প্রশ্ন করুন

প্রশ্নোত্তর



দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/৪৪১) : ইসলামিক টিভি-র প্রশ্নোত্তর পর্বে জনৈক মুফতী বলেন, ফজরের আযানের পর এবং মাগরিবের আযানের কিছু পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করার পর তাহিইয়াতুল ওযূ বা দুখূলুল মসজিদের ছালাত আদায় করা যাবে না। তবে ফজরের সুন্নাতের সাথে বা মাগরিবের আযানের পর সুন্নাতের সাথে দুখুলুল মসজিদের নিয়তে ছালাত আদায় করলে একই সঙ্গে উভয় সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। উক্ত কথার দলীল আছে কি?
-মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান
ধানমন্ডি, ঢাকা।
উত্তর : ব্যাপক ভিত্তিক হাদীছের (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭০৪) কারণে সঠিক হচ্ছে এই যে, যে কোন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে দু’রাক‘আত ছালাত আদায় না করে বসবে না। এ কারণে উক্ত কথা সঠিক নয়। বরং সর্বাবস্থায় ফরয ছালাতের পূর্বে সময় থাকলে ওযূ করে মসজিদে প্রবেশের পর প্রথমে তাহিইয়াতুল ওযূ, অতঃপর তাহিইয়াতুল মসজিদ আদায় করে ছালাতের নির্ধারিত সুন্নাত আদায় করবে। আর সময় না থাকলে নির্ধারিত সুন্নাত আদায় করলেই তা তাহিইয়াতুল মসজিদ-এর জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৭/২৪৪)
প্রশ্ন (২/৪৪২) : ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকে ইশরাক্ব ছালাতের ফযীলত সম্পর্কে বলা হয়েছে, একটি কবুল হজ্জ ও একটি কবুল ওমরার ছওয়াব পাওয়া যাবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-মুহাম্মাদ আতাউর রহমান
সন্ন্যাসবাড়ী, বান্দাইখাড়া, নওগাঁ।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক (তিরমিযী হা/৫৮৬, সনদ হাসান)
প্রশ্ন (৩/৪৪৩) : কালেমা কয়টি এবং কী কী? নিম্নের কোন্টি কালেমা শাহাদত? ‘আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু’। না কি ‘আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু’?
-মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম
শেরপুর, বগুড়া।
উত্তর : মূলতঃ কালেমার কোন প্রকার নেই। একই কালেমা বিভিন্ন শব্দে হাদীছের গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। ভারত বর্ষের বিদ্বানগণ ঐ শব্দগুলোর প্রতি লক্ষ্য করে কালেমার বিভিন্ন নামকরণ করেছেন। যেমন- কালেমা তাইয়েবাহ, শাহাদাত, তাওহীদ, তামজীদ ইত্যাদি। এটি ইজতেহাদী বিষয়। প্রশ্নে বর্ণিত দু’টি কালেমাই কালেমায়ে শাহাদাতের অন্তর্ভুক্ত (প্রথমটি দ্রষ্টব্য : আবুদাঊদ হা/২৬৭৯। দ্বিতীয়টি দ্রষ্টব্য : ছহীহ মুসলিম হা/২৩৪)
প্রশ্ন (৪/৪৪৪) : মাসিক মদীনা জুন ২০০৯ সংখ্যায় ৪১ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ‘ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার সময় ছানা পড়ার পর আঊযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়ার প্রয়োজন নাই’। এ বক্তব্য কি সঠিক?
-আব্দুল মজীদ
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।
উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। বরং সূরা ফাতিহা পাঠের পূর্বে আঊযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়তে হবে, যা রাসূল (ছাঃ) পড়েছেন (আবুদাঊদ, তিরমিযী; মিশকাত হা/১২১৭; আবুদাঊদ হা/৪০০১)
প্রশ্ন (৫/৪৪৫) : শেষ রাত্রে তাহাজ্জুদ ছালাত কিংবা ছালাতুত তাওবাহ পড়ার পর হাত তুলে দো‘আ করা যাবে কি?
-মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ
মদীনাতুল উলূম কামিল মাদরাসা, রাজশাহী।
উত্তর : একাকী হাত তুলে দো‘আ করা যাবে (ছহীহ সীরাহ নববী, পৃঃ ১৪৭)। তাছাড়া অন্য হাদীছে এসেছে, হাত তুলে দো‘আ করলে আল্লাহ্ শূন্য হাত ফিরিয়ে দেন না (আবুদাঊদ হা/১৪৮৮; তিরমিযী হা/৩৫৫৬)। তবে দো‘আ শেষে হাত মুখে মাসাহ না করে ছেড়ে দিবেন। কারণ মুখে হাত মাসাহ করা সংক্রান্ত হাদীছ যঈফ (আবুদাঊদ; মিশকাত হা/২২৫৫)
প্রশ্ন (৬/৪৪৬) : যিনি মুরশিদ তিনি রাসূল। কখনো তিনি খোদা হন। এ কথা শুধু লালন নয় কুরআনও বলে। এর প্রমাণে তারা আলে ইমরান ৩১; নিসা ৮০, ১৫০; কাহ্ফ ১১০ আয়াত দলীল হিসাবে পেশ করে। উক্ত দাবী কি সঠিক? লালনের ভক্ত এই শ্রেণীর লোকদের অবস্থা পরকালে কী  হবে?
-আব্দুল্লাহ মাস‘ঊদ
বামুন্দী, গাংণী, মেহেরপুর।
উত্তর : এটি সম্পূর্ণরূপে শিরকী আক্বীদা। সৃষ্টি ও সৃষ্টিকর্তাকে যারা এক করে দেখাতে চায়, তারা সর্বেশ্বরবাদী শিরকী দর্শনের অনুসারী। উক্ত বানোয়াট দর্শনের পক্ষে দলীল হিসাবে যা পেশ করা হয়েছে তা স্রেফ ধোঁকা ও প্রতারণা মাত্র। পৃথিবীর কোন সৃষ্টিই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে তুলনীয় নয়। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর তুলনীয় কিছু নেই। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (শূরা ১১)। আর মুহাম্মাদ (ছাঃ) আল্লাহর বান্দা এবং আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ রাসূল। আল্লাহ বলেন, (হে মুহাম্মাদ) আপনি বলুন, ‘আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ মাত্র; আমার প্রতি অহী করা হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ মাত্র একজন’ (হা-মীম সাজদাহ ৬)
প্রশ্নে বর্ণিত আয়াতগুলিতে রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের কথা বলা হয়েছে। রাসূলকে আল্লাহ বলা হয়নি। অথচ এইসব মুশরিকরা লালন ফকীরকে মুরশিদ ও রাসূল ভেবেছে। অতঃপর তাকেই আল্লাহ ভেবে নিয়েছে। এককথায় শয়তান এদের উপর সওয়ার হয়েছে। এগুলি শিরক। আর শিরকী আক্বীদার পরিণাম হ’ল জাহান্নাম। আল্লাহ বলেন, إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ‘যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তার উপর জান্নাতকে হারাম করে দেন। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম’ (মায়েদাহ ৭২)। সুতরাং উক্ত ধোঁকা থেকে সাবধান থাকতে হবে।
প্রশ্ন (৭/৪৪৭) : জনৈক আলেম বলেন, দুই সিজদার মাঝে দো‘আ পড়া ওয়াজিব নয়। অল্প কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে। দো‘আ না পড়লে ছালাতের কোন ক্ষতি হবে না। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক?
-মামূন
কানসাট, শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।
উত্তর : উক্ত দাবী ঠিক নয়। দুই সিজদার মাঝে দো‘আ পড়া সুন্নাত (আবুদাঊদ, তিরমিযী হা/২৮৪; মিশকাত হা/৯০০)
প্রশ্ন (৮/৪৪৮) : ব্রয়লার মুরগীর ডিম কৃত্রিমভাবে উৎপাদন করা হয়। অন্য পশুর ভ্রণ দ্বারা লেয়ার মুরগীর সাথে প্রজনন ঘটিয়ে ডিম উৎপাদন করা হয়। এই মুরগী খাওয়া বৈধ হবে কি?
-মুহাম্মাদ রাশেদ
বাদুল্লাপুর, সলঙ্গা, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : পশুর ক্ষেত্রে প্রজনন বৃদ্ধি পায়, এমন কোন পদ্ধতি গ্রহণ করা শরী‘আত সম্মত। কারণ শরী‘আতের বিধান মেনে চলার হুকুম পশুর উপরে নয়। তা কেবল জিন ও ইনসানের উপর অর্পিত হয়েছে (যারিয়াত ৫৬)। বৃক্ষের ক্ষেত্রে যেকোন পদ্ধতি গ্রহণ করার বৈধতা রয়েছে (মুসলিম হা/২৩৬৩)। সুতরাং ব্রয়লার মুরগীর গোশত খাওয়ায় কোন বাধা নেই।
প্রশ্ন (৯/৪৪৯) : কোন কিছু চুরি হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান পাওয়া যাবে কি? চোরের বিচার আল্লাহ কখন করবেন? 
-ইউসুফ ইসলাম
বোর্ড হাট, বিরল, দিনাজপুর
উত্তর : চুরির সম্পদ পরবর্তীতে পাওয়া না গেলে মালিক ছাদাক্বা করার সমান নেকী পাবে (মুসলিম, মিশকাত হা/১৯০১ ‘ছাদাক্বার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ)। চোরের উচিত চুরি করা সম্পদ ফিরিয়ে  দেওয়া এবং তওবা করা। চোরের শারঈ দন্ড দুনিয়াতে যদি না হয় এবং মালিককে যদি ফিরিয়ে না দেয়, তাহলে পরকালে তার কঠিন শাস্তি হবে (বুখারী হা/২৪৪৯, মিশকাত হা/৫১২৬)। উল্লেখ্য, কোন জিনিস চুরি হয়ে গেলে বিপদের দো‘আ হিসাবে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজে‘উন’ পড়তে হয় (মুসলিম, মিশকাত হা/১৬১৮)
প্রশ্ন (১০/৪৫০) : স্ত্রীর কোন ভুলের কারণে সাক্ষী ছাড়াই স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কেউ যদি তালাক দেয়, তাহ’লে সেই তালাক কার্যকর হবে কি? স্ত্রীকে না জানিয়ে যদি মনে মনে বলে স্ত্রী অনুমতি ব্যতীত কোন কাজ করলে তালাক। উক্ত তালাক কার্যকর হবে কি?
-মুহাম্মাদ শাহেদ
সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০।
উত্তর : সাক্ষী থাক আর না থাক, ভুলের জন্য হোক বা অন্য কোন কারণে হোক, তালাক দিলে অবশ্যই তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। এমনকি তামাশা বা মজা করে তালাক দিলেও তালাক হয়ে যাবে (আবুদাউদ হা/২১৯৪; মিশকাত হা/৩২৮৪)। মুখে প্রকাশ করা পর্যন্ত মনে মনে বলে তালাক হবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মাতের জন্য মনের কথাকে এড়িয়ে গেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত মুখে প্রকাশ করে না বলবে অথবা কার্যে পরিণত না করবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৩)
প্রশ্ন (১১/৪৫১) : আবু জাহ্লের বংশ পরিচয় সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন। রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে তাঁর কোন রক্ত সম্পর্ক ছিল কি?
-জাহাঙ্গীর আলম
বালানগর, বাগমারা।
উত্তর : কুরাইশ বংশীয় হিসাবে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে আবু জাহ্লের দূরবর্তী সম্পর্ক রয়েছে, নিকটবর্তী কোন সম্পর্ক নেই। রাসূল (ছাঃ) আবদু মানাফ গোত্রীয় আর আবু জাহ্ল বানু মাখযূম গোত্রীয়। রাসূল (ছাঃ) এবং আবূ জাহ্ল উভয়ের বংশ ‘মুর্রা ইবনু কা‘বে’ গিয়ে মিলিত হয়েছে (সীরাতে ইবনে হিশাম ১/১ ও ১/২৬৫ পৃঃ)
প্রশ্ন (১২/৪৫২) : প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যাপারে হানাফী মাযহাবের ফৎওয়া হ’ল, চাকুরী শেষে যা একবারে সরকার প্রদান করে থাকে তা হালাল। কিন্তু বর্তমান সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে যা দেখা যাচ্ছে তা হ’ল- সরকার প্রতি মাসে কর্মচারীদের বেতন থেকে নির্দিষ্ট হারে একটি অংশ কেটে রাখে এবং তা সূদী ব্যবসায় খাটায়। অতঃপর চাকুরী শেষে মুনাফাসহ যে পরিমাণ টাকা জমা হয়, তা এককালীন অথবা গ্রাহক চাইলে মাসিক ভিত্তিতে প্রদান করে। উক্ত অর্থ গ্রহণ করা কি হালাল হবে?
-আবুল কালাম, নোয়াখালী।
উত্তর : সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বেতনের যে অংশ প্রতি মাসে কেটে নেওয়া হয়, চাকুরী শেষে শুধু সেই অর্থই গ্রহণ করা জায়েয হবে। আর বেতন থেকে সূদের অংশটি আলাদা করে সমাজ কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। তবে তাতে নেকীর আশা করা যাবে না। যে কোন মূল্যে সূদ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য একান্ত কর্তব্য। কারণ হারাম রূযী দ্বারা পরিপুষ্ট দেহ কখনোই জান্নাতে যাবে না’ (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২৭৮৭; ছহীহাহ হা/২৬০৯)।
প্রশ্ন (১৩/৪৫৩) : খলীফা মামূনুর রশীদের আমলে মু‘তাযিলা সম্প্রদায় যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)-কে কেন এই আক্বীদা পোষণ করার জন্য চাপ দিয়েছিল যে, ‘কুরআন আল্লাহর কালাম নয় বরং এটা আল্লাহর সৃষ্ট’?
-আবু সারা, কুয়েত।
উত্তর : কারণ হল, তৎকালীন সময়ে ইমাম আহমাদ (রহঃ) সবচেয়ে বড় বিদ্বান ছিলেন এবং তার কথা সকল হক্বপন্থী জনগণ এক বাক্যে মেনে নিত। তাই তিনি যদি বিষয়টির ব্যাপারে স্বীকৃতি দেন, তাহলে সবাই এক বাক্যে তা মেনে নেবে। উল্লেখ্য যে, ‘কুরআন সৃষ্ট’ মতবাদটি কুফরী মতবাদ। কেননা এর দ্বারা কুরআনকে অন্যান্য সৃষ্টির মত ধারণা করা হয়। অথচ কুরআন সরাসরি আল্লাহর কালাম এবং এটাই আহলে সন্নাত ওয়াল জামা‘আত আহলেহাদীছের ছহীহ আক্বীদা (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : আহলেহাদীছ আন্দোলন, ডক্টরেট থিসিস পৃঃ ১০৫-০৬)।
প্রশ্ন (১৪/৪৫৪) : জনৈক ব্যক্তি পিতা-মাতার অবাধ্যতায় বিবাহ করেছে। এখন সে কিভাবে আল্লাহ তা‘আলা এবং পিতা-মাতার নিকটে ক্ষমা পাবে?
 -নযরুল ইসলাম
কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।
উত্তর : এজন্য পিতা-মাতার নিকটে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। কেননা পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের জান্নাত (তিরমিযী; মিশকাত হা/৪৯২৭; নাসাঈ হা/৩১০৪)।
প্রশ্ন (১৫/৪৫৫) : ছালাতের সময় পায়জামা টাখনুর উপরে গুটিয়ে নেওয়া যাবে কি?
     -আব্দুল্লাহ, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরা সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। শুধু ছালাতের সময় পায়জামা টাখনুর উপরে তুলে নিতে হবে এমনটি নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِى النَّارِ   ‘টাখনুর নীচে যতটুকু যাবে, ততটুকু জাহান্নামের আগুনে পুড়বে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৪৩১৪)। ছালাত অবস্থায় পুরুষের জন্য জামার হাতা সমূহ বা কাপড় গুটিয়ে রাখা যাবে না। বরং খোলামেলা ছেড়ে দিতে হবে (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮৮৭; ছিফাত পৃ: ১২৫)।
প্রশ্ন (১৬/৪৫৬) : জারজ সন্তান যদি কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী ছালাত আদায় করে তাহলে তার সাথে চলাফেরা করা এবং তার মৃত্যুর পর জানাযায় শরীক হওয়া যাবে কি?
-
উত্তর : যাবে। কেননা পিতা-মাতার অন্যায়ের দায় জারজ সন্তানের উপর পড়ে না (বাক্বারাহ ২৮৬; আন‘আম ১৬৪)। উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, وَلَدُ الزِّنَا شَرُّ الثَّلاَثَةِ ‘জারজ সন্তান হ’ল তিনজন নিকৃষ্ট ব্যক্তির একজন’ (আবুদাঊদ হা/৩৯৬৩)। এ বিষয়ে ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এ কথার মধ্যে জারজ সন্তানের বিষয়ে ইসলামের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। যাতে ঐ সন্তান নিজে ব্যভিচারে ধ্বংস না হয় (মিরক্বাত)
প্রশ্ন (১৭/৪৫৭) : ‘আল্লাহর রাস্তায় এক রাত পাহারা দেওয়া এক হাযার বছর নিজ বাড়িতে রাতে ইবাদত করা এবং দিনে ছিয়াম পালন করার চেয়েও উত্তম’। উক্ত মর্মের হাদীছটি ছহীহ কি-না জানিয়ে বাধিত করবেন।
ইউনুস, শাসনগাছা, কুমিল্লা।
উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি মওযূ বা জাল (যঈফ ইবনু মাজাহ হা/৬০৯, সিলসিলা যঈফাহ হা/ ১২৩৪)। তবে এ মর্মে ছহীহ হাদীছটি হ’ল- ‘একটি দিন ও রাত্রি আল্লাহ রাস্তায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা, এক মাস ছিয়াম ও রাত্রিতে ছালাতে দন্ডায়মান থাকার চাইতে উত্তম। আর উক্ত কাজে নিযুক্ত থাকা অবস্থায় মারা গেলে তার ছওয়াব সে প্রতিদিন পেতে থাকবে। জান্নাত হ’তে তার রিযিক আসতে থাকবে এবং (কবরের) ফিৎনা হ’তে নিরাপদ থাকবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৭৯৩)।
প্রশ্ন (১৮/৪৫৮) : ‘ছালাত জান্নাতের চাবি’ মর্মে হাদীছটি কি ছহীহ? জান্নাতের চাবি কি?
-আমানুল্লাহ
ধান্দিয়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (তিরমিযী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৩৬০৯)। বরং ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ হ’ল জান্নাতের চাবি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যার শেষ কালেমা ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (আবুদাঊদ হা/৩১১৬; মিশকাত হা/১৬২১)। ওয়াহাব বিন মুনাবিবহ (রহঃ)-কে বলা হল, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ কি জান্নাতের চাবি নয়? তিনি বললেন, অবশ্যই। তবে প্রত্যেক চাবিরই দাঁত থাকে। যদি তুমি দাঁতওয়ালা চাবি নিয়ে যাও, তবে তোমার জন্য জান্নাত খোলা হবে। অন্যথায় তা তোমার জন্য খোলা হবেনা’ (কালেমার দাঁত হ’ল নেক আমল)।-বুখারী, মিশকাত, হা/৪৩ ‘ঈমান’ অধ্যায়
প্রশ্ন (১৯/৪৫৯) : জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের কি কি গুণাবলী থাকা আবশ্যক?
-বাশীরা
কামারকুড়ী, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : বিবাহের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে পাত্র ও পাত্রী উভয়ের ধার্মিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা মুশরিক মেয়েদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। নিশ্চয়ই একজন ঈমানদার মেয়ে মুশরিক মেয়ের চেয়ে উত্তম। যদিও সে তোমাদেরকে মোহিত করে। তোমরা মুশরিক পুরুষদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। নিশ্চয়ই একজন ঈমানদার পুরুষ মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করে। আর আল্লাহ জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন...(বাক্বারাহ ২২১)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, সাধারণতঃ মেয়েদের চারটি গুণ দেখে বিবাহ করা হয়- তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং ধর্ম। তোমরা ধার্মিক মেয়েকে অগ্রাধিকার দাও। অন্যথায় তোমাদের উভয় হস্ত অবশ্যই ধূলায় ধূসরিত হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮২, ৩০৯০, ‘বিবাহ’ অধ্যায়)। রাসূল (ছাঃ) বলেন,তোমরা বিবাহের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন কর এবং সমতা দেখে বিবাহ কর (ইবনু মাজাহ হা/১৯৬৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১০৬৭)। পাত্রের ক্ষেত্রে তার দ্বীনদারী এবং উত্তম আচরণের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ تَرْضَوْنَ دِيْنَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوْهُ ‘যার দ্বীনদারী এবং উত্তম আচরণে তোমরা সন্তুষ্ট, তার সাথে বিবাহ দাও’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৩০৯০)।
প্রশ্ন (২০/৪৬০) : যাকাতের টাকা ইসলাম প্রচারের কাজে ব্যয় করা যাবে কি? যেমন ইসলামিক সিডি, বই, ক্যাসেট ইত্যাদি কিনে বিতরণ করা হয়।
-তালহা খালেদ
দাম্মাম, সঊদী আরব।
উত্তর : যাকাতের টাকা ইসলাম প্রচারের কাজে ব্যবহার করা যাবে। এগুলো ফী সাবীলিল্লাহর অন্তর্ভুক্ত হবে (মাজমু‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ১৮/২৫২)
প্রশ্ন (২১/৪৬১) : একজন সন্তানহীনা বিধবা তার স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পত্তির কত অংশ পাবে? দেশের আইনই বা কত অংশ দিচ্ছে ?
-আবু আমীনা, কুয়েত।
উত্তর : মোট সম্পত্তির চার ভাগের এক ভাগ পাবে (নিসা ১২)। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে অনুরূপই দেওয়া হয়।
প্রশ্ন (২২/৪৬২) : আমার এক আত্মীয় মারা যাওয়ার সময় এমন এক অছিয়ত করে গেছেন, যা পূরণ করতে তার রেখে যাওয়া সব সম্পদ লাগবে। এমতাবস্থায় করণীয় কী?
মুহাম্মাদ আমীনুল ইসলাম
সীতাকুন্ডু, চট্টগ্রাম।
উত্তর : অছিয়ত স্বরূপ সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ সম্পত্তি দান করা যায়। এর বেশী অছিয়ত করা বৈধ নয় (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩০৭১)। অতএব উক্ত অছিয়ত পূরণ করা আবশ্যক নয়।
প্রশ্ন (২৩/৪৬৩): পেটে বাচ্চা ওয়ালী গাভী অসুস্থ হলে যবেহ করে খাওয়া যাবে কি?
-মুছাবিবর, সৈয়দপুর, নীলফামারী।
উত্তর : পেটে বাচ্চা ওয়ালী গাভী অসুস্থ হলে যবেহ করে খাওয়াতে কোন দোষ নেই। জাবির (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, পেটের বাচ্চাকে যবেহ করা হচ্ছে তার মাকে যবেহ করা (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪০৯১)। অত্র হাদীছে গাভীর পেটের বাচ্চাকে হালাল বলা হয়েছে। মানুষের রুচি হলে পেটে বাচ্চাওয়ালী গাভী তো খেতে পারেই, এমনকি পেটের বাচ্চাও খেতে পারে।
প্রশ্ন (২৪/৪৬৪): একজন কুরআনের হাফেয কি একজন আলেমের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান? উভয়ের উপস্থিতিতে কে ইমামতি করবেন?
-আব্দুল্লাহ, মান্দা, নওগাঁ।
উত্তর : আলেম ইমামতি করবেন। যদি তিনি শুদ্ধ করে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সবচেয়ে ভাল ক্বারীকে ইমাম হওয়ার জন্য বলেছেন। উভয়ে যদি ক্বিরাআতের দিক থেকে সমান হন, তাহ’লে যিনি সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অবগত, তিনি ইমামতি করবেন (মুসলিম, মিশকাত হা/১১১৭)
প্রশ্ন (২৫/৪৬৫): একটি সূরা বার বার পড়লে প্রত্যেকবার বিসমিল্লাহ পড়তে হবে কি? সূরার মধ্য থেকে পড়লে বিসমিল্লাহ বলতে হবে কি? পড়তে পড়তে কিছুক্ষণ বিরতির পর পড়লে বিসমিল্লাহ বলতে হবে কি?
-শফীকুল ইসলাম
গাবতলী, বগুড়া।
উত্তর : সূরার প্রথম থেকে পড়া আরম্ভ করলে প্রতিবার বিসমিল্লাহ বলতে হবে। এমনকি কিছু বিরতির পর পড়লেও। কারণ একটি সূরা থেকে তার একটি সূরা পৃথক করার মাধ্যম হচ্ছে বিসমিল্লাহ (আবুদাঊদ হা/৭৮৮)। যেকোন সময়ে যে কোন স্থান হতে কুরআন পড়লে আঊযুবিল্লাহ পড়বে। আল্লাহ বলেন, আপনি যখন কুরআন তেলাওয়াত করবেন তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবেন (নাহল ৯৮)। তবে বিষয়টি ‘মানদূব’ (ইচ্ছাধীন) পর্যায়ভুক্ত (তাফসীর কুরতুবী, ইবনু কাছীর)।
প্রশ্ন (২৬/৪৬৬) : এক ছাত্র লেখাপড়া না করে টাকা দিয়ে ৭টি সেমিষ্টার শেষ করেছে। এখন বাকী ৫টি সেমিষ্টার সে ভালভাবে লেখাপড়া করতে চায়। উক্ত সার্টিফিকেট দিয়ে চাকুরী করা হালাল হবে কি?
-রওশন, ঢাকা।
উত্তর : হালাল হবে না। কারণ এটা স্রেফ প্রতারণা মাত্র। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২৮৬০, ৩৫২০)
প্রশ্ন (২৭/৪৬৭): আমাদের দেশে সরকারীভাবে হিন্দুদের পূজায় টাকা দেওয়া হয়। নাগরিক হিসাবে এতে আমাদের পাপ হবে কি-না।
-আব্দুস সাত্তার
কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : সরকার অমুসলিমদের জন্য নির্ধারিত খাত থেকে হিন্দুদের পূজার জন্য সহযোগিতা করতে পারে। তবে কোন মুসলিম ব্যক্তি কোন প্রকার সহযোগিতা করতে পারবে না। কারণ এটা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত। আর কোন প্রকার পাপের কাজে সহযোগিতা করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন (মায়েদাহ ২)
প্রশ্ন (২৮/৪৬৮): স্বামীর কি কি অধিকার পালন করলে স্ত্রী জান্নাতে যেতে পারবে?
-আবুবকর, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম।
উত্তর : ‘অধিকার’ বিষয়টি ব্যাপক। সেকারণ এ বিষয়ে ইসলামী শরী‘আতে মৌলিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন রাসূল (ছাঃ) বলেন, যেকোন স্ত্রী (১) নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করে (২) রামাযানের ছিয়াম পালন করে (৩) লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং (৪) স্বামীর আনুগত্য করে, সে  জান্নাতের যেকোন দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। (আবু নঈম, মিশকাত হা/৩২৫৪, সনদ হাসান)। অন্যত্র তিনি বলেন, তোমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকে স্ব স্ব দায়িত্ব সম্পর্কে ক্বিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হবে। ...স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের ও সন্তানদের দায়িত্বশীল’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৮৫)। তিনি বলেন, উত্তম স্ত্রী সেই, যার দিকে তাকিয়ে স্বামী আনন্দিত হয়। স্বামী কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং স্বামী যা অপসন্দ করেন, স্ত্রী তা করেনা’ (নাসাঈ, মিশকাত হা/৩২৭২)।
প্রশ্ন (২৯/৪৬৯) : বিবাহের সময় স্বামী তার স্ত্রীর মোহরানা আদায় করেনি। এখন আদায় করতে ইচ্ছুক। সম্পদ ও অর্থ কোনটি দ্বারা আদায় করবে?
-মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম
তালা, সাতক্ষীরা।
উত্তর : সম্পদ বা অর্থ যা দিয়ে পরিশোধ করা হোক না কেন, তা ধার্যকৃত মোহরের সমপরিমাণ হতে হবে। আল্ল­াহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমাদের স্ত্রীদের কাছ থেকে যে স্বাদ গ্রহণ করেছ, তার বিনিময়ে তাদের জন্য নির্ধারিত মোহরানা আদায় কর’ (নিসা ২৪)
প্রশ্ন (৩০/৪৭০): ছালাত অবস্থায় কেউ সালাম দিলে উত্তর দেওয়ার পদ্ধতি কি? ছালাতরত অবস্থায় কেউ ডাকলে গলায় আওয়াজ করা যাবে কি?
-মুহাম্মাদ ইসমাঈল
 মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : ছালাতরত অবস্থায় কেউ সালাম দিলে কথা না বলে শুধু হাত বা আঙ্গুলের ইশারায় সালামের উত্তর দিতে হবে (তিরমিযী, নাসাঈ সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৯৯১)। উল্লেখ্য যে, ছালাতরত অবস্থায় গলার আওয়াজ দেওয়ার হাদীছটি যঈফ (নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৬৭৫; তামামুল মিন্নাহ পৃঃ ৩১২)
প্রশ্ন (৩১/৪৭১): পিতা-মাতা আক্বীক্বা করে নাম রেখেছে। সন্তান বড় হয়ে বুঝতে পারলো যে, তার নাম অর্থহীন। এমতাবস্থায় তার নাম কি পরিবর্তন করা যাবে?
-আলাউদ্দীন, রাজারবাগ, ঢাকা।
উত্তর : অর্থগত দৃষ্টিকোণ থেকে ত্রুটিপূর্ণ নামকে পরিবর্তন করে একটি সুন্দর ইসলামী নাম রাখাই শরী‘আতের বিধান। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মন্দ নাম পরিবর্তন করে দিতেন (তিরমিযী, মিশকাত হা/৪৭৭৪; ছহীহাহ হা/২০৭)। অতএব একজন ভালো আলেমের নিকট থেকে জেনে নিয়ে একটি উত্তম নাম রাখুন। প্রয়োজনে কোর্টে নাম পরিবর্তন করে এফিডেভিট করুন (বিস্তারিত দেখুন : মাসায়েলে কুরবানী ও আক্বীকা পৃঃ ৫১-৫৩)।
প্রশ্ন (৩২/৪৭২): অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল মিশ্রিত পেপসি, সেভেনআপ, কোকাকোলা, এনার্জি ডিংক্স প্রভৃতি কোমল পানীয় পান করা বৈধ হবে কি?
-সুহাইল, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।
উত্তর : কোন খাদ্য ও পানীয়তে কম-বেশী যা-ই থাক না কেন, অ্যালকোহল অর্থাৎ নেশাদার দ্রব্য মিশ্রিত থাকলে তা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মাদকতা আনয়নকারী প্রত্যেক বস্ত্তই মদ এবং প্রতিটি মাদকদ্রব্য হারাম’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৩৮)। অন্য হাদীছে এসেছে, ‘যার বেশী পরিমাণে মাদকতা আসে, তার কম পরিমাণও হারাম’ (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩৬৪৫, সনদ ছহীহ)। বিভিন্ন সংবাদসূত্রে প্রকাশ, সকল প্রকার এনার্জি ড্রিংক্সসহ অধিকাংশ কোমল পানীয়তে এ্যালকোহল মিশ্রিত থাকে। সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রকাশ করেছে যে, জনপ্রিয় দু’টি কোমল পানীয় কোকাকোলা ও পেপসিতে প্রতি লিটারে অন্ততঃ ১০ মিলিগ্রাম এ্যালকোহল রয়েছে (প্রেস টিভি নিউজ, ৩০ জুন’১২)। এছাড়া কোমল পানীয়ের মূল উপাদানে শুকরের চর্বির মিশ্রণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। এতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদানও বিদ্যমান। যেমন কোকো, ক্যাফেইন, কীটনাশক, কার্বন ডাই-অক্সাইড, উচ্চমাত্রার এসিড প্রভৃতি, যা মানুষের কিডনী, দাঁত, হাড়সহ স্বাস্থ্যের জন্য খুব ক্ষতিকর। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ সকল কোমল পানীয় নামক সোডা ওয়াটার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং তৈরীর মূল উপাদানসমূহ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে এ সকল পানীয় পান করা যাবে না। সর্বোপরি সন্দেহজনক বস্ত্ত থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, হালাল স্পষ্ট, হারাম স্পষ্ট। এর মাঝে একটি সন্দেহযুক্ত জিনিস রয়েছে যা হারাম (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৭৬২)
প্রশ্ন (৩৩/৪৭৩): ছিয়াম অবস্থায় গান শোনা, মিথ্যা কথা বলা, মেয়েদের দিকে কুদৃষ্টি দেওয়া প্রভৃতি পাপ কাজ করলে ছিয়াম বাতিল হয়ে যাবে। উক্ত বক্তব্যটি কি সঠিক?
-মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ
উপশহর, রাজশাহী।
উত্তর : কেবল সারাদিন পানাহার ও যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নাম ছিয়াম নয়। বরং ছিয়াম সাধনা হচ্ছে পানাহার থেকে বিরত থাকার সাথে সাথে সকল প্রকার মিথ্যা থেকে বিরত থাকা। নবী করীম (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে না, সে ব্যক্তির পানাহার থেকে বিরত থাকাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই (বুখারী হা/১৯০৩; মিশকাত হা/১৯৯৯)। তাই এক্ষেত্রে ছিয়াম সরাসরি বাতিল না হলেও, নিঃসন্দেহে তা ক্রটিপূর্ণ হবে।
প্রশ্ন (৩৪/৪৭৪): স্বপ্ন সম্পর্কে ভালো-মন্দ বিশ্বাস করা যাবে কি?                   
শরীফুল ইসলাম
সাঘাটা, গাইবান্ধা।
উত্তর : স্বপ্ন ভাল মন্দ দু’টিই হ’তে পারে। রাসূল (ছাঃ) বলেন. ‘উত্তম স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি ভাল স্বপ্ন দেখে তাহ’লে সে যেন ঐ ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করে, যাকে সে ভালবাসে। আর যদি কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখে তাহ’লে সে যেন তার ক্ষতি ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট পরিত্রাণ চায় এবং বাম দিকে তিনবার থুক মারে। আর কারো কাছে যেন প্রকাশ না করে। এতে তার কোন ক্ষতি হবে না’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৬১২)। মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে বাম দিকে ৩ বার থুক মারবে, ৩ বার আ‘ঊযুবিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম বলবে ও পার্শ্ব পরিবর্তন করবে’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৬১৩-১৪ ‘স্বপ্ন’ অধ্যায়)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন তিন প্রকার হয়ে থাকে। (ক) সত্য স্বপ্ন (খ) মনের কল্পনা এবং (গ) শয়তানের পক্ষ হ’তে ভীতি প্রদর্শন। সুতরাং কেউ যদি অপসন্দনীয় স্বপ্ন দেখে তাহ’লে সে যেন উঠে ছালাত আদায় করে’ (তিরমিযী হা/২২৮০; ইবনু মাজাহ হা/৩৯০৬)
প্রশ্ন (৩৫/৪৭৫) : ‘পাঁচটি রাত্রির দো‘আ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। রজব মাসের ১ম রাত্রি, শা‘বানের মধ্যরাত্রি, জুম‘আর রাত্রি, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত্রি।’ উক্ত হাদীছটি কি ছহীহ?
-মঈনুদ্দীন, মিরপুর, ঢাকা।
উত্তর : হাদীছটি মওযূ বা জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/১৪৫২)।
প্রশ্ন (৩৬/৪৭৬): আমরা ১৫ জন মিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা করে একটি মূলধন সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে থাকি। তারা ব্যবসায়িক পণ্য ক্রয় করে এবং কিস্তিতে সেই পণ্যের ক্রয়মূল্য সহ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (যেমন ২০০০ টাকার বিনিময়ে ২২০০ টাকা) লাভ হিসাবে আমাদেরকে প্রদান করে। উক্ত ব্যবসা হালাল হবে কি? যদি হারাম হয়ে থাকে তবে আমাদের করণীয় কি?
ইমরান, চরকুড়া, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : উক্ত ব্যবসা হালাল নয়। কারণ উক্ত ব্যবসা রিবা আন-নাসিআহ বা বাকীতে ঋণের সূদ-এর উপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা প্রতিষ্ঠানটি মূলতঃ বাকীতে ঋণ প্রদানের উপর অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কেবল অর্থলগ্নিকারী, পণ্যের বিক্রেতা নয় এবং ঋণগ্রহীতার সাথে ঋণদাতার সম্পর্ক এখানে ঋণের, পণ্যের নয়। তাই আমাদের পরামর্শ আপনারা নিজেরাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলুন। আর ইসলামে অনুমোদিত ব্যবসা দুই ধরণের। ‘মুশারাকাহ’ অর্থাৎ যার যেমন অর্থ থাকবে, সে অনুযায়ী লাভ-ক্ষতি বন্টন হবে(আবুদাঊদ, বুলূগুল মারাম হা/৮৭০) অথবা ‘মুযারাবাহ’ অর্থাৎ একজনের অর্থ নিয়ে অপরজন ব্যবসা করবে। লাভ-ক্ষতি তাদের মাঝে চুক্তিহারে বন্টিত হবে (দারাকুৎনী, মুওয়াত্ত্বা, বুলূগুল মারাম হা/৮৯৫, মওকূফ ছহীহ)
প্রশ্ন (৩৭/৪৭৭): আমি একজন পুলিশ সদস্য। এ সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী বড় অফিসারকে দেখলে দাঁড়িয়ে সম্মান করতে হয়। নতুবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমাকেও দাঁড়িয়ে সম্মান করতে হয়। প্রায় ৩৬/৩৭ বছর যাবৎ এভাবে আমি অন্যায় কর্মে সহায়তা করে যাচ্ছি। এমতাবস্থায় এ চাকুরী করা আমার জন্য জায়েয হবে কি?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
উত্তর : যিনি আপনাকে এ পাপ কর্মে বাধ্য করছেন, তিনিই মূল অপরাধী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘যদি কেউ এতে আনন্দবোধ করে যে, লোকেরা তাকে দেখে স্থিরভাবে দন্ডায়মান থাকুক, তাহ’লে সে জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নিল (তিরমিযী, আবুদাঊদ, সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৬৯৯)। তাই এক্ষেত্রে আপনাকে পাপের দায়ভার নিতে হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা সাধ্যমত আল্লাহ্কে ভয় কর (তাগাবুন ৬৪/১৬)। তবে এ প্রথা বন্ধের জন্য আপনাকে সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)
প্রশ্ন (৩৮/৪৭৮): জনৈক আলেম বলেছেন, শী‘আরা মুসলমান নয়। কোন কোন এলাকায় বর্তমানে শী‘আদের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
-হাবীবুর রহমান
বখশীগঞ্জ, বদরগঞ্জ, রংপুর।
উত্তরঃ শী‘আরা একটি ভ্রান্ত দল। ইমাম ইবনু হাযম আন্দালুসী (রহঃ) বলেন, ‘রাফেযী শী‘আরা মুসলিম নয়, তাদের কথা দীনের ব্যাপারে দলীল হিসাবে গণ্য নয়, এটি একটি নতুন দল, যা রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পঁচিশ বছর পর সৃষ্টি হয়েছে। এ দলটি ইহুদী ও খৃষ্টানদের মত মিথ্যা ও কুফরীর উপর নির্ভর করে চলে (কিতাবুল ফিছাল ২/৬৫)
শী‘আরা পাঁচটি প্রধান দল ও বহু সংখ্যক উপদলে বিভক্ত। ইমামিয়া শী‘আরা বারো ইমামে বিশ্বাসী। তাদের দৃষ্টিতে রাসূলের পরে আবুবকর (রাঃ)-এর হাতে খেলাফতের বায়‘আত করে ছাহাবীগণ মুরতাদ হয়ে গেছেন। এজন্য উম্মতের সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি হ’লেন আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ) (নাঊযুবিল্লাহ) (আল-আদিয়ান পৃঃ ১৮১)। এছাড়া তাদের আক্বীদা মতে আলী (রাঃ) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ‘অছি’। অতএব আলী এবং তাঁর পরিবারের মধ্যেই খেলাফত সীমাবদ্ধ থাকবে। সেকারণ আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ) ছিলেন তাদের দৃষ্টিতে অবৈধ খলীফা (কিতাবুল ফিছাল ২/১১৫ পৃঃ)
প্রশ্ন (৩৯/৪৭৯): রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আমার নামে তোমরা নাম রাখো। কিন্তু আমার উপনামে তোমরা নাম রেখো না। এর কারণ কি?
-আমীনুল ইসলাম
উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর।
উত্তর : এই উপনামের কারণ দু’টো- (ক) নবী করীম (ছাঃ) বড় ছেলের নাম ছিলো ক্বাসেম। তাই তাঁকে আবুল ক্বাসেম বলা হতো (তাবাক্বাত ১ম খন্ড, পৃঃ ১৭)। (খ) রাসূল (ছাঃ) আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত ইলম মানুষের মধ্যে বিতরণ করতেন (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/২০০) এজন্য তাঁকে বলা হতো আবুল ক্বাসেম- তাই তিনি তাঁর উপনামে নাম রাখতে নিষেধ করেছিলেন। তবে তাঁর ইন্তিকালের পর উক্ত উপনামে নাম রাখা যাবে মর্মে ইমাম মালেক (রহঃ) মত পেশ করেছেন। কিন্তু ইমাম শাফেঈ (রহঃ)-এর মতে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে (আওনুল মা‘বূদ ১৩তম খন্ড, পৃঃ ২০৮)
প্রশ্ন (৪০/৪৮০) : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘বনু আদমের অন্তর সমূহ একটি কলবের ন্যায় আল্লাহর দু’আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে। তিনি যেভাবে খুশী সেটাকে পরিচালিত করেন’ (মুসলিম)। উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য জানিয়ে বাধিত করবেন।
-মাসঊদ, মেহেরপুর।
উত্তর : অত্র হাদীছটি আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কিত হাদীছ সমূহের (أحاديث الصفات) অন্তর্ভুক্ত। এ হাদীছে আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের বর্ণনা এসেছে। এখানে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেভাবে বিশ্বাস করাটাই হ’ল ছাহাবায়ে কেরাম ও আহলেসুন্নাত ওয়াল জামা‘আত আহলেহাদীছের আক্বীদা। আল্লাহর আঙ্গুল বা তাঁর আকার সেইরূপ, যেরূপ তাঁর উচ্চ মর্যাদার উপযোগী। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর তুলনীয় কিছুই নেই। তিনি সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশ্রোতা (শূরা ৪২/১১)। এবিষয়ে ঝগড়াকারীগণ পথভ্রষ্ট। নিরাকারবাদীগণ মু‘আত্ত্বিলাহ (শূন্য সত্তার উপাসনাকারী)। সাদৃশ্যবাদীগণ মুশাবিবহাহ (স্রষ্টাকে সৃষ্টির সদৃশ কল্পনাকারী)। এবিষয়ে সঠিক আক্বীদা সেটাই যা ছাহাবায়ে কেরামের আক্বীদা। অতঃপর অত্র হাদীছের তাৎপর্য হ’ল এই যে, এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার অন্তরকে দ্রুত পরিবর্তনের কথা বর্ণনা করেছেন। আর এটা তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। আঙ্গুল বলার মাধ্যমে হাত দ্বারা অাঁকড়ে ধরা বুঝানো হয়েছে। কেননা আঙ্গুল হাতেরই অংশ। ‘বনু আদমের অন্তুরসমূহ একটি কলবের ন্যায়’ বলার মাধ্যমে আল্লাহ সকল সৃষ্টিকে একটি কলবের ন্যায় সহজে ও দ্রুত সৃষ্টি বুঝিয়েছেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটিমাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের অনুরূপ। আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা’ (লোকমান ৩১/২৮)। এর মাধ্যমে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা বুঝানো হয়েছে (মির‘আত হা/৮৯-এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন (বুরূজ ৮৫/১৬)। তবে এর দ্বারা মানুষকে বাধ্যগত প্রাণী ভাবা যাবে না। যেমনটি ভ্রান্ত ফের্কা অদৃষ্টবাদী জাবরিয়াগণ ভেবে থাকেন। কেননা আল্লাহ বান্দার তাক্বদীর জানেন। কিন্তু বান্দা তা জানেনা। তাই তাকে সাধ্যমত আল্লাহর পথে কাজ করে যেতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘বান্দা কেবল সেটাই পায়, যেটার জন্য সে চেষ্টা করে’ (নাজম ৫৩/৩৯)।

HTML Comment Box is loading comments...