উত্তর : সিদরাতুল মুনতাহা আল্লাহর আরশের নিকটে, সপ্তম আকাশের এক প্রান্তে অবস্থিত। এই গাছের নাম ও অবস্থান ইসলামী আক্বীদার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে মি‘রাজ সম্পর্কিত বর্ণনায়। সিদরাতুল মুনতাহাতেই শেষ হয় যা কিছু পৃথিবী থেকে ঊর্ধ্বে উঠে, আর সেখান থেকেই তা গ্রহণ করা হয়। সেখানেই শেষ হয় যা কিছু উপর থেকে অবতীর্ণ হয় এবং সেখান থেকেই তা ধরা হয়। হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, এটি একটি বিশাল বৃক্ষ, যা সকল ফেরেশতা, নবী ও সৃষ্টি জগতের জন্য সর্বোচ্চ সীমান্ত। এর ওপারে কেবল আল্লাহর আদেশে কেউ যেতে পারে। সেখানেই নবী করীম (ছাঃ) মি‘রাজ শেষে পৌঁছেন (ফাৎহুলবারী ৭/২১২-১৩)। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, ‘সিদরাতুল মুনতাহাকে এই নামে ডাকা হয়, কারণ ফেরেশতাগণের জ্ঞান সেখানে গিয়েই শেষ হয়ে যায়। আর কেউই তা অতিক্রম করেননি, শুধু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ব্যতীত (শরহ মুসলিম ২/২১৪)। আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন, নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল। সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে। তার নিকটে আছে জান্নাতুল মাওয়া। যখন বৃক্ষটিকে আচ্ছাদিত করে রেখেছিল যা তাকে আচ্ছাদিত করে (নাজম ৫৩/১৩-১৬)।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ‘যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কে মি‘রাজে নিয়ে যাওয়া হ’ল, তখন তাঁকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এটি ষষ্ঠ/সপ্তম আসমানে অবস্থিত। এটাই সেই স্থান, যেখানে পৃথিবী থেকে যা কিছু উপরে ওঠে, তা এসে শেষ হয় ও সেখান থেকেই গ্রহণ করা হয় এবং যা কিছু ওপর থেকে নেমে আসে, তা এখানেই এসে শেষ হয় এবং এখান থেকেই তা গ্রহণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, আল্লাহ বলেন, সিদরাতুল মুনতাহাকে যা আচ্ছন্ন করেছিল। সেটা ছিল সোনার পোকা বা প্রজাপতি (মুসলিম হা/২৭৯; মিশকাত হা/৫৮৬৫)। তিনি আরো বলেন, ‘এরপর আমার সামনে উন্মুক্ত করা হ’ল সিদরাতুল মুনতাহা। তখন আমি দেখলাম, এর ফল ছিল হাজার শহরের বড় বড় পানির পাত্রের মতো, আর এর পাতাগুলো ছিল হাতির কানের মত। বলা হ’ল এই হচ্ছে সিদরাতুল মুনতাহা (বুখারী হা/৩৮৮৭)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মদ গিয়াছুদ্দীন, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা।