উত্তর : শুক্রবার ফজরের ফরয ছালাতে রাসূল (ছাঃ) মাঝে মধ্যে সূরা আস-সাজদাহ ও দাহর তেলাওয়াত করতেন (মুসলিম হা/৮৮০; মিশকাত হা/৮৩৮)। আবার কখনো তিনি প্রথম রাক‘আতে সূরা জুমু‘আ এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা মুনাফিকুন পড়েছেন (মুসলিম হা/৮৭৭; মিশকাত হা/৮৩৯)। তবে ফজরের সুন্নাতে রাসূল (ছাঃ) ছোট সূরা পাঠের নির্দেশনা দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের দুই রাক‘আতে সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাছ পাঠ করেছেন (মুসলিম হা/৭২৬; মিশকাত হা/৮৪২)। ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বিশবার লক্ষ্য করেছি তিনি মাগরিবের পরের দুই রাক‘আত এবং ফজরের পূর্বের দুই রাক‘আতে সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাছ পাঠ করতেন (নাসাঈ হা/৯৯২; ছহীহাহ হা/৩৩২৮)। এর হিকমত সম্পর্কে ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, ‘এই দুই সূরা পাঠ করার হিকমত হ’ল এ দু’টিতে তাওহীদের তিনটি প্রকারই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূরা ইখলাছ-এ তাওহীদুর রুবূবিইয়াহ এবং আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা একক ইলাহ। একই সঙ্গে তাঁর সন্তান, পিতা এবং কোন সমকক্ষ বা সাদৃশ্য থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। আর তিনি ছামাদ যাঁর মধ্যে পরিপূর্ণতার সকল গুণ একত্রিত হয়েছে। আর সূরা কাফিরূনে তাওহীদুল ইবাদাহ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ বান্দা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করবে এবং তাঁর ইবাদতে কাউকে শরীক করবে না। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের সুন্নাতের মাধ্যমে দিনের সূচনা করতেন এই দুই সূরা দিয়ে এবং মাগরিবের সুন্নাতের মাধ্যমে দিন শেষ করতেন এই দুই সূরা দিয়ে। আরো বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিতর ছালাতেও এই দুই সূরা পাঠ করতেন। ফলে এগুলো যেমন দিনের আমলের সূচনা, তেমনি রাতের আমলেরও সমাপ্তি হিসাবে থাকত’ (বাদাইউল ফাওয়াইদ ১/১৪৫-১৪৬)।
প্রশ্নকারী : আব্দুল মান্নান, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।