বহু ঘটন-অঘটন, বৈচিত্র্যময় পরিবেশ-পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ঘটনাবহুল এই নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল এবারই প্রথম এমন সম্ভাবনা খুব জোরালো ভাবে দেখা যাচ্ছিল যে, ইসলামী দলের জোট বোধ হয় নিশ্চিতভাবে ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। জুলাই পরবর্তী সময়ে ইসলামী শাসনব্যস্থার প্রতি মানুষের বিশেষ আগ্রহের যে ধারাটা শুরু হয়েছিল, সেই ধারাকে সামনে রেখে সেটা প্রায় সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। যদিও বাস্তবে তা ধরা দেয়নি। আর পিছনের কুশীলবরা যে কখনও তা হ’তেও দেবে না, সেটাই স্বাভাবিক।

অনুরূপভাবে আরেকটি বিস্ময়কর দৃশ্য এমন ছিল যে, যারা এতদিন গণতান্ত্রিক আদর্শ ও নির্বাচন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করা হারাম ঘোষণা করেছিলেন, তারাও ধীরে ধীরে কণ্ঠস্বর নামিয়ে ফেললেন। তাদের ফৎওয়ার ধারা পরিবর্তন হ’তে শুরু করল। নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে আরব-অনারব ফৎওয়ার তুফান শুরু হ’ল। পরিস্থিতি এমনই দঁাড়ালো যে, যে সকল আহলেহাদীছ ওলামায়ে কেরাম আপোষকামিতার পথ থেকে প্রাণপণে এতদিন আত্মরক্ষা করে চলেছিলেন, তারাও গুটিকয়েক ব্যতীত একে একে প্রায় সবাই আত্মসমর্পণ করলেন। শুধু তাই নয়, তাদের রাত/দিনের মত বিপরীতমুখী লাগামহীন বাক্যালাপ নাড়িয়ে দিল বহু ঈমানদার তরুণের মজবুত ঈমানের ভিত। তারা ধরেই নিয়েছিলেন তাদের বহু দিনের লালিত স্বপ্ন বুঝি ধরা দিতে যাচ্ছে এবং ক্ষমতার মসনদে যাচ্ছে এবার একটি ইসলামী দল।

তাদের কেউ ফেসবুকে পোস্ট দেয়া শুরু করলেন ‘সৎ প্রার্থী’কে ভোট দেয়ার জন্য। নিদেনপক্ষে ‘মন্দের ভাল’ কাউকে ভোট দেয়ার জন্য। কেউ বললেন, ভোট দিলে কমপক্ষে কিছু ভাল লোক আসবে আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের থেকে তো রক্ষা পাওয়া যাবে। কেউ ফৎওয়া প্রদান করলেন গণতন্ত্র এবং ভোটপ্রথা আলাদা। সুতরাং গণতন্ত্রকে হারাম জেনেও ভোট প্রদান করা জায়েয শুধু নয়, ওয়াজিব। কেননা এটা আমানত। এভাবে একের পর এক ফৎওয়া যুক্ত হ’তে লাগল ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে। তাদের কেউ গণতন্ত্রের পক্ষে এমনভাবে জোর ওকালতি করা শুরু করলেন যে, সেক্যুলার গণতন্ত্রপন্থীদের চেয়ে যেন তারা বেশী গণতন্ত্রী হয়ে উঠলেন। আরেকদল যারা আদর্শ রক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে গণতন্ত্রের বিরোধিতা অব্যাহত রাখলেন, তাদের বিরুদ্ধে তারা এমন যুদ্ধ ঘোষণা করলেন যে, তাদেরকে তারা ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শত্রু গণ্য করে বসলেন। তাদেরকে তাচ্ছিল্যভরে নানা কথা বলা শুরু করলেন।

অবশেষে যেই দিন বহু কাংখিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হ’ল এবং ইসলামী দলের পরিবর্তে সেক্যুলার দলটি ক্ষমতায় গেল, তখন চারিদিকে সবকিছু যেন নীরব হয়ে গেল। গণতন্ত্রের ধেঁাকাবাজি ও ডিপস্টেটের খেলা দেখার পর ফুটো বেলুনের মত চুপসে গেল তাদের সব উৎসাহ-উদ্দীপনা। যারা ভুলে গিয়েছিলেন রাজনীতির চেয়ে ইসলাম বড়, নিরাপত্তার চেয়ে ঈমান বড়; ক্ষমতার চেয়ে আদর্শ বড়, তারা ধীরে ধীরে সম্বিত পেতে শুরু করলেন। গণতন্ত্রকে আদর্শ বানিয়ে যারা আত্মহত্যার মিছিলে নেমেছিলেন তারা আবার ফিরে আসা শুরু করলেন। কিন্তু ততদিনে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়েই গেল। শিরক-বিদ‘আতের বিরুদ্ধে আপোষহীন কণ্ঠগুলো গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে যেভাবে মিনে মিনে হয়েছিল, তা আবার নতুনভাবে জেগে উঠতে কতকাল সময় লাগবে কে জানে! আপোষের ভাষা যখন প্রবল হয়ে ওঠে, তখন সত্যের ভাষা অনেক সময় মলান হয়ে যায়। একবার যখন কেউ আপোষের ভাষা শিখে ফেলে তখন তাতে আর সত্যের তেজ জাগে না, সংগ্রামের পিপাসা থাকে না। বরং মুনাফিকীর কর্দমাক্ত পথে দিশাহীন কেটে যায় তাদের পুরোটা জীবন।

অপরদিকে আহলেহাদীছ সমাজ ঐতিহাসিকভাবেই শিরক, বিদ‘আত এবং ইসলামের নামে প্রচলিত নানা ভ্রান্ত মতবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রশ্নে সেই আদর্শিক সচেতনতা গ্রামীণ প্রান্তিক পর্যায়ে তেমন নেই বললেই চলে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিরাট একটি অংশ এই ভোটাভুটির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি যে কয়জন ইসলামপন্থী নির্বাচিত হয়েছে, তাদের বড় অংশের পিছনেই রয়েছে এই শ্রেণীর আহলেহাদীছদের ভূমিকা। মা‘আযাল্লাহ।

সবমিলিয়ে এই নির্বাচন ইসলামপন্থীদের জন্য একটি বড় ঐতিহাসিক শিক্ষার বেঞ্চমার্ক হয়ে থাকতে পারে-যদি আমরা তা গ্রহণ করতে প্রস্ত্তত থাকি।

১. আদর্শের কোন বিকল্প হয় না। তাই যে কোন মূল্যে আদর্শকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারাটাই একজন ঈমানদারের সবচেয়ে বড় কর্তব্য এবং সফলতা। যে ব্যক্তি বা যে আন্দোলন নিজের মূলনীতি ও আদর্শ ধরে রাখতে পারে, তার পথ কখনো বৃথা যায় না। সাময়িক সাফল্য বা ব্যর্থতার ঊর্ধ্বে যখন আদর্শ টিকে থাকে, তখন তাতেই ইসলামী আন্দোলনে সফলতা নিহিত থাকে। গণতন্ত্র যেহেতু মুসলমানদের আদর্শ হ’তে পারে না, তাই দুনিয়াবী প্রাপ্তির যাবতীয় হাতছানিকে উপেক্ষা করে এ পথ থেকে নিজেকে নিবৃত রাখাই আমাদের কর্তব্য। নতুবা একবার আদর্শহীনতার পথ মাড়ালে আর কখনও আদর্শের পথে ফেরৎ আসা যায় না। বরং একটা পদস্খলন হাযারো পদস্খলনকে সহজ করে দেয়। কোন যুগের হক্বপন্থী ওলামায়ে কেরাম বাতিলের সাথে আপোষ করেনি। 

আববাসীয় খলীফা মামুনের আমলে (৩য় হিজরী শতক) মু‘তাযিলা মতবাদ প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তারা বলত, কুরআন আল্লাহর সৃষ্টি। এমনকি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মাধ্যমে এই মতবাদকে বাধ্যতামূলক করা হয়। সেসময় আলেমদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হ’ত, ‘কুরআন কি সৃষ্টি?’ যারা বলত ‘সৃষ্টি’, তাদের মুক্তি মিলত। আর যারা বলত ‘আল্লাহর কালাম, সৃষ্টি নয়’, তাদের শাস্তি দেয়া হ’ত। ফলে অনেক আলেম ভয়ে বা চাপে নরম অবস্থান নেন। কিন্তু যিনি শত চাপের মধ্যেও দৃঢ়ভাবে দঁাড়ান তিনি ছিলেন ইমাম আহমাদ (রহ.)। সেসময় কিছু বড় আলেম যেমন মুহাম্মাদ ইবন নূহ, ইয়াহইয়া ইবন মা‘ঈন, ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ প্রমুখ ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর দৃঢ়তাকে সম্মান করলেও তঁাকে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, মুখে এমন কথা বলা যেতে পারে যা সরাসরি আকবীদা নষ্ট করে না, প্রাণ বঁাচানো ও দাওয়াত চালিয়ে যাওয়াও একটি শারঈ উদ্দেশ্য। অথবা তাওরিয়া বা দ্ব্যর্থবোধক বাক্য ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা চুপ থাকা যেতে পারে। কেউ কেউ বলেছিলেন, আপনি যদি সাময়িকভাবে তাদের পক্ষে কিছু বলেন বা নীরব থাকেন, তাহ’লে পরে আবার দ্বীন প্রচার চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু ইমাম আহমাদ (রহ.) অনড় থাকলেন। তিনি বললেন,إِنْ أَجَبْتُهُمْ إِلَى مَا يُرِيدُونَ، أَجَابَهُمُ النَّاسُ ‘মানুষ আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যদি আমি তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী হ্যঁা বলি (আপোষ করি), তারা সবাই আপোষ করবে’ (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ১১/২৪০-২৪১) ’। তিনি বুঝেছিলেন যে, তিনি যদি নরম হন, সাধারণ মানুষ বলবে যে, ইমাম আহমাদও মেনে নিয়েছেন। তখন সত্য-মিথ্যার সীমারেখা ভেঙে যাবে। তিনি স্পষ্টই বুঝেছিলেন যে, আলেম হিসাবে তঁার এই আপোষ পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে যাবে।

দীর্ঘ পরীক্ষার পর পরিস্থিতি বদলায়। খলীফা মুতাওয়াক্কিলের আমলে তিনি মুক্ত হন। ইমাম আহমাদের এই আপোষহীনতা ও দৃঢ়তার কারণেই বিশুদ্ধ আক্বীদার বিজয় ঘটে।

২. রাজনীতি এবং ক্ষমতার চেয়ে আদর্শ বড়- এটাই হ’ল আমাদের ঈমানী অবস্থান। কিন্তু এই নির্বাচনে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নৈতিক পরীক্ষায় চরমভাবে পরাজিত হয়েছে। সেক্যুলার দলের সাথে পাল্লা দিয়ে তারা আদর্শ আর চরিত্র বিসর্জন দিয়েছে। মিথ্যাচার, প্রপাগান্ডা, আযাচিত সমালোচনা, গীবত, তোহমতের মত ডার্টি পলিটিক্সের সাথে তারা ওতপ্রোতভাবে নিজেদের জড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রকাশ্যে মিউজিক ও নারীদের ব্যবহার ছিল একেবারেই নতুন বিষয়। অবাধে নারীদের যেমন মিছিল-মিটিং-এ ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনি হরহামেশা মিউজিকযুক্ত নির্বাচনী গান বাজানো হয়েছে। এছাড়া হিন্দু ব্যক্তিকে এমপি পদপ্রার্থী বানানো, বিদেশী কুটনীতিকদের সামনে ইসলামী রাষ্ট্র না বানানোর প্রতিশ্রুতি, ভোটকে জান্নাতের টিকিট বলে ঘোষণা, রোযা-পুজা এক পাল্লায় তোলা প্রভৃতি চরম আদর্শিক পদস্খলন আমাদের দেখতে হয়েছে। উদারতাবাদের নামে তারা স্পষ্টই জানিয়েছে যে, ক্ষমতায় গেলে তারা নারীদের জন্য পর্দার বিধান আরোপ করবে না। কট্টর সেক্যুলারদের মত ভাষা তারাও রপ্ত করেছে আর শুনিয়েছে ইনক্লুসিভিটির নামে বহুত্ববাদের গল্প। অর্থাৎ কোন ক্ষেত্রেই তাদের সাথে সেক্যুলারদের তেমন কোন পার্থক্য বোঝা যায়নি পোশাক ছাড়া। এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের আদর্শিক পতনটাই সবচেয়ে হতবাক করেছে। গণতন্ত্র কিভাবে আল্লাহর সন্তুটির উপর মানুষের সন্তুষ্টিকে উর্ধ্বে তোলে তার নগ্ন প্রদর্শনী ছিল এই নির্বাচন।

৩. ‘মন্দের ভাল’ কথাটি ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছিল। অথচ ঈমান ও কুফরীর মিমাংসায় ‘মন্দের ভাল’ কখনই গ্রহণ করার সুযোগ নেই। কেননা কুফরী যে প্রকারেরই হোক তা কুফরী, এর কোন ভাল-মন্দ নেই। এই ফঁাদে পড়ে যেন ঈমানের পথ থেকে বিচ্যুত না হ’তে হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা মুমিনের অপরিহার্য কর্তব্য। অথচ এই যুক্তি দিয়েই বহু মানুষ এই নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ধেঁাকায় আত্মবিসর্জন দিয়েছে।

৪. বাতিলের সাথে আপোষ নয় বরং বাতিলকে পরিত্যাগ করাই ঈমানের দাবী (বাক্বারা ২৫৬)। এই মূলনীতিই সমস্ত নবী-রাসূল এবং হক্বপন্থী ওলামায়ে কেরামের নীতি। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ একদিকে চলে যাবে কিন্তু ঈমানের তরে একাকীই টিকে থাকব- এই ইস্তিকবামাতই হ’ল একজন আদর্শবাদী ঈমানদারের দাবী। এজন্য আমরা শ্লোগান দিয়েছিলাম- ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ঈমানের তরে বর্জন হোক’। সর্বোপরি ক্ষমতার মালিক জনগণ নয়, বরং আল্লাহ। একজন মুমিনের কর্মে ও আচরণে তার এই বিশ্বাস অবশ্যই প্রতিফলিত হ’তে হবে। নতুবা তার রাজনীতি, অর্থনীতি সবই বাতিল। এ সত্যকে উপলব্ধি না করলে ঈমানের কোন দাম থাকে না। 

৫. প্রশ্ন আসতে পারে যে, আদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ না করলে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের আনুগত্য করা যাবে কিনা। এর উত্তর হ’ল, ইসলামে শাসক নির্বাচনের একটাই পন্থা। আর তা হ’ল খিলাফত ব্যবস্থা, যা শূরা ও বায়‘আতের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এর বাইরে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিদ্বানগণ আরো ২টি মাধ্যমকে উল্লেখ করেছেন। আর তা হ’ল- (১) উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ক্ষমতা, যা রাজতন্ত্র হিসাবে পরিচিত এবং (২) حكم المغالبة বা إمامة المتغلب অর্থাৎ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্ত ক্ষমতা (বিপ্লব, সেনা অভ্যুত্থান প্রভৃতি), যা সমাজে স্বীকৃতি পেয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় (লালকাঈ, শারহু ইতিকাদি উছূলি আহলিস সুন্নাহ ১/১৬০-১৬১)। সেক্ষেত্রে কাংখিত না হ’লেও সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অরাজকতা এড়ানোর জন্য এমন শাসকদেরও আনুগত্য করা বাঞ্ছনীয়, যতক্ষণ না স্পষ্ট কুফর বা শিরকের নির্দেশ দেয়া হয় (মুসলিম হা/১৮৫৪)

সুতরাং সচেতন দ্বীন কবায়েম প্রত্যাশী পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমাদের স্পষ্ট বার্তা হ’ল, এই সমাজে দ্বীনের প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম আদর্শের চর্চা প্রয়োজন। নিজের মধ্যে এবং সমাজের বুকে তা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামী প্রচেষ্টার প্রয়োজন। সেজন্য ক্ষমতার মসনদ নয়, মানুষের হৃদয়ই হোক তাওহীদী কালেমার চাষাবাদ স্থান। ভ্রান্ত যুক্তি দিয়ে বাতিলের সাথে আপোষ নয়, বরং বাতিলকে প্রতিরোধ করার সংগ্রামই সফলতার সরল পথ। এই পথই নববী পথ, যে পথে অতিক্রান্ত হয়েছেন বিগত যুগের সমস্ত হক্বপন্থী ব্যক্তি ও সমাজ। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সেই সত্যসেবীদের কাতারভুক্ত করুন। বিশুদ্ধ দ্বীনের পথে সর্বদা কায়েম ও দায়েম থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!






বিষয়সমূহ: শিষ্টাচার
আরও
আরও
.