স্বদেশ

অবশেষে ছিটমহল বিলুপ্ত হল

অবশেষে মুছে গেল দীর্ঘ সাত দশক ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মানচিত্রে ‘ছিটমহল’ নামে বিরাজ করা কাল দাগগুলো। গত ৩১শে জুলাই শুক্রবার দিবাগত রাত ১২-টা ১ মিনিটে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ছিটমহলে বাংলাদেশের পতাকা এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১টিতে ভারতের পতাকা উড়ার পর আক্ষরিক অর্থে ইতিহাস হয়ে গেল মোট ১৬২টি ছিটমহলের ৫২ হাযার মানুষের নিরপরাধ বন্দী জীবনের অভিশপ্ত অধ্যায়। ছিটমহল বিনিময়ে ভারত পেল তাদের অভ্যন্তরে বাংলাদেশী ৫১টি ছিটমহলের ৭,১৫১ একর জমি এবং ১৪ হাযার মানুষ। বাংলাদেশ পেল তার অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ভারতীয় ছিটমহলের ১৭,১৬০ একর জমি এবং ৪৪ হাযার মানুষ। ভারতীয় ছিটমহলগুলোর বেশীর ভাগই রয়েছে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এসবের মধ্যে ৫৯টি লালমনিরহাটে, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি ও নীলফামারীতে ৪টি রয়েছে। আর বাংলাদেশের ছিটমহলের অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহারে ৪৭টি এবং জলপাইগুড়িতে ৪টি।

ছিটমহলগুলিতে কাঁটাতারের কোনো বেড়া ছিল না, ছিল না কোন সীমানা পিলার। অথচ এক দেশের মানুষ হয়েও তাদের বসবাস করতে হয়েছে অন্য দেশের ভূখন্ডে। ফলে ভিন দেশের মানুষ বিবেচনায় তারা রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সবধরনের মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হ’ত।

ছিটমহলগুলো ছিল উপমহাদেশের রাজন্যবর্গের খামখেয়ালিপনা অথবা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের নির্মম প্রতীক। ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের বিভক্তির পর সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব পেয়ে ব্রিটিশ আইনজীবী সেরিল র‌্যাডক্লিফ ঐ বছরের ১৩ই আগস্ট সীমানা নির্ধারণের যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন, তার অনুসরণে ১৬ই আগস্ট প্রকাশ করা হয় ভারত ও পাকিস্তানের মানচিত্র। তড়িঘড়ি এ ধরনের সীমান্ত নির্ধারণে ছিটমহলের মানুষগুলোর ভাগ্য ঝুলে থাকে। তারা রয়ে যায় মানচিত্রের বাইরের মানুষ হিসেবে।

সীমান্তের এই জটিলতা অবসানের জন্য ১৯৫৮ সালে সই হয় নেহরু-নূন চুক্তি। ঐ চুক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ীর উত্তর দিকের অর্ধেক অংশ ভারত এবং দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও এর সংলগ্ন এলাকা পাবে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী বেরুবাড়ীর সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভারতের অসহযোগিতায় তা মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে বেরুবাড়ীর দক্ষিণ দিকের অর্ধেক অংশ ও এর ছিটমহলের সুরাহা হয়নি।

১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি সই হয় বিষয়টি সুরাহার জন্য। বাংলাদেশ চুক্তিটি অনুসমর্থন করলেও ভারত তা না করায় চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর দুই দেশ ছিটমহলের আলাদাভাবে তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করে। কিন্তু দুই পক্ষের তালিকায় দেখা দেয় গরমিল। পরে ১৯৯৭ সালের ৯ই এপ্রিল চূড়ান্ত হয় যে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। কিন্তু ঐ চুক্তিও আলোর মুখ দেখেনি।

চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং স্থলসীমান্ত চুক্তির প্রটোকলে সই করেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনে ভারতের সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার তা বাস্তবায়নে ভারতের সংবিধান সংশোধনী বিল পাসে ব্যর্থ হয়। অতঃপর বর্তমান নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত মে মাসে সর্বসম্মতভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভায় ভারতের সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হয়। এভাবে অবসান ঘটে দীর্ঘ ৬৮ বছরের অপেক্ষার। যে সমস্যার সমাধান ১৯৫৮ সালেও হ’তে পারত, হ’তে পারত ১৯৭৪ সালে তা হ’ল ২০১৫ সালে। ভারতের সদিচ্ছার অভাব ও অসহযোগিতার কারণেই যে এই বিলম্ব তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

[আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং উভয় দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সাথে সাথে ভারত যেভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে নগ্নভাবে তার ট্রানজিট সুবিধা সহ অন্যান্য স্বার্থ আদায় করে নিয়েছে, সেজন্য তাদেরকে ধিক্কার জানাচ্ছি (স.স.)]

আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প : বাংলাদেশে ব্যাপক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ভারত সরকার বহুল আলোচিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী সানোয়ার লাল জাট গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সরকারের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মধ্যকার তিস্তা-গঙ্গা-মানস-সঙ্কোষ নদী সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 

বলাবাহুল্য গঙ্গা ও তিস্তাসহ ভারতীয় আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের অধিকাংশই বাংলাদেশের সাথে যৌথ বা অভিন্ন নদী হিসেবে স্বীকৃত। ফলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও নদী আইন অনুসারে ভাটির দেশ বাংলাদেশের সাথে আলোচনা বা সমঝোতা ছাড়া উজানের ভারত এককভাবে এসব নদীর পানি প্রত্যাহার বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। অথচ এক্ষেত্রে ভারত বরাবরই আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে নদীতে বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ করে বাংলাদেশকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। আর এবার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হ’লে বাংলাদেশ আরো ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হবে।

ভারতে আন্তঃনদী সংযোগের চিন্তা নতুন নয়। ২০০২ সালে তৎকালীন বিজেপি সরকার এ সম্পর্কে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে। তখন ভারত আরেক মরণফাঁদ ফারাক্কার প্রভাবে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া গঙ্গার প্রবাহ বৃদ্ধির উপায় হিসেবে ব্রহ্মপুত্রের পানি খাল কেটে গঙ্গায় আনার প্রস্তাব দেয়। অথচ বাংলাদেশে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পানিই আসে ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে। যা প্রত্যাহারে সম্মত হ’লে দেশকে শুকিয়ে মারার আরেকটি পথ খুলে যাবে। তাই সঙ্গতকারণেই তখন বাংলাদেশ সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।   

ভারতীয় প্রস্তাবের বিপরীত বাংলাদেশ তখন একটি প্রস্তাব দেয়, যা যেকোনো বিচারে গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল, নেপালে ত্রিদেশীয় উদ্যোগে রিজার্ভার নির্মাণ করে বর্ষার পানি ধরে রাখা এবং শুকনো মওসুমে তা ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে গঙ্গার প্রবাহ বৃদ্ধি করা। এছাড়া নেপালে রিজার্ভারকেন্দ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা, যাতে হাযার হাযার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং যা তিন দেশ ভাগাভাগি করে নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারবে। এই প্রস্তাবে নেপালেরও সানন্দ সম্মতি ছিল। কিন্তু ভারত সরকার তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে হয়ত আগামী বহুদিন পানির কোনো সমস্যা হ’ত না। প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিও ঠিক থাকত।

উল্লেখ্য, আলোচ্য আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে ভারতেও তুমুল বিতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ এ প্রকল্পের পক্ষে নন। ২০০৪ সালে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পে বাংলাদেশসহ অববাহিকা অঞ্চলের সম্ভাব্য প্রভাব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ৮০ জন ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত তিন দিন ব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞগণ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য সমূহ বিপর্যয়ের আশঙ্কার পাশাপাশি ভারতের অন্তত ৯টি প্রদেশে এই প্রকল্পের বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে বলে মত দিয়েছিলেন। তাদের মতে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা কিংবা প্রবাহ পরিবর্তন করা অথবা পানি ব্যাপকভাবে স্থানান্তর করার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জীবন-জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রতিক্রিয়া পড়বে। সুতরাং প্রাকৃতিক নিয়ম অনুযায়ী নদীগুলিকে স্বাভাবিক অবস্থায়, প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যেই রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত স্মরণযোগ্য যে আন্তঃনদী সংযোগের যেসব উদ্যোগ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেয়া হয়েছে তা এত ব্যাপকভিত্তিক নয়। অথচ সে সবের কোনটির ফলাফল ভালো হয়নি।

পদ্মার উজানে ভারতের ফারাক্কা এবং তিস্তার উজানে গজলডোবা বাঁধের পরিণতিতে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অধিকাংশ নদী ও শাখা নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে। দেশের বিশাল অংশে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে সিলেটের বিপরীতে টিপাইমুখ বাঁধের নির্মাণ প্রক্রিয়াও জোরেশোরে চলছে। যা বাস্তবায়িত হলে সুরমা-কুশিয়ারা পানি প্রবাহ মারাত্মক সংকটে পড়বে। ফলে মেঘনা অববাহিকাকে পানি সংকটের আবর্তে নিক্ষেপ করবে। এর কারণে ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশংকাও বাড়বে। সেই সাথে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকাকে শুকিয়ে মারবে। এই তিন-চারটি মূল অববাহিকা পানি শূন্য হয়ে পড়লে বাংলাদেশের কি পরিণতি হবে, তা বিশদ ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না।

এভাবে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের প্রশ্নে বাংলাদেশের সাথে কোনরূপ সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই ভারত এখন গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্থায়ীভাবে পানিবঞ্চিত করতে চাইছে।

অথচ সরকার ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ‘বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবে না’ এমন অসার প্রতিশ্রুতিতে তুষ্ট হয়ে দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ নিয়েও একের পর এক আপস করেই চলেছে।

[আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের কৌশলী ভূমিকার বিপরীতে সরকারের নীরব ভূমিকায় দেশের সচেতন মহল হতাশ ও ক্ষুব্ধ। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে বাংলাদেশের কাছে তাদের প্রত্যাশিত সবকিছুই বিনা বাক্য ব্যয়ে ত্বরিত উদ্যোগে দিয়ে দেয়া হলেও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তির মত বিষয় ছিল আলোচনার বাইরে। অথচ তিস্তা, গঙ্গা, টিপাইমুখ, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পসহ অভিন্ন নদীর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার প্রশ্নে বাংলাদেশের দাবীকে অগ্রাহ্য করার কোন উপায় ভারতের নেই। তাই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় যাওয়ার পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি সরকারকে সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নিতে হবে (স.স.)]।

বিদেশে বাংলাদেশী তিন হাফেযের সাফল্য!

পবিত্র রামাযান মাস উপলক্ষে আয়োজিত সঊদী আরব, দুবাই ও জর্ডানে আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশী তিন কিশোর হাফেয দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।

হাফেয যাকারিয়া ১৯তম দুবাই ইন্টারন্যাশনাল হলি কুরআন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং সেই সঙ্গে ৭৬টি দেশের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে লাভ করেছে সেরা কণ্ঠের প্রথম পুরস্কার। ইতিপূর্বে সে মিসর, জর্ডান ও কাতারসহ বেশ কয়েকটি দেশে অনুষ্ঠিত কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল।

১০ বছর বয়সী হাফেয আব্দুল্লাহ আল-মাহফূয সঊদী দাতব্য সংস্থা হায়আতুল ‘আলামিইয়ার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ৬০টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ৩য় স্থান অধিকার করেছে।

হাফেয সাঈদ আহমাদ জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত ২৩ তম আন্তর্জাতিক হিফয প্রতিযোগিতায় (২০ পারা গ্রুপে) তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। ঐ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশ

অপহরণে ভারত দ্বিতীয়, শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

বিশ্বের সর্বোচ্চসংখ্যক অপহরণ সংঘটিত হয় মেক্সিকোতে। অতঃপর ভারতে। অপহরণের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম সারির ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নামও রয়েছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কন্ট্রোল রিস্ক’ এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপহরণের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে ৮ম স্থানে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান, চতুর্থ ইরাক, পঞ্চম নাইজেরিয়া, লিবিয়া ষষ্ঠ, সপ্তম আফগানিস্তান, নবম সুদান এবং দশম স্থানে রয়েছে লেবানন।

গত দু’বছরে ভারতে অপহরণের মাত্রা বেড়েছে। ভারতের একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কে জে কৃষ্ণামূর্তি রাও বলেন, সম্প্রতি ভারতে অপহরণের মাত্রা ২৫-৩০ ভাগ বেড়েছে। অপহরণ কারীরা কর্পোরেট কোম্পানির কর্তাব্যক্তি ও তাদের সন্তান ছাড়াও তাদের গাড়ি চালক ও গৃহপরিচারিকাদের টার্গেট করে অপহরণ করছে। যাতে মালিকরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার করে।

বিশ্বের উদ্বাস্ত্তদের জন্য নতুন রাষ্ট্র!

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চলছে এক অভূতপূর্ব উদ্বাস্ত্ত সংকট। পৃথিবীব্যাপী বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গরীব দেশগুলোতে উদ্বাস্ত্ত হয়ে পড়ারা যাপন করছে এক চরম মানবেতর জীবন। তাই এই সংকটের সমাধান নিয়ে এগিয়ে এসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ধনকুবের। তার মতে, বিশ্বের চলমান উদ্বাস্ত্ত সংকটের একমাত্র সমাধান হ’ল-উদ্বাস্ত্তদের জন্য নতুন ও আলাদা একটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করা। যে দেশে ও রাষ্ট্রের অধীনে শুধু উদ্বাস্ত্তরাই বসবাস করবে। জেসন বুজি নামের ঐ মার্কিন ধনকুবের বলেন, এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বব্যাপী প্রচুর সংখ্যক মানুষ উদ্বাস্ত্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা যদি তাদেরকে নিজস্ব একটি রাষ্ট্র ও দেশ সৃষ্টি করে দিতে পারি, তাহ’লে তারা অন্তত নিরাপদে বসবাস ও কাজকর্ম করে বিশ্বের আর আট-দশটা দেশের মানুষদের মতেই জীবন-যাপন করতে পারবে।

[উদ্যোগটি ধন্যবাদার্হ। তবে সেখান থেকে পুনরায় উদ্বাস্ত্ত হ’লে তখন যাবে কোথায়? অতএব যাতে মানুষ উদ্বাস্ত্ত না হয়, সেই প্রচেষ্টা চালানোই উত্তম। সেই সাথে বর্তমান উদ্বাস্ত্তদের সাধ্যমত সাহায্য করা এবং তাদের চাহিদামত দেশে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত কাজ হবে (স.স.)]

গরুর হৃৎপিন্ডের ভালভে বাঁচল মানুষের জীবন

গরুর হৃৎপিন্ডে বেঁচে গেছে ভারতের ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবন। ভারতের চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে হৃৎপিন্ডে অকেজো ভালভটি গরুর হৃৎপিন্ডের ভালভ দিয়ে প্রতিস্থাপন করেছেন। এতে ঐ নারী বেঁচে গেছেন। চিকিৎসকেরা দাবি করেন, বৃদ্ধার হৃদযন্ত্রের মহাধমনীর ভালভ ক্রমশ সরু হয়ে যাচ্ছিল। সম্প্রতি চেন্নাইয়ের ফ্রন্টিয়ার লাইফলাইন হাসপাতালে ঐ বৃদ্ধার অস্ত্রোপচার করেন তাঁরা।

চিকিৎসকেরা বলেন, ১১ বছর আগে ঐ বৃদ্ধার ভালভ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার হয়েছিল। কিন্তু এ বছরের শুরুতে আবারও তাঁর হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা শুরু হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ফেরত আসার পর চেন্নাইয়ের ঐ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন যে মহাধমনীতে প্রতিস্থাপিত ভালভটি সংকীর্ণ ছিল।

চিকিৎসকেরা বলেন, সাধারণত এ ধরনের সমস্যায় ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয় এবং পুরোনো ভাল্ভ সরিয়ে নতুন করে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। কিন্তু রোগীর বয়স বেশী হওয়ায় তারা গরুর হৃদযন্ত্রের টিস্যু দিয়ে তৈরী একটি জৈব-কৃত্রিম ভালভ ব্যবহার করেন। অর্থাৎ পুরোনো ভালভের বদলে নতুন করে ভালভ প্রতিস্থাপন না করে একটি নতুন ভালভ পুরোনোটির মধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চারজন চিকিৎসকের একটি প্রতিনিধি দল সফল এই অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেন।