উত্তর : মুদ্রাস্ফীতি হ’লেও অতিরিক্ত অর্থ দেয়া বা নেয়া থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ১৪/১৪৬)। ওছায়মীন (রহঃ) বলেন, ‘যদি মুদ্রাটি তার নিজের অবস্থাতেই বহাল থাকে (অর্থাৎ আইনগতভাবে সরকার কর্তৃক বাতিল না হয়), তবে ঋণদাতার জন্য ঐ নির্দিষ্ট মুদ্রা ছাড়া অন্য কিছু পাওয়ার অধিকার নেই। পরবর্তীতে সেটির মান বৃদ্ধি পাক বা হ্রাস পাক’ (লিক্বাউল বাবিল মাফতূহ ৯/৭২)। তবে শায়েখ আলবানী, শায়েখ বাসসাম সহ আধুনিক যুগের অনেক বিদ্বান মনে করেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে মুদ্রার মান কমে গেলে বর্তমান মুদ্রামান ধরে অর্থ দেয়া বা নেয়া জায়েয (মাজাল্লাতু মাজমা‘উল ফিক্বহিল ইসলামী ৯/২/৪৪৩; সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, টেপ ২৮৫)। স্মর্তব্য যে, ঋণ প্রদানের সময় অতিরিক্ত গ্রহণের শর্ত করা যাবে না। মুদ্রাস্ফীতি হ’লে গ্রহীতার উচিৎ তা পরিশোধের সময় উত্তমপন্থা অবলম্বন করে তা পরিশোধ করা। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কাছে তার পাওনা উট দাবী করলে তিনি একই বয়সের উট খুঁজতে বললেন। ছাহাবীগণ জানালেন, একই বয়সের উট নেই; বরং আরও উত্তম উট আছে। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ‘তাকে সেটিই দিয়ে দাও। কারণ তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধে উত্তম’ (বুখারী হা/২৩০৫; মুসলিম হা/১৬০১; মিশকাত হা/২৯০৬)।
এছাড়াও পাহাড়ের গুহায় আটকে পড়া তিন ব্যক্তির একজনের মজুরীবাবদ পাওনা টাকা দিয়ে একটি বকরী ক্রয় করে বহুদিন পর পাওনা চাইতে এলে তাকে ঐ বকরীর বদলে একটি আস্ত ছাগপাল দেওয়া হয়। এতে খুশী হয়ে আল্লাহ গুহার মুখ থেকে বিশাল পাথরখন্ড সরিয়ে দেন এবং তারা সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে বেরিয়ে আসেন (বুঃ মুঃ হা/৪৯৩৮ ‘শিষ্টাচার সমূহ’ অধ্যায়)। অত্র ঘটনার মধ্যেও পাওনাদারকে উত্তমভাবে তার পাওনা পরিশোধ করার দলীল পাওয়া যায়।
প্রশ্নকারী : বদরুল আলম, চুয়াডাঙ্গা।