ভায়ারহাট, কাউনিয়া, রংপুর ১২ই নভেম্বর শনিবার : অদ্য বাদ যোহর যেলার কাউনিয়া উপযেলাধীন ভায়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ রংপুর-পূর্ব সাংগঠনিক যেলার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত যেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে মুহতারাম আমীরে জামা‘আত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, আহলেহাদীছ আন্দোলন পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দিকে ফিরে যাওয়ার আন্দোলন। এ আন্দোলন আপামর বনূ আদমের আন্দোলন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের আন্দোলনকে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ বলেছি, শুধু ইসলামী আন্দোলন বলিনি। কারণ ইসলামী আন্দোলন একটি ব্যাপক অর্থবোধক পরিভাষা। শী‘আ, সুন্নী, শিরকী, বিদ‘আতী সকল মত ও পথের মুসলমান ইসলামী আন্দোলনের নামে যে কোন দলে শরীক হ’তে পারেন। কিন্তু ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ একটি বিশেষ অর্থবোধক পরিভাষা। যেখানে শিরক ও বিদ‘আত মুক্ত প্রকৃত তাওহীদপন্থী মুসলমানই কেবল অংশগ্রহণ করতে পারেন। দ্বিতীয়তঃ আহলেহাদীছ আন্দোলনে মানব রচিত মতবাদের অনুসারী রায়পন্থী কোন মুসলমানের অংশগ্রহণের অবকাশ নেই। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নিঃশর্ত অনুসারী ব্যক্তিই কেবল আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে থাকেন। তাই ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’কেই প্রকৃত প্রস্তাবে নির্ভেজাল ইসলামী আন্দোলন বলে আমরা বিশ্বাস করি। আর দুনিয়াবী স্বার্থদ্বন্দ্ব বাদ দিয়ে সার্বিক জীবনে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নিঃশর্ত অনুসরণই মানুষকে দু’জাহানে মুক্ত দিতে পারে। তিনি শ্রোতাদেরকে যাবতীয় হারাম বিশেষ করে মাদক থেকে দূরে থাকা এবং তামাক চাষ থেকে বিরত থাকার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।

যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ শাহীন পারভেযের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন ‘আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মাসিক আত-তাহরীক সম্পাদক ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন, ‘যুবসংঘ’-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী, নওদাপাড়া, রাজশাহীর শিক্ষক হাফেয আব্দুল মতীন, যেলা ‘আন্দোলন’-এর শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মাদ যিল্লুর রহমান, রংপুর-পশ্চিম সাংগঠনিক যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সভাপতি মুহাম্মাদ মতীউর রহমান প্রমুখ। জাগরণী পরিবেশন করেন ‘আল-‘আওন’-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেয আহমাদ আব্দুল্লাহ শাকির। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ছিলেন যেলা ‘আন্দোলন’-এর প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু সাঈদ।

উল্লেখ্য, শ্রোতাদের ব্যাপক উপস্থিতিতে সম্মেলনস্থল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পুরুষ ও মহিলা কোন প্যান্ডেলেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম, লালমণিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া প্রভৃতি যেলা সমূহ থেকে ট্রেন, মাইক্রো ও বাসযোগে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সুধী সম্মেলনে  যোগদান করেন।

সম্মেলন শেষে আমীরে জামা‘আত রংপুর শহরে পৌঁছে সেন্ট্রাল রোডস্থ হোটেল নর্থ ভিউতে রাত্রী যাপন করেন। সেখানে রাত সাড়ে নয়টায় তিনি হোটেল কক্ষে রংপুর-পশ্চিম যেলা ‘আন্দোলন’ ও ‘যুবসংঘ’-এর দায়িত্বশীলদের সাথে সাংগঠনিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি দাওয়াতী কার্যক্রম জোরদার করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নছীহত পেশ করেন। অতঃপর পরদিন সকালে মাইক্রো যোগে সৈয়দপুর ও সেখান থেকে ৯.৪০ এর ফ্লাইটে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে ১-৩০ মিনিটের ফ্লাইটে রাজশাহী ফিরে আসেন। একইভাবে আগেরদিনও তিনি বিমান যোগে ঢাকা ও ঢাকা থেকে সৈয়দপুর হয়ে রংপুর গমন করেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান রংপুর-পশ্চিম যেলা ‘আন্দোলন’-এর সভাপতি মুস্তফা সালাফী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মোকছেদুর রহমান, রংপুর-পূর্ব যেলা ‘আন্দোলন’ -এর সভাপতি শাহীন পারভেয, রংপুর-পশ্চিম যেলা ‘যুবসংঘ’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ মফীযুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।






আরও
আরও
.