ভ্রমণ স্মৃতি

মালয়েশিয়ায় কয়েকদিন

আমানুল্লাহ বিন ইসমাঈল


মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের লেখনীর মাধ্যমে যখন জেনেছিলাম ‘ছাহাবায়ে কেরামের অনেকে ব্যবসার পণ্য নিয়ে পালের নাও সাজিয়ে জাভা-সুমাত্রা-মালাক্কা দ্বীপসমূহে আগমন করেছিলেন, তখন থেকেই মনের মধ্যে এক উদগ্র বাসনা চেপে বসেছিল, ওসব এলাকা দেখার জন্য। সে বাসনার তীব্রতা বেড়ে গিয়েছিল ১৯৯৩ সালে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাত্রদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ছাত্র ভাইদের সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে। ছাহাবীদের বিশ্বব্যাপী দাওয়াতী মিশনের পদাংক অনুসরণ করতে পারাটা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানী দায়িত্বও বটে।

চলতি বছরে ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সিঙ্গাপুর শাখার দায়িত্বশীল ভাইদের উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে এক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। আমার সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাসপোর্ট-ভিসার কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তী ঈদুল ফিৎরের ছুটিতে প্রোগ্রাম হওয়ার এক সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করা হয়। মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়া সহজ বিধায় ঐ পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আমাদের দ্বীনী ভাই জনাব ডাঃ আল-আমীন ছাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমে মালয়েশিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর সে অনুযায়ী কাজ হ’ল মাশাআল­াহ। উলে­খ্য যে, তিনি এ ব্যাপারে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। আল­াহ তাঁকে উত্তম প্রতিদানে ভূষিত করুন- আমীন!

যাইহোক অবশেষে ভিসা পাওয়া গেল। অতঃপর টিকেটের ব্যাপারে মালয়েশিয়া প্রবাসী আমাদের দ্বীনী ভাইদ্বয় জনাব যাকারিয়া (ঢাকা) ও সাইফুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ) এবং তাদের সাথীগণ দায়িত্ব নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেন। মালয়েশিয়া থাকাকালীন সময়ে মেযবান হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মুহাম্মাদ আলী ভাই (কলিকাতা)।

১৩ই জুন রাত ১১-টা ২০ মিনিট মালিন্দো এয়ারলাইন্স যোগে সফর শুরু হয়। মুহতারাম আমীরে জামা‘আতের নিকট থেকে আগেই বিদায় নিয়েছিলাম। বিদায় বেলায় বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপট সামনে রেখে তিনি যে তাৎপর্যপূর্ণ নছীহত করেছিলেন, তা আমার সারা জীবনের চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে ইনশাআল­াহ।

বিমান ডানা মেলে উড়ে চললো কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম তা মনে নেই। সামান্য ঝাকুনিতে ঘুম ভাঙলে বুঝতে পারলাম বিমান নামতে শুরু করেছে। দ্রুত বেল্ট বেঁধে নিলাম। নামার পর ইমিগ্রেশনের কাজ।

-কীমানা নামু পারকী? অর্থাৎ আপনি কোথায় যাবেন?

-ছায়া পারকী সুংগাই বুলু অর্থাৎ আমি সুংগাইবুলু যাব।

এই জাতীয় ভাঙ্গা ভাঙ্গা কিছু মালয়ী বাক্য শিখে নিয়েছিলাম। তার সাথে হালকা ইংরেজী মিশিয়ে কাজ চালিয়ে নিলাম।

১৪.০৬.১৫ তারিখ ভোরের স্নিগ্ধ আলোতে এয়ারপোর্টের বাইরে বের হয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর উপস্থিত হ’লেন মুহাম্মাদ আলী ভাই আর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত জনাব আলী হায়দার ভাই। সাথে ছিল আলী ভাইয়ের ছোট্ট ছেলেটি। রাস্তার দু’দিকে নয়নাভিরাম দৃশ্য, গাছ-পালা, তরুলতা, পাহাড়-পর্বত, ফোয়ারা প্রভৃতি দেখে কেবলই মনে হয় মহান প্রতিপালক যেন অবিরাম করুণাধারা বর্ষণ করছেন সর্বত্র, অনন্ত-অসীম যেন তাঁর বাগানে নিজ হাতে পানি দিচ্ছেন। নাশতার বিরতি হ’ল এক রেস্টুরেন্টে। তারপর সোজা হুমায়ূন ভাইয়ের বাসায়। সেখানে হুমায়ূন ভাই ও যাকারিয়া ভাই অপেক্ষা করছেন আটার রুটি ঘুঘু পাখীর ভূনা গোশত আরও কত কিছু খাবারের আইটেম নিয়ে। ভূরিভোজ সেরে মুহাম্মাদ আলী ভাইয়ের বাসায় ঘুমিয়ে গেলাম।

পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল পঞ্চে আলম মসজিদে। বাদ যোহর পাবনার হাফীযুর ভাইসহ আরও অনেকে এসেছেন নিতে। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশ্যে। প্রাণবন্ত প্রোগ্রাম হ’ল। তারপর মধ্যাহ্নভোজ শেষে যাকারিয়া ভাইয়ের বাসায় গেলাম। বাসাটি ‘মাতাম পাগার’ (অর্থ গুলিস্তান বা ফুল বাগান) এলাকায় অবস্থিত।

১৪.০৬.১৫ বাদ এশা ‘মাতাম পাগার’ মাসজিদে প্রোগ্রাম হ’ল। ওদেশে শিরকের মঞ্চ-বেদী নেই। বিশেষ করে কবরপূজা, মাযারপূজা নেই। তবে কতক মসজিদে ছালাত শেষে বিদ‘আত দেখলাম অভিনব কায়দায়। আর তা হ’ল মাইকে জোরে যিকর করা, সম্মিলিত মুনাজাত আর মীলাদ-ক্বিয়াম। যাতে আবার বড়রা দাঁড়িয়ে থাকে গোলাকার হয়ে, আর ছোটরা তাদের হাতে চুমু দেয় ঘুরে ঘুরে। কতক ইমাম টাখনুর নীচে কাপড় পরেছেন। জিজ্ঞাসা করলে শাফেঈ মাযহাবের দোহাই দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এ পরিবেশ দেখে মনে মনে বললাম, হায়রে মাযহাব! তুই স্বেচ্ছাচারীদের হাতিয়ার, তুই পুঁজিবাদীদের হাতিয়ার, তুই পেটুয়া মোল­া-মুফতীদের পেট পূজার হাতিয়ার!

প্রোগ্রাম শেষে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’-এর শাখা গঠনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে ‘সংঘবদ্ধভাবে দাওয়াতী কাজের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব’ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হ’ল। অবশেষে পুনরায় জনাব আরীফ ভাইয়ের বাসায় নৈশভোজ সেরে মুহাম্মাদ আলী ভাইয়ের বাসায় এসে ঘুমিয়ে গেলাম।

১৫.০৬.১৫ দুপুরে ইন্ডিয়ান হোটেলে নানা পদের খাবার খেয়ে ‘বান্দার বারু’ (নতুন শহর) বড় মসজিদে যোহর ছালাত আদায় করলাম। তারপর পূর্বনির্ধারিত প্রোগ্রামে যোগদানের জন্য ‘পুচং মাজুজায়া’তে জনাব ফারূক ভাই (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)-এর মার্কেটের উপরে অবস্থিত সুরাউ ওয়াক্তিয়া মসজিদে হাযির হ’লাম। ফারূক ভাই ও মসজিদের ইমাম সহ অন্যান্য দ্বীনী ভাইয়েরা সাদর সম্ভাষণ জানালেন। ফারূক ভাইয়ের রেস্টুরেন্টের তৈরী নানান স্বাদের মুখরোচক খাবার খেয়ে তৃপ্ত হ’লাম। প্রোগ্রাম শেষে কট্টর এক ছূফীবাদী আক্বীদায় বিশ্বাসী দেশী ভাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালে ফারূক ভাই, মুহাম্মাদ আলী ভাই এবং আযাদ ভাইয়ের কঠোর প্রতিবাদের মুখে তা নস্যাৎ হয়ে যায়।

রাতে ফিরে এসে মুহাম্মাদ আলী ভাইয়ের বাসায় অপেক্ষমান জনাব আলী হায়দার ভাই, তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু জনাব শহীদ ভাই সহ আরও অনেকের সাথে সাক্ষাৎ হ’ল। সেখানে মালয়েশিয়ার সুস্বাদু ফল ‘ডরিয়ান’-এর স্বাদে-গন্ধে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ফালিল­াহিল হামদ

পরদিন সকালে আলী হায়দার ভাইয়ের সাথে ইসলামিক ইউনিভার্সিটিসহ বিশেষ জায়গা সমূহে যাওয়ার কথা। বিধায় তাঁর বাসাতেই রাত্রি যাপন করলাম।

১৬.০৬.১৫ সকালে বিশ্বনন্দিত ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া’-এর ডাইনিং-এ নাশতার কাজ সারা হ’ল। সে এক অপূর্ব স্মৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল মসজিদ, সুউচ্চ মিনার দর্শনার্থীদের প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। এ দেশের মসজিদ সমূহে আরব দেশগুলির মতোই বাচ্চাদের তা‘লীমের ব্যবস্থা আছে। সেই সাথে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইসলামী সাহিত্যের সমাহারও রয়েছে। যদিও তার মধ্যে বিদ‘আতী খতম পড়া ও যিকর-এর বইও নযরে পড়ল।

ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহোদয়দের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং বাংলাভাষী ভাইদের মাঝে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলনে’র দাওয়াতকে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করা। কিন্তু তেমন কারো সাথে সাক্ষাৎ না হওয়ায় আপাতত সে সুযোগ হ’ল না। যাইহোক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে রওয়ানা হ’লাম কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টারের দিকে। সেখানকার শপিংমলগুলিতে ঢোকার রুচি হ’ল না অর্ধনগ্ন মহিলাদের অবাধ আনাগোনা দেখে। আল­াহ মাফ করুন। অতঃপর এক মালয়ী হোটেলে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে নিয়ে ‘আমপাং’-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হ’লাম। অতঃপর জনাব মুহিববুল­াহ ভাই ও শাহরিয়ার ভাইদের অফিসে এক সংক্ষিপ্ত অথচ সারগর্ভ আলোচনা হয়। যার ফলে উপস্থিত দ্বীনী ভাইদের মাঝে সাংগঠনিকভাবে কর্মতৎপরতা পরিচালনার প্রেরণা জাগে। ‘সংগঠন করা হারাম’!-মর্মে যারা এ যাবৎ সবক শুনেছেন তাদেরও খানিকটা হ’লেও ধূম্রজাল কেটে যায়। পরিশেষে বৈঠকে উপস্থিত দ্বীনী ভাইদের সর্বসম্মতিক্রমে জনাব হাফেয আবুল খায়ের ভাইকে আহবায়ক এবং জনাব সোলায়মান ভাইকে যুগ্ম আহবায়ক করে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালীন আমার স্থায়ী মেযবান জনাব মুহাম্মাদ আলী ভাইয়ের বাসায় রাত্রি যাপন করে পরদিন সকালে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। বিদায়ের সময় ছোট্ট সোনামণি সুমাইয়া বিনতে মুহাম্মাদ আলীকে ছেড়ে আসতে কষ্ট হচ্ছিল। অবুঝ নিষ্পাপ এই দুধের শিশুটি বাড়িতে মেহমান পেয়ে দারুণ খুশী হয়েছিল।

গাড়ী ছুটে চলল ‘কাজাং’-এর দিকে। বাবাজী মুনীর কাজাং বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন।

‘আডে! কীমানা কাজাং বাসস্ট্যান্ড?’ অর্থাৎ ‘ছোট ভাই! কাজাং বাসস্ট্যান্ড কোথায়?’ মুহাম্মাদ আলী ভাইয়ের পথচারীদেরকে জিজ্ঞাসা করা শুনে ভালোই লাগছিল। মালয়েশিয়ার লোকেরা খুবই বিনয়ী ও নম্র-ভদ্র। ওদেশে বাংলাদেশীরা মোটামুটি ভালোই আছেন। চাইনীজরা তো এক রকম দখলদারিত্ব নিয়েছে ওদের উপর। ইন্ডিয়ানদের অনেকে নাকি সন্ত্রাস ও ছিনতাই-এর সাথে জড়িত। ওদেশের বাসিন্দারা পুলিশ ও আইনকে খুবই শ্রদ্ধা করে।

‘কাজাং’ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছেই মুনীর বাবাজী, কামাল আব্দুল বাকী সহ আরও অনেকের সাথে সাক্ষাৎ হ’ল। তাদের বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করলাম। বিদেশের মাটিতে দেশী খাবার পেয়ে খুবই তৃপ্তির সাথে খেলাম। খাওয়ার পূর্বে দ্বীনী আলোচনা করছিলেন ভাই মুহাম্মাদ আলী। মাযহাবী দু’জন ভাই এসে সাক্ষাৎ করলেন। তাঁরাও ছিলেন দাওয়াতী মেহমান। তাদের মধ্যকার কনিষ্ঠজন আলী ভাইয়ের সাথে কথা কাটাকাটি করার চেষ্টা করল। বড় জন ইংগিত করে বলল, উনারা আহলেহাদীছ। উনাদের সাথে কথা না বলাই ভাল হবে।

এবার বিদায়ের পালা। বেদনা-বিধুর পরিবেশে বিদায় নিয়ে এয়ায়পোর্টে এসে দেখি যাত্রার তারিখ পরিবর্তন। হেতু বুঝলাম না। আমার হাতের টিকেটে ১৭.৬.১৫ তারিখ লেখা ছিল। কিন্তু তাদের কম্পিউটারে নাকি ১৯.৬.১৫ রেকর্ড আছে। বহু চেষ্টা করেও কাজ হ’ল না। সুতরাং আরও দু’দিন থেকে যেতে হবে। মেহমানের মেয়াদ আরও দু’দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় মুহাম্মাদ আলী ভাই তো বেজায় খুশী।  ফিরতে ফিরতে দেরী হয়ে গেল। বিধায় ঐদিন মালয়েশিয়ার প্রথম তারাবীহ ছালাতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হ’ল না। হালকা বাজার-ঘাট সেরে বাসাতে এসে তারাবীহ ছালাত আদায় করলাম। প্রথম ছিয়াম ওখানেই কাটলো।

১ম ছিয়াম ছিল বৃহস্পতিবার। ইফতারের দাওয়াত ছিল ‘শাহ আলম’ এলাকার গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জনাব দ্বীন ইসলাম ছাহেবের ফ্যাক্টরীতে। ইফতারীর রকমারীতে চোখ ঝলসে গেল। মাগরিব শেষে বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টে খাবারের ব্যবস্থা। তারপর ‘বুকতী ঝিলুত্তোন’ মসজিদে তারাবীহ ছালাত আদায়ের জন্য নিয়ে গেলেন দ্বীন ইসলাম ছাহেব। এ্যারাবিয়ান স্টাইলের কুরআন তেলাওয়াতে মুগ্ধ হয়ে তারাবীহ ছালাত পড়ছিলাম। কিন্তু বিশ রাক‘আত? মনটা খারাপ হয়ে গেলো। ৮ রাক‘আত শেষে বেরিয়ে এলাম আমরা সবাই। মসজিদের পার্শ্বে মুছল­ীদের জন্য ফ্রী খাবারের ব্যবস্থা আছে। সেখানেও নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ। দ্বীন ইসলাম ছাহেবের ফ্যাক্টরীতে ফিরে এসে আহলেহাদীছ ও আহলুল রায়-এর মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য সমূহ আলোচনা হ’ল। অনেকেই বুঝতে পারলেন যে, এই মাযহাবী অন্ধত্বই মুসলিম জাতির জন্য সর্বনাশের অন্যতম কারণ। ৮০১হিঃ হ’তে ১৩৪৩ পর্যন্ত কা‘বা গৃহে চার মাযহাবের চার মুছাল্লাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

পরদিন ছিল জুম‘আর দিন। ছালাত আদায় করলাম ‘বান্দার বারু’ জামে মসজিদে। এরপর এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হ’লাম। পথিমধ্যে যাকারিয়া ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হ’ল। কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়ী বদল করে জনাব আলী হায়দার ভাইয়ের সাথে রওয়ানা হ’লাম। এয়ারপোর্ট পৌঁছে বোর্ডিং পাস নিলাম। তারপর আলী ভাইকে বিদায়ী দো‘আ পাঠ করে বিদায় জানালাম। অতঃপর বিমানে চড়ে বসলাম। একসময় বিমান এগিয়ে চলল দিগন্তের পানে। দীর্ঘশ্বাস টেনে পুনরায় আসার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বললাম, ‘বিদায় মালাকান’ (الوداع ملكان)।

HTML Comment Box is loading comments...