উত্তর : টাকার উপর নয় বরং উৎপাদিত ফসলের উপর যাকাত (ওশর) দিতে হবে। ইমাম রাফেঈ (রহঃ) বলেন, ‘মালিকানাধীন জমি ও ইজারা (ভাড়ায় নেওয়া) জমিতে উৎপন্ন ফসলের ক্ষেত্রে ওশরের (ফসলের যাকাত) বিধানে কোন পার্থক্য নেই। তেমনি যেমন কেউ যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কোন দোকান ভাড়া নেয়, তার উপর দোকানের ভাড়া দেওয়া ও ব্যবসার যাকাত উভয়ই ওয়াজিব হয়’ (আশ-শারহুল কবীর ৫/৫৬৬)। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রহঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন জমি ভাড়া নেয় এবং তা চাষ করে, তখন তার উপর ফসলের ওশর (যাকাত) আবশ্যক হবে, জমির মালিকের উপর নয়’ (আল-মুগনী ৩/৩০)।
তবে কেউ ঋণ করে ফসল উৎপাদন করে থাকলে ঋণ পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট ফসলের ওশর দিতে হবে মর্মে ইবনু আববাস, ইবনু ওমর (রাঃ) এবং কতিপয় তাবেঈ ও ইমামের অভিমত রয়েছে। ইবনে ওমর (রাঃ) ও ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যে তার ফল (ফসল) উৎপাদনের জন্য ব্যয় করে। তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, সে পুরো ফলের যাকাত (ওশর) আদায় করবে। অন্যজন বলেছেন, ‘ব্যয়কৃত অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংশ থেকে যাকাত (ওশর) আদায় করবে’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১০০৯৬)। ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, সে যা ঋণ নিয়েছে, তা দিয়ে শুরু করবে (অর্থাৎ আগে ঋণ পরিশোধ করবে), এরপর যা বাকী থাকবে, তা থেকে যাকাত আদায় করবে’ (বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৭৬০৮; ইয়াহইয়া ইবনু আদম, আল-খারাজ হা/৫৮৯, সনদ ছহীহ)। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ফসলের (চাষাবাদের) উপর খরচ করার জন্য ঋণ গ্রহণ করেছে, সে তার ফসলের জন্য ব্যয়কৃত অংশ হিসাব করবে (ইবনু কুদামাহ, মুগনী ৩/৩০)। অর্থাৎ ফসল উৎপাদনের জন্য ঋণ করে থাকলে ঋণ পরিশোধ করার পর বাকী অংশের উপর ওশর প্রদান করবে।
প্রশ্নকারী : মামূন, নাটোর।