উত্তর : স্বামীর অনুমতি ও সার্বিক নিরাপত্তা থাকলে নারীরা নারীদের কাফেলার সাথে ফরয বা নফল যে কোন হজ্জ আদায়ে যেতে পারবে। হযরত ওমর (রাঃ)-এর আমলে ওছমান ও আব্দুর রহমান (রাঃ)-এর তত্ত্বাবধানে রাসূল (ছাঃ)-এর আটজন স্ত্রী মাহরাম ছাড়া হজ্জে গমন করেছিলেন (বুখারী হা/১৮৬০; মুসনাদুল ফারূক ১/২৯৯; তোহফাতুল আশরাফ হা/১০৩৮)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, ‘রাস্তার নিরাপত্তার শর্তে বিশ্বস্ত নারীদের সাথে নারীর সফর জায়েয হওয়ার ব্যাপারে অধ্যায়ের প্রথম হাদীছে দলীল রয়েছে। কারণ এতে যেমন ওমর, ওছমান, আব্দুর রহমান বিন ‘আওফ ও নবী করীম (ছাঃ)-এর স্ত্রীগণের ঐক্যমত রয়েছে, তেমনি অন্যান্য ছাহাবীগণও কোন বিরোধিতা করেননি (ফাৎহুল বারী ৪/৭৬; মির‘আতুল মাফাতীহ ৮/৩৩৬)। উক্ত হাদীছের শিরোনামে হাফেয ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, নারীদের নিরাপত্তার শর্তে মাহরাম ছাড়া হজ্জের সফরে বের হওয়া জায়েয (মুসনাদুল ফারূক ১/১৯৯)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ছাঃ) হজ্জের ক্ষেত্রে পাথেয় ও বাহন শর্ত করেছেন মাহরাম শর্ত করেননি। সুতরাং নিরাপত্তার শর্তে অন্যান্য স্বাধীন নারীর সাথে মাহরাম ছাড়া হজ্জে যেতে পারবে (কিতাবুল উম্ম ২/১২৭)। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, ‘নারীরা একদল নারীর সাথে হজ্জে যেতে পারবে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৩/২২৯)। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, ফরয হজ্জ পালনের জন্য মাহরাম শর্ত নয়। সে নারী জামা‘আতের সাথে যাবে বা যে কাফেলায় পূর্ণ নিরাপত্তা আছে তাদের সাথে যাবে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৩/২২৯)।

আদী ইবনু হাতেম (রাঃ) বলেন, একদিন আমি নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় তার কাছে একজন এসে দরিদ্রতার অভিযোগ করল। এরপর আরেকজন এসে রাস্তায় ডাকাতির অভিযোগ করল। তখন তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আদী! তুমি কি হীরা দেখেছ? (কূফার একটি প্রসিদ্ধ শহর যা বর্তমানে ইরাকের একটি প্রদেশ) যদি তুমি দীর্ঘদিন বেঁচে থাক তাহ’লে অবশ্যই দেখতে পাবে যে, একজন মহিলা হীরা থেকে একাকী মক্কায় গমন করবে এবং কা‘বাগৃহ ত্বাওয়াফ করবে, অথচ এক আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কাউকে ভয় করবে না (বুখারী হা/৩৫৯৫; মিশকাত হা/৫৮৫৭)। উপরোক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় বিদ্বানগণ বলেন, উক্ত হাদীছে কেবল ঘটনা বর্ণনা করা হয়নি বরং নারীদের নিরাপত্তার শর্তে কা‘বাগৃহ ত্বাওয়াফ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ৬/৬১৩; ইবনু হাযম, মুহাল্লা ৫/২৪-২৬)। তবে শায়েখ ওছায়মীন, শায়েখ বিন বায ও পূর্ববর্তী একদল বিদ্বান নারীদের মাহরাম ছাড়া বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত হাদীছগুলোর প্রকাশ্য অর্থকে গুরুত্ব দিয়ে মাহরাম ছাড়া হজ্জ সম্পাদন করাকে নাজায়েয বলেছেন। সুতরাং নারী মাহরাম ছাড়া সম্পাদন করতে পারলেও তাদের জন্য উত্তম ও নিরাপদ হ’ল মাহরাম সাথে নিয়ে হজ্জ করা (ছহীহাহ হা/৩০৬৫; ওছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৬১/২৪; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ১৭/৪৮)

প্রশ্নকারী : কাওছার আহমাদ, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা। 








বিষয়সমূহ: হজ্জ ও ওমরাহ
প্রশ্ন (১২/৫২) : জনৈক আলেম বলেন, আরসি, কোকাকোলা, সেভেনআপ ইত্যাদি পানীয় হারাম। কারণ এগুলো মদ জাতীয় বস্ত্ত। কিন্তু এর নামকরণ হয়েছে ভিন্ন। উক্ত বক্তব্য কি ঠিক?
প্রশ্ন (৩১/৩৯১) : সরকারকে অবহিত না করে অন্য দেশের পণ্য আমদানি করে ব্যবসা করলে বৈধ হবে কি?
প্রশ্ন (৩৭/১১৭) : অনেক গৃহকর্তা বা কত্রী কাজের মানুষদের সাথে দাস-দাসীর ন্যায় আচরণ করে থাকে এবং তাদের অনেক নীচু পর্যায়ের বলে মনে করে। তাদেরকে নিম্ন মানের পোষাক, খাবার, আবাসস্থল প্রদান করে। এক্ষণে এরূপ আচরণের পরিণাম এবং এদের সাথে আচরণ কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।
প্রশ্ন (৩৩/৪৭৩) : বড় ফোঁড়া হয়ে একটানা পুঁজ-রক্ত বের হচ্ছে।এমতাবস্থায় ছালাত আদায় করা যাবে কি?
প্রশ্ন (১১/৩৩১) : হারাম বস্ত্ত বা যেসব বস্ত্ত মানুষ গোনাহের কাজে ব্যবহার করে তা নিজস্ব বা অন্যের দোকানে চাকুরী নিয়ে বিক্রি করা শরী‘আত সম্মত কি?
প্রশ্ন (১৭/১৩৭) : একটি বর্ণনায় এসেছে যে, বনু আদমের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আল্লাহর কাছে তার সন্তান বৃদ্ধির জন্য দরখাস্ত করলে আল্লাহ ইবলীসের আবেদন মঞ্জুর করে বলেন, প্রতি একজন বনু আদমের বিপরীতে তোমার সন্তান জন্ম হবে ১০ জন করে। বর্ণনাটি ছহীহ কি?
প্রশ্ন (২৬/১৪৬) : পরবর্তীতে মূল্য বৃদ্ধির আশায় আলু-পেঁয়াজ ইত্যাদি নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য স্টক রাখার ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কি? - -মাহফূযুর রহমানমোহনপুর, রাজশাহী।
প্রশ্ন (১/১) : মৌসুমে ইট আগাম কিনে রেখে অন্য সময়ে তা বেশী দামে বিক্রয় করা এবং খাদ্যদ্রব্য যেমন ধান-চাল, আলু- পিঁয়াজ ইত্যাদি স্টক রেখে পরে তা বিক্রয় করা যাবে কি? এছাড়া মাছ চাষের সময় টাকা বিনিয়োগ করে পরে মাছ বিক্রয়ের সময় মনপ্রতি কিছু টাকা লাভ নেওয়া জায়েয হবে কি? - -মুহসিন আলীদৌলতপুর, কুষ্টিয়া।
প্রশ্ন (১৫/১৭৫) : আমি একটি সরকারী প্রজেক্টে কাজ করি। বাচ্চাদের নাশতা প্রদান করতে হয়। নির্ধারিত সংখ্যায় নাশতা তৈরি করতে হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে বাচ্চাদের অনুপস্থিতির কারণে নাশতা থেকে যায়। সেগুলি পরে আর দেয়া সম্ভব হয় না, তাই সেগুলো আমি বাড়িতে নিয়ে যাই, এটা কি আমার জন্য জায়েয হবে?
প্রশ্ন (১৫/৫৫): ছিয়াম অবস্থায় রক্ত দান করা যাবে কি?
প্রশ্ন (৮/৩৬৮) : কারো স্ত্রী (কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন) যদি কোন পরপুরুষের সাথে যেনা করে ফেলে, সেক্ষেত্রে উক্ত স্বামীর করণীয় কি? - -আতীকুর রহমান, ময়মনসিংহ।
প্রশ্ন (৩০/৩১০) : কুরআন তেলাওয়াতরত অবস্থায় ওযূ ছুটে গেলে তেলাওয়াত ছেড়ে দিয়ে ওযূ করতে হবে কি?
আরও
আরও
.