উত্তর : আল্লাহ বলেন, ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য মাত্র। অথচ চিরস্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার প্রভুর নিকটে প্রতিদান হিসাবে উত্তম এবং কাংখিত হিসাবেও উত্তম’ (কাহফ ১৮/৪৬)। এর ব্যাখ্যায় রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের ঢাল (আত্মরক্ষার হাতিয়ার) গ্রহণ কর। ছাহাবীগণ আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! শত্রু কি আক্রমণ করেছে? তিনি বললেন, না। বরং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার ঢাল গ্রহণ করো। তোমরা বল, ‘সুবহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’। কারণ এই যিকিরগুলো ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী, অগ্রগামী, পশ্চাদ্গামী ও রক্ষক হিসাবে উপস্থিত হবে। আর এগুলোই হ’ল স্থায়ী সৎকর্ম বা আল-বাক্বিয়াতুছ ছালিহাত (ছহীহুত তারগীব হা/১৫৬৭; ছহীহুাহ হা/৩২৬৪)। এ ব্যাপারে একাধিক ছাহাবী থেকে ছহীহ সনদে একাধিক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। তবে এর দ্বারা কেবল এই চারটি যিকিরই সীমাবদ্ধ নয়। বরং সকল নেক আমল বুঝায়, যা আখেরাতে মানুষের জন্য স্থায়ী ছওয়াব হিসাবে থেকে যায়। যেমন, ছালাত, ছিয়াম, যিকর, ছাদাক্বা, কুরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য সৎকর্ম সমূহ। হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, প্রকাশ্য ও অগ্রাধিকারযোগ্য মত হ’ল, আল-বাক্বিয়াতুছ ছালিহাত বলতে প্রত্যেক সৎকর্মকেই বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এটিকে কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার যৌক্তিকতা নেই (ইবনু কাছীর, অত্র আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)।
প্রশ্নকারী : শহীদুল ইসলাম, কালিহাতী, টাঙ্গাইল।