উত্তর : বোরক্বা ছাড়া পর্দা হ’তে পারে। তবে ঢিলা ও কালো বোরক্বা পর্দার জন্য সবচেয়ে সহায়ক পোষাক। আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের উপর পোষাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবতীর্ণ করেছি বেশভূষার উপকরণ সমূহ। তবে আল্লাহভীতির পোষাকই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (আ‘রাফ ৭/২৬)। মূলত অশালীন ও যৌন উদ্দীপক যেকোন পোষাক পরিধান করা হারাম (মুসলিম হা/২১২৮, মিশকাত হা/৩৫২৪)।
নারী-পুরুষের পোষাক এমন হবে যাতে নিম্নোক্ত চারটি মৌলিক মূলনীতি থাকবে। যথা : (১) দেহের গোপনীয় স্থান সমূহ অন্যের চোখে প্রকট না হওয়া (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২৪)। (২) ঢিলেঢালা, ভদ্র ও মার্জিত হওয়া (আ‘রাফ ৭/২৬; মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৮)। (৩) অমুসলিমদের সদৃশ না হওয়া (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৩৪৭)। (৪) অহংকার প্রকাশ না পাওয়া (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৩১১-১৪, ৪৩২১; ইবনু মাজাহ হা/৪৩৮১)।
এছাড়া আরো কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন : (১) হিজাব বা পর্দা যেন পুরো শরীর আবৃতকারী হয়। (২) এটি যেন ঘন বা মোটা কাপড়ের হয়, যার বাহির থেকে ভেতরের অংশ দেখা না যায় (স্বচ্ছ না হয়)। (৩) পোষাকটি যেন আকর্ষণীয় সাজসজ্জা বা অলঙ্করণে জমকালো না হয়, যা পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। (৪) সুগন্ধি মাখানো না হয়। (৫) এটি যেন লোক দেখানো বা সুখ্যাতি অর্জনের পোষাক না হয়। (৬) পুরুষদের পোষাকের সদৃশ্য বা অনুকরণে না হয়। (৭) এতে যেন কোন প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি না থাকে (আলবানী, হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা পৃ. ৫৪-৬৭; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৭/১৪০; বিস্তারিত দ্র. ‘পোষাক ও পর্দা’ বই)।
প্রশ্নকারী : এম শামসুয্যামান, ইংরেজী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।