উত্তর : এটা রিয়া হবে না বরং নেক আমল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তবে অবশ্যই রিয়ার উদ্দেশ্য থাকা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘বলুন, তোমরা কাজ করে যাও। অচিরেই আল্লাহ তোমাদের কাজ দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও (দেখবেন) (তাওবাহ, ৯/১০৫)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, মানুষের দৃষ্টিগোচর হ’লেই কোন কাজ রিয়ার প্রমাণ নয়। বরং রিয়ার মূল বিষয় হ’ল, মানুষকে দেখানোর উদ্দেশ্যে আমল করা। অতএব অন্তরের নিয়ত সর্বদা পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। আল্লাহ বলেন, আর প্রত্যেকের উচিৎ ভেবে দেখা যে, সে আগামী দিনের জন্য কি অগ্রিম প্রেরণ করছে? (হাশর ৫৯/১৮)। তিনি আরো বলেন, ‘যাদের মনে আল্লাহর ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনা শক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে’ (আ‘রাফ ৭/২০১)। ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর নিকট হিসাব দেওয়ার আগে নিজেদের হিসাব নিজে নাও’ (তিরমিযী হা/২৪৫৯; ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৪৪৫৯)। হাসান বছরী (রহঃ) বলেন, ‘মুমিন ব্যক্তিকে স্বীয় আত্মার পরিচালক হিসাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আত্মসমালোচনা করতে হবে। যারা দুনিয়াতে আত্মসমালোচনা করবে, ক্বিয়ামতের দিন অবশ্যই তাদের হিসাব হালকা হবে। আর যারা এ থেকে বিরত থাকবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের হিসাব কঠিন হবে’ (ইবনুল ক্বাইয়িম, ইগাছাতুল লাহফান ১/৭৯)।
প্রশ্নকারী : তানভীর হাসান আবীর, যশোর।