বিজ্ঞান ও বিস্ময়

হৃদপিন্ড ছাড়াই দুই বছর!

হৃদপিন্ড ছাড়াই দুই বছর বেঁচে থেকে রেকর্ড গড়লেন ব্রিটিশ নাগরিক মাথু গ্রীন (৪২)। শরীর থেকে হৃদপিন্ড অপসারণ করা হলেও কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালনের (এক্সটার্নাল ব্লাড পাম্প) সাহায্যে দু’বছর বেঁচে ছিলেন তিনি। গত মাসের শুরুর দিকে পেশায় চিকিৎসক গ্রীনের শরীরে দানপ্রাপ্ত হৃদপিন্ড প্রতিস্থাপিত হয়।

জানা গেছে, ২০১১ সালের জুলাই মাসে গ্রীনের হৃদপিন্ডের প্রধান চেম্বারগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই সেটি অপসারণ করে ফেলা হয়। বিস্ময়কর ব্যাপার হ’ল, হৃদপিন্ডহীন গ্রীনকে কৃত্রিম রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রায় দুই বছর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।

গ্রীন বলেন, আমি মনে করি আমি বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ। কারণ হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আমি তৃতীয়বারের মতো জীবন পেলাম। গ্রীন খুব শীঘ্রই বাড়তি ফিরে যেতে পারবেন বলে চিকিৎসকরা আশা করছেন।

এবার উড়ন্ত বাইসাইকেল

বৃটেনের দুই উড্ডয়ন উৎসাহী এবং ডিজাইনার এবার বিশ্বে প্রথমবারের মতো উড়তে সক্ষম বাইসাইকেল তৈরির দাবী করেছেন। এটি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০০ ফিট উঁচু দিয়ে চলাচল করতে সক্ষম হবে বলে তারা দাবি করেছেন। ‘এক্সপ্লোর পরাভেলো’ নামের বিশেষ এ বাইসাইকেলটি হচ্ছে ডানা এবং প্রচলিত বাইসাইকেলের সমন্বয়। এর আসল ডিজাইনটি বাইসাইকেলের হলেও সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে শক্তিশালী পাখা সম্বলিত হালকা ওযনের ট্রেইলার। ওড়ার জন্য বাই সাইকেলটিকে এর ট্রেইলারের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। এরপর ভাঁজ করে রাখা ডানা খুলে বায়ো জ্বালানি চালিত পাখা চালু হলেই উড়ে চলে।

৫০০ বছর আগের অক্ষত কিশোরী!

দেখে জীবন্ত মনে হলেও ৫০০ বছর আগে মারা যাওয়া পেরুর বিস্ময়কর ইনকা সম্প্রদায়ের ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ‘ল্য দোঞ্চেলা’ সাধারণ কোনো জীবিত কিশোরী নয়। এতকাল আগের কিশোরীকে এ রকম জীবন্ত মনে হওয়া অস্বাভাবিক ব্যাপার বটে, কিন্তু কীভাবে সম্ভব? ইতিহাস বলছে, শিশু-কিশোরদের সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে বলি দেয়ার রেওয়াজ ছিল ইনকাদের। তারপর মারা যাওয়া শিশুদের স্রষ্টারই সম্মানে মমি করে রাখা হতো। ‘ল্য দোঞ্চেলা’ নামের এই কিশোরীর মমিটিকে ১৯৯৯ সালে বিস্ময়কর মাচুপিচু নগরীর লুলাইকো আগ্নেয়গিরির ২২,১১০ ফুট উঁচুতে আবিষ্কার করেন একজন আর্জেন্টাইন অভিযাত্রী।

ল্য দোঞ্চেলার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এখনও অক্ষত রয়ে গেছে এবং মনে হচ্ছে সে কেবল কয়েক সপ্তাহ আগে মারা গেছে। তার অক্ষত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে কোনো ওষুধ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে চুল পরীক্ষা করেই তার মৃত্যুর সময় নির্ণয় করেন গবেষকরা। গবেষকরা বলেন, সাম্রাজ্যবাদে বিশ্বাসী ইনকারা সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধর্মবিশ্বাসের আড়ালে অপেক্ষাকৃত নিম্নশ্রেণীর সন্তানদের প্রতি এ ধরনের নির্মম আচরণ করত।