উত্তর : কয়েকটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা বাই‘য়ে সালাম এর আওতায় পড়বে। ১. মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। অর্ডারের সময় সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা আবশ্যক। পরবর্তী সময়ে কিস্তিতে দেওয়া হ’লে এটি সালাম হবে না। অথবা পণ্য হাতে পাওয়ার সাথে সাথে মূল্য পরিশোধ করতে হবে, যাকে বাই‘য়ে সালাম হাল বলে। ২. পণ্যের ধরন, পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত থাকতে হবে। ৩. সরবরাহের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ থাকতে হবে। ৪. বাজারে সেই পণ্য বিদ্যমান থাকতে হবে। হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, এই হাদীছে সালাম (আগাম ক্রয়)-এর ক্ষেত্রে মোটেই তাৎক্ষণিক সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, বরং নিষেধ করা হয়েছে এমন এক বিক্রয় পদ্ধতি থেকে, যেখানে একজন এমন কিছু বিক্রি করে যা এখনো তার মালিকানায় নেই এবং যার সরবরাহ দেওয়ার সক্ষমতাও তার নেই; অথচ সে তা আগেই বিক্রি করে দেয় এবং লাভও করে নেয়, তখন সেটা তার জন্য নাজায়েয।
তাই যদি কেউ তাৎক্ষণিক অগ্রিম বিক্রয় করে অথচ তার কাছে পণ্যটি নেই এবং সে নিজে তা সরবরাহ করতেও সক্ষম নয়, তখন সে এমন কিছুর দায় নিচেছ যা হয়তো পাবে কিংবা পাবে না। এটা এক প্রকার প্রতারণা (غرر) এবং ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন (مخاطرة)। কিন্তু যদি বাস্তবে পণ্যটি তার কাছে থাকে এবং সে তাৎক্ষণিক সরবরাহে সক্ষম হয়। তাহ’লে এটি জায়েয হবে। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, যখন বিলম্ব বাই‘য়ে সালাম বৈধ, তখন তাৎক্ষণিক বাই‘য়ে সালাম আরও বেশী বৈধ হওয়া উচিত (যাদুল মা‘আদ ৫/৭২০)।
প্রশ্নকারী : যহূরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ।