কবিতা


ত্বাগূত হকের শত্রু

আবুল কাসেম

গোভীপুর, মেহেরপুর।

তাওহীদের ঝান্ডা নিয়ে জোর দাপটে এগিয়ে চল

ত্বাগূতের ঐ শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে পড় যুবক দল।

ত্বাগূতের ঐ বেড়াজালে তোমরা কেন হও আটক

তাওহীদের ঝান্ডা নিয়ে দেখাও তোমরা জোর দাপট।

ত্বাগূত আছে মনে মিশে ত্বাগূতের হয় না মরণ

সুযোগ পেলেই মুমিনগণের ঈমান করবে হরণ।

সচরাচর সদাই থাকে কখনো থাকে গোপন

মনে থেকে ছুড়ে ফেল চিরতরে হোক পতন।

ত্বাগূতের ঐ সিংহাশনে অহী দিয়ে কর আঘাত

উঠুক জ্বলে পড়ুক মরে ত্বাগূত সব যাক নিপাত।

আল-কুরআন হাতিয়ার আছে হাদীছকেও কর ঢাল

ত্বাগূতের ঐসব মিথ্যা জাল সত্য দিয়ে ভেঙ্গে ফেল।

আল্লাহ চাইলে ধরায় হবে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক দল

সেদিন তোমরা দেখতে পাবে বাতিল শক্তি যাবে তল।

সরিষার ভূত

মুহাম্মাদ আবুল ফযল খন্দকার

রামশার, কাযীপুর, নলডাঙ্গা, নাটোর।

দাড়ি-টুপি থাকলে কি আর মুসলমান হয় ভাই?

লেবাসের আড়ালে কত ভন্ডামী আমরা দেখতে পাই।

আহলেহাদীছকে মিটিয়ে দিতে যারা করেছিল হীন চক্রান্ত,

তারা নিজের কুড়ালে কেটেছে নিজের পা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।

এদেশের মুসলিমদেরকে তারা করতে চেয়েছিল বিভক্ত

আর শয়তানের হাত করতে চেয়েছিল শক্ত।

শত ফুৎকারে আজীবন কাল করতে চাইলে বিলীন

তেজোদীপ্ত জ্যোতির বিকাশ হয় না বিন্দুবৎ মলিন।

উপরের দিকে মারলে থুথু পড়ে যে নিজেরই গায়,

তারা একুল-ওকুল সব হারালো এখন হবে কি উপায়?

যে ব্যক্তি সদাই অপরের অমঙ্গল চিন্তা করে

অন্যের জন্য গর্ত খুড়লে নিজেই একদিন পড়ে।

ক্ষমতায় থাকলে টিকটিকিও হয়ে যায় হাতি

ক্ষমতা গেলে ঐ টিকটিকিকে হাতি মারে লাথি।

শয়তানের সঙ্গে অাঁতাত করে যারা করেছিল তোমাদের সর্বনাশ

লাল-কালির সেই বড় বড় লেখাগুলো হয়েছে আজ ইতিহাস।

আহলেহাদীছকে চেনালো তারা চিনলো বিশ্ববাসী

জ্ঞানপাপী, মূর্খদের কথা মনে হ’লে একা একাই হাসি।

নিরপরাধ আলেমদের প্রতি যুলুম করে তারা করেছিল যে ভুল

আজ তাদের দিতে হচ্ছে সেই ভুলেরই মাশুল।

হকপন্থীদের বিনাশে যারা করেছিল ছল

আজ তারা ভোগ করছে ষড়যন্ত্রের প্রতিফল।

ষড়যন্ত্রকারীরা বহাল তবিয়তে আজও আছে বাকি

মুখোশধারীদের থেকে আমরা যেন সাবধান থাকি।

সেই কুচক্রীদের নীল-নকশা বিস্তৃত বহুদূর

স্বার্থের জন্য আজও তারা মেলাতে চায় সুর।

মাযলূমের দো‘আ যায় না বৃথা হাদীছ তাই বলে

তাদের সব জবাব দিতে হবে একদিন পরকালে।

অব্যক্ত কষ্ট

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম

শ্যামপুর, মতিহার, রাজশাহী।

সফেদ পাঞ্জাবী বাহারী পোশাক

থরে থরে সাজিয়ে গোলাপ হবে কি ঈদ?

মানসপটে ভাসে যখন দেশহীন মানুষের ছবি রোহিংগা মুসলিম।

ধূলোয় ধুসর বোনের কায়া অন্নহীন।

রামাল্লার পল্লীতে নিষ্পাপ নিধনের উন্মত্ত অহংকার,

বিভৎস হত্যার আনন্দে নাচে ইসরাঈলের বেঞ্জামিন।

বিশ্ব বিবেক অথর্ব অনড় কি চমৎকার!

মনের ভিতরে ধেয়ে আসে মরুর সাইমূম,

মাথার উপরে উড়ে মার্কিন বোমারু বিমান,

কি হবে তখন এই ঈদে উপচে পড়া গোশতের বাটি,

কালিয়া-কাবাব মেকি হাসির আলিঙ্গন?

আপন ভিটায় কাঁদে পরবাসী ফিলিস্তীন

ভয়ার্ত মানুষের ঈদ নেই দু’চোখ নিদহীন।

কি হবে মিথ্যা আভিজাত্যের আলোকসজ্জায়,

যখন লায়মার কচি প্রাণ দলিত-মথিত হ’ল

একখন্ড কাপড়ের আশায়।

জামা‘আতী যিন্দেগী

মুহাম্মাদ বেলালুদ্দীন

খয়েরসূতি, পাবনা।

ওহে বিপ্লবী! গড়ে তুলি আস জামা‘আতী যিন্দেগী

জামা‘আত ছাড়া যে জাহেলী মরণ করিয়া বন্দেগী।

যত তুমি হও মহারথি যত বড় হোক মান

জামা‘আতবদ্ধ জীবন এটা যে আল্লাহরই ফরমান।

জামা‘আতী জীবন ফরয এখানে বিকল্প কিছু নেই,

আমীর মামূর বায়‘আত রয়েছে আল্লাহর বিধানেই।

রাষ্ট্রীয় আমীর ছিলেন না নবীজী আকাবা বায়া‘আতে জানি।

জামা‘আত নষ্ট পরিকল্পনা ছাড় হে দুষ্ট জ্ঞানী!

তিনজন লোক একখানে হ’লে

আমীর বানাতে হয় এটা যে হাদীছে কয়।

তুমি পৃথিবীর বিরাট আধারে বহু ভাষাবিধ জ্ঞানের সাগরে,

কাজে আসিবে না জারি থাকিবে না, কবরে চলে যাবে।

ওহে বিপ্লবী! গড়ে তুলি আস জামা‘আতী যিন্দেগী।

জালসা করিয়া কতটুকু লাভ মানুষের তো আবেগী স্বভাব

টাকার লাগিয়া জিহাদী সাজিয়া ঝংকারে মাতাবি,

ওহে বিল্পবী! গড়ে তুলি আস জামা‘আতী যিন্দেগী।

জামা‘আতবদ্ধ বিপ্লব ছাড়া মানবতা ফিরে পাবে না এ ধরা

সকল বিধান বাতিল করে অহী কর বিজয়ী।

জাহেলী বিধান পদে পদে মেনে পাচ্ছে সম্মানী

বাতিলের ফাঁদে শাসকের সাজ অশান্ত পৃথিবী

ওহে বিপ্লবী! গড়ে তুলি আস জামা‘আতী যিন্দেগী।

সংখ্যাগুরু মুসলিম দেশে ধারে না অহি-র ধার

অহী মুতাবেক আমল করিলে ধমকায় বারবার

বুঝি না এ ব্যাপার আমরা বুঝি না এ ব্যাপার।

শিরক, বিদ‘আতে আপোষ করে হবে না বন্দেগী

ওহে বিপ্লবী! গড়ে তুলি আস জামা‘আতী যিন্দেগী।