উত্তর : যে সময়ে ব্যক্তি মানসিক প্রশান্তি নিয়ে অধিক মনোযোগী হ’তে পারবে সে সময় কুরআন তেলাওয়াতের জন্য বেছে নিবে। যেমন সকালের নিরিবিলি পরিবেশ। তবে রাতের তেলাওয়াত উত্তম। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের মধ্যে একটি দল রয়েছে, যারা আল্লাহর আদেশের উপর সুদৃঢ়। যারা রাত্রিতে আল্লাহর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে এবং সিজদা করে’ (আলে ইমরান ৩/১১৩)। তিনি আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই রাত্রি জাগরণ মনকে অধিক সংযত করে এবং তেলাওয়াত ও যিকরে অধিক সুদৃঢ় ও একাগ্র করে তোলে’ (মুযযাম্মিল ৭৩/৬)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কুরআন বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে রাতের বেলা ঘুমানো থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুফারিশ কবুল করুন। আল্লাহ তার সুফারিশ কবুল করবেন’ (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৩, সনদ ছহীহ)। রাসূল (ছাঃ) রাতে ১০ আয়াত, ১০০ আয়াত বা এক হাযার আয়াত পাঠের বিশেষ ফযীলত বর্ণনা করেছেন এবং ঘুমানোর পূর্বে সূরা মুলক পাঠের ফযীলত বর্ণনা করেছেন (ইবনু মাজাহ হা/১৩৯৮; মিশকাত হা/১২০১)। ইব্রাহীম নাখঈ (রহঃ) বলতেন, ‘তোমরা রাতের বেলা (কুরআন) তেলাওয়াত বা ছালাত আদায় করো, তা যদি একটি ছাগল দোহন করার সমপরিমাণ সময়ের জন্যও হয়’ (নববী, আত-তিবইয়ান পৃ. ৬৪)। নববী বলেন, ‘রাতের বেলার ছালাত ও তেলাওয়াতকে (দিনের বেলার চেয়ে) প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হ’ল তা আত্মিক একাগ্রতার জন্য সর্বাধিক সহায়ক এবং দুনিয়াবী ব্যস্ততা, মনোযোগ বিনষ্টকারী বিষয় ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ঝক্কি-ঝামেলা থেকে অনেক দূরে। এছাড়া রাতের শেষ তৃতীয়াংশে, ফজর ছালাতের সময় এবং ফজর ছালাত শেষে কুরআন তেলাওয়াত করা উত্তম (ইসরা ১৭/৭৮; মুসলিম হা/৭৫৮)।
প্রশ্নকারী : ইসমাঈল হোসাইন, কালিহাতী, টাংগাইল।