আমি এক ক্ষুদ্র জীব। একটি তেতুল গাছে যেমন লক্ষ লক্ষ পাতা থাকে, যাদের আলাদা আলাদা কোন নাম থাকে না। এই বিশ্ব চরাচরে আমি তেমনই সাধারণ। সেই অযুত পাতার মাঝে কোন পাতাটি শুকিয়ে গেল। ঝরে পড়ল। এটা যেমন কারো খেয়ালে থাকে না। আমিও তেমনই কারো খেয়ালে থাকি না। আমার থাকা বা না থাকায় কারো তেমন কিছু যায় আসে না। আমি এই দুনিয়ায় আসি। হাসি, কাঁদি, ভালোবাসি। আবার চলে যাই। আমাকে দাফন করার মাত্র দু’ঘণ্টা পরে পরিবারে কান্না কমে আসে।
আমি চলে যাওয়ার তিন ঘণ্টা পরে আমার বাড়িতে আগত মেহমানদের আতিথেয়তা হয়। সবাই নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হয়ত তখন কবরে আমার শরীরে পোকা-মাকড় জমতে শুরু করেছে। এটা মনে করে কেউ মন খারাপ করে না। একদিন পরে তারা বিভিন্ন দেশের খবর, রাজনীতির খবর নিয়ে আলোচনা করে। কবরে তখন আমার শরীর জমে ঠান্ডা হয়ে গেছে। কয়েকদিন পরে আমার কর্মক্ষেত্রে আমার জায়গায় নতুন লোক খোঁজা হয়। তখন কবরে আমার শরীর ফুলে গেছে, চামড়া টান টান হয়ে গেছে, গোশতগুলো পঁচে তরল হ’তে শুরু করেছে।
দুই সপ্তাহ পরে আমার পরিবার আমার রেখে যাওয়া সম্পদ ভাগাভাগি করতে বসে। তখন কবরে আমার নখ, দাঁত সব খসতে শুরু করেছে। এটা ভেবে তারা কিন্তু নীরব হয় না। তিনমাস পরে আমার জীবনসঙ্গী আবার আগের মত হাসে। আমার সন্তানেরা হাসে। কবরে তখন আমি কেবল মাটির সাথে মিশে যাচ্ছি। এক বছর পরে কেউ আমার কবর দেখে বলে, ‘লোকটাকে এই তো সেদিন কবর দেয়া হ’ল’। অথচ কবরে ততদিনে আমার শরীরের এ্যসিড আমার কাফনের কাপড়ও নষ্ট করে ফেলেছে। দশ বছর পরে আমার কবরের মাটি সমতল হয়ে যায়। সেখানে আর কবরের চিহ্ন থাকে না। তখন সেখানে আবার নতুন কবর হয়। তারো অনেক নীচে হয়ত আমার দুয়েক টুকরো হাঁড় বাকী থাকে। এভাবেই খুব দ্রুত পৃথিবী পরিবর্তন হয়ে যায়।
আমি জানি, আমি এই দুনিয়ার কেউ না। মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ আমাকে মনে রাখে না। তবুও কেউ যদি আমাকে বলে, তোমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কি? আমি হয়ত ঠোঁটের কোনে একটু হাসি টানার চেষ্টা করে বলব, ভালোবাসা, আদর, যত্ন। শুধু আমি নই, সবাই হয়ত এটাই বলবে। কারণ, আল্লাহ মানুষের মাঝে সৃষ্টিগতভাবেই ভালোবাসার ক্ষুধা দিয়েছেন। এই ক্ষুধাই আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ভালোবাসা পাওয়ার জন্য জীবনে কত ভুল দরজায় কড়া নেড়েছি। কত মানুষের কাছে মাথা নত করেছি তার হিসাব নেই। তবুও এই ক্ষেত্রগুলোতেই আমি মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশী আঘাত পেয়েছি। দোষ আমারই ছিল। আমিই বুঝতে পারিনি, আমার মত এই ক্ষুদ্র জীবের ভালোবাসা পেতে ঠিক কোন দরজায় কড়া নাড়তে হয়।
আল্লাহ আমাকে সবকিছু আগেই বলে দিয়েছেন। তার কথা কখনো মন দিয়ে অনুধাবন করিনি। তার কথাগুলো যদি আরো আগে অনুধাবন করতে পারতাম তবে হয়ত কষ্টের দিনগুলোর দৈর্ঘ্য কমে আসত। তিনি তার মহান সত্ত্বাকে ভালোবাসতে বলেছেন। আমি মানুষকে ভালোবেসে জীবন ক্ষয় করার পরে বুঝতে পেরেছি, মানুষকে ভালোবাসতে হয় না। মানুষ ভালোবাসা পাওয়ার উপযুক্ত নয়। তিনি তাকে খুশি করার চেষ্টা করতে বলেছেন। আমি মানুষকে খুশী করতে গিয়ে সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে বুঝেছি, মানুষ খুশী হয় না। তিনি মনের কথা সব তাকে খুলে বলতে বলেছেন। আমি মানুষের কাছে মনের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে দেখেছি, তারা মুখ চেপে চেপে হাসে। আমি চলে যাওয়ার পরে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করে।
একমাত্র সৌন্দর্যের আধার তো মহান আল্লাহ। যে সৌন্দর্যের দিকে অপলক নেত্রে আমি সত্তর হাযার বছর মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকব। সেই আমি দুনিয়ার আবর্জনার মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে বার বার প্রতারিত হয়েছি। বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক মির্জা গালিব তো দুনিয়াবী সৌন্দর্যের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে লিখেছিলেন, ‘যেদিন আমি ময়ূরকে সাপ খেতে দেখেছি সেদিন থেকেই আমার সৌন্দর্যের প্রতি ঘৃণা জন্মেছে’। আসলে দুনিয়ার সৌন্দর্যগুলোই এমন। অসুন্দরের খনির ওপরে সৌন্দর্যের প্রলেপ মাত্র। এই মরীচিকায় ঠকতে ঠকতে আমি ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি।
আল্লাহ কুরআনে শিখিয়ে দিয়েছেন, ‘বল! আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ একমাত্র আল্লাহর জন্য’ (আন‘আম ৬/১৬২)। এই বিধান তো আল্লাহ দিয়েছেন আমাকে দুনিয়ার কষ্ট থেকে মুক্ত করার জন্য। এদিকে আমি আল্লাহর জন্য শুধু ছালাত আর কুরবানী করেই নিজেকে পরিপূর্ণ মুমিন ভাবি। আমার জীবন-মরণ আল্লাহর জন্য নয়। ধোঁকার এই দুনিয়ায় জীবন-মরণ আল্লাহ্কে সঁপে না দিয়ে যে আমি কত বড় ভুল করেছি, নিজের ওপর কত যুলুম করেছি, আজ সেই কথাই বলব। কেন দুনিয়ার সকল ভালোবাসা থেকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটাই আজ বলব।
জীবনে চলার পথে ছোট ছোট আঘাত বুকের বাম পাঁজরে জমা হয়। টুকরো টুকরো আঘাতগুলো জমে যখন কালো মেঘে রূপ নেয় তখন আমাদের প্রয়োজন হয় একটি শুষ্ক যমীনের। যেখানে বাদলের মত বৃষ্টিপাত করে মনের আকাশ পরিষ্কার হয়। আমি তো নিজে নিজেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারি না বলে অন্যকে ভালোবাসি। তবে সেই ভালোবাসার বিনিময়ে আমরা কেউই শুষ্ক যমীন পাই না। যেখানে সব বলা যায়। কেউই আমাদেরকে আমাদের মত করে বোঝে না।
তবে সেদিন আমার হৃদয়টা হালকা হয়েছে যেদিন আমি আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে কেঁদে কেঁদে সব বলেছি। দেখেছি, সেখানে সবই বলা যায়। যেখানে বলতে কোন সংকোচবোধ হয় না। সত্যি, আমার মনের গহীনে না বলা একটি অক্ষরও বাকী রাখিনি। আমি সেখানে কেঁদে যে প্রশান্তি পেয়েছি, তা এই দুনিয়ার সকল শান্তির উপরে। মনের আকাশে মেঘ জমলে এখন বৃষ্টিপাতের একটি জায়গা আমি পেয়েছি। সেখানে কত যে প্রশান্তি! আমি তো ছিলাম সেই ডাকবাক্সের মত। যার কাছে প্রতিদিন অজস্র চিঠি আসে। তবে ডাকবাক্সের কোন নিজের চিঠি আসে না। যখন আমি আল্লাহকে ভালোবাসলাম তখন আমার কাছে চিঠি স্বরূপ কুরআন এল। সেখানে যে কত কথা! সবই আল্লাহ আমাকে বলেছেন। ভাবতেই অবাক লাগে!
জাফর গোরাখপুরী লিখেছেন, ‘শুধু দূর থেকে নয়, কাছ থেকেও ভাল মনে হবে এই শহরে এমন কেউ কি নেই’? সত্যি, আমি মানুষকে শুধু দূর থেকেই ভাল পেয়েছি। কাছে গেলেই যেন তার অজস্র ত্রুটি দেখা যায়। ভালোবাসা কমে যায়। তবে আল্লাহকে ভালোবেসে দেখলাম, ভালোবাসা যত গভীর, মুগ্ধতা ততই বেশী। তাকে যত বেশী জানা যায় ততই ভালোবাসা বাড়ে। আল্লাহ্কে ভালোবাসতে পারার একটি বড় প্রাপ্তি হ’ল, এই দুনিয়ার কারো ওপরে আমার কোন মান-অভিমান, চাওয়া-পাওয়া থাকবে না। কারণ, আমি জানি, আমার যত অভাব, যত প্রাপ্তি সব তার পক্ষ থেকেই আসে। সত্যি, একমাত্র আল্লাহ্কে ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষ ইহ-পরকালে শান্তির দেখা পেতে পারে।
এমনিতেও একজন সাধারণ মুসলমান হিসাবে আমি চাই, আমার ইবাদত ভাল লাগুক। ছালাত ভাল লাগুক, যিকির আমার আত্মাকে প্রশান্ত করুক। তবে এই ন্যূনতম জিনিসটুকুও আমি অর্জন করতে পারি না। কেমন হ’ত, যদি আল্লাহ্কে ভালোবাসার মাধ্যমে ইবাদত ‘ভাল লাগা’র স্তর পার করে মাদকতার স্তরে চলে যেত! ইবাদতে কি মাদকতা আসে না? আসে তো। প্রখ্যাত তাবেঈ উরওয়াহ বিন যুবাইর (রহঃ)-এর পায়ে একবার ‘আকিলা’ (পচনশীল রোগ) রোগ হয়। চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন, অন্যথায় পচন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। পা কাটার সময় তাকে চেতনানাশক কিছু পান করার প্রস্তাব দেওয়া হ’লে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বললেন, ‘আমি যখন ছালাতে দাঁড়াবো, তখন তোমরা আমার পা কেটে ফেলো।’ এরপর তিনি ছালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর স্মরণে এমনভাবে মগ্ন হয়ে গেলেন যে, চিকিৎসকরা করাত দিয়ে তাঁর পা কেটে ফেলার পরও তিনি ছালাত ছাড়েননি বা কোন যন্ত্রণার আর্তনাদ করেননি।[1] এটা কি মাদকতা নয়? ছালাতে যদি আমার আসক্তি না হয় তবে আমি কিভাবে সারা রাত ছালাতে দাঁড়িয়ে থাকব? সালাফগণ এই ভালোবাসার আমেজেই সারারাত দাঁড়িয়ে থাকতেন।
দুনিয়াতে যেমন প্রেমাস্পদের জন্য অপেক্ষা করতে ভাল লাগে, আত্মত্যাগ করতে ভাল লাগে, তেমনই আল্লাহর প্রেমেও আত্মত্যাগ রয়েছে। আল্লাহর প্রেমেও বিক্রি হওয়া যায়। তাহ’লে আমি আল্লাহর ডাকে সাড়া না দিয়ে মানুষের জন্য উজাড় হব কেন? যারা আমাকে কয়েকদিনেই ভুলে যাবে তাদের খুশী করার জন্য দুনিয়ায় বাঁচব কেন? আমার নফস বড়ই অবুঝ। সে যদি বুঝত, তার মৃত্যুর পরে মানুষ কত তাড়াতাড়ি তার কথা ভুলে যাবে তবে কখনোই সে মানুষকে খুশী করার জন্য জীবনযাপন করত না। তার কাছে এই হাসি-কান্না, ভাললাগা-ভালোবাসা সবই অসার মনে হ’ত।
ছুহাইব রূমী (রাঃ) যখন মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হন, তখন মক্কার কাফেররা তার পথরোধ করে। তারা বলে, ‘তুমি আমাদের এখানে নিঃস্ব অবস্থায় এসেছিলে, আর এখন সম্পদশালী হয়েছ। তুমি এই সম্পদ নিয়ে যেতে পারবে না।’ ছুহাইব (রাঃ) তখন নির্দ্বিধায় বললেন, ‘যদি আমি আমার সব সম্পদ তোমাদের দিয়ে দেই, তবে কি তোমরা আমার পথ ছেড়ে দেবে?’ তারা রাজী হ’ল। তিনি তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় তাদের হাতে তুলে দিয়ে এক কাপড়ে হিজরত করলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন এই ঘটনা জানতে পারলেন, তখন তিনি আনন্দিত হয়ে বললেন, ‘আবু ইয়াহইয়া (ছুহাইব) লাভজনক ব্যবসা করেছে! আবু ইয়াহইয়া লাভজনক ব্যবসা করেছে!’ তার এই কাজের প্রশংসায় আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করলেন : ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিজেকে বিক্রি করে দেয়...’ (বাকবারাহ ২/২০৭)।[2] আমিও যদি এভাবে নিজেকে বিক্রি করে দিতে পারতাম! জীবনে আল্লাহর কাছে যদি দুয়েকবার আপদামস্তক বিক্রি হ’তে না পারি তবে হাশরের ময়দানে তার সামনে কী নিয়ে দাঁড়াব!
বিখ্যাত ছাহাবী আবু তবালহা (রাঃ) ছিলেন মদীনায় আনছারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী খেজুর বাগানের মালিক। মসজিদে নববীর ঠিক সামনেই তাঁর ‘বাইরুহা’ নামক একটি চমৎকার বাগান ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে মিষ্টি পানি পান করতেন। যখন কুরআন মাজীদের এই আয়াত নাযিল হ’ল যে, ‘তোমরা কখনোই পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্ত্তগুলো আল্লাহর পথে ব্যয় করবে’ (আলে ইমরান ৩/৯২)। তখন আবু তবালহা (রাঃ) তৎক্ষণাৎ রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে ছুটে গেলেন। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেছেন, আর আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হ’ল ‘বাইরুহা’ বাগানটি। আমি এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় ছাদাকবা করে দিলাম।[3]
আমাদের সালাফগণ যুগে যুগে এভাবেই আল্লাহ্কে ভালোবেসে ইসলামকে তাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করেছেন। অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ মুমিন হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট প্রিয়তর হব তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও দুনিয়ার সকল মানুষের চেয়ে’।[4] এই হাদীছ পড়ার পর থেকে মনে হ’ত, ভালোবাসাটাই মুখ্য না-কি অনুসরণ। কেউ শুধু ভালোবাসল তবে সুন্নাহ ধারণ করল না, আবার আরেকজন সুন্নাহ ধারণ করল তবে ভালোবাসল না। কে মুমিন হবে?
অনেকদিন পরে বুঝলাম, আমি আসলে ভালোবাসাই বুঝিনি। যাকে ভালোবাসা হয়, অজান্তেই আমরা তার অনুসরণ করে বসি। তার অনুসরণের মাঝে যত বেশী কষ্ট, তত বেশী স্বাদ। যত বেশী কুরবানী, তত ভালোলাগা। একমাত্র ভালোবাসার জন্যই মানুষ হাসিমুখে জান-মাল কুরবানী করতে পারে। রাবী ইবনে আনাস (রহঃ) বলেন, আল্লাহকে ভালোবাসার অন্যতম প্রধান নিদর্শন হ’ল বেশী বেশী তার স্মরণ (যিকির) করা। কেননা তুমি যখনই কোন কিছুকে ভালোবাসবে, তখনই তুমি তার স্মরণ বেশী করবে।[5]
প্রকৃতভাবে আল্লাহকে ভালোবাসলে গুনাহ কমে যাবে। দুনিয়ার প্রতি আসক্তি কমে যাবে। আখেরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। যেমন ইবরাহীম ইবনে আদহাম (রহঃ) বলেন, যদি বান্দারা মহান আল্লাহর ভালোবাসার প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারত, তবে তাদের পানাহার, জাঁকজমকপূর্ণ পোষাক-পরিচ্ছদ এবং দুনিয়ার প্রতি মোহ অনেক কমে যেত।[6] যখন দুনিয়ার প্রতি মোহ কমবে তখন হারাম থেকে বেঁচে থাকা যাবে। ইবাদতে স্বাদ পাওয়া যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হ’ল, জীবনে হতাশা-দুঃখ বলতে আর কিছুই বাকী থাকবে না। সুখে-দুঃখে প্রসন্ন চিত্তে বলা যাবে, আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ একমাত্র বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই। আমরা তাঁরই জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল।
[1]. হাফেয আয-যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৪/৪৩০; ইবনুল জাওযী, ছিফাতুস ছাফওয়া ২/৮৫।
[2]. মুস্তাদরাকে হাকেম ৩/৩৯৮-৩৯৯, ইমাম যাহাবী একে ছহীহ বলেছেন। তাফসীর ইবনে কাছীর, সূরা বাকারার ২০৭ নং আয়াত দ্রষ্টব্য।
[3]. ছহীহ বুখারী হা/১৪৬১, মুসলিম হা/৯৯৮।
[4]. ছহীহ বুখারী হা/১৫, মুসলিম হা/৪৪।
[5]. ইবনে রজব হাম্বলী, জামেউল উলূম ওয়াল হিকাম ২/৪১০।
[6]. আবু নু‘আইম ইসফাহানী, হিলইয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া ৭/২৯।