কিছু দুঃখ আছে যা সকল খুশিকে মলান করে। কিছু ক্ষত আছে যা সকল চিকিৎসাকে হার মানায়। কিছু লুকানো যন্ত্রণা আছে যা সকল আনন্দকে নষ্ট করে ফেলে। আজ এমনই একটি লুকানো ঘাতকের কথা বলব। যা আমার প্রতিটি সফলতার ধাপকে ব্যর্থতায় রূপান্তর করেছে। আমার সযত্নে করা নেকীগুলোকে গুনাহে বদলে দিয়েছে। শত যুদ্ধের পরেও আমি যার সাথে পেরে উঠিনি। আমার সেই লৌকিকতা, নিয়তের কদর্যতা। আব্দুল্লাহ বিন মুবারক (রহঃ) বলেন, ‘অনেক তুচ্ছ আমল রয়েছে, যা সৎ নিয়তের কারণে (নেকী লাভের দিক দিয়ে) বৃহদাকার ধারণ করে। আবার অনেক বড় বড় আমল রয়েছে যা নিয়তের কারণে তুচ্ছ বিষয়ে পরিণত হয়’।[1] এভাবেই লৌকিকতা আমার নেকীর পাহাড়গুলো বসন্তকালের শিমুল তুলার মত উড়িয়ে দিয়েছে।
দুনিয়ায় আজ মুমিনের চেয়ে কাফেরের সংখ্যা বেশী। এর মাঝেই আবার অনেক মুসলমান আছে যারা শুধু সংখ্যায় গণ্য। তাদের মাঝে মুসলমানিত্ব বলতে কিছুই বাকী নেই। যাদের মাঝে কিছুটা বাকী আছে তাদের মাঝে আবার কত দল, কত মত। মুসলমান দাবীদার অধিকাংশই আবার ইবাদত থেকে গাফেল। তারা কখনো মসজিদেই যায় না। ছিয়াম পালন করে না। দান-ছাদাক্বা করে না। খুব অল্প মানুষ রয়েছে, যারা আল্লাহর ইবাদত করে। মসজিদে যায়। ছিয়াম পালন করে, ছাদাক্বা করে। শতকরায় হিসাব করলে তারা দু’জনের বেশী নয়। আমি শুকরিয়া আদায় করছি, কারণ আমিও তাদের মাঝেই একজন। ভেতর থেকে আমি যেমনই হই, মানুষ আমাকে ইবাদতগুযার বলে। ভালো বলে।
এই সবকিছুর পরেও একাকীত্বে আমার অন্তর যেন আমাকে ধিক্কার দেয়। এজন্য আমি একাকীত্বকে ভয় করি। নীরবতাকে ভয় করি। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিশ্চুপ হয়ে চোখ বন্ধ করতে ভয় করি। কারণ তখন আমার ভেতর থেকে কেউ যেন আমাকে খুব অপমান করে। আমাকে অনেক এমন বিষয় প্রশ্ন করে, যার উত্তর আমি দিতে পারি না। সে আমাকে প্রশ্ন করে, তোমার বয়স কত হ’ল? আর কতদিন তুমি নির্লজ্জ থাকবে? তুমি কি তোমার আমলনামা লোক-সম্মুখে পড়ার সাহস রাখ? সেখানে এসব কি লেখা? সে আমাকে পড়ে পড়ে শোনায়।
সে আমাকে বলে, তুমি তো লোকসম্মুখে তোমার জিহবা যিকিরে সিক্ত রাখ, কিন্তু তোমার একাকীত্বগুলো এত নোংরা কেন? তোমার কথা শুনলে তো মনে হয়, তুমি আখেরাতমুখী মানুষ। অন্তরালে তোমার চোখ দু’টো দুনিয়ার লোভে এত চকচক করে কেন? তোমার বক্তব্য শুনে তো মানুষ ইখলাছের শিক্ষা নেয়। কিন্তু তোমার আমলনামায় লোক দেখানো ইবাদত ছাড়া কোন আমলই নেই! যেখানে তোমাকে কেউ চেনে না সেখানে তুমি ফরয ছালাতও ঠিকমত আদায় কর না। পরিচিতদের মাঝে এলেই তোমার আমল বেড়ে যায় কেন? রুকূ-সিজদা এত দীর্ঘ হয় কেন? তুমি তো সম্পদের যাকাতই আদায় কর না। আবার লোকসম্মুখে নফল ছাদাক্বায় এত দানবীর সাজ কেন?
তুমি কি ঐ হাদীছটি পড়নি, যেখানে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, হাশরের ময়দানে সর্বপ্রথম একজন আলেম, শহীদ ও দানশীলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।[2] কারণ তাদের নিয়ত পরিশুদ্ধ ছিল না। তুমি কি কুরআন পড়নি, যেখানে আল্লাহ বলছেন, তার কাছে রক্ত গোশত কিছুই পৌঁছে না। কেবল তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছে। হাতেম (রহঃ) বলেছেন, নিজ আত্মাকে তিনটি বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ করে নাও। যখন কোন কাজ করবে, তখন স্মরণ রাখবে যে, আল্লাহ তোমাকে দেখছেন। যখন কোন কথা বলবে, স্মরণ রাখবে যে, আল্লাহ তা শুনছেন। আর যখন চুপ থাকবে, তখন স্মরণ রাখবে যে, আল্লাহ তোমার সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।[3] তুমি কি আমার সাথে সেভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছ?
তুমি কেমন আলেম, যার ইলম তার আমলে কোন পরিবর্তন আনে না? হযরত আলী (রাঃ) বলেন, ‘লোক দেখানো ব্যক্তির চারটি আলামত হ’ল- (১) একাকী থাকা অবস্থায় সে (সৎ আমলে) অলসতা করে (২) মানুষের সাথে থাকলে সে তৎপর হয় (৩) সে কাজ বেশী করে যখন কাজের জন্য তার প্রশংসা করা হয় (৪) আর তা কম করে যখন সেজন্য তাকে নিন্দা করা হয়’।[4] এখানে কি তুমি নিজের সাথে কোন অমিল খুঁজে পাও? তুমি তো আলেম হয়েছ খ্যাতি কুড়ানোর জন্য। নিজ সৎআমল প্রকাশ করে এবং জ্ঞানের গভীরতা প্রদর্শন করে তুমি তৃপ্তি পেতে চাও।
তুমি মানুষের কাছে স্বীকৃতি লাভের প্রশান্তিতে তুষ্ট। তোমার নেক আমলগুলো তুমি স্রষ্টাকে জানিয়ে পরিতৃপ্ত হও না বরং মানুষের প্রশংসা পেলেই খুশী হও। তুমি কামনা কর, মানুষ তোমার প্রশংসা করুক। তোমাকে অবলোকনের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করুক। তোমার সেবা করুক, সম্মান করুক এবং বিভিন্ন সভা-সম্মেলনে তোমাকে সামনে এগিয়ে দিক। এতেই তুমি প্রবৃত্তির সবচেয়ে বড় স্বাদ আস্বাদন কর। আর এ কাজগুলো করে তুমি মনে কর যে, তোমার জীবন আল্লাহর পথে নিবেদিত এবং তাঁরই ইবাদতে রত। অথচ তুমি এসব গোপন প্রবৃত্তির মাঝে আসক্ত। জেনে রাখ, আল্লাহর নিকটে তোমার নাম মুনাফিকদের তালিকাভুক্ত...। আমি কথাগুলো শুধু চুপচাপ শুনে যাই। এই কথাগুলোর কোন প্রতিউত্তর আমার কাছে নেই। কারণ তার কথাগুলো শতভাগ সত্য।
সত্যিই আমি ইবাদতের মাঝে স্বাদ পাই না। কারণ আমি জানি, আমার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়। লোক দেখানো ইবাদত করার পরে যখনই মনে হয়, আল্লাহ তো অন্তর দেখেন। তখন অন্তরে ইবাদতের প্রশান্তিগুলো কেমন যেন শুকিয়ে যায়। আমার নফস আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করে, আরে! তুমি তো অমুক অমুক ইবাদত করছ। অনেকে তো সেটাও করে না। এটা ভেবে পরিতৃপ্ত হওয়ার চেষ্টা করি। আবার মনে হয়, কেউ যদি আমার কাছে একটি উপহার এনে বলে, ‘এটা আমি তোমার জন্য নিয়ে আসিনি। অমুকের জন্য নিয়ে এসেছিলাম। তবে তিনি এটা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এখন এটা তুমিই রাখ’। তবে কি আমি সেই উপহার রাখতে পারব? কখনোই না। কারণ এটা আমার আত্মমর্যাদায় আঘাত করবে। আমার মনে হবে, সে তো আমার জন্য নিয়ে আসেনি, আমি কেন নিব? অথচ আমি মানুষকে দেখানোর জন্য দান করি, ছালাত আদায় করি। আর নফস আমাকে ধোঁকা দিয়ে বলে, আল্লাহ এগুলো কবূল করছেন। তিনি খুব সন্তুষ্ট হচ্ছেন।
মাঝে মাঝে অন্তরটা পরিবর্তন হয়। ভাবি, মানুষের কাছে খ্যাতি অর্জনের জন্য এত লৌকিকতা, এতটা কষ্ট বরণ করা। অথচ এই দুনিয়ার সকল মানুষের কাছে ভাল হওয়ার পরে, সফলতা অর্জনের পরে এই জীবনের কি পরিবর্তন হবে? এটা তো আগের মতই থাকবে। এটা কি চিরস্থায়ী হবে? এটা কি পূর্ণ হয়ে যাবে, যেভাবে একটা গ্লাস পানি দিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়? হবে না। কিছু চাওয়া তো অপূর্ণ থেকেই যাবে। কিছু মানুষের কাছে তো আমি খারাপ থেকেই যাব। তবে এত মেহনত কিসের! এত লৌকিকতা কিসের! সবকিছুর মূলে কি কেবল একটি ভাল দিনের আশা? ভাল দিনের আশায় তো জীবন পার হয়ে গেল। এখন এসে বোঝা গেল, জীবনে আমরা ক্রমশ খারাপ দিনের দিকে এগিয়ে যাই। জান্নাতে প্রবেশের পূর্বে এই জীবনে আর ভাল দিন আসা সম্ভব নয়।
সেই ছোট বেলায় পড়েছিলাম, থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে...। জগৎ দেখার সেই তীব্র আকাঙ্খা এখন আর নেই। কারণ এখানে পরতে পরতে লুকানো মিথ্যা, লৌকিকতা। সবাই এখানে সুন্দরটুকু প্রদর্শন করে, কুৎসিতটুকু ঢেকে রাখে। আমিও সেটাই করি। এই জগতের কি আর দেখব? আমার জীবনে যখন দুঃখ-কষ্ট নেমে আসে তখন এই জগৎই সবার আগে এসে বলে, সে আমার কষ্ট বুঝতে পারছে। সে আমার সাথে আছে। কিন্তু আমি অনেকগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরে বুঝতে পারলাম, আল্লাহ ছাড়া কেউই আমার সাথে নেই। সবার মুখে মিথ্যা আশ্বাস। মিথ্যা প্রশংসা। মিথ্যা সহানুভুতি।
ধীরে ধীরে সবকিছু আমার কাছে বিষিয়ে উঠেছে। তেতো হয়ে গেছে। এখন আমি মনে করি, জীবনের প্রতিটি ঐ মুহুর্ত, যা আমাকে ছালাতে দাঁড়াতে বাধ্য করে, হাত তুলে কাঁদতে বাধ্য করে, প্রত্যেক ঐ কষ্ট যা আমাকে দুনিয়ার হাকীকত চেনায়, আল্লাহ্কে আরো আপন ভাবায় এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি বিশেষ নে‘মত। যে নে‘মত আল্লাহ শুধু তার খাছ বান্দাদের দান করে থাকেন। আমার দুর্ভাগ্য যে, এই নে‘মতকে আমি আযাব হিসাবে গ্রহণ করি। আর দুনিয়ার জৌলুসে ডুবে প্রতিপালককে ভুলে যাওয়াকেই নে‘মত মনে করি। জানি না, কিভাবে আমি আল্লাহর সৎ বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হব।
এই লোক দেখানো আমল আমার ঈমানকেও দুর্বল করে ফেলেছে। আমার একজন রব আছেন। যিনি আমাকে সব সময় দেখছেন। এগুলো কথার ওপরে আমার বিশ্বাস খুবই শিথিল। আল্লাহ আমাকে সব সময় দেখছেন বলে যদি বিশ্বাস করতাম তবে আমি শুধু ইবাদতের মাঝেই আল্লাহ্কে খুঁজতাম না। গুনাহের মাঝেও মনে হ’ত, আল্লাহ আমাকে দেখছেন। আমি যখন মাযলুম হই শুধু তখনই আসমানের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর সাহায্যের আশা করতাম না, আমি যখন যালেম তখনও আসমানের দিকে তাকিয়ে আযাবের ভয় করতাম। আমি তো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস নিজের সুবিধা অনুযায়ী করি। এজন্যই আমি মাযলুম হওয়ার পরে যখন আসমানের দিকে দু’হাত তুলে সাহায্য চাই তখন আর আমার প্রতি আল্লাহর সাহায্য আসে না। কেন আসে না সেটাও ভেবে দেখার সুযোগ আমার হয় না।
লোক দেখানো কিছু ছালাত ও ছাদাক্বাকে অনেক বেশী ভেবে আমি দিন-রাত গুনাহ করে যাই। আমার অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস যে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া মাত্রই তিনি সবকিছু ক্ষমা করে দেবেন। মনে করি, তিনি তো আমাকে নিজ হাতে তৈরি করেছেন। কিভাবে আমাকে আগুনে পোড়াবেন? তার কি মায়া হবে না? ইত্যাদি আবেগময় কথা মনে ভাসে। সেই আবেগকে পুঁজি করে আমি সর্বশক্তি দিয়ে গুনাহ করি। কিন্তু আমার নফস বোঝে না যে, আল্লাহ আবেগের বশীভূত নন। তিনি এগুলো থেকে পবিত্র। এটা বোঝার জন্য অনেক দলীল প্রমাণের প্রয়োজন নেই। একটু খেয়াল করলেই এটা বোঝা যায়।
উদাহরণ স্বরূপ, আমার কোন শত্রুর যদি তিনটা ছোট সন্তান থাকে। তবে আমি কখনোই চাইব না যে, আমার শত্রু এই ছোট্ট ছোট্ট সন্তান রেখে রোড এক্সিডেন্টে মারা যাক। কারণ এখানে আমার আবেগ কাজ করে। তার মৃত্যুর পরে তার পরিবারের অসহায়ত্ব ভাবতে গেলে কষ্ট হয়। এদিকে আল্লাহ তার বান্দাদের কত বেশী ভালবাসেন তা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। তারপরও কিন্তু তিনি প্রতিদিন এমন অসংখ্য মানুষের মৃত্যু দেন যাদের ছাড়া তাদের পরিবার অসহায়। যাদের মৃত্যুর খবর শুনলেই অন্তরটা হাহাকার করে ওঠে। তাহ’লে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহর তেমন আবেগ নেই যা আমার আছে। আল্লাহ নিজ ইচ্ছা বাস্তবায়নে কঠোর। সুতরাং তার পাওনা আদায়ের বিষয় খুব সিরিয়াসভাবে নেয়া দরকার।
আমরা নিজেদের জীবন পরিচালনায় বে-পরোয়াদের ভয় করি। কখনো বাবার চেয়ে চাচা যদি বেশী কড়া মেজাযের হন, তখন বাবার চেয়ে চাচাকে বেশী ভয় করি। কর্মক্ষেত্রে যদি কোন উধ্বতন দায়িত্বশীল এমন হন তবে তার বিষয়গুলো একটু ভিন্নভাবে গুরুত্বের সাথে নেয়ার চেষ্টা করি। তবে আল্লাহর বিষয়ে আমরা সু-ধারণায় ডুবে থাকি। এখানে শুধু আমি ক্ষমার ঘোষনাগুলোই দেখতে পাই। জাহান্নামের বর্ণনাগুলো দেখতে পাই না। তিনি যে অনন্তকাল জাহান্নামে শাস্তি দেবেন তা কখনো অন্তরে দাগ কাটে না। রাগের পরিমাণ কত বেশী হ’লে তা অনন্তকালেও শেষ হয় না, এগুলো কখনো চিন্তা করি না। তবে এগুলোও একটু ভেবে দেখা দরকার।
তিনি আমাকে জীবন-বিধান দিয়েছেন। আমি এই বিধান মান্য করি বা না করি, তিনি কখনো আমাকে রিমাইন্ডার দেন না। তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তবে এবিষয়ে আমার কোন মতামত নেননি। তিনি আমাকে ইচ্ছামত একটি দেশে, বর্ণে, ভাষায়, বংশে প্রেরণ করেছেন। এবিষয়েও তিনি আমার কোন মতামত নেননি। তিনি আমাকে হঠাৎ মৃত্যুদান করবেন। সেখানেও তিনি আমার কোন মতামত নিবেন না। আমার আমল যদি ভাল না হয় তবে তিনি আমাকে জাহান্নামে দিবেন। তখনও আমি বরাবরের মতই অপারগ থাকব। যদি তিনি আমাকে ক্ষমা করে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান তবুও এটা তারই ইচ্ছা। তার ইচ্ছার বাইরে কিছুই হবে না। তার কাজের বিষয়ে তিনি কাউকে জবাবদিহিতাও করবেন না। কারণ তিনি নিজ সিদ্ধান্তে অটল। সুতরাং এমন একজন সত্ত্বাকে সন্তুষ্ট করার জন্য ঠিক কতটা সচেতন হওয়া দরকার হয়তো আমি বুঝতে পারছি না।
আমি তো মনে করি, আমার ইবাদত আল্লাহর প্রয়োজন। যেমন তেমন করে করলেই তিনি গ্রহণ করবেন। তবে বিষয় তো এমন নয়। তিনি তো অমুখাপেক্ষী। আমার ইবাদত তো আমারই মুক্তির জন্য। এটা বুঝতে আমার এত সমস্যা হচ্ছে কেন! শয়তানের তৈরি ধুম্রজাল আমাকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছে? মানুষকে খুশি করা তো দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ। নুন তেকে চুনে গেলেই মানুষ পেছনের সব কথা ভুলে যায়। সেই কঠিন কাজেই শয়তান আমাকে আনন্দ দেয়! হায় আফসোস!
এভাবে আর নয়। মানুষকে খুশি করার জন্য আর একটি আমলও নয়। যদি একবার সুবহানাল্লাহ বলি, যদি এক পয়সাও ছাদাক্বা করি তবে সেটা হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মায়মূন বিন মেহরান (রহঃ) বলেন, ‘তোমাদের আমলের পরিমাণ এমনিতেই খুব কম। কাজেই এই কম আমলটুকুই বিশুদ্ধভাবে করার চেষ্টা কর’।[5] আমি আর চাই না নিয়তের কারণে আমার নেকীগুলো নষ্ট হোক। আমি আমার অন্তরকে সেই বাক্যই শিক্ষা দিব যা আল্লাহ কুরআনে শিখিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমার ছালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মৃত্যু একমাত্র বিশ্বচরাচরের মালিক আল্লাহর জন্য।
-সারওয়ার মিছবাহ*
*. শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, রাজশাহী।
[1]. জামেঊল উলূম ওয়াল হিকাম ১/৭১।
[2]. মুসলিম হা/১৯০৫।
[3]. সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা, ১১/৪৮৫।
[4]. যাহাবী, কিতাবুল কাবায়ের পৃঃ ১৪৫।
[5]. হিলয়াতুল আওলিয়া, ৪/৯২।