উত্তর : হ্যাঁ, একজন মুসলিম নবী করীম (ছাঃ)-এর সাধারণ অভ্যাসগত সুন্নাত সমূহ (যেমন তাঁর খাওয়ার পদ্ধতি, ঘুমানোর ধরন এবং পোষাকের ধরন) অনুসরণ করলে ছওয়াব পাবেন, যদি তিনি তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণের নিয়ত করেন। তবে কিছু বিদ্বান মনে করেন যে, সহজাত বা প্রাকৃতিক কাজগুলোর (যেমন হাঁটা বা বসা) জন্য ছওয়াব পাওয়া যাবে না যতক্ষণ না তাতে ভালোবাসা ও অনুসরণের নিয়ত থাকে। আর ছওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে এই কাজগুলো করা মুস্তাহাব বা উত্তম। ইমাম গাযালী (রহঃ) বলেন, জেনে রেখো, সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হ’ল সুন্নাহর অনুসরণ এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁকে অনুকরণ করা। তা তাঁর বাহিরের কাজ হোক বা ভেতরের, তাঁর নড়াচড়া হোক বা স্থিরতা। এমনকি তাঁর খাওয়ার ধরন, দাঁড়ানো, ঘুমানো এবং কথা বলার পদ্ধতির ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আমি এ কথা কেবল তাঁর আদব বা শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে বলছি না, বরং এটি মানুষের সকল অভ্যাসগত কাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর মাধ্যমেই পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ (ইত্তিবায়ে মুতলাক) অর্জিত হয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘বল, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ কর, তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন’ (আলে-ইমরান ৩/৩১)। সুতরাং এই অনুসরণের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে তোমার এমন বলা উচিত নয় যে, এগুলো তো কেবল অভ্যাসগত বিষয়, এখানে অনুসরণের কোন বিশেষ অর্থ নেই। কারণ এমন ভাবনা তোমার জন্য সৌভাগ্যের এক বিশাল দরজা বন্ধ করে দেবে (ইবনুল হাজ্জ, আল-মাদখাল ১/১৪৩)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহিল কাফী, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।