প্রবন্ধ


জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপনের আবশ্যকতা

ড. হাফেয বিন মুহাম্মাদ আল-হাকামী

অনুবাদ : আব্দুর রহীম
নিয়ামতপুর, নওগাঁ।

(৪র্থ কিস্তি)

ক্বিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকা জামা‘আত :

যে জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার নির্দেশ এসেছে সেটি যুগ পরিক্রমায় ক্বিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার নির্দেশ সম্বলিত হাদীছ সমূহ সেটি টিকে থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। কারণ অস্তিত্বহীন কোন জিনিসকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশের কোন অর্থ থাকে না। তবে হুযায়ফা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে যা এসেছে তাতে খটকা সৃষ্টি হয়। সেখানে এসেছে যে, তিনি বললেন,

قُلْتُ : فَمَا تَأْمُرُنِىْ إِنْ أَدْرَكَنِىْ ذَلِكَ قَالَ: تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِيْنَ وَإِمَامَهُمْ. قُلْتُ : فَإِنْ لَّمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلاَ إِمَامٌ؟ قَالَ: فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا...-

‘আমি বললাম, যদি এমন অবস্থা আমাকে পেয়ে বসে তাহ’লে কী করার নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, তুমি মুসলমানদের জামা‘আত ও তাদের ইমামকে অাঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, যদি তাদের কোন জামা‘আত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তখন ঐ সকল দলকে পরিত্যাগ করবে।[1]

হুযায়ফা (রাঃ) জামা‘আতের অস্তিত্ব না থাকাকে ধরে নিলেন এবং রাসূল (ছাঃ) তার কথাকে অস্বীকার করলেন না। এ থেকে বুঝা যায় যে, কোন কোন সময়ে জামা‘আতের অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তর এভাবে দেওয়া যায় যে, হুযায়ফা (রাঃ) কর্তৃক জামা‘আতের অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি মেনে নেয়া থেকে যেমন কোন কালে জামা‘আতের অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি বুঝা যায়, তেমনি কোন কোন দেশে জামা‘আত না থাকার বিষয়টিও বুঝা যায়। আর দ্বিতীয় অর্থটিই অধিকতর সঠিক। কেননা হুযায়ফা (রাঃ) কথাটি তখনই বলেছিলেন, যখন রাসূল (ছাঃ) তাঁকে জামা‘আত অাঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল এমন জামা‘আতের অস্তিত্ব না থাকা যাকে অাঁকড়ে ধরা সম্ভব। আর একথাটি অন্য দেশে জামা‘আতের অস্তিত্ব থাকাকে নাকচ করে না, যাকে অাঁকড়ে ধরা দুঃসাধ্য। বরং দু’দেশের মধ্যে দূরত্বের কারণে কখনো সে সম্পর্কে জানা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই অর্থকেই প্রাধান্য দেয় বরং নির্দিষ্ট করে দেয় ক্বিয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকা দলের ব্যাখ্যায় সাহায্যপ্রাপ্ত (ত্বায়েফায়ে মানছূরাহ) দলের বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ সমূহ। ছহীহ মুসলিমে এসেছে,

عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِىْ ظَاهِرِيْنَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ وَلاَ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِىَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ كَذَلِكَ.

ছাওবান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। আল্লাহর নির্দেশ (ক্বিয়ামত) না আসা পর্যন্ত বিরুদ্ধবাদী ও অপদস্থকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। অথচ তারা সে অবস্থায় থাকবে’।[2]

ছহীহ মুসলিমের অপর একটি হাদীছে এসেছে,

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: أَنَّ النّبَِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِى يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ –

জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি দল হকের জন্য লড়াই অব্যাহত রাখবে এবং তারা বিজয়ী থাকবে’।[3] তিরমিযী ও ইবনু মাজাহর বর্ণনায় রয়েছে,

عَنْ قُرَّةَ بْنِ إِيَاسٍ قَالَ: أَنَّ النّبَِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِىْ مَنْصُوْرِيْنَ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ-

কুররা ইবনু ইয়াস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হ’তে থাকবে। ক্বিয়ামত পর্যন্ত অপদস্থকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না’।[4] এগুলো ও অন্যান্য হাদীছ সমূহ ক্বিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (ত্বায়েফায়ে মানছূরাহ) টিকে থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি হ’ল জামা‘আত। যার ব্যাপারে তিনটি বিষয় প্রমাণ বহন করে। ১. হুযায়ফা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে যা এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি বললাম, যদি মুসলমানদের কোন জামা‘আত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তখন ঐ সকল দলকে পরিত্যাগ করবে। যদিও তোমাকে গাছের শিকড় কামড়ে ধরে থাকতে হয় এবং এমতাবস্থায় তোমার মৃত্যু এসে যায়।[5] নবী করীম (ছাঃ) হুযায়ফা (রাঃ)-কে জামা‘আত ব্যতীত সকল দলকে পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাহায্যপ্রাপ্ত দল (ত্বায়েফায়ে মানছূরাহ) যদি সেই জামা‘আত না হয় রাসূল (ছাঃ) যেটিকে অাঁকড়ে ধরার জন্য হুযায়ফা (রাঃ)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাহ’লে সেটি (জামা‘আত) রাসূল (ছাঃ) তাকে যে দলগুলোকে পরিত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। যা অসম্ভব। এজন্য এ বিষয়টি নির্দিষ্ট হয়ে যায় যে, সাহায্যপ্রাপ্ত দল হ’ল ঐ জামা‘আত, যাকে অাঁকড়ে ধরতে তিনি হুযায়ফা (রাঃ)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। গুণাবলীর ক্ষেত্রে জামা‘আত ও তায়েফাহ মানছূরাহর ঐক্যতান এ ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে। কারণ হুযায়ফা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে উল্লেখিত জামা‘আত সেটি, যা একজন আমীরের আনুগত্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যেমনটি ইমাম ত্বাবারী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। আর সাহায্যপ্রাপ্ত দলের গুণাবলীতে এসেছে যে, তারা হকের উপরে বিজয়ী থাকবে এবং তারা সত্যের পথে লড়াই করবে। সত্যের উপরে বিজয়ী থাকা এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার জন্য আবশ্যক হ’ল জামা‘আত ও ইমারত।

২. পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে সাহায্যপ্রাপ্ত দল ও জামা‘আতের অর্থ অভিন্ন হওয়া সালফে ছালেহীনের বড় বড় ওলামায়ে কেরাম সাহায্যপ্রাপ্ত দল বলতে আহলুল হাদীছ এবং আহলুল ইলমদেরকে বুঝিয়েছেন। খত্বীব বাগদাদী (রহঃ) তার সনদে ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ), আলী ইবনুল মাদীনী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা সাহায্যপ্রাপ্ত দলের (ত্বায়েফায়ে মানছূরাহর) ব্যাখ্যায় বলেছেন, তারা হ’লেন ‘আহলুল হাদীছ’।[6]

খত্বীব বাগদাদী (রহঃ) তাঁর সনদে হাফেয আহমাদ ইবনু সিনান (রহঃ) হ’তে বর্ণনা করেন, তিনি এ জামা‘আতের ব্যাখ্যায় বলেন, তারা  হ’লেন ‘আহলুল ইলম’ ও ‘আছহাবুল আছার’ (আহলেহাদীছ)।[7] ইমাম বুখারী (রহঃ) থেকেও এর ব্যাখ্যায় এসেছে যে, তারা হ’লেন ‘আহলুল ইলম’।[8] সাহায্যপ্রাপ্ত দলের যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, জামা‘আতেরও সেই ব্যাখ্যাই করা হয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, وَتَفْسِيرُ الْجَمَاعَةِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ هُمْ أَهْلُ الْفِقْهِ وَالْعِلْمِ وَالْحَدِيثِ ‘বিদ্বানদের নিকটে জামা‘আতের ব্যাখ্যা হ’ল তারা হ’লেন আহলুল ইলম, আহলুল ফিকহ ও আহলুল হাদীছ’।[9]

৩. নবী করীম (ছাঃ) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি জামা‘আত দ্বারা নাজাতপ্রাপ্ত দলের (ফিরক্বায়ে নাজিয়াহর) ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন আবুদাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুসতাদরাকে হাকেম ও অন্যান্য হাদীছের গ্রন্থে আবু সুফিয়ান (রাঃ) হ’তে বর্ণিত আছে। তিনি নবী করীম (ছাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, وَإِنَّ هَذِهِ الأُمَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً، يَعْنِي اَهْلَ الاَهْوَاءِ، كُلُّهاَ فِى النَّارِ اِلاَّ وَاحِدَةً وَهِىَ الْجَمَاعَةُ-  ‘নিশ্চয়ই এ উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। অর্থাৎ প্রবৃত্তির অনুসারীরা। একটি দল ব্যতীত তাদের সবগুলো জাহান্নামে যাবে। আর সেটি হ’ল জামা‘আত’।[10]

সুনান ইবনে মাজাহতে আওফ বিন মালেক আশজাঈ হ’তে বর্ণিত আছে। তিনি নবী করীম (ছাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন,وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَتَفْتَرِقَنَّ أُمَّتِيْ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِيْنَ فِرْقَةً، وَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَثِنْتَانِ وَسَبْعُوْنَ فِي النَّار،ِ قِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللهِ! مَنْ هُمْ؟ قَالَ: الْجَمَاعَةُ- ‘যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন রয়েছে তাঁর কসম করে বলছি, ‘অবশ্যই আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। তার মধ্যে একটি দল জান্নাতে যাবে আর বাহাত্তরটি জাহান্নামে যাবে। বলা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! তারা কারা? তিনি বললেন, জামা‘আত’।[11] এই দুই হাদীছে জামা‘আত বলতে পূর্বে উল্লেখিত হাদীছ সমূহে বর্ণিত জামা‘আত উদ্দেশ্য। যা আল্লামা শাত্বেবী হ’তে ‘জামা‘আতের অর্থ’ অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। অতএব যখন স্থির হয়ে গেল যে, নাজাতপ্রাপ্ত দল (ফিরকায়ে নাজিয়াহ) হ’ল জামা‘আত, তখন আহলুল ইলমদের নিকট নাজাতপ্রাপ্ত দলই সাহায্যপ্রাপ্ত দল (ত্বায়েফায়ে মানছূরাহ)।

ইবনু রজব (রহঃ) বলেন, সন্দেহের ফিৎনা এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার কারণ হ’ল কিবলা ওয়ালাদের বিভক্তি। তারা দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং একে অপরকে কাফের আখ্যা দিয়েছে। একমনা থাকার পর তারা বহু দল ও মতে বিভক্ত হয়ে পরস্পরে শত্রুতে পরিণত হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত একটি দল ব্যতীত এ সকল দলের একটিও নাজাত পাবে না। আর তারা হ’ল নবী করীম (ছাঃ)-এর নিম্নের বাণীতে উল্লেখিত দল- لاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِى ظَاهِرِيْنَ عَلَى الْحَقِّ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِىَ أَمْرُ اللهِ وَهُمْ عَلَي ذَلِكَ... ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। আল্লাহর নির্দেশ (ক্বিয়ামত) আসা পর্যন্ত অপদস্থকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। অথচ তারা সে অবস্থায় থাকবে...’।[12]

আল্লামা ছান‘আনী মুক্তিপ্রাপ্ত দল নির্ধারণ করতে গিয়ে বলেন, তারা হ’লেন নিম্নের হাদীছে বর্ণিত দল, ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত আমার উম্মতের একটি দল হকের উপরে বিজয়ী থাকবে। আল্লাহর নির্দেশ (ক্বিয়ামত) আসা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধবাদী ও অপদস্থকারীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

অথচ তারা সে অবস্থায় থাকবে’।[13]

শায়খ হাফেয ইবনু আহমাদ হাকামী (রহঃ)-এর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ বিষয়ে একটি কিতাব আছে। তিনি যার নামকরণ করেছেন- (أعلام السنة المنشورة في اعةقاد الطائفة الناجية المنصورة) ‘আ‘লামুস সুন্নাতিল মানশূরাহ ফী ই‘তিকাদিত ত্বায়েফাতিন নাজিয়াহ আল-মানছূরাহ’। গ্রন্থটির শিরোনাম প্রমাণ করে যে, তার নিকট সাহায্যপ্রাপ্ত ও মুক্তিপ্রাপ্ত দল একটিই। কারণ তিনি সাহায্যপ্রাপ্ত ও মুক্তিপ্রাপ্ত দু’টি গুণ একটি দলের জন্য নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর উল্লেখিত গ্রন্থে তিনি বলেছেন, নবী করীম (ছাঃ) তাঁর নিম্নের বাণী দ্বারা কোন দল উদ্দেশ্য করেছেন, ‘আমার উম্মতের একটি দল বিজয়ী থাকবে’?[14] জবাবে তিনি বলেন, এই দলটি হ’ল সে তিয়াত্তর দলের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি দল, যাকে নবী করীম (ছাঃ) তাঁর নিম্নের বাণী দ্বারা আলাদা করেছেন,كُلُّهَا فِى النَّارِ إِلاَّ وَاحِدَةً وَهِىَ الْجَمَاعَةُ ‘একটি দল ব্যতীত তার সবগুলো জাহান্নামে যাবে, আর সেটি হ’ল জামা‘আত’।[15]

রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর পরে উম্মতে মুহাম্মাদীর বিভক্তি সম্পর্কে শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীনকে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি উত্তরে বলেন,

أخبر النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فيما صح عنه أنَّ اليهود افترقوا على إحدى وسبعين فرقة، والنصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وَأَنَّ هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين فرقة، وهذه الفرق كلها في النار إلا واحدة، وهي ما كان على مثل ما كان عليه النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وأصحابه، وهذه الفرقة هي الفرقة الناجية التي نجت في الدنيا من البدع، وتنجو في الآخرة من النار، وهي الطائفة المنصورة إلى قيام الساعة التي لا تزال ظاهرة قائمة بأمر الله عز وجل-

‘নবী করীম (ছাঃ) থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হাদীছে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ইহুদীরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, নাছারারা (খ্রিস্টান) বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে এবং এ উম্মত শীঘ্রই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। এই দল সমূহের মধ্যে একটি দল ব্যতীত সবগুলোই জাহান্নামে যাবে। আর সেটি হ’ল যারা নবী করীম (ছাঃ) এবং ছাহাবায়ে কেরামের আদর্শের উপরে থাকবে। আর এই মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি যারা দুনিয়ায় বিদ‘আত থেকে মুক্ত হয়েছে এবং পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে, সেটিই ক্বিয়ামত অবধি সাহায্যপ্রাপ্ত দল (ত্বায়েফায়ে মানছূরাহ)। যে দলটি আল্লাহর নির্দেশে বিজয়ী হয়ে টিকে থাকবে’।[16]

আমরা পূর্বের আলোচনায় লক্ষ্য করেছি যে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত দলের টিকে থাকার ব্যাপারে বর্ণিত দলীল সমূহ সুস্পষ্ট। আর সাহায্যপ্রাপ্ত (ত্বায়েফায়ে মানছূরাহ) দলটি হ’ল জামা‘আত। এর উপর ভিত্তি করে বলা যায়, আমাদেরকে যে  জামা‘আত অাঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেটি যুগের পরিক্রমায় বিদ্যমান রয়েছে। অতএব সেটি খুঁজে বের করা এবং সেটিকে অাঁকড়ে ধরার প্রতি কামনা থাকা আবশ্যক। কারণ তা অাঁকড়ে ধরা আবশ্যক। আর তা অাঁকড়ে ধরায় বহু উপকারিতা রয়েছে। পরের অধ্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা :

জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার প্রতি উৎসাহিত করে এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে সতর্ক করে বর্ণিত দলীল সমূহ জামা‘আতকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতার উপর সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। আর যারা তা ত্যাগ করবে তাদের জন্য কঠিন শাস্তির বর্ণনা রয়েছে। ওমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْفُرْقَةَ  ‘তোমাদের জন্য আবশ্যক হ’ল যে, জামা‘আতবদ্ধ থাকবে এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে দূরে থাকবে’।[17] হুযায়ফা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে রয়েছে,تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِيْنَ وَإِمَامَهُمْ ‘তোমরা মুসলমানদের জামা‘আতকে এবং তাদের ইমামকে অাঁকড়ে ধরবে’।[18] ওমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার সুস্পষ্ট নির্দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর হুযায়ফা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ মুযারে‘-এর ছীগাহ আসলেও আমর (নির্দেশ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর আমরের ছীগাহ আবশ্যিকতার দাবী রাখে। হুযায়ফা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছের ব্যাপারে ইবনু বাত্ত্বাল (রহঃ) বলেন,فِيْهِ حُجَّةٌ لِجَمَاعَةِ الْفُقَهَاءِ فِيْ وُجُوْبِ لُزُوْمِ جَمَاعَةِ الْمُسْلِمِيْنَ وَتَرْكِ الْخُرُوْجِ عَلَى أَئِمَّةِ الْجَوْرِ ‘মুসলমানদের জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা এবং অত্যাচারী শাসকদের আনুগত্য থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে এখানে ফকীহদের জন্য দলীল রয়েছে’।[19] ইবনু ওমর এবং অন্যদের থেকে বর্ণিত হাদীছে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আর নাহী (নিষেধ) হারাম হওয়ার দাবী রাখে।

জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার নির্দেশ এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নিষেধের ব্যাপারে কুরআনের দলীলসমূহ অভিন্ন হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوْا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُوْنَ ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যেমনভাবে ভয় করা উচিত এবং তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না’ (আলে-ইমরান ৩/১০২)। ইবনু জারীর ত্বাবারী (রহঃ) তার সনদে ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হ’তে নিম্নের আয়াতের ব্যাপারে বর্ণনা করেন যে, وَاعْتَصِمُوْا بِحَبْلِ اللهِ جَمِيْعًا وَلاَ تَفَرَّقُوْا ‘তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। এর অর্থ জামা‘আত’।[20]

আল্লাহ তা‘আলার নিম্নের বাণীর ব্যাপারে ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেছেন, وَلاَ تَفَرَّقُوْا ‘তোমরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (আলে-ইমরান ৩/১০৩) ‘তিনি তাদেরকে জামা‘আতবদ্ধভাবে বসবাসের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দলে দলে বিভক্ত হ’তে নিষেধ করেছেন’।[21]

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ تَفَرَّقُوْا وَاخْتَلَفُوْا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَٰئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيْمٌ، يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوْهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوْهٌ- ‘আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে ও পরস্পর মতভেদে লিপ্ত রয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। সেদিন কতগুলি মুখমন্ডল হবে শ্বেতবর্ণ এবং কতক মুখমন্ডল হবে কৃষ্ণবর্ণ’ (আলে ইমরান ৩/১০৫-১০৬)

ইবনু জারীর (রহঃ) তার সনদে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নের বাণী সম্পর্কে ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন,  وَلَا تَكُوْنُوْا كَالَّذِيْنَ تَفَرَّقُوْا وَاخْتَلَفُوْا ‘আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে ও পরস্পরে মতভেদে লিপ্ত রয়েছে’ (আলে ইমরান ৩/১০৫) তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদেরকে জামা‘আত অাঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত ও পরস্পর মতভেদে লিপ্ত হ’তে নিষেধ করেছেন। তিনি তাদেরকে এ সংবাদও দিয়েছেন যে, তাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের ব্যাপারে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়ার কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।[22]

ইবনু কাছীর (রহঃ) আল্লাহ তা‘আলার নিম্নের বাণীর ব্যাপারে ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন, يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوْهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوْهٌ ‘সেদিন কতগুলি মুখমন্ডল হবে শ্বেতবর্ণ এবং কতক মুখমন্ডল হবে কৃষ্ণবর্ণ’ (আলে ইমরান ৩/১০৫)। তিনি বলেন, অর্থাৎ ক্বিয়ামতের দিন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের মুখমন্ডল হবে উজ্জ্বল এবং বিদ‘আতী ও বিভিন্ন

দলে বিভক্ত ব্যক্তিদের মুখমন্ডল হবে কালো।[23] 

জামা‘আত থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে শরী‘আত প্রণেতা যে কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করেছেন তা জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার আবশ্যকতার উপর গুরুত্বারোপ করে। ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনু আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, مَنْ رَاىَ مِنْ أَمِيْرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ يُفَارِقُ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَيَمُوْتُ إِلاَّ مَاتَ مِيْتَةً جَاهِلِيَّةً- ‘যে তার আমীরের মধ্যে অপসন্দনীয় কোন কিছু লক্ষ্য করে, তাহ’লে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেল এবং এমতাবস্থায় তার মৃত্যু হ’ল, সে জাহেলিয়াতের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল’।[24] ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা প্রমাণিত হয়েছে।[25] আবু যার ও হারেছ আশ‘আরী (রাঃ) থেকে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম (ছাঃ) বলেন, مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا، فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ- ‘যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, সে তার গর্দান হ’তে ইসলামের গন্ডি খুলে ফেলল’।[26]

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَاسْتَذَلَّ الْإِمَارَةَ لَقِيَ اللهَ وَلَا حُجَّةَ لَهُ عِنْدَهُ ‘যে ব্যক্তি জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হ’ল এবং ইমারতকে লাঞ্ছিত করল, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে তার পক্ষে কোন দলীল-প্রমাণ থাকবে না’।[27] ইমাম নববী (রহঃ) ছহীহ মুসলিমে এ মর্মে বর্ণিত হাদীছ সমূহের অধ্যায় রচনা করেছেন এভাবেباب وجوب ملازمة جماعة المسلمين عند ظهور الفتن وفي كل حال وتحريم الخروج من الطاعة ومفارقة الجماعة ‘ফিৎনার আবির্ভাব ও সর্বাবস্থায় মুসলমানদের জামা‘আত অাঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা এবং আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাওয়া ও জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া হারাম’ প্রসঙ্গে অনুচ্ছেদ।[28]

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আক্বীদাহ হ’ল তারা মনে করেন শাসকবর্গ যালেম ও পাপাচারী হ’লেও তাদের সাথে ছালাত আদায় এবং জিহাদ করা যাবে। এটি কেবল জামা‘আত রক্ষার জন্য। এ বিষয়টি জামা‘আতকে অাঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা ও তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার নিষিদ্ধতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে। ইমাম আবু ইসমাঈল ছাবূনী (রহঃ) বলেন, আহলুল হাদীছগণ মনে করেন দুই ঈদ, জুম‘আ সহ অন্যান্য ছালাত প্রত্যেক নেক্কার ও ফাজির (পাপাচারী) ইমামের পিছনে আদায় করাতে কোন বাধা নেই। তাদের নেতৃত্বে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকেও তারা জায়েয মনে করেন, যদিও তারা অত্যাচারী পাপাচারী হয়। তারা আরো মনে করেন যে, তাদের সংশোধন, তাওফীক প্রদান, ভাল হওয়া ও প্রজাদের মাঝে ইনছাফ কায়েমের জন্য দো‘আ করা যায়।[29]

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর ও আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পিছনে ছালাত আদায় করতেন। অথচ সে যুলুম-অত্যাচারে প্রসিদ্ধ ছিল।[30] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) ওয়ালীদ ইবনু ঊকবাহ ইবনে আবী মুঈত্ব-এর পিছনে ছালাত আদায় করতেন, যখন সে কূফার আমীর ছিল। অথচ সে মদ্যপান করত। একদিন সে ফজরের ছালাত চার রাক‘আত পড়িয়ে বলল, আমি কি তোমাদের জন্য ছালাত বৃদ্ধি করেছি? তখন ইবনু মাসঊদ (রাঃ) তাকে বললেন, আমি আজ পর্যন্ত যতদিন আপনার সাথে ছালাত আদায় করেছি, বেশি ছালাতই আদায় করেছি।[31] হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) ওয়ালীদের জীবনীতে লিখেছেন,وقصة صلاته بالناس الصبح أربعا وهو سكران مشهورة مخرجة ‘লোকদেরকে সাথে নিয়ে ওয়ালীদের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফজরে চার রাক‘আত ছালাত পড়ানোর কাহিনীটি প্রসিদ্ধ ও প্রমাণিত’।[32]

[চলবে]

 

[1]. বুখারী হা/৩৬০৬,৭০৮৪; মুসলিম হা/১৮৪৭; হাকেম হা/৩৮৬; ছহীহাহ হা/২৭৩৯; মিশকাত হা/৫৩৮২

[2]. বুখারী হা/৩৬৪১; মুসলিম হা/১৯২০; মিশকাত হা/৬২৭৬; ছহীহাহ হা/১৯৫; হাকেম হা/৮৩৯০; ইবনু মাজাহ হা/০৬; তিরমিযী হা/২১৯২; আহমাদ হা/১৮১৬০

[3]. মুসলিম হা/১৫৬, ‘ঈমান’ অধ্যায়; ছহীহাহ হা/১৯৬০

[4]. তিরমিযী হা/২১৯২, ‘ফিতান’ অধ্যায়; ইবনু মাজাহ হা/০৬; আহমাদ হা/১৫৬৩৫; ছহীহাহ হা/৪০৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৭২৯২; মিশকাত হা/৬২৮৩।

[5]. বুখারী হা/৩৬০৬,৭০৮৪; মুসলিম হা/১৮৪৭; হাকেম হা/৩৮৬; ছহীহাহ হা/২৭৩৯; মিশকাত হা/৫৩৮২

[6]. শারফু আছহাবিল হাদীছ, পৃঃ ২৬-২৭

[7]. তদেব

[8]. ছহীহ বুখারী ফাৎহ সহ ১৩/২৯৩

[9]. তিরমিযী হা/২১৬৭, ৪/৪৬৭

[10]. আবুদাউদ হা/৪৫৯৭; তিরমিযী হা/২৬৪১; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯২; ছহীহাহ হা/২০৩; ছহীহুল জামে‘ হা/১০৮২; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/১২৪৩৫; মিশকাত হা/১৭১

[11]. ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯২; ছহীহাহ হা/১৪৯২; যিলালুল জান্নাহ হা/৬৩

[12]. বুখারী হা/৩৬৪১; মুসলিম হা/১৯২০; মিশকাত হা/৬২৭৬; ছহীহাহ হা/১৯৫; হাকেম হা/৮৩৯০; ইবনু মাজাহ হা/০৬; তিরমিযী হা/২১৯২; আহমাদ হা/১৮১৬০; কাশফুল কুরবাহ পৃঃ ১৬

[13]. বুখারী হা/৩৬৪১; মুসলিম হা/১৯২০; মিশকাত হা/৬২৭৬; ছহীহাহ হা/১৯৫; হাকেম হা/৮৩৯০; ইবনু মাজাহ হা/০৬;তিরমিযী হা/২১৯২; আহমাদ হা/১৮১৬০; শারহু হাদীছে ইফতিরাকিল উম্মাহ, পৃঃ ৭৭-৮৬

[14]. বুখারী হা/৩৬৪১; মুসলিম হা/১৯২০; মিশকাত হা/৬২৭৬

[15]. হাকেম হা/৪৪৩; আহমাদ হা/১৬৯৭৯; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯৩

[16]. ইবনু উছায়মীন, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ১/৩৮

[17]. তিরমিযী হা/২১৬৫; হাকেম হা/৩৮৭; আহমাদ হা/১১৪; ইবনু হিববান হা/৪৫৭৬; ছহীহাহ হা/৪৩০

[18]. বুখারী হা/৩৬০৬;১৮৪৭; মিশকাত হা/৫৩৮২

[19]. ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ১৩/৩৭

[20]. তাফসীর ইবনে জারীর ৩/৩০

[21]. তাফসীর ইবনে কাছীর ২/৭৪

[22]. তাফসীর ইবনে জারীর তাবারী ৩/৩৯

[23]. তাফসীর ইবনে কাছীর ২/৭৬

[24]. বুখারী হা/৭০৫৩; মুসলিম হা/১৮৪৯; মিশকাত হা/৩৬৬৮

[25]. আহমাদ হা/৬১৬৬; ইবনু হিববান হা/৪৫৭৮; মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৭৫১১; আবু আ‘ওয়ানা হা/৭১৫৫, সনদ ছহীহ

[26]. আবুদাউদ হা/৪৭৫৮; হাকেম হা/৪০১; আহমাদ হা/২২৯৬১; ছহীহুল জামে‘ হা/৬৪১০; ছহীহ আত-তারগীব হা/৫; যিলালুল জান্নাহ হা/৮৯২; মিশকাত হা/১৮৫

[27]. হাকেম হা/৪০৯; আহমাদ হা/২৩৩৩১; মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হা/ ৯১২৮, এ হাদীছের সনদ ছহীহ। হাকেম ও আল্লামা যাহাবী বলেন, হাদীছ ছহীহ। শু‘আইব আরনাউত বলেন, হাসান

[28]. শারহ ছহীহ মুসলিম ১২/২৩৬

[29]. আক্বীদাতু আছহাবিল হাদীছ, পৃঃ ৯২

[30]. বুখারী। [হাদীছটি বুখারীর কোন নুসখাতে নেই। যদিও অনেক ওলামায়ে কেরাম বুখারীতে থাকার কথা বলেছেন। বরং বায়হাকীসহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে রয়েছে। যেমন عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، اعْتَزَلَ بِمِنًى فِي قِتَالِ ابْنِ الزُّبَيْرِ، وَالْحَجَّاجُ بِمِنًى فَصَلَّى مَعَ الْحَجَّاجِ নাফে‘ হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের (রাঃ)-কে হত্যা করার সময় ইবনু ওমর (রাঃ) মিনায় আলাদাভাবে অবস্থান নিলেন। তখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ মিনায় অবস্থান করছিল। তিনি তার সাথে ছালাত আদায় করলেন (বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/৫০৮৪; মুসনাদে শাফেঈ হা/২৩০; ইরওয়া হা/৫২৫, আলবানী (রহঃ) বলেন, হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) তাঁর তালখীছ গ্রন্থে বলেন, رواه البخاري في حديث ‘ইমাম বুখারী একটি হাদীছে এটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি এটি বুখারীতে পাইনি। এর সনদ ছহীহ। ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, وَقَدْ كَانَ الصَّحَابَةُ رِضْوَانُ اللهِ عَلَيْهِمْ يُصَلُّونَ خَلْفَ مَنْ يَعْرِفُونَ فُجُورَهُ كَمَا صَلَّى عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَغَيْرُهُ مِنْ الصَّحَابَةِ خَلْفَ الْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي معيط وَكَانَ قَدْ يَشْرَبُ الْخَمْرَ وَصَلَّى مَرَّةً الصُّبْحَ أَرْبَعًا وَجَلَدَهُ عُثْمَانُ بْنُ عفان عَلَى ذَلِكَ. وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ وَغَيْرُهُ مِنْ الصَّحَابَةِ يُصَلُّونَ خَلْفَ الْحَجَّاجِ بْنِ يُوسُفَ. وَكَانَ الصَّحَابَةُ وَالَتَابعون يُصَلُّونَ خَلْفَ ابْنِ أَبِي عُبَيْدٍ وَكَانَ مُتَّهَمًا بِالْإِلْحَادِ وَدَاعِيًا إلَى الضَّلَالِ ’ছাহাবায়ে কেরাম ঐ সকল লোকদের পিছনে ছালাত আদায় করেছেন, যাদের পাপাচার সম্পর্কে তারা জানতেন। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) ও অন্যান্য ছাহাবীগণ ওয়ালীদ ইবনু উক্ববাহ ইবনে মু্‘ঈতের পিছনে ছালাত আদায় করেছেন। অথচ সে মদ্যপান করত। একবার সে ফজরে চার রাকা‘আত ছালাত পড়িয়েছিল। ওছমান ইবনু আফফান (রাঃ) তাকে মদ্যপানের কারণে বেত্রাঘাতও করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) ও অন্যান্য ছাহাবীগণ হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পিছনে ছালাত আদায় করতেন। ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈগণ ইবনু আবী ঊবাইদের পিছনে ছালাত আদায় করতেন। অথচ সে নাস্তিকতার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল এবং ভ্রান্ত পথের দিকে আহবানকারী ছিল (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩/২৮১)। عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَدِىِّ بْنِ خِيَارٍ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضى الله عنه وَهْوَ مَحْصُوْرٌ فَقَالَ إِنَّكَ إِمَامُ عَامَّةٍ، وَنَزَلَ بِكَ مَا تَرَى وَيُصَلِّى لَنَا إِمَامُ فِتْنَةٍ وَنَتَحَرَّجُ. فَقَالَ الصَّلاَةُ أَحْسَنُ مَا يَعْمَلُ النَّاسُ، فَإِذَا أَحْسَنَ النَّاسُ فَأَحْسِنْ مَعَهُمْ، وَإِذَا أَسَاءُوا فَاجْتَنِبْ إِسَاءَتَهُمْ. ওবায়দুল্লাহ ইবনু আদী ইবনে খিয়ার হ’তে বর্ণিত, যখন ওছমান (রাঃ) অবরুদ্ধ ছিলেন তখন তিনি তার নিকট প্রবেশ করে বললেন, আপনি জনগণের নেতা। আর আপনার উপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে তা দেখতে পাচ্ছেন। আমাদেরকে একজন ফিৎনাবাজ নেতা ছালাত পড়াচ্ছে। আমরা সংকোচবোধ করছি। তখন ওছমান (রাঃ) বললেন, ‘মানুষের আমলসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হ’ল ছালাত। যখন লোকেরা সুন্দর করে ছালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও তাদের সাথে একে সুন্দরভাবে আদায় করবে। আর যখন তারা কোন খারাপ করবে তখন তোমরা তাদের খারাপ থেকে বিরত থাকবে’ (বুখারী হা/৬৯৫।- অনুবাদক)।

[31]. ইবনু আবিল ইয, শারহুল আক্বীদাতিত ত্বাহাবিয়া, পৃঃ  ৩২২

[32]. আল-ইছাবাহ ১০/৩১৩

 

HTML Comment Box is loading comments...