উত্তর : এমতাবস্থায় গুনাহগার হবে না। বিশেষত উক্ত পালনকারী পুরুষ ও নারী যে প্রকৃত বাবা-মা নন এ বিষয়ে উভয় পক্ষ স্পষ্ট থাকলে এবং তা অন্যদের অবগতিতে থাকলে কেবল দাফতরিক নথির কারণে তাকে গুনাহগার হ’তে হবে না ইনশাআল্লাহ। কেননা এটি বাধ্যগত অবস্থা (ইবনু মাজাহ হা/২০৪৫; ছহীহুল জামে‘ হা/১৮৩৬)। তবে সংশোধনের সুযোগ থাকলে বা বিকল্প কোন পন্থা থাকলে তা করে নেয়া উত্তম।
উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তিকে তার জন্মদাতা পিতা ব্যতীত অন্য কোন পিতার দিকে সম্বন্ধিত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের পালক পুত্রদের তিনি তোমাদের (আসল) পুত্র করেননি; এগুলো তোমাদের মুখের কথা। আর আল্লাহ সত্য কথা বলেন এবং তিনিই সরল পথ প্রদর্শন করেন’ (আহযাব ৩৩/৪)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো’ (আহযাব ৩৩/৫)। জাহেলী যুগে আরবদের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিল এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগেও এটি বিদ্যমান ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নবুঅত লাভের আগেই যায়েদ বিন হারিছাকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাকে যায়েদ ইবনে মুহাম্মদ বলে ডাকা হ’ত। এই অবস্থা চলতে থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন, ‘তোমাদের পালক পুত্রদের তিনি তোমাদের পুত্র করেননি’ (আহযাব ৩৩/৪)। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা পালক সন্তান বানানোর প্রথা বাতিল করে দেন এবং নির্দেশ দেন যে, কেউ কাউকে পালক গ্রহণ করলেও তার পিতার পরিচয়েই তাকে ডাকতে হবে। এর মাধ্যমে মানুষকে সত্য গোপন বা পরিবর্তন করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের হক বা অধিকার নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে (আল-মাওসূ‘আতুল ফিকবহিয়া ১০/১২১-১২২)।
প্রশ্নকারী : আখি মনি, কক্সবাজার।
[আরবীতে সুন্দর ও ইসলামী নাম রাখুন! (স.স.)]