উত্তর : হায়েযের কারণে দ্বীনের কমতি বলতে নারীর ঈমান, মর্যাদা বা আল্লাহর কাছে মূল্য কম বুঝানো হয়নি; বরং শারঈ বিধানের কারণে কিছু ইবাদত সাময়িকভাবে মওকূফ হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। শায়েখ বিন বায (রহঃ) বলেন, ‘নারীর আকল বা মেধার এই ঘাটতিটি মূলত তার স্মরণশক্তি বা মুখস্থ রাখার দুর্বলতার দিক থেকে বিবেচিত। আর এই কারণেই (আদালতে) তার সাক্ষ্যকে অপর একজন নারীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে সুদৃঢ় বা পরিপূরক করা হয়। আর এটি করা হয়েছে সাক্ষ্যের বিষয়টিকে নিখুঁত ও সংরক্ষিত রাখার স্বার্থে। যেমনটি মহান আল্লাহ স্বয়ং এরশাদ করেছেন... (বাক্বারাহ ২/২৮২)।
আর নারীর দ্বীনের ঘাটতির বিষয়টি হ’ল সে যখন হায়েয অবস্থায় থাকে, তখন সে ছালাত ত্যাগ করে এবং পরবর্তীতে তাকে এই ছালাতগুলোর ক্বাযা আদায় করতে হয় না। মূলত এটিই হ’ল দ্বীনের ঘাটতি। তবে এই ঘাটতির কারণে সে কোনভাবেই অপরাধী বা গুনাহ্গার হবে না। বরং এই ঘাটতিটি স্বয়ং মহান আল্লাহর বিধানের আলোকেই সাধিত হয়েছে, যা তিনি কেবল নারীর প্রতি দয়া ও তার কষ্ট লাঘব করার জন্যই করেছেন (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/২৯২; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ ৩/২৫০)।
একইভাবে নারী, গাধা ও কালো কুকুর মুছল্লীর সামনে দিয়ে অতিক্রমের হাদীছও নারীর অবমূল্যায়নের জন্য নয়; বরং ছালাতের একটি নির্দিষ্ট ফিক্বহী বিধান বর্ণনার জন্য। এখানে পরনারী থেকে পর্দার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সুৎরার বাইরের অংশ দিয়ে অতিক্রম করলে ছালাত নষ্ট হবে না। এজন্য দেখা যায় যে, রাসূল (ছাঃ) ছালাত আদায় করতেন আর আয়েশা (রাঃ) পা মেলে শুয়ে থাকতেন। রাসূল (ছাঃ) যখন সিজদা দিতেন তিনি পা সরিয়ে নিতেন। আবার দাঁড়িয়ে গেলে পা মেলে দিতেন (বুখারী হা/৩৮২; মিশকাত হা/৭৮৬)। তাই এসব হাদীছকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়; বরং সামগ্রিক শারঈ প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। ইসলামে নারীর সম্মান ও মর্যাদা কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ বলেন, ‘তারা তোমাদের পোষাক এবং তোমরা তাদের পোষাক’ (বাক্বারাহ ১৮৭)।
প্রশ্নকারী : আরিফ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।