উত্তর : অভিভাবকের অনুমতিতে এবং দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বর-কনে উভয়ের সম্মতিতে ঈজাব-কবূল হয়ে থাকলে স্বামী-স্ত্রী শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে। এজন্য বাসরের আগে মোহরানা পরিশোধ করা শর্ত নয়। তবে মোহরানা নগদ পরিশোধ করা সুন্নাত। যদিও মোহরানা বাকী রেখেও বিবাহ করা জায়েয (বুঃ মুঃ মিশকাত হা/৩২০২)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা ফরয হিসাবে প্রদান কর। তবে তারা যদি তা থেকে খুশী মনে তোমাদের কিছু দেয় তাহ’লে তা তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর’ (নিসা ৪/৪; বাক্বারাহ ২/২৩৭)। উপরোক্ত আয়াতের ভিত্তিতে ইবনু কুদামাহ বলেন, ‘স্ত্রী যদি তার অধিকারভুক্ত মোহর সন্তুষ্টচিত্তে পুরোটা বা কিছু অংশ মাফ করে দেয় বা গ্রহণের পর স্বামীকে দান করে তবে তা জায়েয। এ ব্যাপারে কোন মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই (আল-মুগনী ৭/২৫৫)। উল্লেখ্য যে, মোহরানা পরিশোধে তালবাহানা করা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘বিবাহের সর্বাধিক প্রয়োজনীয় শর্ত হ’ল- তোমরা যা দ্বারা মহিলার লজ্জাস্থান হালাল করবে তা আদায় করা’ (আবুদাউদ হা/২১৩৯; ছহীহুল জামে‘ হা/১৫৪৭)। যে মোহরানা পরিশোধ না করার নিয়ত করে বিবাহ করবে এবং মোহর পরিশোধ না করে মারা যাবে সে ক্বিয়ামতের দিন ব্যভিচারীর কাতারে দাঁড়াবে (ছহীহুত তারগীব হা/১৮০৬ ও ১৮০৭)।
প্রশ্নকারী : আজমাল, কুড়িগ্রাম।