আমার রামাযান

বছরের হিসাবে আমার জীবনে কত কিছুই অতিবাহিত হয়। সবকিছুরই আমি হিসাব রাখি, রেকর্ড রাখি। শিক্ষাবর্ষ অতিবাহিত হয়। কতটুকু শেখা হ’ল, কতটুকু শেখানো হ’ল, কতজন নতুন ছাত্র হ’ল আমি তার হিসাব রাখি। অর্থবছর অতিবাহিত হয়। কত টাকা আয় হ’ল, কত ব্যয় হ’ল সেগুলোও লেখাজোকা থাকে। এমনকি কতগুলো বসন্ত অতিবাহিত হ’ল, কোন বসন্তে কি পেলাম আর কি হারালাম সেগুলোও হিসাবে রয়েছে। তবে রামাযান! কতগুলো রামাযান গেল তার হিসাব আমার নেই। রামাযানের হিসাব আমাকে ভিন্ন কিছু দিয়ে করতে হয়। ৩০টি বসন্ত গেছে মানে ৩০টি রামাযানও গেছে। রামাযান কখনোই আমার কাছে আলাদাভাবে গুরুত্ব পায়নি।

হ্যঁা! মুখ্য হয়েছে ভিন্নদিক থেকে। আমি রামাযানকে গুরুত্ব দিয়েছি, তবে সেটা ছওয়াব লাভের দিক থেকে নয়। আমি যখন ব্যবসায়ী তখন রামাযান হ’ল আমার জন্য টাকা উপার্জনের মৌসুম। ঈদকে সামনে রেখে রামাযানের এক মাস আগে থেকেই আমার আমদানী শুরু হয়। আগেভাগেই সব কিনে যদি স্টক করতে না পারি তবে তো জিনিস-পত্র চড়া দামে বিক্রি করা যাবে না। সবরকমের প্রস্ত্ততি নিয়ে রামাযানে আমি আঁট-ঘাট বেঁধে ব্যবসায় বসি। সারা রামাযান আমার নিঃশ্বাস নেয়ার সময় নেই। শুধু বেচা-বিক্রি। শুধু হিসাব-নিকাশ। শুধু টাকা আর টাকা!

আমি যখন রাজনীতিবিদ, তখন আমি চিন্তা করি, রামাযান তো চলে আসল, পাঞ্জাবী-টুপি পরা শুরু করতে হবে। শেষের দশদিন এলাকার দশটি মসজিদে বিরিয়ানী দিয়ে ইফতারী দিতে হবে। সেখানে ইফতারের পূর্বে গিয়ে মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে আলোচনা রাখতে হবে। দলের প্রচার-প্রসার করতে হবে। ওপরে কথা বলে ২০টি মসজিদে ইফতারীর বাজেট পাশ করিয়ে নিতে হবে। ১০টি মসজিদের টাকা কর্মীদের ঈদের পোষাক-পরিচ্ছেদ কেনার খাতে ব্যয় করতে হবে। রাজনীতি করা বললেই তো আর করা নয়! অনেক কাজ। অনেক ব্যস্ততা।

এভাবে রামাযান সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এখন আলোচনার বিষয় হ’ল, আমি যেভাবে রামাযানকে দেখছি, রামাযান কি এমনই? রামাযান কি এসব গুরুত্ব নিয়েই আমাদের জীবনে আসে? নাকি আমাদের হিসাবে মস্ত বড় ভুল হয়ে যাচ্ছে? আমাদের সালাফগণ রামাযানকে কিভাবে দেখেছেন? সে হিসাব আজ একটু মিলিয়ে দেখব।

রামাযানের একটি সুঘ্রাণ রয়েছে। যখন রামাযান আগমন করে তখন আগে থেকেই তার সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। সালাফগণ তাদের জীবনে রামাযানকে স্বাগত জানাতেন। মুআল্লা বিন ফাযল (রহঃ) বলেন, সালাফগণ ছয় মাস আল্লাহর কাছে দো‘আ করতেন যেন তিনি তাদেরকে রামাযান পর্যন্ত পৌঁছান।

এরপর বাকী ছয় মাস দো‘আ করতেন যেন তিনি তাদের রামাযানের আমলগুলো কবুল করে নেন।[1] ইয়াহইয়া বিন আবী কাছীর (রহঃ) বলেন, সালাফগণের অন্যতম দো‘আ ছিল, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রামাযান পর্যন্ত নিরাপদে রাখুন, আমার জন্য রামাযানকে নিরাপদ রাখুন এবং আমার পক্ষ থেকে তা (নেক আমলগুলো) কবুল করে নিন’।[2]

আমি কখনো এভাবে রামাযানকে স্বাগত জানাতে পারিনি। রামাযানের জন্য প্রস্ত্ততি নিতে পারিনি। রামাযানকে জীবন পরিবর্তনের একটি মোক্ষম সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করতে পারিনি। হাসান বছরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহ রামাযানকে তার সৃষ্টির জন্য একটি প্রতিযোগিতার মাঠ বানিয়েছেন। যেখানে তারা আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি অর্জনে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে। একদল মানুষ এতে অগ্রগামী হয় এবং সফলকাম হয়, আর অন্য দল পিছনে পড়ে থাকে এবং ব্যর্থ হয়।[3] আমিও রামাযানে প্রতিযোগিতা করি। তবে সেটা ছওয়াবের নয়, ভিন্ন কিছুর। রোজগারের, শপিং-এর, বাহারী পদের ইফতারীর।

রামাযানের ছিয়াম মানে শুধু না খেয়ে থাকা নয়। ছিয়াম মানুষকে পরিশুদ্ধ করে। অথচ আমি রামাযানের আমল মানে শুধু সাহারী খাওয়া আর ইফতারী খাওয়া, মাঝে সারাদিন না খেয়ে থাকাই বুঝি। আমার ছিয়াম তেমন নয়, যেমন ছিল সালাফদের ছিয়াম। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই ছিয়াম নয়। বরং মিথ্যা, অনর্থক কাজ, অসার কথাবার্তা ও কসম থেকে বিরত থাকাই হ’ল প্রকৃত ছিয়াম।[4] জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, যখন তুমি ছিয়াম রাখ তখন যেন তোমার জিহবা, চোখ, কানও হারাম বস্ত্ত থেকে ছিয়াম রাখে।[5]

ছিয়াম রাখলে হারাম বস্ত্ত থেকেও দূরে থাকতে হবে এটা আমি কখনো ভাবিইনি। আমি রাস্তায় বের হ’লেই আমার চোখ হারামের দিকে যায়। আমার ছিয়াম আমার চোখকে নীচু করতে পারে না। বন্ধুদের আড্ডায় বসে মিথ্যা বলি, গীবত করি। আমার ছিয়াম আমার জিহবাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অথচ জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, যখন তুমি ছিয়াম রাখবে, তখন তোমার কান, চোখ এবং জিহবাকেও মিথ্যা ও পাপাচার থেকে ছিয়াম রাখাবে। দাস-দাসীদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। রামাযানের দিন তোমার মাঝে গাম্ভীর্য ও প্রশান্তি বজায় থাকবে। তোমার ছিয়াম বিহীন দিন এবং ছিয়ামের দিনকে একরকম করে ফেলবে না।[6]

আমার রামাযান এবং রামাযানের বাইরের মাসগুলো সমান। দিনগুলো সমান। রাতগুলো সমান। আমি কখনোই গীবত থেকে বিরত হই না। অথচ মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি দু’টি অভ্যাস পরিহার করতে পারবে, তার ছিয়াম নিরাপদ থাকবে : গীবত ও মিথ্যা।[7] হাফছাহ বিনতু সীরীন (রহঃ) বলেন, ছিয়াম হ’ল ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না ছায়েম তা ছিঁড়ে ফেলে। আর ছিয়ামকে ছিঁড়ে ফেলে গীবত।[8] আবুল আলিয়া (রহঃ) বলেন, ছায়েম বিছানায় ঘুমিয়ে থাকলেও সে ইবাদতের মধ্যে গণ্য হয়, যতক্ষণ না সে কারো গীবত করে।[9]

আমি জানি, রামাযান কুরআনের মাস। কুরআনের জন্যই রামাযান সম্মানিত। এই মাসে সর্বাধিক কুরআন তিলাওয়াত করা প্রয়োজন। সালাফগণের দিকে তাকালে দেখতে পাই, যখন রামাযান মাস আসত তখন ইমাম যুহরী (রহঃ) বলতেন, ‘এটি তো কেবল কুরআন তেলাওয়াত এবং খাবার খাওয়ানোর মাস’।[10] যখন রামাযান আসত তখন সুফিয়ান ছাওরী (রহঃ) অন্যান্য নফল ইবাদত কমিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র কুরআন তেলাওয়াতের দিকে মনোনিবেশ করতেন।[11] যখন রামাযান আসত তখন ইমাম মালেক (রহঃ) হাদীছ পাঠ এবং ইলমী মজলিস থেকে দূরে সরে যেতেন এবং কেবল কুরআন তেলাওয়াত করায় মগ্ন থাকতেন।[12] যখন রামাযান আসত তখন যুবাইদ আল-ইয়ামী (রহঃ) কুরআন মাজীদের কপিগুলো বের করে আনতেন এবং তাঁর সঙ্গীদেরকে তেলাওয়াতের জন্য একত্রিত করতেন।[13] কবাতাদা (রহঃ) সাধারণত প্রতি সাত দিনে একবার কুরআন খতম করতেন। রামাযান এলে প্রতি তিন দিনে একবার খতম করতেন। আর রামাযানের শেষ দশক এলে প্রতি রাতে একবার কুরআন খতম করতেন।[14]

এদিকে আমার সারা রামাযান মিলিয়ে এক খতম কুরআন তেলাওয়াত হয় না। এমনকি প্রতিদিন নিয়মিত তেলাওয়াতও হয়ে ওঠে না। সপ্তাহে তিন দিন হয়, তো চারদিন হয় না। এক পারা তেলাওয়াত করব বলে বসি, তিন পৃষ্ঠা পড়ার পরে আমার আর ভাল লাগে না। আমি কি বুঝি না, এগুলো মাহরূমীর লক্ষণ! আমি কি বুঝি না, আল্লাহ আমাকে কুরআন থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন! আমার তো কান্না করা দরকার! অথচ আফসোসের বিষয় হ’ল এই বিষয়ে আমার কোন খারাপ লাগা কাজ করে না। করলেও তা খুবই ক্ষীণভাবে অল্প সময়ের জন্য। যা আমার মাঝে কোন অনুশোচনা জাগায় না। আমাকে পরিবর্তন করে না।

আমি জানি, রামাযানে প্রতিটি আমলের প্রতিদান সত্তর থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। রামাযানে সালাফগণ নফল ছাদাক্বায় প্রতিযোগিতা করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) ইয়াতীম ও মিসকীনদের সাথে না নিয়ে ছিয়াম রাখতেন না (ইফতার করতেন না)। কখনো যদি তিনি জানতে পারতেন যে তাঁর পরিবারের লোকেরা তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছে, তবে সেই রাতে তিনি কিছু না খেয়েই পার করতেন।[15] হাম্মাদ বিন আবূ সুলায়মান (রহঃ) রামাযান মাসে ৫০০ মানুষকে ইফতার করাতেন। আর ঈদের দিন এলে তিনি তাদের প্রত্যেককে একটি করে নতুন পোষাক এবং একশ’ দিরহাম করে দান করতেন।[16]

আমাকেও আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন। তবে আমি কখনো ছাদাক্বা করিনি। আমি কখনো গরীব-ইয়াতীমদের হক্ব নিয়ে ভাবিনি। নফল ছাদাক্বা তো দূরের কথা, আমার সম্পদের যাকাত নিয়েই কখনো আমি ভাবিনি। এভাবেই বছরের পর বছর গেছে। আমি যাকাত আদায় করিনি। অথচ আমি যদি যাকাত আদায় করি, ছাদাক্বা করি, তবে এর ফলাফল তো আমিই পরকালে ভোগ করব। আমি পরকালের সেই জীবন নিয়ে কখনো ভাবিনি। দুনিয়ায় এত সম্পদের মালিক হয়েও পরকালে যদি জাহান্নামে জ্বলতে হয় তবে এই সম্পদ আমার কি কাজে আসল? আবু যার (রাঃ) বলেন, ‘হে মানবমন্ডলী! আমি তোমাদের উপদেশদাতা এবং তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ। তোমরা কবরের নিঃসঙ্গতা থেকে বাঁচতে রাতের আঁধারে ছালাত আদায় কর এবং পুনরুত্থান দিবসের দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে দুনিয়ার উত্তাপে ছিয়াম পালন কর। ক্বিয়ামতের কঠিন দিনের ভয়ে মহৎ কাজের উদ্দেশ্যে দান-ছাদাক্বাহ কর’।[17]

আমি জানি, রামাযানের ছিয়ামের প্রতিদান যেমন সীমাহীন, তেমনই এই মাসে ক্বিয়ামুল লায়লের মর্যাদা রয়েছে অপরিসীম। তবুও আমি ফজরের আযানের আগে এতটুকু সময় নিয়ে ঘুম থেকে উঠি যেখানে শুধু কোনরকমে আমার সাহারীটাই খাওয়া হয়। আমি কখনো শেষ রাতে আল্লাহর দরবারে ছালাতে দাঁড়াই না। অথচ সালাফগণের দিকে তাকালে দেখতে পাই, ইবনুল জাওযী (রহঃ) বলেন, মাসগুলোর মধ্যে রামাযানের কোন তুলনা নেই। মুমিনের জন্য আবশ্যক হ’ল এই মাসটিকে কাজে লাগানো, যা তাকে ক্ষমাশীল রবের নিকটবর্তী করে।[18] ইবনু রজব হাম্বলী (রহঃ) বলেন, জেনে রাখো! মুমিনের জন্য রামাযান মাসে নফসের বিরুদ্ধে দু’টি জিহাদ একত্রিত হয়। দিনে ছিয়ামের মাধ্যমে জিহাদ এবং রাতে ক্বিয়ামের মাধ্যমে জিহাদ। যে ব্যক্তি এই দু’টি জিহাদ একত্র করতে পারল, এগুলোর হক আদায় করল এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ করল, তাকে অগণিত ছওয়াব দান করা হবে।[19]

ছিয়াম-ক্বিয়ামে ধৈর্যধারণ করার মত শক্তি আমার নেই। এগুলো আমার কাছে খুবই কঠিন। আট রাক‘আত তারাবীহ আদায় করতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে? আমি তো বিশ মিনিটের পথ খঁুজি। যে মসজিদে যত তাড়াতাড়ি ছালাত হয় আমি সেখানে যাই। আমি ইবাদতের ক্ষেত্রে যুবক বয়সেই যেন বুড়িয়ে গেছি। অথচ আহনাফ বিন কবায়েস (রহঃ)-কে বলা হয়েছিল, আপনি একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ, ছিয়াম তো আপনাকে দুর্বল করে দেবে! তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এই ছিয়ামকে একটি দীর্ঘ সফরের (আখিরাতের) পাথেয় হিসাবে প্রস্ত্তত করছি। আল্লাহর আযাবের ওপর ধৈর্য ধারণ করার চেয়ে আল্লাহর আনুগত্যের ওপর ধৈর্য ধারণ করা অধিক সহজ’।[20] আজ কোথায় আমাদের সেই চিন্তাধারা?

ক্বিয়াম তো দূরে থাকল, ছিয়াম রাখলেই আমি চুপসে যাই। আমার চেহারা বিধ্বস্ত হয়ে যায়। লোকে আমাকে দেখলেই বোঝে, আমি ছিয়াম রেখেছি। কিন্তু ছিয়াম তো আমার নিত্যদিনের সাথী হওয়ার কথা ছিল। অন্তত এতটুকু শক্ত থাকা দরকার ছিল যে, মানুষ যেন আমাকে দেখলে না বোঝে যে আমি ছায়েম। এটাও সালাফগণ খেয়াল করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, যখন তোমাদের কারো ছিয়ামের দিন আসে, সে যেন সকালে তেল মাখে এবং পরিপাটি থাকে (অর্থাৎ ছিয়ামের কারণে যেন নিজেকে বিশ্রী বা অতিমাত্রায় দুর্বল করে না রাখে)।[21]

সালাফদের রামাযানের সাথে যদি আমার রামাযানকে মিলাই তবে প্রতি বাক্যের শেষে আমি একবার করে লজ্জিত হব। আমি রামাযানে যেভাবে আমল করি, এর বিনিময়ে আল্লাহ শাস্তি ছাড়া ভিন্ন কিছু দিবেন কি-না আমি জানি না। কারণ রামাযান আমার কাছে নিতান্তই অবহেলিত একটি বিষয়। আমি হাদীছে পড়েছি, রামাযানে অনেক গুনাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। এমন অনেককে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন যাদের ঠিকানা জাহান্নামে নির্ধারিত হয়েছিল। তবে এই সমস্ত ব্যক্তি তারা, যারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। রামাযানের সময়কে কাজে লাগায়। নিজেদের পরিবর্তন করে।

আমি তো ছিয়াম রেখে সারাদিন গল্পে ব্যস্ত থাকি। যখন সময়

কাটে না তখন মোবাইলে রিলস দেখে সময় পার করি। বন্ধু-বান্ধবের সাথে বিভিন্ন খেলায় মেতে উঠি। কখনো একান্তভাবে আল্লাহর দরবারে তওবা করা হয়ে ওঠে না। রামাযানের মত ফযীলতপূর্ণ সময়েও আমি একটু মসজিদে সময় দিতে পারি না। আমার মুখে কখনো ইস্তেগফার থাকে না। আল্লাহর যিকরে জিহবা সিক্ত হয় না। অন্তরে কখনো আল্লাহর ভয় আসে না। রামাযানেও আল্লাহর দরবারে হাত তোলার অভ্যাস তৈরী হয় না। আল্লাহ আমাকে কিভাবে ক্ষমা করবেন? 

আমি তো তাদের মত হতভাগা হ’তে চাই না, যারা রামাযান পেল অথচ জীবনের গুনাহগুলো মাফ করাতে পারল না। আমি প্রতি রামাযানেই নিষ্পাপ হ’তে চাই। কারণ বছর ঘুরে রামাযান আসে। এর পরের রামাযান আমার নছীবে জুটবে কি-না আমি জানি না। যদি এই হয় অবস্থা, তবে অপেক্ষা কিসের! কিসের এত আলসেমি!

দেখতে দেখতে রামাযান ফুরিয়ে যাবে। মাত্র কয়েকটি রাত জাগরণে যদি আমার কৃত গুনাহগুলো মাফ করিয়ে নিতে পারি, বেঁচে যেতে পারি জাহান্নামের শাস্তি থেকে তবে এই রাত্রি জাগরণের কষ্ট তো খুব বেশী বলে মনে হওয়ার কথা নয়। সামান্য একমাসের কষ্টে যদি পেয়ে যাই অনাদি-অনন্তকালের জান্নাত, তবে সেটাই তো বড় পাওয়া। যদি এই একমাসের ইবাদতে জীবনটাই পরিবর্তন হয়ে যায়, তবে সেটাই বা কম কিসে। অধিক তওবা-ইস্তেগফার, দান-ছাদাক্বার মাধ্যমে যদি আল্লাহ আমার উপরে সন্তুষ্ট হয়ে যান, তবে এই সময় ও শ্রমের দাম তো খুব বেশী নয়। হোক না একটা মাস ইবাদত ও আত্মত্যাগ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য! আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন- আমীন!!

সারওয়ার মিছবাহ 

 শিক্ষক, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহী।


[1]. ইবনু রজব হাম্বলী, লাতায়েফুল মা‘আরেফ (দামেশ্ক : দারু ইবনু কাছীর, ৫ম সংস্করণ, ১৯৯৯), পৃ. ১৪৮।

[2]. আবু নু‘আঈম ইসফাহানী, হিলয়াতুল আওলিয়া (কায়রো : দারুল হাদীছ, ২০০২), ৩/৬৯।

[3]. তাফসীরে ইবনে রজব ২/২৯।

[4]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, হা/৮৮৮২।

[5]. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ ওয়ার-রাক্বায়েক ১/৪৬১।

[6]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা হা/৮৮৮০।

[7]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, ২/২৭৩।

[8]. বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান ৫/৩০৭।

[9]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, ২/২৭৩।

[10]. ইবনু আব্দিল বার্র, আত-তামহীদ, ৬/১১১।

[11]. লাতায়েফুল মা‘আরেফ, পৃ. ১৭১।

[12]. লাতায়েফুল মা‘আরেফ, পৃ. ১৭১।

[13]. লাতায়েফুল মা‘আরেফ, পৃ. ১৭১।

[14]. যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/২৭৬।

[15]. লাতায়েফুল মা‘আরেফ, পৃ. ১৭০।

[16]. যাহাবী, সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/২৩৪।

[17]. ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক ৬৬/২১৪।

[18]. ইবনুল জাওযী, বুসতানুল ওয়ায়েযীন, পৃ. ২২৬।

[19]. লাতায়েফুল মা‘আরেফ, পৃ. ১৭১।

[20]. ইবনুল জাওযী, ছিফাতুছ ছাফওয়াহ, ৩/২৪১।

[21]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, ২/৩১২, হা/৯১৫৪।






বিষয়সমূহ: ছিয়াম-রামাযান
আরও
আরও
.