আমি ও আমার অনুসারীরা জাগ্রত জ্ঞান সহকারে আল্লাহর দিকে আহবান করি’ (ইউসুফ ১২/১০৮)। তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না’ (ইসরা ১৭/৩৬)। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কথা বলো না, যে বিষয়ে তোমরা কিছু জানো না’ (আ‘রাফ ৭/৩৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘অতঃপর যখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা বানাবে। তাদের কাছে প্রশ্ন করা হবে, তারা জ্ঞান ছাড়াই ফৎওয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে’ (বুখারী হা/১০০; মুসলিম হা/২৬৭৩)। অতএব, অল্প দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করেই নিয়মিত জুম‘আর খুৎবা দেওয়া বা জটিল মাসআলায় বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। তবে যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা আছে, তা মানুষকে পৌঁছে দেওয়া সুন্নাত। আর খুৎবা ও দাওয়াতের প্রকৃত ভিত্তি হ’ল বিশুদ্ধ ইলম, প্রজ্ঞা ও জাগ্রত জ্ঞান।
প্রশ্নকারী : *অনিক, হারাগাছ, রংপুর।
[আরবীতে সুন্দর ইসলামী নাম রাখুন (স.স.)]