উত্তর : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) শরী‘আতের বিধান বর্ণনা করে দিয়েছেন। অতঃপর কোনটির হিকমত বর্ণনা করেছেন, আবার কোনটির হিকমত বর্ণনা করেননি। মুমিনের কাজ হচ্ছে দ্বিধাহীন চিত্তে শরী‘আতের বিধান মেনে চলা। তবে বিদ্বানগণ তালাককে তিন সংখ্যায় সীমিত করার কিছু হিকমত বর্ণনা করেছেন। তালাককে কঠিনভাবে নিরুৎসাহিত করাই মূল উদ্দেশ্য হলেও আরো কিছু হিকমত রয়েছে। যেমন-
১. শরী‘আত তিন তোহরে তিন তালাক প্রদানকে বিধিবদ্ধ করেছে। এক তালাক দেওয়ার পর যাতে নিজের ভুল সংশোধন করতে পারে সেজন্য রাজা‘আতের সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপরেও যদি সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ হয় তাহলে আরেক তালাক দিয়ে চিন্তা ও পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি ইতিবাচক সিন্ধান্ত নিতে না পারে তাহ’লে জানতে হবে যে, কোনভাবেই উক্ত মেয়ের সাথে সংসার করা সম্ভব নয়। এক্ষণে যে মেয়ের সাথে সংসার করা সম্ভব নয় বলে তৃতীয় তালাক দেওয়া হ’লে তাকে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার মধ্যে কোন যুক্তি নেই। বরং অন্যত্র বিবাহ হলে এবং স্বাভাবিকভাবে তালাক তালাকপ্রাপ্তা হলে অতঃপর উভয়ের বিবাহ হ’লে দু’জন নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে সংসার করবে বলে আশা করা যায়।
২. তিন তালাকের পরেও রাজা‘আতের সুযোগ থাকলে লোকেরা তালাকের বিধানকে অনেক হালকা মনে করত এবং স্ত্রীকে অসংখ্যবার তালাক দিত এবং ফিরিয়ে নিত।
৩. তালাক বিষয়টি স্ত্রীর জন্য অনেক কষ্টদায়ক। সেজন্য তাদের কষ্ট লাঘব করার জন্য তিনের অধিক তালাক দিয়ে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
৪. নারীর অন্যত্র বিবাহের সুযোগ রাখা। কোন পুরুষ যাতে স্ত্রীর সাথে বছরের পর বছর ছলনা করতে না পারে সেজন্য এই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
৫. এছাড়া স্বামীর আত্মসম্মানবোধ পরীক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। স্বামী যাতে তিন তালাক দেওয়ার পূর্বে ভালোভাবে চিন্তা করে যে, স্ত্রীকে আর ফিরিয়ে পাওয়া যাবে না। পাওয়া গেলেও অন্যের শয্যাগ্রহণকারীকে পুনরায় স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করতে হবে (তাফসীরে সা‘দী; তাফসীরে রাযী, ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ২/২১৫; ইবনু ‘আশূর, আত-তাহরীর ওয়াত-তানভীর ২/৪১৫)। দ্র. বড় কথা হ’ল ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ এর যথার্থ ব্যাখ্যা বুঝতে পারেন।
প্রশ্নকারী : -শফীউল্লাহ, নাটোর।
*[ছফিউল্লাহ নাম রাখুন (স.স.)]