
উত্তর : কেউ যদি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে হাত পা কেটে ফেলে এবং তাতেই মারা যায় তাহ’লে সে জাহান্নামে যাবে এবং বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আর যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐরূপ ধারালো অস্ত্র দ্বারা স্বীয় হাতে নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে’ (বুখারী হা/১০৭; মিশকাত হা/৩৪৫৩)। তবে তার নেক আমল থাকলে এবং আত্মীয়-স্বজনের অনবরত দো‘আ থাকলে সে যেমন জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে তেমনি বিকলাঙ্গতা থেকেও মুক্তি পাবে। জাবের (রাঃ) বলেন, তুফায়েল ইবনু আমর দাওসী (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-এর সামনে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে, আপনার জন্য একটি মযবূত দুর্গ ও সেনাবাহিনী হোক? রাবী বলেন, দাওস গোত্রে জাহিলী যুগের একটি দুর্গ ছিল (তিনি এদিকে ইঙ্গিত করেন)। নবী করীম (ছাঃ) তা কবুল করলেন না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা আনছারদের জন্য এ সৌভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। যখন নবী করীম (ছাঃ) মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তুফায়েল ইবনু আমর (রাঃ) এবং তার গোত্রের একজন লোকও তার সঙ্গে মদীনায় হিজরত করেন। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হয়নি। তুফায়েল ইবনু আমর (রাঃ)-এর সাথে আগত লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়লো। সে রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তীর নিয়ে তার হাতের আঙগুলগুলো কেটে ফেলল। এতে উভয় হাত থেকে রক্ত নির্গত হ’তে থাকে। অবশেষে সে মারা যায়। তুফায়েল ইবনু আমর দাওসী (রাঃ) স্বপ্নে তাকে ভাল অবস্থায় দেখতে পেলেন, কিন্তু তিনি তার উভয় হাত আবৃত দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রব তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছে? সে বলল, আল্লাহ তা‘আলা তার নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তুফায়েল (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে যে, আমি তোমার হাত দু’টো আবৃত দেখছি? সে বলল, আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমি স্বেচ্ছায় যে অংশ নষ্ট করেছ তা আমরা কখনো ঠিক করব না। তুফায়েল (রাঃ) নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দো‘আ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি তার হাত দু’টোকেও ক্ষমা করে দিন’ (মুসলিম হা/১১৬; মিশকাত হা/৩৪৫৬)।
প্রশ্নকারী : জান্নাত, চট্টগ্রাম।