প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪৪১) : কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, আমি কিছু মানুষকে জান্নাতের জন্য এবং কিছু মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। এক্ষণে মানুষের কিছু করণীয় আছে কি?

-নূরুল ইসলাম, নওদাপাড়া, রাজশাহী।

উত্তর : এটি তাক্বদীরের বিষয়। যার জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে। অতএব মানুষের কর্তব্য হ’ল আল্লাহকে খুশী করার উদ্দেশ্যে তাঁর বিধান মেনে সাধ্যমত সৎকর্ম করে যাওয়া। কারণ কোন মানুষই জানে না তার ভাগ্যে কি লেখা রয়েছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূল (ছাঃ) একটা ছড়ি দিয়ে মাটির উপর দাগ কাটছিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন লোক নেই, যার ঠিকানা জাহান্নামে বা জান্নাতে লেখা হয়নি। একথা শুনে একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাহলে সকল আমল ত্যাগ করে আমাদের লিখিত ভাগ্যের উপর ভরসা করব না? তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা সৎকর্ম করে যাও। কেননা যাকে যেজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার পক্ষে সে কাজ সহজসাধ্য হবে। যারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য সেরূপ আমল এবং যারা দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত তাদের জন্য সেরূপ আমল সহজ করে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি কুরআন থেকে পাঠ করলেন, ‘অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে ও আল্লাহভীরু হয় এবং উত্তম বিষয়কে (তাওহীদকে) সত্য বলে বিশ্বাস করে, অচিরেই আমরা তাকে সরল পথের জন্য সহজ করে দেব। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কৃপণতা করে ও বেপরোয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, অচিরেই আমরা তাকে কঠিন পথের জন্য সহজ করে দেব (লায়েল ৯২/৫-৭, বুখারী হা/৪৯৪৯)

প্রশ্ন (২/৪৪২) : আমার পিতা-মাতা কবরপূজারী। তাদেরকে অনেক বুঝিয়েও ব্যর্থ হয়েছি। তারা ছালাত-ছিয়াম, আল্লাহ ও রাসূলকে অস্বীকার করে। পিতা ব্যভিচারে জড়িত। মা জেনেও তাতে বাধা দেয় না। এখন আমার করণীয় কি?

-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ফরিদপুর।

উত্তর : পিতা-মাতার এরূপ কর্ম কুফরীর পর্যায়ভুক্ত। এজন্য পিতা-মাতাকে সাধ্যমত নছীহত করে যেতে হবে এবং তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহর নিকট আন্তরিকভাবে দো‘আ করতে হবে। তাদের সাথে মন্দ আচরণ করা যাবে না। কেননা সন্তানকে পিতা-মাতা শিরক করার জন্য চাপ দিলেও আল্লাহ তা‘আলা তাদের সাথে সদাচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন (লোকমান ৩১/১৫)। আর যেকোন মূল্যে নিজেকে যাবতীয় শিরক ও পাপাচার থেকে দূরে রাখতে হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন কোন প্রকার অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হয়োনা’ (আন‘আম ৬/১৫১)

প্রশ্ন (৩/৪৪৩) : চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম দুই রাক‘আত না পেলে পরে তা আদায়ের সময় সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে কি?

-আবুবকর, রিয়াদ, সঊদী আরব।

উত্তর : মিলাতে হবে না। এ সময় তিনি ইমামের অনুসরণে কেবল সূরা ফাতিহা পড়বেন। অতঃপর ইমামের সালাম শেষে মাসবূক হিসাবে তার শেষ দু‘রাক‘আতে অন্য সময়ের ন্যায় কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমাম নিযুক্ত হন তাকে অনুসরণের জন্য’ (বুখারী হা/৩৭৮)। তিনি বলেন, ‘ছালাতের যে অংশটুকু তোমরা পাও সেটুকু আদায় কর এবং যেটুকু বাদ পড়ে, সেটুকু পূর্ণ কর’ (বুখারী হা/৬৩৫, মিশকাত হা/৬৮৬)। এখানে ইমামের শেষাংশ হ’ল মাসবূকের প্রথমাংশ। অতঃপর মাসবূক তার বাকী শেষ দু‘রাক‘আত আদায় করবেন। এর ফলে মাসবূকের মোট চার রাক‘আতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হয়। তাছাড়া ছালাত প্রথম দিক থেকে শেষে এসে সংক্ষেপ করতে হয় (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৮০)

প্রশ্ন (৪/৪৪৪) : তাসবীহ কি উভয় হাতে গণনা করা যাবে?

-আব্দুল ওয়াহহাব

সিলেট সেনানিবাস, সিলেট।

উত্তর : কেবল ডান হাতের আঙ্গুলের মাধ্যমে তাসবীহ গণনা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ডান হাতে তাসবীহ গণনা করতেন (আবুদাঊদ হা/১৫০২; সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৩-এর আলোচনা)। তিনি ডান দিক থেকে কাজ করা পসন্দ করতেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪০০)। এছাড়া গণনা কড়ে আঙ্গুল দিয়ে শুরু করতে হবে, বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে নয়। কেননা ডান হাতের ডান পাশ কড়ে আঙ্গুল দিয়েই শুরু হয়েছে এবং এ আঙ্গুল দিয়ে গণনা শুরু করাটাই সহজ ও স্বভাবগত (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল পৃঃ ১৫০)। তবে ডান হাতে গণনা করতে অক্ষম হ’লে বাম হাতে গণনা করতে পারে।

প্রশ্ন (৫/৪৪৫) : যে মহিলা ছালাত আদায় করেনা, তার হাতের রান্না খাওয়া যাবে কি?

-হাবীবুল্লাহ, শার্শা, যশোর।

উত্তর : নারী হৌক বা পুরুষ হৌক ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরী পর্যায়ভুক্ত মহাপাপ। তাই শাসনের জন্য এসব লোকদের রান্না না খাওয়াই উত্তম। তবে এটি হারাম নয়। কেননা রাসূল (ছাঃ) ইহূদী ও মুশরিক মহিলার বাড়ীতে খেয়েছেন (বুখারী হা/৩৪৪, মিশকাত হা/৫৯৩১)

প্রশ্ন (৬/৪৪৬) : ছালাত ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার স্বরূপ কি?

-আনীসুল হক, শেরপুর।

উত্তর : আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর’ (বাক্বারাহ ৪৫)। এর অর্থ হ’ল- আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাক্বদীরের উপর ভরসা করে যেকোন বিপদ ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করা। কেননা বিপদে ধৈর্যধারণের মাধ্যমেই ভবিষ্যত সফলতার পথ উন্মোচিত হয়। দ্বিতীয়তঃ ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা। কেননা রাসূল (ছাঃ) যখন কোন বিষয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তেন, তখন তিনি নফল ছালাতে দন্ডায়মান হ’তেন (আবুদাঊদ হা/১৩১৯, মিশকাত হা/১৩২৫, সনদ হাসান)। বদর যুদ্ধের দিন তিনি ছালাত ও ক্রন্দনের মাধ্যমে সারা রাত অতিবাহিত করেন (আহমাদ হা/১০২৩, ইবনু হিববান হা/২২৫৭, সনদ ছহীহ)। মিসর গমনকালে ইবরাহীম (আঃ)-এর স্ত্রী সারা সেদেশের বাদশাহ কর্তৃক অপহৃত হলে ইবরাহীম (আঃ) তাকে আল্লাহর যিম্মায় ছেড়ে দিয়ে ছালাতের মাধ্যমে স্ত্রীর ইয্যতের হেফাযতের জন্য আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী সারাও ছালাতে রত হয়ে আল্লাহর নিকটে আশ্রয় চেয়েছিলেন। তাতে ঐ লম্পটের হাত-পা অবশ হয়ে গিয়েছিল’ (বুখারী হা/২২১৭; ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ২৬২ পৃঃ)। মূলতঃ ছালাতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর সর্বাধিক নৈকট্য লাভ করে। সেকারণ বিপদ মুহূর্তে বা কোন সফলতা লাভের আশায় ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমেই আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে।

প্রশ্ন (৭/৪৪৭) : যেসব পণ্যের গায়ে বা লেবেলে প্রাণীর ছবি থাকে, সেগুলোর ব্যবসা করা যাবে কি?

-খোরশেদ আলম, নলডাঙ্গা, নাটোর।

উত্তর : দোকানে ছবি টাঙ্গানো না থাকলে, ছবির সম্মান প্রদর্শন না করা হ’লে, মালের সাথে যুক্ত ছবি দোকানে প্রদর্শন করা না হ’লে, মালের সাথে ছবি বিক্রি উদ্দেশ্য না হ’লে ছবিযুক্ত মাল বিক্রি করা যাবে। আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি একটি পর্দা টাঙ্গিয়ে ছিলেন, যাতে ছবি ছিল। নবী করীম (ছাঃ) বাড়ীতে প্রবেশ করে তা টেনে ফেলে দেন। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তা কেটে দু’টি বালিশ তৈরী করি। নবী (ছাঃ) তাতে হেলান দিয়ে বসতেন (বুখারী, নায়ল ২/১০৩ পৃঃ; বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৪৯৪)। অতএব সম্ভবপর ছবিযুক্ত পণ্য আড়াল করে বা উল্টা করে রেখে ব্যবসা করতে হবে। অর্থাৎ হীনকর কাজে ছবি ব্যবহার করা যাবে। তবে অশ্লীল ছবিযুক্ত পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে হবে। কেননা এগুলির মাধ্যমে দোকানী ও ক্রেতা উভয়েরই চোখের যেনায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রকাশ থাকে যে, ছবি ও মূর্তি প্রদর্শন করে ব্যবসা করা হারাম, যেমনটি আজকাল বহু দোকানে দেখা যায়। তাছাড়া এমন বস্ত্ত ক্রয়-বিক্রয় হারাম, যার লাভ-লোকসান ছবির উপর নির্ভরশীল। যেমন বিভিন্ন নায়ক-নায়িকা ও খেলোয়াড়ের ছবি ব্যবহার করা।

প্রশ্ন (৮/৪৪৮) : ছালাতে তাশাহহুদ থেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত আঙুল কি একবার উঠালেই চলবে না অনবরত নাড়াতে হবে?

-নওশাদ আলী, ভেলকুপাড়া, পঞ্চগড়।

উত্তর : নাড়ানোই সুন্নাত। তবে তা যেন দ্রুত ও দৃষ্টিকটূ না হয়। ওয়ায়েল বিন হুজ্র (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হাদীছে তিনি বলেন, فَحَلَّقَ حَلْقَةً ثُمَّ رَفَعَ أُصْبُعَهُ فَرَأَيْتُهُ يُحَرِّكُهَا يَدْعُو بِهَا অর্থাৎ ‘নবী করীম (ছাঃ) হাতের আঙ্গুলসমূহকে গুটিয়ে মুঠ বাঁধলেন। অতঃপর তিনি আঙ্গুল উঁচু করলেন। আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সেই আঙ্গুলটি নাড়াচ্ছেন ও তার দ্বারা দো‘আ করছেন’ (আবুদাঊদ হা/৯৮৯, দারেমী হা/১৩৫৭, মিশকাত ‘তাশাহ্হুদ’ অধ্যায় হা/৯১১)। উল্লেখ্য যে, একবার ওঠাতে হবে মর্মে কোন জাল-যঈফ হাদীছও নেই (মিশকাত হা/৯০৬ নং হাদীছের টীকা দ্রঃ)

প্রশ্ন (৯/৪৪৯) : শুক্রবার দিনে বা রাতে কেউ মৃত্যুবরণ করলে ক্বিয়ামত অবধি তার কবরের আযাব মাফ হয়ে যাবে মর্মে বক্তব্যটির সত্যতা আছে কি?

-রাফাত মামূন, হালিয়াকান্দি, আসাম, ভারত।

উত্তর : এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছটি হ’ল, ‘কোন মুসলমান যদি জুম‘আর দিনে বা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফিৎনা হতে রক্ষা করেন’ (আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৬৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৭৭৩)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এ দিনের বরকতে মুমিন ব্যক্তিদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে কবরের ফিৎনা তথা আযাব থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ (মির‘আতুল মাফাতীহ ৪/৪৪০)। উক্ত হাদীছটি শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে ‘হাসান’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তবে শায়খ শু‘আইব আরনাঊত্ব ও হুসাইন সালীম আসাদ বলেন, হাদীছটির শাহেদ থাকলেও সেগুলো এমন শক্তিশালী নয় যা হাদীছকে ছহীহ বা হাসানের পর্যায়ে উন্নীত করবে। অতএব হাদীছটি যঈফ (তাহকীক মুসনাদে আহমাদ হা/৬৫৮২; তাহকীক মুসনাদে আবু ইয়া‘লা হা/৪১১৩)। ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ সমূহকে যঈফ বলেছেন (ফাৎহুল বারী ৩/২৫৩)। এছাড়া কোন ছাহাবী শুক্রবারে মৃত্যুর জন্য আকাংখা প্রকাশ করেছেন বলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। অথচ আবুবকর (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর দিন তথা সোমবারে মৃত্যুর জন্য আকাংখা করেছেন (বুখারী হা/১৩৮৭)। মোদ্দাকথা এরূপ গায়েবের বিষয় ত্রুটিপূর্ণ দলীল দ্বারা সাব্যস্ত না করাই উত্তম হবে।

প্রশ্ন (১০/৪৫০) : কোন মহিলা জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য ইমপ্লান্ট বা অন্য কোন মাধ্যম গ্রহণ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে সে জাহান্নামী হবে। একথার শারঈ ভিত্তি আছে কি?

-আব্দুর রব মিলন*

পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, কালাই, জয়পুরহাট।

[শুধু ‘আব্দুর রব’ লিখুন, মিলন নয় (স.স)]

উত্তর : দরিদ্রতার ভয়ে কোন কিছুর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হারাম (ইসরা ১৭/৩১, বুখারী হা/৪৭৬১; মুসলিম হা/৮৬; মিশকাত হা/৪৯ ‘কাবীরা গোনাহ’ অনুচ্ছেদ)। এগুলি কবীরা গোনাহ। অন্যদিকে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে ইমপ্লান্টের ন্যায় জন্মনিয়ন্ত্রণের অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন অস্থায়ী পদ্ধতি ‘আযল’ করা জায়েয (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১৮৪)। তবে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণরত অবস্থায় মারা গেলে জাহান্নামী হবে একথা ঠিক নয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলা শিরক ব্যতীত সকল গোনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করতে পারেন (নিসা ৪৮)

প্রশ্ন (১১/৪৫১) : মুছাফাহার সময় হাত ধরে ঝাঁকি দেওয়া যাবে কি?

-মীযান, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।

উত্তর : ঝাঁকি নয় বরং স্বাভাবিকভাবে উভয়ের ডান হাত মিলাবে। যা অত্যন্ত নেকীর কাজ (আবুদাঊদ হা/৫২১২; মিশকাত হা/৪৬৭৯, সনদ ছহীহ)। জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে মুছাফাহা করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কেবল দু’হাত মিলানোর ব্যাপারে সম্মতি দেন (তিরমিযী হা/২৭২৮; মিশকাত হা/৪৬৮০; ছহীহাহ হা/১৬০)। সুতরাং এর বাইরে ঝাঁকি দেওয়া বাড়াবাড়ি বৈ কিছু নয়।

প্রশ্ন (১২/৪৫২) : শাড়ী-লুঙ্গি ইত্যাদি কাপড় দিয়ে যাকাত আদায় করা যাবে কি?

-মা‘ছূম সোহেল, ইসলামপুর, জামালপুর।

উত্তর : যাবে। তবে যাকাতের হিসাব সর্বাগ্রে সম্পন্ন করতে হবে। অতঃপর উক্ত অর্থ দ্বারা এগুলি ক্রয় করে বিতরণ করতে হবে। স্মর্তব্য যে, যাকাত ও ছাদাক্বাসমূহ মুসলিম আমীরের নিকট জমা করে তাঁর মাধ্যমে হকদারগণের মধ্যে বিতরণ করাই হ’ল ইসলামী বিধান। বর্তমান যুগে কোন হকপন্থী ইসলামী সংগঠন বা সংস্থার মাধ্যমে এটি করা যেতে পারে। তারা তা কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল ফান্ডে জমা করে যাকাতের খাত সমূহে বিতরণ করবেন। এছাড়া নিজ গ্রামে বা মহল্লায় দ্বীনদার কমিটির নিকট বায়তুল মাল জমা করার ব্যবস্থা থাকলে সেখানে কিছু অংশ জমা করার মাধ্যমে বিতরণ করা যেতে পারে। এরূপ সুন্নাতী তরীকা বাদ দিয়ে নিজ হাতে বিতরণ করতে গিয়ে একদিকে গরীবরা লাইনে পদদলিত হয়ে মারা পড়ছে, অন্যদিকে দাতা রিয়া ও শ্রুতির পাপে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে তার যাকাত কবুল হচ্ছে না। অতএব ইসলামী বিধান মেনে যাকাত আদায় করাই উত্তম।

প্রশ্ন (১৩/৪৫৩) : উপজাতীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখা এবং তাদের রান্না খাবার খাওয়া যাবে কি?

-নাছিরুদ্দীন, গাযীপুর।

উত্তর : অমুসলিম উপজাতীয়দের সাথে মানবিক সম্পর্ক রাখায় এবং তাদের তৈরী খাবার খাওয়ায় কোন বাধা নেই। কেননা রাসূল (ছাঃ) মুশরিক মহিলার মশক থেকে পানি পান করেছেন (বুখারী হা/৩৪৪; মিশকাত হা/৫৮৮৪)। আবু হুরায়রা (রাঃ) তার মুশরিক মাতার সাথে বসবাস করতেন (মুসলিম হা/২৪৯১; মিশকাত হা/৫৮৯৫ ‘মু‘জেযাহ’ অনুচ্ছেদ)। তবে তাদের যবহকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না (আন‘আম ৬/১২১)। এক্ষেত্রে নিজে বিসমিল্লাহ বলে যবেহ করে দিতে হবে। অতঃপর তারা রান্না করে দিতে পারবে।

প্রশ্ন (১৪/৪৫৪) : জনৈক ব্যক্তি পিতা-মাতা, স্ত্রী ও তিন মেয়েকে রেখে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে অংশ কিভাবে বণ্টিত হবে? শোনা যায় যে, এ ব্যাপারে আলী (রাঃ) প্রবর্তিত আওল বিধান কুরআনের নির্দেশ বিরোধী। এর সত্যতা জানতে চাই।

-আব্দুল মুত্ত্বালিব, বগুড়া।

উত্তর : এমতাবস্থায় ৩ মেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ, পিতা-মাতা প্রত্যেকে এক ষষ্ঠাংশ এবং স্ত্রী এক অষ্টমাংশ পাবে (নিসা ১১-১২)। অত্র মাসআলায় ‘আওল হয়েছে। অর্থাৎ বণ্টন সংখ্যা ২৪ হলেও অংশ হয়েছে ২৭ টি। যেমন মাতা-পিতা ৪+৪=৮, স্ত্রী ৩ ও তিন কন্যা ১৬ মোট ২৭ ভাগে বণ্টিত হয়েছে। অতিরিক্ত তিন অংশ বেশী হওয়াটাই ‘আওল। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত তিন অংশ সকলের অংশ থেকে সমানভাবে কমিয়ে ‘আদল করতে হবে। ‘আওলের এই বিধান সর্বপ্রথম প্রবর্তন করেন দ্বিতীয় খলীফা ওমর (রাঃ) (বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/১২২৩৭; ইরওয়া হা/১৭০৬, সনদ হাসান)। আলী (রাঃ)-এর ব্যাপারেও কিছু বর্ণনা রয়েছে। তবে তা দুর্বল (ইরওয়া হা/১৭০৬/১)। ওমর (রাঃ) প্রবর্তিত ‘আওল বিধান কুরআনের বিরোধী নয়। বরং তার ব্যাখ্যা মাত্র। রাসূল (ছাঃ) ও আবুবকর (রাঃ)-এর যুগে এর সমস্যা দেখা দেয়নি। ওমর (রাঃ)-এর নিকট এরূপ সমস্যা দেখা দিলে তিনি ছাহাবায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে এ বিধানটি প্রবর্তন করেন (হাকেম হা/৭৯৮৫, বিস্তারিত দ্রঃ ছালেহ আল-ফাওযান, আত-তাহক্বীক্বাতুল মারযিইয়াহ ফিল মাবাহিছিল ফারযিইয়াহ, পৃষ্ঠা ৬১-৬৬)

প্রশ্ন (১৫/৪৫৫) : আগে শোনা যেত গিরগিটি মারলে ১০০ নেকী হয়। এখন জানলাম সেটা টিকটিকি। এক্ষণে কোনটি সঠিক?

-বদরুল হুদা, ধানমন্ডি, ঢাকা।

উত্তর : গিরগিটি নয়। বরং টিকিটিকিই সঠিক। প্রকাশ থাকে যে, ‘আল-ওয়াযাগ’ (اَلْوَزَغُ ) শব্দের উর্দূ অনুবাদ ‘ছিপকলী’ (মিছবাহুল লুগাত (আরবী-উর্দূ অভিধান), পৃঃ ৯৪৩; আল-মুনজিদ (আরবী-উর্দূ) পৃঃ ১০৮২)। যার বাংলা অর্থ টিকটিকি (ফ‘রহঙ্গ-ই-রববানী; পৃঃ ২৬০; ফরহঙ্গ-এ-জাদীদ (উর্দূ-বাংলা অভিধান), পৃঃ ৩৫৬)। আর ‘আল-হিরবাউ’ (اَلْحِرْبَاءُ )-এর উর্দূ অর্থ গিরগিট্ (মিছবাহুল লুগাত পৃঃ ১৪৪; আল-মুনজিদ পৃঃ ১৯৮)। যার বাংলা গিরগিটি বা কাকলাস ব্যবহৃত হয় (ফরহঙ্গ-এ-জাদীদ, পৃঃ ৬৯১; ফ‘রহঙ্গ-ই-রববানী, পৃঃ ৫০৭-৮)। গিরগিটি মুহূর্তের মধ্যে গায়ের রং পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু টিকটিকি তা পারে না। ফলে গিরগিটির গায়ের পরিবর্তিত রং দেখেই আমাদের দেশের লোকজন মারতে বেশী উদ্যত হয়। (বিস্তারিত দেখুন : আল-ক্বামূস; আল-মু‘জামুল ওয়াসীত্ব পৃঃ ১০২৯; আরবী-বাংলা অভিধান (ঢাকা : বাংলা একাডেমী), ৩/২৫৫৪ পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, ভারতের কতিপয় লেখক স্ব স্ব লেখনীতে এবং এ দেশের বাংলা অনুবাদ মিশকাতে ও ‘আল-কাওছার’ আরবী-বাংলা অভিধানে ‘আল-ওয়াযাগ’ অর্থ গিরগিটি লেখা হয়েছে, যা শুদ্ধ নয়।

উল্লেখ্য, টিকটিকির লেজে মাদকতা আছে। ইবনুল মালেক বলেন, এটি একটি কষ্টদানকারী ও বিষাক্ত প্রাণী। শয়তান একে ইবরাহীমের অগ্নিকুন্ডে ফুঁক দেওয়া ছাড়াও অন্যান্য পাপের কাজে ব্যবহার করে থাকে (মিরক্বাত হা/৪১১৯-এর ব্যাখ্যা)। আয়েশা (রাঃ) তার পাশে একটি বর্শা রাখতেন। যা দিয়ে টিকটিকি মারতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদের খবর দিয়েছেন যে, ইবরাহীম (আঃ)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়, তখন পৃথিবীর সকল প্রাণী তা নিভানোর চেষ্টা করেছিল। কেবল এই টিকটিকি ব্যতীত। সে তাতে ফুঁক দিয়েছিল। যাতে আগুন আরও বেশী জ্বলে ওঠে। সেকারণ তিনি এদের মারতে বলেছেন’ (ইবনু মাজাহ হা/৩২৩১; ছহীহাহ হা/১৫৮১)। উম্মে শারীক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) টিকটিকি মারতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, টিকটিকি ইবরাহীম (আঃ)-এর বিরুদ্ধে আগুনে ফুঁক দিয়েছিল (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪১১৯)। তিনি বলেন, ‘প্রথমবারে টিকটিকি মারতে পারলে ১০০ নেকী, দ্বিতীয়বারে তার চেয়ে কম, তৃতীয় বারে তার চেয়ে কম নেকী পাবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪১২১)

প্রশ্ন (১৬/৪৫৬) : রামাযান মাসে ধনী-গরীব নির্বিশেষে অনির্ধারিত অর্থ বা খাবার তুলে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রতিদিন ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এরূপ আয়োজন জায়েয কি? এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক যে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় তা জায়েয কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান, বড়াইগ্রাম, নাটোর।

উত্তর : ইফতার করানো নেকীর কাজ। যে ব্যক্তি কোন ছায়েমকে ইফতার করায়, সে ঐ ছায়েম-এর সমান নেকী অর্জন করে (তিরমিযী হা/৮০৭, ইবনু মাজাহ হা/১৭৪৬)। হাদীছে একত্রিতভাবে খাওয়া বরকত লাভের মাধ্যম হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে (আবুদাঊদ হা/৩৭৬৪, মিশকাত হা/৪২৫২)। এছাড়া ইফতার মাহফিলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে  যেমন মানুষ বিপুল পরিমাণ ছায়েমকে ইফতার করানোর নেকী লাভে ধন্য হয়। অন্যদিকে মানুষের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত দানের সুযোগ হয়। সুতরাং এরূপ আয়োজন করায় বাধা নেই। স্মর্তব্য যে, কারু কাছ থেকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় করা যাবে না এবং মৃতব্যক্তির নামে ও যাকাতের টাকায় ইফতার করানো যাবে না।

প্রশ্ন (১৭/৪৫৭) : বাড়ী থেকে মসজিদ দূরে হওয়ায় অলসতাবশতঃ জামা‘আতে ছালাত আদায় করা হয় না। এক্ষণে জুম‘আ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত বাড়ীতে জামা‘আতে আদায় করা যাবে কি?

-মুবাশশির গাযী

উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিম বঙ্গ ,ভারত।

উত্তর : শারঈ ওযর ব্যতীত আযান শুনে মসজিদে না আসলে ছালাত কবুলযোগ্য হবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনতে পেয়েও বিনা ওযরে মসজিদে যায় না তার ছালাত সিদ্ধ হবে না’। রাবী আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘ওযর’ হচ্ছে ভয় ও অসুস্থতা (ইবনু মাজাহ, দারাকুৎনী, হাকেম, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/১০৭৭; ছহীহ ইবনু মাজাহ হা/৬৫২)। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে জনৈক অন্ধ ছাহাবী মসজিদের পথ দেখানোর মত কেউ না থাকার ওযর পেশ করে বাড়ীতে ছালাত আদায়ের অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি বললেন, ‘তুমি কি আযান শুনতে পাও? শুনতে পেলে মসজিদে এসো’ (মুসলিম হা/৬৫৩, মিশকাত হা/১০৫৪)। এছাড়া মুছল্লী যত বেশী দূর থেকে মসজিদে আগমন করবে, ততবেশী পরিমাণ নেকী তার আমলনামায় যুক্ত হবে (আবুদাঊদ হা/৫৫৬)। আর শারঈ ওযর বশতঃ বাড়ীতে জামা‘আতে ছালাত আদায় করলে জামা‘আতের নেকী পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (১৮/৪৫৮) : বিবাহের মোহর নির্ধারণের শরী‘আতের নির্দেশনা কি? সমাজে ‘মোহরে ফাতেমী’ নামে একটি পরিভাষা চালু আছে। এটা কি সুন্নাত?

-সুলতান আহমাদ, মুরাদপুর, চট্টগ্রাম।

উত্তর : বিবাহ মানবজাতির জন্য আল্লাহ প্রদত্ত অন্যতম প্রধান নে‘মত। আল্লাহ বলেন, তাঁর নে‘মতসমূহের অন্যতম হ’ল তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করতে পার’ (রূম ২১)। সেকারণ বিবাহ সহজে সম্পন্ন হওয়া যরূরী। রাসূল (ছাঃ) বলেন, সর্বোত্তম বিবাহ হ’ল যা সহজভাবে সম্পন্ন হয় (ইবনু হিববান, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৩০০)। আর বিবাহের প্রধান শর্ত হ‘ল মোহর আদায় করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩১৪৩)। এর পরিমাণ শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত নয়। তবে পরিমাণে তা যত কম হয়, ততই উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেন, শ্রেষ্ঠ মোহর যা সহজে পরিশোধযোগ্য (বায়হাক্বী, ছহীহুল জামে‘ হা/৩২৭৯)। ওমর (রাঃ) বলেন, ‘মেয়েদের মোহর সীমাহীন করো না। কেননা সীমাহীন মোহর নির্ধারণ যদি দুনিয়ায় সম্মান অথবা আখেরাতে তাক্বওয়া অর্জনের কারণ হ’ত, তবে এরূপ মোহর প্রদানে আল্লাহর নবী আগ্রহী হ’তেন। কিন্তু তিনি তার কোন স্ত্রী বা কন্যার মোহর বারো উক্বিয়া বা ৪৮০ দিরহামের অধিক নির্ধারণ করেননি’ (আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ প্রভৃতি মিশকাত ‘মোহর’ অধ্যায় হা/৩২০৪)। রাসূল (ছাঃ) কুরআন শিক্ষা প্রদান, লোহার আংটি (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩২০২), এমনকি ইসলাম গ্রহণের শর্তেও বিবাহ প্রদান করেছেন (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২০৯)

তবে স্বেচ্ছায় স্ত্রীকে মোহর বেশীও প্রদান করা যায়। জনৈক ছাহাবী তার স্ত্রীকে সে যুগে এক লক্ষ দিরহাম সমমূল্যের জমি প্রদান করেছিলেন (হাকেম, আবুদাঊদ, ইরওয়া হা/১৯২৪ ও ৪০)। বাদশাহ নাজাশী রাসূল (ছাঃ)-এর এক স্ত্রী উম্মে হাবীবাহর মোহর প্রদান করেছিলেন। যার পরিমাণ ছিল সেযুগের চার হাযার দিরহাম (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২০৮)

‘মোহরে ফাতেমী’ বলে ইসলামে কোন পরিভাষা নেই। মোহরে ফাতেমী তথা বিশেষ ফযীলতের আশায় ফাতেমা (রাঃ)-কে প্রদত্ত মোহর অনুসরণ করা শী‘আদের আবিষ্কৃত রীতি। রাসূল (ছাঃ) আলী (রাঃ)-কে তার প্রশস্ত ও ভারী ঢালটিকে মোহর হিসাবে ফাতিমা (রাঃ)-কে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন (নাসাঈ হা/৩৩৭৫)। তাই বলে এটা অনুসরণে বিশেষ কোন ফযীলত রয়েছে, এমনটি নয়।

প্রশ্ন (১৯/৪৫৯) : পুরুষের ইমামতিতে মহিলা জামা‘আত চলাকালীন অবস্থায় ইমামের ক্বিরাআতে বা ছালাতে ভুল হলে মহিলারা লোকমা বা ভুল সংশোধন করে দিতে পারবে কি?

-আব্দুর রহীম, কাসেমপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমাম কোন ভুল করলে পুরুষেরা সুবহানাল্লাহ বলবে এবং মহিলা মুক্তাদীগণ হাতে হাত মেরে আওয়ায করবেন (বুখারী হা/১২০৩; মুসলিম হা/৪২২; মিশকাত হা/৯৮৮; ফাৎহুল বারী ৩/৭৭)

প্রশ্ন (২০/৪৬০) : আমি একজন কাপড় ব্যবসায়ী। এখানে মূলধন সবসময় কমবেশী হয়। নির্দিষ্ট মূলধন বছর অতিক্রম করে না। এক্ষেত্রে আমি যাকাত বের করব কিভাবে?

-রায়হান, ভাদুরিয়া, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : বছর শেষে ব্যবসায়রত সম্পদ কমবেশী গড় হিসাব করে তা নিছাব পরিমাণ হ’লে শতকরা আড়াই টাকা হারে যাকাত দিতে হবে (তিরমিযী হা/৬২৮, বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/৭৩৯৪; আলবানী, তামামুল মিন্নাহ ৩৬৪ পৃঃ, সনদ ছহীহ)। পুংখানুপুংখ হিসাব রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন (২১/৪৬১) : জনৈক ইমাম বলেন, তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ ছালাতের পূর্বে সংক্ষেপে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় করতে হবে। এ বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?

-আহমাদ, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : একথা সঠিক নয়। বরং রাসূল (ছাঃ) তাহাজ্জুদ ছালাতের প্রথম দু’রাক‘আত সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করতেন। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন রাতের ছালাতে দন্ডায়মান হবে, সে যেন সংক্ষেপে দু’রাক‘আত ছালাতের মাধ্যমে (তাহাজ্জুদ) ছালাতের সূচনা করে’ (মুসলিম হা/৭৬৮; আবুদাউদ হা/১৩২৩; মিশকাত হা/১১৯৪)। ইমাম ছাহেব হয়ত এ হাদীছের ব্যাখ্যা বুঝতে ভুল করেছেন।

প্রশ্ন (২২/৪৬২) : ই‘তিকাফ অবস্থায় জানাযার ছালাত পড়া বা পড়ানো অথবা জুম‘আর খুৎবা দেওয়া যাবে কি?

-আব্দুল্লাহেল কাফী, ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : ইতিকাফ অবস্থায় বাইরে গিয়ে জানাযার ছালাত পড়া বা পড়ানো যাবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, ই‘তিকাফকারীর জন্য সুন্নাত হ’ল ... কোন জানাযায় যোগদান করবে না.. (আবুদাউদ হা/২৪৭৩; মিশকাত হা/২১০৬; সনদ হাসান, ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ১০/৪১০)। ই‘তিকাফকারী বাইরে গিয়ে জানাযায় অংশগ্রহণ করতে পারবে মর্মে যে মারফূ‘ ও মাওকূফ হাদীছগুলি রয়েছে তার কোনটি যঈফ কোনটি মওযূ‘ (সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৬৭৯, তাহকীক সুনান দারাকুৎনী হা/২৩৩৩-৩৪, সনদ যঈফ)। তবে জুম‘আর খুৎবা দেওয়া যেতে পারে। রাসূল (ছাঃ) ই‘তিকাফরত অবস্থায় তিনি ব্যতীত অন্য কেউ খুৎবা দিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব যোগ্য কেউ না থাকলে খুৎবা দেওয়ায় বাধা নেই। তবে এটি ই‘তিকাফের ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের বিরোধী বিবেচনায় এড়িয়ে যাওয়ায় কোন দোষ নেই।

প্রশ্ন (২৩/৪৬৩) : তারাবীহ বা তাহাজ্জুদের ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দু’রাক‘আত শুরু করার সময় ছানা পাঠ করতে হবে না প্রথমে একবার পড়লেই যথেষ্ট হবে?

-শহীদুল ইসলাম, মোঘলহাট, লালমণিরহাট।

উত্তর : ফরয হোক নফল হোক প্রত্যেক ছালাতের শুরুতে ছানা পাঠ করতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) যখন কোন ছালাত শুরু করতেন, তখন ছানা পাঠ করতেন (বুখারী হা/৭৪৪, তিরমিযী, মিশকাত হা/৮১২-১৩, ৮১৫)। এখানে ছানাকে ছালাত শুরুর সাথে খাছ করা হয়েছে। সুতরাং সালাম ফিরানোর পর নতুনভাবে ছালাত শুরু করলে ছানা পাঠ করতে হবে।

প্রশ্ন (২৪/৪৬৪) : বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমল সম্পন্ন পাত্র না পেয়ে জেনে-শুনে শিরক-বিদ‘আতে লিপ্ত পাত্রের সাথে বিবাহ দিলে অভিভাবককে গুনাহগার হতে হবে কি?

-সাইফুল ইসলাম, লাকসাম, কুমিল্লা।

উত্তর : জেনে-শুনে শিরক-বিদ‘আতে লিপ্ত পাত্রের সাথে বিবাহ দিলে এবং ফলশ্রুতিতে মেয়ের উপর দ্বীনী ক্ষতি নেমে আসলে অভিভাবক অবশ্যই গুনাহগার হবেন। রাসূল (ছাঃ) বিবাহের পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনকে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী হা/৫০৯০; মিশকাত হা/৩০৮২; তিরমিযী হা/১০৮৪; মিশকাত হা/৩০৯০)। আল্লাহ তা‘আলা মুশরিক নারী বা পুরুষকে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন যদিও তারা মুমিনদের চেয়ে আকর্ষণীয় হয় (বাক্বারাহ ২/২২১)। অতএব অভিভাবকের দায়িত্ব হ’ল- মেয়েকে ছহীহ আক্বীদা সম্পন্ন দ্বীনদার পাত্রের হাতে তুলে দেওয়া।

প্রশ্ন (২৫/৪৬৫) : বার্ধক্য জনিত হাঁটুর ব্যথার কারণে চেয়ারে বসে নিয়মিত ভাবে ছালাতের ইমামতি করা জায়েয হবে কি?

-তরীকুল ইসলাম, দারুশা, পবা, রাজশাহী।

উত্তর : নিয়মিতভাবে নয়, বরং মাঝে-মধ্যে বাধ্যগত অবস্থায় দাঁড়িয়ে ইমামতি করতে অক্ষম ব্যক্তির চেয়ারে বসে মাঝে-মধ্যে ছালাতের ইমামতি করা জায়েয। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একবার ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়ে যোহর-আছরের ছালাতে বসে ইমামতি করেছেন এবং ছাহাবীগণ তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করেছেন (বুখারী হা/৬৮৯, মিশকাত হা/১১৩৯; মির‘আত ৪/৮৯)। অতএব স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে এবং দাঁড়াতে সক্ষম যোগ্য ব্যক্তি থাকলে ইমামতি ছেড়ে দেওয়াই উত্তম হবে। কেননা দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা ছালাতের অন্যতম রুকন (বাক্বারাহ ২/২৩৮)

প্রশ্ন (২৬/৪৬৬) : ইয়াকূব (আঃ)-এর সন্তানরা তাঁকে সিজদা করেছিলেন। এক্ষণে আমাদের পিতা-মাতা বা পীর ছাহেবদেরকে সিজদা করতে বাধা কোথায়?

-জাহাঙ্গীর আলম, কাকীবুকী, সিংগাপুর।

উত্তর : সিজদা এবং যাবতীয় ইবাদত একমাত্র আল্ল­াহর জন্য নির্দিষ্ট করাকেই তাওহীদ বলে। ইয়াকূব (আঃ)-এর সন্তানরা তাঁকে সিজদা ছিল সম্মান প্রদর্শনের সিজদা, ইবাদতের সিজদা নয়। এই প্রথা আদম থেকে ঈসা (আঃ) পর্যন্ত তাঁদের শরী‘আতে বৈধ ছিল। পরবর্তীতে উক্ত প্রথাকে ইসলামে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে (ইবনু কাছীর, সূরা ইউসুফ ১০০ আয়াতের তাফসীর দ্রঃ)। মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) যখন ইয়ামানে গিয়ে দেখলেন যে খ্রীষ্টানরা তাদের নেতাদের সম্মানের সিজদা করে, তখন তিনি ভাবলেন যে, এই সম্মান তো আমাদের নবী পাওয়ার বেশি হকদার। অতঃপর তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর উদ্দেশ্যে উক্ত সম্মানটি প্রদর্শন করতে চাইলে তিনি তাকে এমনটি করতে নিষেধ করে বলেন যে, আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা করার আদেশ দিতাম তাহ’লে স্ত্রীকে তার স্বামীর জন্য সিজদা করার নির্দেশ দিতাম (তিরমিযী হা/১১৫৯; ইবনে মাজা হা/১৮৫৩; মিশকাত হা/৩২৫৫)

প্রশ্ন (২৭/৪৬৭) : জনৈক মেয়েকে বিবাহ করব বলে কসম করার পর পরিবারের বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষণে এতে কোন ক্ষতির আশংকা আছে কি? উক্ত কসমের জন্য কাফফারা দিতে হবে কি?

-কাওছার আলী, চট্টগ্রাম।

উত্তর : পরিবারের সিদ্ধান্ত ছাড়া কাউকে বিবাহ করার ব্যাপারে এভাবে কসম করা উচিত নয়। এক্ষেত্রে তাকে কসম ভঙ্গের কাফফারা দিতে হবে। তা হ’ল- দশজন অভাবগ্রস্তকে মধ্যম শ্রেণীর খাদ্য প্রদান করা অথবা তাদেরকে বস্ত্র প্রদান করা অথবা একজন দাস বা দাসী মুক্ত করা। আর যদি কেউ এর সামর্থ্য না রাখে, তাহলে তিন দিন ছিয়াম পালন করবে’ (মায়েদাহ ৫/৮৯)। তবে এরূপ কসম পুরা না করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে গযব নাযিল হবে বলে আশংকা করা ঠিক নয়। কারণ এ মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন (২৮/৪৬৮) : কুরবানীর দিন ছালাতের পূর্বে না খেয়ে থাকা এবং কুরবানীর পর কলিজা দ্বারা ইফতার করা কি সুন্নাত?

-সাজিদুল ইসলাম, রংপুর।

উত্তর : কুরবানীদাতার জন্য ঈদের দিন কুরবানীর গোশত খাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত না খেয়ে থাকা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঈদুল আযহার দিন ছালাত শেষ না করে খেতেন না’ (তিরমিযী হা/৫৪২, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৪৪০, সনদ ছহীহ)। আর তিনি স্বীয় কুরবানীর গোশত হ’তে খেতেন’ (আহমাদ হা/২৩০৩৪, সনদ হাসান; নায়লুল আওত্বার ৪/২৪১)। বায়হাক্বীর বর্ণনায় নির্দিষ্টভাবে ‘কলিজা’র কথা এসেছে (বায়হাক্বী হা/৫৯৫৬; মির‘আতুল মাফাতীহ ৪/৪৫ পৃঃ,)। তবে বর্ণনাটি যঈফ (সুবুলুস সালাম, তা‘লীক্ব আলবানী ২/২০০)

প্রশ্ন (২৯/৪৬৯) : জুম‘আ ও ঈদের ছালাত একই দিনে হ’লে জুম‘আর ছালাত আদায় না করলে গোনাহ হবে কি?

-শিহাবুদ্দীন, শেরপুর, ঢাকা।

উত্তর : জুম‘আ ও ঈদ একই দিনে হ’লে ঈদের ছালাত আদায় করার পর জুম‘আর ছালাত আদায় করা ইচ্ছাধীন বিষয়। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে ঈদ ও জুম‘আ একই দিনে হ’লে তিনি সকলকে নিয়ে ঈদের ছালাত আদায় করতেন। অতঃপর বলতেন, এক্ষণে জুম‘আ পড়তে আসা বা না আসা তোমাদের ইচ্ছাধীন বিষয়। তবে আমরা জুম‘আ পড়ব’ (আবুদাঊদ হা/১০৭৩)

প্রশ্ন (৩০/৪৭০) : বৃষ্টির কারণে মসজিদে মাগরিব ও এশার ছালাত জমা করার পর নির্ধারিত সময়ে এশার আযান দিতে হবে কি?

-মোযাম্মেল হক, সাতক্ষীরা।

উত্তর : নির্ধারিত সময়ে এশার আযান দিবে এবং সেসময় উপস্থিত মুছল্লীদের নিয়ে ইমাম পুনরায় জামা‘আত করবেন। তাবূক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে ছালাতের সময় হয়ে গেলে আব্দুর রহমান বিন ‘আওফের ইমামতিতে সকলে ফজরের ছালাত আদায় করেন। সে সময় রাসূল (ছাঃ) হাজত সারতে যাওয়ায় এক রাক‘আত পাননি। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, তোমরা সুন্দর কাজ করেছ অথবা বললেন, তোমরা ঠিক করেছ। এর দ্বারা নির্ধারিত সময়ে ছালাত আদায়ে তিনি তাদেরকে উৎসাহিত করেন’ (মুসলিম হা/২৭৪)। অতএব কারণবশতঃ ছালাত জমা করলেও নির্ধারিত সময়ে মসজিদে আযান-জামা‘আত করতে হবে।

প্রশ্ন (৩১/৪৭১) : ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে কুরবানীর পশু মোটাতাজা করা জায়েয হবে কি?

-আব্দুল আলী, বান্দাইখাড়া, নওগাঁ।

উত্তর : বিষাক্ত ইনজেকশন, ইউরিয়া সার বা ট্যাবলেট খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এটি কুরবানী বা সকল সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। কেননা এসব ব্যবহারে পশুর গোশত বিষাক্ত হয়ে যায়, যা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। এতে মানুষ লিভার, কিডনী, ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। সুতরাং নিশ্চিত ক্ষতিকর জেনেও এসব ব্যবহার করা কবীরা গোনাহ। এর মাধ্যমে ক্রেতারা প্রতারিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয় (মুসলিম হা/১০২)। প্রতারণা করা ও ধোঁকা দেওয়ার কারণে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে’ (ছহীহ ইবনু হিববান হা/৫৬৭, ছহীহাহ হা/১০৫৮)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ক্ষতি করো না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ো না’ (ইবনু মাজাহ হা/২৩৪১; আহমাদ হা/২৮৬৭)

প্রশ্ন (৩২/৪৭২) : বাংলাদেশে যেসব ইসলামী ব্যাংক রয়েছে, সেগুলিতে বিভিন্ন মেয়াদী ডিপোজিট করা যাবে কি?

-বযলুল করীম, পুঠিয়া, রাজশাহী।

উত্তর : দেশে প্রচলিত সাধারণ বা ইসলামী কোন ব্যাংকই পূর্ণভাবে সূদমুক্ত নয়। সুতরাং কোন ব্যাংকেই লাভের উদ্দেশ্যে অর্থ সঞ্চয় করা এবং লভ্যাংশ গ্রহণ করা জায়েয নয়। দেশে প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকগুলি ঝুঁকি থাকার কারণে ইসলামী ব্যবসা পদ্ধতি মুশারাকা ও মুযারাবা বলতে গেলে  পরিত্যাগ করে মুরাবাহা পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। ফলে ব্যাংকে সঞ্চয়কারীরা ঝুঁকিহীনভাবে কেবল মুনাফাই পাচ্ছে। অন্যদিকে ‘মুরাবাহা’র ভিত্তিতে নির্দিষ্ট লাভের চুক্তিতে ঋণগ্রহিতারা সময়মত লাভের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে তার বিপরীতে জরিমানার নামে চক্রবৃদ্ধিহারে ঋণ পরিশোধ করতে করতে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এগুলি যুলুম ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং এসব থেকে দূরে থাকা মুমিনের জন্য একান্ত কর্তব্য।

প্রশ্ন (৩৩/৪৭৩) : মহিলা মাইয়েতের চুল বেণী করতে হবে, না স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দিতে হবে?

-রফীকুযযামান

হরিরামপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, ভারত।

উত্তর : মহিলা মাইয়েতের চুল বেণী করে তিন ভাগ করবে এবং একটি পিছনে ও অপর দুটি দু’পাশে ছেড়ে দিবে। উম্মে ‘অ‌vত্বিয়া (রাঃ) বলেন, রাসূল  (ছাঃ)-এর কন্যা যয়নব (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে তিনি তার চুল তিন ভাগে ভাগ করে বেণী করতে বলেছিলেন (বুখারী হা/১২৬৩; মুসলিম; মিশকাত হা/১৬৩৪)

প্রশ্ন (৩৪/৪৭৪) : নিফাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা কতদিন? ৪০ দিনের পূর্বে রক্ত বন্ধ হয়ে গেলেও ইবাদতের জন্য ৪০ দিন অপেক্ষা করতে হবে কি?

-মানযূর, তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : নিফাসের নিম্ন সময়ের কোন মেয়াদ নেই। যখনই পবিত্র হবে, তখনই ছালাত ও ছিয়াম শুরু করবে (তিরমিযী হা/১৩৯)। তবে এর ঊর্ধ্ব সময়সীমা হ’ল ৪০ দিন। উম্মে সালামা (রাঃ) বলেন, নিফাসগ্রস্ত মহিলাগণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে ৪০ দিন অপেক্ষা করতেন’(আবুদাঊদ হা/৩১১; তিরমিযী হা/১৩৯; ইবনু মাজাহ হা/৬৪৮)। অতএব ৪০ দিন পরও যদি কারো রক্তস্রাব বন্ধ না হয়, তাহ’লে বুঝতে হবে যে, এটি এস্তেহাযা, বা এক প্রকার প্রদর রোগ। এমতাবস্থায় গোসল করে ছালাত আদায় করবে এবং প্রতি ছালাতের পূর্বে ওযূ করবে’ (বুখারী হা/২২৮; মুসলিম হা/৩৩৩; মিশকাত হা/৫৫৭)

প্রশ্ন (৩৫/৪৭৫) : জুম‘আ ও ঈদায়নের খুৎবার মধ্যে খতীব হাত তুলে দো‘আ করতে পারবে কি?

-আব্দুর রশীদ, যশোর।

উত্তর : জুম‘আ ও ঈদায়নের খুৎবার মধ্যে খতীব দো‘আ করার সময় হাত উত্তোলন করার পক্ষে কোন দলীল পাওয়া যায়না। কেবল বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য খুৎবা চলাকালে ইমাম মিম্বরে দাঁড়িয়ে হাত উঠিয়ে দো‘আ করতে পারবেন (বুখারী হা/৯৩৩; মুসলিম হা/৮৯৭; মিশকাত হা/৫৯০২)।  

প্রশ্ন (৩৬/৪৭৬) : যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকে ছিয়াম পালন করা যাবে কি? এতে প্রতি দিনের জন্য এক বছর ছিয়াম পালনের নেকী পাওয়া যায় কি?

-হাবীবুর রহমান, মহাখালী, ঢাকা।

উত্তর : যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন অধিক ফযীলতের জন্য ছিয়াম কিংবা অন্যান্য নেকীর কাজ করা যাবে। (বুখারী, মিশকাত হা/১৪৬০)। সে হিসাব ১ম থেকে ৯ই তারিখ পর্যন্ত ছিয়াম রাখা যায়। কেননা আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) উক্ত ছিয়াম রাখতেন (নাসাঈ হা/২৪১৭, সনদ ছহীহ)। তবে প্রতি দিনের জন্য একবছর ছিয়াম পালনের নেকী পাওয়া যাবে মর্মে বর্ণিত হাদীছ যঈফ (তিরমিযী হা/৭৫৮; ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৪৭১)।  উল্লেখ্য যে, মা আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত ছহীহ মুসলিমের হাদীছে এসেছে যে, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে যিলহজ্জের ১ম দশকে কোন ছিয়াম পালন করতে দেখিনি’ (মুসলিম হা/২৭৮১-৮২)। এ বিষয়ে ভাষ্যকার ইমাম নববী বলেন, সফর বা অন্য কোন কারণে হয়ত আয়েশা (রাঃ) এটা দেখেননি। তবে এর দ্বারা এ সময় ছিয়াম পালন অসিদ্ধ প্রমাণিত হয় না (নববী, শরহে মুসলিম ঐ হাদীছের ব্যাখ্যা)

প্রশ্ন (৩৭/৪৭৭) : রাসূল (ছাঃ) নুপুরের আওয়াযকে ঘণ্টার-ধ্বনির সাথে তুলনা করে তাকে ফেরেশতা প্রবেশ না করার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এক্ষণে মোবাইলের রিংটোন কি এর অন্তর্ভুক্ত হবে?

-নযরুল ইসলাম, উকিলপাড়া, ভোলা।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ফেরেশতাগণ সে দলের সঙ্গি হন না যে দলে কুকুর ও ঘণ্টাধনি থাকে’ (মুসলিম হা/২১১৩; মিশকাত হা/৩৮৯৪; ছহীহাহ হা/১৮৭৩)। তিনি আরো বলেন, ঘণ্টা-ধ্বনি মূলত শয়তানের স্বরধ্বনি (মুসলিম হা/২১১৪; মিশকাত হা/৩৮৯৫)। অতএব মোবাইলে ঘণ্টা-ধ্বনির মত রিংটোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রশ্ন (৩৮/৪৭৮) : গ্রাম্য ডাক্তার হিসাবে অনেক মহিলা গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্টের জন্য আমার কাছে আসে। এক্ষণে এ অপারেশন করা জায়েয হবে কি?

-ডা. এম. এ. লতীফ, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর:  জায়েয হবে না। কারণ গর্ভপাত ঘটনো অর্থই সন্তান হত্যা করা। যা শরী‘আতে হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তাকে তোমরা হত্যা করো না’ (আন‘আম ৬/১৫১)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমরা নিজেদের সন্তানদেরকে দারিদ্রে্যর কারণে হত্যা করো না। আমি তাদেরকে ও তোমাদেরকে রিযিক দান করি’ (আন‘আম ৬/১৫১)। তবে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শের আলোকে যদি মায়ের জীবনের হুমকি থাকে তাহলেই কেবল গর্ভস্থিত ভ্রূণ ফেলে দেয়া জায়েয।

প্রশ্ন (৩৯/৪৭৯) : আমার আমবাগানের সাথে পুকুর ও শাক-সবজি চাষও করা হয়। দাওয়াতী কাজে ব্যস্ততার জন্য সেগুলি দেখাশোনা সম্ভব না হওয়ায় এক্ষণে উক্ত আমবাগান, পুকুর ও চাষাবাদের জমি সহ লীজ দিতে চাই। এক্ষণে সেটা জায়েয হবে কি?

-মুবীনুল ইসলাম, উপশহর, রাজশাহী।

উত্তর : দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিক্রমে কেবল জমি ও পুকুর লীজ দেওয়া যাবে। হানযালা বিন ক্বায়েস (রাঃ) বলেন, আমি রাফে‘ বিন খাদীজ (রাঃ)-কে দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে জমি লীজ দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এতে কোন দোষ নেই (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৯৭৪)। আর গাছ সমূহের আম ‘মুযারাবা’ অংশীদারী চুক্তিতে পৃথকভাবে বর্গা দিতে হবে (আবুদাঊদ হা/৪৮৩৬; সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (৪০/৪৮০) : আমি একজন নতুন আহলেহাদীছ। আমাদের ঈদগাহে ছয় তাকবীরে ঈদের ছালাত হয়। এমতাবস্থায় ইমামের পিছনে ১২ তাকবীর দিলে আমার ছালাত হবে কি?

-মহীউদ্দীন আহমাদ, কনুটিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : ইমামের পিছনে ১২ তাকবীর দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ ইমামের অনুসরণ করা আবশ্যক (বুখারী হা/৬৮৯; মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)। এতে ছালাতের ক্ষতি হ’লে সরাসরি ইমাম দায়ী হবেন (বুখারী গা/৬৯৪, মিশকাত হা/১১৩৩)। তাছাড়া ঈদায়নের অতিরিক্ত তাকবীরে কমবেশী হ’লে তাতে ছালাতের ক্ষতি হয় না (মির‘আত ৫/৫৩)

HTML Comment Box is loading comments...