উত্তর : রোগমুক্তির জন্য ছাদাক্বা করা সুন্নাতসম্মত, যা রোগমুক্তির কারণ হ’তে পারে। এই ছাদাক্বা যবহের মাধ্যমে হ’তে পারে, আবার সরাসরি নগদ অর্থ দানের মাধ্যমেও হ’তে পারে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রোগীদের চিকিৎসা করো ছাদাকবার মাধ্যমে’ (ছহীহুত তারগীব হা/৭৪৪; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৩৫৮)। এর ব্যাখ্যায় মুনাভী (রহঃ) বলেন, ‘এর অর্থ হ’ল ক্ষুধার্তকে আহার করানো, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির উপকার করা, ভেঙে যাওয়া হৃদয়কে সান্ত্বনা দেওয়া ইত্যাদি’ (ফায়যুল ক্বাদীর ৩/৫১৫)। তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসা দুই প্রকার-শারীরিক ও আধ্যাত্মিক। নবী করীম (ছাঃ) প্রথমে শারীরিক চিকিৎসার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং পরে আধ্যাত্মিক চিকিৎসার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তাই তিনি রোগীদের ছাদাক্বার মাধ্যমে চিকিৎসা করার নির্দেশ দিয়েছেন’ (ফায়যুল ক্বাদীর ৩/৫১৫)। ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, ‘যতটুকু সম্ভব ছাদাক্বা ও সৎকাজ করা উচিত। কেননা এর মধ্যে রয়েছে বিপদ-আপদ দূর করার, নযর (চোখের দুষ্ট প্রভাব) প্রতিহত করার এবং হিংসুকের অনিষ্ট ঠেকানোর আশ্চর্য প্রভাব। যদি এ বিষয়ে কেবল প্রাচীন ও আধুনিক যুগের অভিজ্ঞতাগুলো প্রমাণ হিসাবে ধরা হয়, তবুও তা যথেষ্ট। খুব কমই দেখা যায় যে, বদ নযর লাগা, হিংসা ও অনিষ্ট কোন সৎকর্মশীল ও ছাদাক্বাকারী ব্যক্তির ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। আর যদি কখনো তা তাকে স্পর্শ করে, তবে তা ঘটে আল্লাহর অনুগ্রহ, সাহায্য ও সহায়তার সাথে এবং পরিণামে তার জন্য থাকে কল্যাণকর ফলাফল’ (বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ, ২/৭৭১)

আলী ইবনুল হাসান ইবনু শাকীক (রহঃ) বলেন, ‘আমি ইবনুল মুবারক (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি। এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, হে আবু আব্দুর রহমান! আমার হাঁটুতে সাত বছর ধরে একটি ফোঁড়া হয়েছে। আমি বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েছি, চিকিৎসকদেরও জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু কোন উপকার পাইনি। ইবনুল মুবারক উত্তর দিলেন, ‘যাও, এমন কোন স্থান খুঁজে বের কর যেখানে মানুষ পানির প্রয়োজন বোধ করে। সেখানে একটি কূপ খনন কর। আমি আশা করি, আল্লাহ্ সেখানে একটি ঝরনা প্রবাহিত করবেন, আর তোমার রক্তপাত বন্ধ হয়ে যাবে’। লোকটি তাই করল, তারপর সত্যিই আরোগ্য লাভ করল (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৩১০৯)

হাকীম আবু আব্দিল্লাহ (রহঃ)-এর মুখে দীর্ঘদিন ধরে ঘা হয়েছিল। বহু চিকিৎসা করার পরও আরোগ্য হচ্ছিল না। প্রায় এক বছর ধরে তা থেকে গেল। তিনি ইমাম ছাবুনী (রহঃ)-কে অনুরোধ করলেন যেন জুম‘আর দিনে তাঁর জন্য দো‘আ করেন। তিনি দো‘আ করলেন এবং জনতা আমীন বলল। পরের জুম‘আর দিনে এক মহিলা একটি চিরকুট পাঠালেন যে, তিনি হাকীম আবু আব্দিল্লাহর জন্য রাতভর দো‘আ করেছেন এবং স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছেন। রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, ‘আবু আব্দিল্লাহকে বলুন যেন মুসলিমদের জন্য পানির ব্যবস্থা করেন’। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির সামনে পানির সেবার জন্য একটি স্থাপনা নির্মাণ করালেন। সেখানে পানি ঢাললেন, বরফ রাখলেন, মানুষ পান করতে লাগল। এক সপ্তাহও কাটেনি, তাঁর রোগ চলে গেল, মুখ আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে গেল এবং তিনি আরও বহু বছর বেঁচে ছিলেন (আলবানী, ছহীহুত তারগীব হা/৯৬৪)

প্রশ্নকারী : আব্দুল মালেক, মেহেরপুর।








প্রশ্ন (১৭/২৫৭) : রোগ আরোগ্য এবং পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার উদ্দেশ্যে কুরআন তেলাওয়াত করা যাবে কি? - -মিনহাজ পারভেয, রাজশাহী
প্রশ্ন (২৩/৩৪৩) : আযানের পূর্বে দরূদে ইবরাহীমী পড়া যাবে কি?
প্রশ্ন (১৮/২৯৮) : ঘর হতে বের হওয়ার সময় দরজা বা চৌকাঠে আঘাত লাগলে বলা হয় এ যাত্রা শুভ হবে না। উক্ত ধারণা কি সঠিক?
প্রশ্ন (৩০/৭০) : মহিলাদের জন্য পৃথক মসজিদ নির্মাণ করতে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?
প্রশ্ন (২৯/৩৮৯) : ইমাম যদি আগে ভুল করে এবং আমি পরে জামা‘আতে যোগদান করি। অতঃপর ইমাম সালাম ফিরানোর পূর্বে সহো সিজদা দিলে আমার জন্য করণীয় কি? - -হাসান মাহমূদ, বাগমারা, রাজশাহী।
প্রশ্ন (৩৮/২৩৮) : সূরা বাক্বারাহ ১৪৮ আয়াতের ব্যাখ্যা জানতে চাই। - -নূরুল ইসলাম, নীলফামারী।
প্রশ্ন (৫/৮৫) : ছালাতরত অবস্থায় সালাম ফিরানোর পূর্বে ঋণমুক্তি ও পিতা-মাতার জন্য দো‘আ করা যাবে কি? - -মুহাম্মাদ আকাইদ, ময়মনসিংহ।
প্রশ্ন (১/১৬১) : মাইয়েতকে গোসল দানকারী ব্যক্তির জন্য গোসল করা আবশ্যক কি? এছাড়া লাশের খাটিয়া বহন করলে ওযূ করতে হবে কি? - -মামূন, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
প্রশ্ন (৫/২৮৫) : ইমাম বা মসজিদ কমিটির সাথে দ্বন্দ্ব থাকায় নিজ মহল্লার মসজিদ ছেড়ে অপর মহল্লার মসজিদে ছালাত আদায় করা জায়েয হবে কি? - -আব্দুল্লাহ, সাতক্ষীরা।
প্রশ্ন (২৪/২৪) : প্রচলিত গণতান্ত্রিক রাজনীতির সাথে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলোর কাজে শরীক হওয়ার নিয়তে অর্থ দান করা জায়েয হবে কি?
প্রশ্ন (৮/৩৬৮) : কোন এক মাসে কোন মহিলার লাগাতার মাসিক হ’লে তার জন্য করণীয় কী? সে কি ছালাত ছেড়ে দিবে এবং ছিয়াম ক্বাযা করবে?
প্রশ্ন (১৫/৩৭৫) : ছালাতরত অবস্থায় কোন কারণে ছালাতের স্থান থেকে ডানে-বামে সরে যাওয়া যাবে কি?
আরও
আরও
.