عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ -صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- قَالَ : أَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ؟ قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِينَا مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ وَلاَ مَتَاعَ. فَقَالَ : إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِى يَأْتِى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِى قَدْ شَتَمَ هَذَا وَقَذَفَ هَذَا وَأَكَلَ مَالَ هَذَا وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِى النَّارِ-
অনুবাদ : হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা কি জানো নিঃস্ব কে? ছাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই নিঃস্ব, যার টাকা-পয়সা ও ধন- দৌলত কিছু নেই। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, ক্বিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি নিঃস্ব হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়া হ’তে ছালাত, ছিয়াম ও যাকাত আদায় করে আসবে এবং সাথে সাথে ঐ সমস্ত লোকেরাও আসবে যাকে সে গালি দিয়েছে, কারু উপরে অপবাদ রটিয়েছে, কারু মাল-সম্পদ গ্রাস করেছে, কাকেও হত্যা করেছে, কাকেও প্রহার করেছে। তখন প্রত্যেক পাওনাদারকে তার নেকী সমূহ থেকে দিয়ে পাওনা পরিশোধ করা হবে। এইভাবে পাওনাদারদের দিতে দিতে যখন তার নেকীর ভান্ডার শেষ হয়ে যাবে, তখন ঐ লোকদের কৃত গোনাহসমূহ থেকে কেটে নিয়ে এই ব্যক্তির আমলনামায় যুক্ত করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’।[1]
গুরুত্ব :
হাদীছটি সমাজে যুলুম ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে এবং মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা স্বরূপ। মানবাধিকার যেমন প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার এবং প্রত্যেক মানুষই তা অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়, ঠিক তার বিপরীতে অন্যের মানবাধিকার হরণ করা ও অন্যের উপরে যুলুম, শোষণ ও অত্যাচার করার মানসিকতাটাও মানুষের মজ্জাগত। আবার দ্বিমুখী এই চেতনাকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনের উন্নতি, অগ্রগতি ও কল্যাণের পথে পরিচালনার জন্য একটিই মাত্র চালিকাশক্তি রয়েছে। সেটি হ’ল আল্লাহভীতি। যার মধ্যে আল্লাহভীতি যত প্রবল, সে তত বেশী মানব কল্যাণকামী হবে। তার সকল তৎপরতা যুলুমের বিরুদ্ধে এবং মানবাধিকার রক্ষার পথে ব্যয় হবে। আল্লাহদ্রোহী বস্ত্তবাদী ব্যক্তি যদি কখনো মানবকল্যাণে কাজ করে, তবে সেটা হবে সাময়িক ও ঠুনকো। বস্ত্তগত স্বার্থের সংঘাতে যেকোন সময় সে লক্ষ্যচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়বে। কারণ আখেরাতে তার কিছুই চাওয়া-পাওয়ার না থাকলে অহেতুক মানুষ দুনিয়াবী স্বার্থ ত্যাগ করবে কেন? স্রেফ মানবতার কারণে? তাতে লাভ কি? বঞ্চিত মানুষের কাছে মানবতার দোহাই কতক্ষণ টিকবে? তাই কেবলমাত্র আল্লাহভীতি তথা আখেরাতে জবাবদিহীতার দায়িত্বানুভূতি, জান্নাতের ব্যাকুল আকাংখা ও জাহান্নামের তীব্র ভীতি মানুষকে পরস্পরের মানবাধিকার রক্ষা ও যুলুম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। অত্র হাদীছটি সেদিকেই দিক-নির্দেশনা দান করেছে এবং সাথে সাথে সবকিছু থাকতেও কিছু না পাওয়ার বেদনায়, হতাশাগ্রস্ত ও প্রকৃত নিঃস্ব একজন পুণ্যবান ব্যক্তির ধূলি-মলিন চেহারা নাটকীয় বাণীচিত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত ঋজুভাবে উপস্থাপন করেছে, যা পাঠক ও শ্রোতার চক্ষু-কর্ণ ডিঙিয়ে তার হৃদয়ের গভীরে রেখাপাত করে এবং আসন্ন মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের বাস্তব অবস্থা অবলোকন করে নিজেকে সাবধান হ’তে সহায়তা করে।
ব্যাখ্যা :
হাদীছটিতে مَا الْمُفْلِسُ؟ বলা হয়েছে। যার অর্থ ‘নিঃস্ব কি’? অথচ হওয়া উচিত ছিল مَنِ الْمُفْلِسُ؟ ‘নিঃস্ব কে’? এর জবাব এই যে, এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিঃস্ব ব্যক্তির চেয়ে তার নিঃস্বতাকেই মুখ্য হিসাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। ভাষার এই সর্বোচ্চ অলংকার উম্মী নবীর জন্য শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলীল। অবশ্য ‘মাশারেকুল আনওয়ার’ এবং ‘মাছাবীহে’র কোন কোন সংস্করণে مَنِ الْمُفْلِسُ؟ কথাটিও এসেছে।
উক্ত হাদীছে একটি মৌলিক বিষয় ফুটে উঠেছে যে, মানবাধিকার রক্ষায় তথা বান্দার হক আদায়ের বিষয়ে কারু কোন শাফা‘আত, সুফারিশ যেমন কাজে আসবে না, তেমনিভাবে হক নষ্টকারী যালেমকে কখনোই ক্ষমা করা হবে না। দুনিয়াতে সে যত বড় শক্তিশালী হৌক না কেন, আল্লাহ্র কঠিন বিচারের সম্মুখে সে নিতান্তই অসহায় ও নিঃস্ব। ইমাম নববী বলেন, দুনিয়াতে নিঃস্ব ও আখেরাতে নিঃস্ব এই দুই নিঃস্ব ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য এই যে, দুনিয়ার নিঃস্বতা সাময়িক। পরক্ষণেই তা দূর হয়ে যেতে পারে এবং সে স্বচ্ছল ও সম্পদশালী হয়ে যেতে পারে। অথবা তার নিঃস্বতার মেয়াদ হ’ল তার মৃত্যু পর্যন্ত। কিন্তু আখেরাতের নিঃস্ব ব্যক্তি হবে চিরস্থায়ী। তার ধ্বংস হ’ল চিরস্থায়ী ধ্বংস। যেখান থেকে মুক্তি ও পরিত্রাণ পাওয়ার কোন সুযোগ তার থাকবে না’।
মাযেরী বলেন, কোন কোন বিদ‘আতী মনে করে যে, অত্র হাদীছটি কুরআনের বিরোধী। যেখানে বলা হয়েছে وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ‘কেউ কারু বোঝা বহন করবে না’।[2] তাদের এই দাবী বাতিল ও অজ্ঞতা প্রসূত। কেননা এখানে কেবল তার পাপেরই প্রতিফল দেওয়া হবে। আর সেই প্রতিফল দেওয়া হবে তার অর্জিত নেকী সমূহ থেকে। অতঃপর নেকী শূন্য হয়ে গেলে পাওনাদারের অর্থাৎ মযলূমের পাপ সমূহ থেকে কেটে এনে দেনাদার তথা যালেমের আমলনামায় যুক্ত করা হবে। নিজের কৃত যুলুমের শাস্তিস্বরূপ সে মযলূমের পাপ বহন করতে বাধ্য হবে। এটা স্রেফ হকদারের হক আদায়ের জন্য, একজনের পাপের বোঝা অন্যে বহনের উদ্দেশ্য নয়। আর এটাই হ’ল ইনছাফের দাবী।[3]
অন্যতম কারণ এই যে, যালেম ব্যক্তি যদি মযলূমের দাবী পূরণ না করে স্রেফ অধিক পুণ্যের কারণে জান্নাতে চলে যায়, তাহ’লে তার দ্বারা নির্যাতিত মযলূমের হক বিনষ্ট হবে। কেননা আল্লাহ বলেন,وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لاَ يُظْلَمُونَ ‘অতঃপর তাদের মধ্যে সঠিক ফায়ছালা করা হবে এবং তারা অত্যাচারিত হবেনা’ (যুমার ৩৯/৬৯)। পক্ষান্তরে যালেম ব্যক্তি অধিক পুণ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যদি জাহান্নামে যায়, সেটাও ন্যায় বিচারের পরিপন্থী হবে। কেননা আল্লাহ বলেন, مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ- فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ ‘অতঃপর যার ওযনের পাল্লা ভারি হবে’ ‘সে (জান্নাতে) সুখী জীবন যাপন করবে’ (ক্বারে‘আহ ১০১/৬-৭)। অতএব ন্যায় ও ইনছাফের দাবী এটাই যে, পুণ্যবান যালেমের পুণ্যসমূহ মযলূমকে দেওয়া হেŠক, যাতে তার মীযানের পাল্লা হালকা হয়ে যায় এবং মযলূমের হকও আদায় হয়ে যায়। তাতেও না কুলালে মযলূমের পাপ থেকে এনে যালেমের আমলনামায় যুক্ত করা হেŠক, যাতে তার পাপের পাল্লা ভারী হয় এবং সেকারণে সে জাহান্নামে যায়। একারণেই ইবনু ওমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‘যুলুম ক্বিয়ামতের দিন অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে’।[4]
যুল্মের প্রতিকার :
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,
مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لأَحَدٍ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَىْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ، قَبْلَ أَنْ لاَ يَكُونَ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ، إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلَمَتِهِ، وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ-
‘যে ব্যক্তি তার কোন ভাইয়ের প্রতি যুল্ম করেছে তার সম্মান কিংবা অন্য কোন বিষয়ে, সে যেন আজই তার নিকট থেকে তা মাফ করিয়ে নেয়, ঐদিন আসার পূর্বে (অর্থাৎ মৃত্যু বা ক্বিয়ামত আসার পূর্বে), যেদিন তার নিকটে দীনার ও দিরহাম (স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা) কিছুই থাকবে না। সেদিন যদি তার কোন নেক আমল থাকে, তবে তা যুল্ম পরিমাণ নেকী সেখান থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি নেকী না থাকে, তাহ’লে মযলূম ব্যক্তির গোনাহ তার উপরে চাপিয়ে দেওয়া হবে’।[5]
মাফ করিয়ে নেওয়ার অর্থ হ’লঃ যদি কেউ অন্যায়ভাবে কোন কথা বা কাজের মাধ্যমে কারু মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন বা সম্মান হানি করে থাকেন, তবে তিনি তার মনোকষ্ট দূর করবেন, তাকে সম্মান দিবেন ও ইতিপূর্বে কৃত অসম্মানের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইবেন। যতক্ষণ তিনি অন্তর থেকে ক্ষমা না করবেন, ততক্ষণ তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হবেন না বা গোনাহ থেকে মুক্ত হবেন না। যদি কেউ কারু উপরে আর্থিক বা বৈষয়িক যুল্ম করে থাকেন, তবে তিনি হকদারকে তার হক বুঝিয়ে দিবেন এবং অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইবেন। যদি হকদার তাকে অন্তর থেকে ক্ষমা না করেন, তবে তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হবেন না এবং আখেরাতে মুক্তি পাবেন না।
বিদায় হজ্জের সময় আরাফাতে ও মিনায় জীবনের সর্বশেষ ঐতিহাসিক ভাষণে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন,فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ، كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِى بَلَدِكُمْ هَذَا فِى شَهْرِكُمْ هَذَا- ‘তোমাদের উপরে (চিরদিনের জন্য) হারাম করা হ’ল তোমাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান। তোমাদের এ পবিত্র দিনের ন্যায়, এ পবিত্র শহরের ন্যায়, এই পবিত্র মাসের ন্যায়’।[6]
অথচ আজকের পৃথিবীতে এ তিনটি হারাম বস্ত্তকেই হালাল করা হচ্ছে সর্বদা সর্বত্র। বিশেষ করে সমাজপতি, রাজনীতিক ও রাষ্ট্রনেতাদের হাতে এ তিনটি বস্ত্ত অধিক হারে লুণ্ঠিত হচ্ছে সরাসরি প্রত্যক্ষভাবে, পরোক্ষভাবে কিংবা স্পষ্ট প্রতারণার মাধ্যমে। সর্বত্র খুন-অপহরণ, যেনা-ব্যভিচার, সূদ-ঘুষ, চাঁদাবাজি, সশস্ত্র ক্যাডার পোষণ, মানি লোকের মানহানি ইত্যাকার অনৈতিক কাজ-কর্ম সমূহ চলছে এখন সমাজে অপ্রতিহত গতিতে। একইভাবে যারা ‘মিডিয়া’ জগতে আছেন, তাদের অধিকাংশ একে অপরের সম্মান বিনষ্টে লিপ্ত। বক্তাদের অধিকাংশের মুখে যেমন কোন বাঁধন নেই, লেখক, কলামিষ্ট ও সাংবাদিকদের অধিকাংশের কলমেও এখন আর তেমন বিবেকের বন্ধন লক্ষ্য করা যায় না। আলেম-জাহিল সবাই যেন একাকার হয়ে গেছে। অন্ধকার দূরীভূতকারী স্বচ্ছ জ্ঞানের অভাব সর্বত্র অতীব প্রকট আকার ধারণ করেছে। আখেরাতমুখী জ্ঞান ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। সবকিছুই যেন আবর্তিত হচ্ছে দুনিয়াবী স্বার্থকে কেন্দ্র করে। দুনিয়ারূপী মৃত জানোয়ারের।[7] উপরে আমরা হুমড়ি থেকে পড়ছি প্রতিনিয়ত, তাকে শকুনের মত ছিঁড়েছুটে খাওয়ার জন্য। অথচ তার পরিণাম নির্ঘাত ধ্বংস। পৃথিবী এখন সেই চূড়ান্ত ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে চলেছে। সর্বত্র যালেমের জয়ধ্বনি। মযলূমের কান্না সর্বত্র গুমরে ফিরছে নীরবে নিভৃতে।
অতএব হে পুণ্যবান যালেম! মযলূমের বদদো‘আ থেকে সাবধান হও! আখেরাতে নিঃস্ব হবার ভয় কর। হে মযলূম! শান্ত হও। আখেরাতে তোমার হক পূর্ণভাবে আদায় হবার অপেক্ষা কর।
নিঃসন্দেহে ক্বিয়ামতের দিন আমলের ওযনের কমবেশী হবে বান্দার ঈমান, ইখলাছ ও ইত্তেবায়ে সুন্নাহ্র উপরে ভিত্তি করে। শিরক, বিদ‘আত ও রিয়া পূর্ণ আমল কখনোই নেক আমল নয়। যদিও বাহ্যিকভাবে তা দেখে লোকেরা প্রতারিত হয় ও সেদিকেই ধাবিত হয়। কুরআনের ভাষায় ‘তাদের কর্মসমূহ মরুভূমির বুকে মরীচিকা সদৃশ’ (নূর ২৪/৩৯)। পিপাসিত হৃদয় পানি ভেবে সেদিকে ছুটে যায় তৃষ্ণা নিবারণের জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে পানি না পেয়ে হতাশ হয়। আল্লাহ বলেন, وَمَنْ لَمْ يَجْعَلِ اللهُ لَهُ نُورًا فَمَا لَهُ مِنْ نُورٍ ‘বস্ত্ততঃ আল্লাহ যাকে আলো দেন না। তার কোন আলো থাকে না’ (নূর ২৪/৪০)।
আল্লাহ আমাদেরকে ক্বিয়ামত যুগের ফিৎনা সমূহ হ’তে রক্ষা করুন এবং তাঁর প্রিয় বান্দারদের অন্তর্ভুক্ত করুন- আমীন!
[1]. মুসলিম হা/২৫৮১; মিশকাত হা/৫১২৭; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৪৯০০ ‘শিষ্টাচার সমূহ’ অধ্যায় ‘যুলুম’ অনুচ্ছেদ-২১।
[2]. আন‘আম ৬/১৬৪; ইসরা ১৭/১৫; ফাত্বির ৩৫/১৮; যুমার ৩৯/৭; নাজম ৫৩/৩৮।
[3]. মর্মার্থ : মিরক্বাত ৯/৩২২।
[4]. বুখারী হা/২৪৪৭; মুসলিম হা/২৫৭৯; মিশকাত হা/৫১২৩; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৪৮৯৬।
[5]. বুখারী হা/২৪৪৯; মিশকাত হা/৫১২৬; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৪৮৯৯।
[6]. বুখারী হা/১৭৩৯; মুসলিম হা/১৬৭৯; মিশকাত হা/২৬৫৯ ‘ইয়াওমুন নাহরের ভাষণ’ অনুচেছদ; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/২৫৪১; মুসলিম হা/১২১৮; মিশকাত হা/২৫৫৫ ‘বিদায় হজ্জের বর্ণনা’ অনুচ্ছেদ; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/২৪৪০।
[7]. মুসলিম হা/২৯৫৭; মিশকাত হা/৫১৫৭; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৪৯৩০ ‘রিক্বাক্ব বা মন গলানো’ অধ্যায়।