প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা

হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/১) : ইসলাম গ্রহণ করায় জনৈকা মহিলা স্বীয় খৃষ্টান পিতা-মাতাসহ গোটা পরিবার কর্তৃক পরিত্যক্ত। খৃষ্টান রাষ্ট্র হওয়ায় সরকারী অলীও নেই। এক্ষণে অভিভাবকবিহীন উক্ত মহিলাকে বিবাহ করতে চাইলে করণীয় কি?

-রোকনুযযামান, চারঘাট, রাজশাহী।

উত্তর : অমুসলিম পিতা-মাতা, কিংবা ভাই ও চাচারা অভিভাবক হওয়ার যোগ্য নয়। এমতাবস্থায় স্থানীয় মুসলিম নেতা বা মসজিদের ইমাম তার অভিভাবক হবেন। শরী‘আতে মুসলিম অভিভাবকের অবর্তমানে মুসলিম শাসকের কথা এসেছে (ইবনু মাজাহ হা/১৮৮০, মিশকাত হা/৩১৩১)। এর মধ্যে সকল পর্যায়ের মুসলিম নেতৃবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত। ইবনে কুদামা (রহঃ) বলেন, কোন কাফের কোন মুসলিম নারীর অলী হতে পারবে না। এক্ষণে যদি কোন মুসলিম শাসক বা নেতা পাওয়া না যায়, তবে কোন ন্যায়পরায়ণ মুমিন ব্যক্তি উক্ত মহিলার সম্মতিক্রমে তাকে বিবাহ দিবে (মুগনী ৭/২৭, ১৮)

প্রশ্ন (২/২) : জনৈক আলেম বলেন, সূরা ফাতিহা কুরআনের অংশ নয়। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-হাসনাহেনা, নরসিংদী।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। রাসূল (ছাঃ) সূরা ফাতিহাকে পবিত্র কুরআনের সর্বাপেক্ষা মর্যাদা সম্পন্ন সূরা হিসাবে উল্লেখ করেছেন (বুখারী হা/৪৪৭৪, মিশকাত হা/২১১৮)

প্রশ্ন (৩/৩) : জ্যোতিষশাস্ত্র সম্পর্কে শরী‘আতের নির্দেশনা কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আলমগীর প্রামাণিক, ব্রাক ব্যাংক, রংপুর।

উত্তর : জ্যোতিষশাস্ত্র হ’ল কিছু পদ্ধতি, প্রথা এবং বিশ্বাসের সমষ্টি, যাতে মহাকাশে নক্ষত্রসমূহের আপেক্ষিক অবস্থান এবং তৎসংশ্লিষ্ট তথ্যাদির মাধ্যমে মানব জীবন, মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং মানবীয় ও বহির্জাগতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। এখানে জ্যোতিষ্কসমূহের আপেক্ষিক অবস্থান পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষের জীবনধারায় প্রভাব বিস্তার করে বলে বিশ্বাস করা হয়। আর জ্যোতির্বিজ্ঞান জ্যোতিষশাস্ত্র থেকে পৃথক একটি বিষয়, যেখানে মহাকাশের বস্ত্ত সমূহ নিয়ে গবেষণা করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা শিরক। কেননা নক্ষত্রের কোন ক্ষমতা নেই মানুষের ভাল-মন্দ করার আল্লাহর হুকুম ব্যতীত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, ঐ ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার সাথে কুফরী করল’ (আহমাদ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৫৯৯ সনদ ছহীহ)। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি গণৎকারের কাছে যায় এবং (সত্য ভেবে) তার কাছে কোন কথা জিজ্ঞেস করে, তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হয় না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৫৯৫)

একদিন কিছু লোক রাসূল (ছাঃ)-কে গণৎকারদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ওরা কিছুই নয়। লোকেরা বলল, এদের কথা যে অনেক সময় সত্য হয়?’। রাসূল (ছাঃ) বললেন, ওরা আকাশে ফেরেশতাদের আলোচনা থেকে কিছু কথা চুরি করে এনে দুনিয়ায় তার বন্ধুর কানে ভরে দেয়। তারপর ঐ জ্যোতিষী বন্ধু তাতে শত মিথ্যা যোগ করে মানুষকে শুনায় (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৫৯২-৯৩, ‘জ্যোতিষীর গণনা’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৪/৪) : ঠিকাদারী পেশা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-আব্দুল জলীল, জলঢাকা, নীলফামারী।

উত্তর : নিম্নোক্ত শর্তাবলী মেনে চললে ঠিকাদারী পেশা শরী‘আতসম্মত হবে। (১) মালিকের সাথে কৃত শর্তমাফিক কাজ শেষ করতে হবে (মায়েদাহ ৫/১)। (২) কোনরূপ অন্যায় ও ধোঁকার আশ্রয় নেওয়া যাবে না (মুসলিম হা/১০২, ২৯৪; মিশকাত হা/২৮৬০, ৩৫২০)। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করো না, উভয়ের সন্তুষ্টিতে ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ ব্যতীত’ (নিসা ২৯)

প্রশ্ন (৫/৫) : পৃথিবীতে সবসময়ই কোন না কোন স্থানে রাতের তৃতীয় প্রহর থাকে। ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী আল্লাহ এ সময় দুনিয়ার আসমানে নামেন। এক্ষণে তিনি কি তাহ’লে সর্বদাই নিম্ন আকাশে থাকেন?

-ইশফাক তামীম, লালপুর, নাটোর।

উত্তর : আল্লাহ আরশে সমুন্নীত এবং তিনি অবশ্যই অবতরণ করেন, যেভাবে অবতরণ করা তাঁর মর্যাদার উপযোগী হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ প্রতি রাতের তৃতীয় প্রহরে নিম্ন আকাশে অবতরণ করেন এবং ফজর পর্যন্ত বান্দাদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, কে আছ আমাকে আহবানকারী, আমি তার আহবানে সাড়া দেব। কে আছ আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব। কে আছ আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করব’। এভাবে বলতে থাকেন যতক্ষণ না ফজরের আলো স্পষ্ট হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২২৩; মুসলিম হা/৭৫৮)। হাদীছটি মুতাশাবিহ। যার অর্থ স্পষ্ট। কিন্তু ধরণ অস্পষ্ট। অতএব আয়াতের প্রকাশ্য অর্থের উপর ঈমান রাখা আবশ্যক। অস্পষ্ট বিষয়ের পিছনে ছুটতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন (আলে ইমরান ৭, ইসরা ৩৬)। আল্লাহর কুরসী আকাশ ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে (বাক্বারাহ ২৫৫)। তাঁর তুলনীয় কিছুই নেই। তিনি সবকিছু শোনেন ও দেখেন’ (শূরা ১১)। তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ সমূহে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সবকিছু প্রকাশ্য অর্থে বিশ্বাস করতে হবে কোনরূপ পরিবর্তন, প্রকৃতি নির্ধারণ, শূন্যকরণ, তুলনাকরণ বা ন্যস্তকরণ ছাড়াই (আলোচনা দ্রঃ ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ থিসিস, পৃঃ ১১৭)। মানবজাতিকে আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞানের খুব সীমিত অংশই দান করেছেন। তাছাড়া পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রভাবিত মানুষের জ্ঞান ত্রুটিহীন নয়। সুতরাং গায়েবের বিষয় নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা নিতান্তই নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক। বরং ছহীহ হাদীছটির প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আল্লাহর ইবাদতে রত হ’তে হবে।

প্রশ্ন (৬/৬) : বর্তমানে প্রচলিত আউটসোর্সিং পেশা গ্রহণে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-কাওছার আহমাদ, ভেলাবাড়ী, রাজশাহী।

উত্তর : এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা একটি ব্যবসার নাম, যা ঘরে বসে করা যায়। অনলাইনে এরূপ অনেক ফ্রিল্যান্সিং কোম্পানী রয়েছে যেমন ওডেক্স, এলান্স, ল্যান্সটেক, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদি। এ কোম্পানীগুলিতে কোনরূপ ফি ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন করে স্বীয় যোগ্যতা অনুযায়ী ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স, ডাটাএন্ট্রি ইত্যাদি কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন কোম্পানী পসন্দ অনুযায়ী অনলাইনে এসব কোম্পানীর মাধ্যমে কাজ দেয় এবং নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক প্রদান করে। স্বীয় কর্মদক্ষতা ও পরিশ্রমের বিনিময়ে এখানে উপার্জন করতে হয়। এরূপ আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে আয় করায় শরী‘আতে কোন বাধা নেই। তবে সর্বদা ‘নেকী ও আল্লাহভীরুতার কাজে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ২) এ নির্দেশ মেনে চলতে হবে। যেমন এ্যালকোহল, নষ্ট সিনেমা, অন্যায় ও অশ্লীল কোন কাজ বা কোন সূদী প্রতিষ্ঠানের কাজে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।

প্রশ্ন (৭/৭) : হযরত ওমর (রাঃ) সম্পর্কে শোনা যায় তিনি রাতে প্রজাদের অবস্থা দেখার সময় জনৈক মাকে শুন্য হাড়ি চড়িয়ে ক্ষুধার্ত শিশুদের সান্ত্বনা দেওয়ার দৃশ্য দেখে স্বয়ং বায়তুল মাল থেকে পিঠে খাদ্যদ্রব্য বহন করে তাদের খাবারের ব্যবস্থা  করেছিলেন। এ ঘটনার কোন সত্যতা আছে কি?

 -দেলোয়ার হোসাইন

কুঠিবাড়ী, কমলাপুর, ফরিদপুর।

উত্তর : এ ঘটনা বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যেমন ইবনু জারীর ত্বাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক ৪/২০৫; আহমাদ দীনাওয়ারী, আল-মুজালাসাহ ২/৮; খাত্ত্বাবী, গারীবুল হাদীছ ২/৫২; ইবনু আসাকির, তারীখু দিমাশক ৪৪/৩৫২-৩৫৩ ইত্যাদি। ত্বাবারী সংকলিত বর্ণনাটির সনদ জাইয়িদ। অতএব ঘটনাটি গ্রহণযোগ্য।

প্রশ্ন (৮/৮) : ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়া কিভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন? তার মৃত্যুর ব্যাপারে যেসব কাহিনী প্রচলিত আছে, তার কোন ভিত্তি আছে কি?

-আব্দুল ওয়ারেছ, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়া ৬৪ হিজরীর ১৪ই রবীঊল আউয়াল ৩৫ বা ৩৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন (ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৮/২৪৭)। মৃত্যুকালে ইয়াযীদের শেষ কথা ছিল, ‘হে আল্লাহ! আমাকে পাকড়াও করো না ঐ বিষয়ে যা আমি চাইনি এবং আমি প্রতিরোধও করিনি এবং আপনি আমার ও ওবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের মধ্যে ফায়ছালা করুন’ (আল-বিদায়াহ ৮/২৩৯ পৃঃ)

তার মৃত্যু সম্পর্কে যে বলা হয়ে থাকে যে, তিনি শিকারে বের হলে হিংস্র পশুর হামলায় তাকে নির্যাতিত হয়ে মৃত্যু বরণ করতে হয়। এসব কথা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়। বরং এগুলি শী‘আদের অতিরঞ্জন মাত্র। ইবনু আসাকির স্বীয় ‘তারীখে’ ইয়াযীদকে মদখোর, ছালাত ত্যাগকারী, ফাসেক ইত্যাদি মন্দ স্বভাবের বর্ণনায় যে সব উদ্ধৃতি পেশ করেছেন, সে সম্পর্কে ইবনু কাছীর বলেন,وَقَدْ أَوْرَدَ ابْنُ عَسَاكِرَ أَحَادِيثَ فِي ذَمِّ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ كُلُّهَا مَوْضُوعَةٌ لاَ يَصِحُّ شَيْءٌ مِنْهَا ‘ইয়াযীদের মন্দ স্বভাব সম্পর্কে ইবনু আসাকির বর্ণিত উক্তি সমূহের সবগুলিই জাল। যার একটিও বিশুদ্ধ নয় (আল-বিদায়াহ ৮/২৩৪ পৃঃ)

ইয়াযীদ বিন মু‘আবিয়াহ-র চরিত্র সম্পর্কে হুসায়েন (রাঃ)-এর অন্যতম বৈমাত্রেয় ছোট ভাই ও শী‘আদের খ্যাতনামা ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিইয়াহ (রাঃ) বলেন, ‘আমি তাঁর মধ্যে ঐ সব বিষয় দেখিনি, যেসবের কথা তোমরা বলছ। অথচ আমি তাঁর নিকটে হাযির থেকেছি ও অবস্থান করেছি এবং তাঁকে নিয়মিতভাবে ছালাতে অভ্যস্ত ও কল্যাণের আকাংখী দেখেছি। তিনি ‘ফিক্বহ’ বিষয়ে আলোচনা করেন এবং তিনি সুন্নাতের পাবন্দ ছিলেন’ (আল-বিদায়াহ ৮/২৩৬)

এছাড়া সমুদ্র অভিযান এবং রোমকদের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল বিজয়ে অংশগ্রহণকারীদেরকে রাসূল (ছাঃ) ক্ষমাপ্রাপ্ত ও তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব বলে ঘোষণা করেছেন (বুখারী হা/২৯২৪, ‘জিহাদ’ অধ্যায় ‘রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ অনুচ্ছেদ)। মুহাল্লাব বলেন, এই হাদীছের মধ্যে হযরত মু‘আবিয়া (রাঃ) ও তাঁর পুত্র ইয়াযীদ-এর মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা হযরত ওছমান (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (২৩-৩৫ হিঃ) সিরিয়ার গভর্ণর থাকাকালীন সময়ে মু‘আবিয়া (রাঃ) ২৭ হিজরী সনে রোমকদের বিরুদ্ধে ১ম সমুদ্র অভিযান করেন। অতঃপর মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর খেলাফতকালে (৪১-৬০হিঃ) ৫১ হিজরী মতান্তরে ৪৯ হিজরী সনে ইয়াযীদের নেতৃত্বে রোমকদের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের উদ্দেশ্যে যুদ্ধাভিযান প্রেরিত হয় (ইবনু হাজার, ফৎহুল বারী ৬/১২০-২১)

ইবনু কাছীর বলেন, ইয়াযীদের সেনাপতিত্বে পরিচালিত উক্ত অভিযানে স্বয়ং হুসায়েন (রাঃ) অংশ গ্রহণ করেন (আল-বিদায়াহ ৮/১৫৩ পৃঃ)। এতদ্ব্যতীত যোগদান করেছিলেন আব্দুল্লাহ বিন ওমর, আব্দুল্লাহ বিন আববাস, আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের, আবু আইয়ূব আনছারী প্রমুখ খ্যাতনামা ছাহাবীগণ (ইবনুল আছীর, ‘আল-কামেল ফিত-তারীখ’ ৩/৫৭; দ্রষ্টব্যঃ আশূরায়ে মুহাররম ও আমাদের করণীয়’ বই)

প্রশ্ন (৯/৯) : আমাদের এলাকায় প্রতিযোগিতামূলক খেলা হয়, যেখানে সকল দলের নিকট থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। সে টাকা দিয়ে আয়োজনের খরচ এবং পুরস্কার ক্রয় করা হয়। এরূপ আয়োজনে অংশগ্রহণ করা জায়েয হবে কি?

-মশিউর রহমান

গোমস্তাপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : এটাতে কোন দোষ নেই। স্রেফ স্বাস্থ্যরক্ষা ও বিনোদনের জন্য জুয়া ও অপচয়মুক্ত খেলাধূলার আয়োজনে ও তাতে অংশগ্রহণে শরী‘আতে কোন বাধা নেই। কিন্তু কোন খেলা যদি সাময়িক শরীর চর্চার বদলে কেবল সময়ের অপচয়, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ঐ ব্যক্তি যদি দ্বীন থেকে গাফেল বা দায়িত্ব থেকে বিস্মৃত হয় কিংবা তাতে জুয়া মিশ্রিত হয়, তখন ঐ খেলা হারামে পরিণত হয়। যেমন একদিন দু’জন আনছার ছাহাবী তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা করছিলেন। হঠাৎ একজন বসে পড়লেন। তখন অপরজন বিস্মিত হয়ে বললেন, কি ব্যাপার। কষ্ট হয়ে গেল নাকি? জবাবে তিনি বললেন, ‘না। আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক বস্ত্ত যা আল্লাহর স্মরণকে ভুলিয়ে দেয়, সেটাই অনর্থক কাজ (لَهْو) ... (নাসাঈ, ছহীহাহ হা/৩১৫)। এতে বুঝা যায় যে, বৈধ খেলাও যদি আল্লাহর স্মরণকে ভুলিয়ে দেয়, তবে সেটাও জায়েয হবে না। ইমাম বুখারী (রহঃ) অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন, ‘প্রত্যেক খেলাধূলা (لَهْو) বাতিল, যদি তা আল্লাহর আনুগত্য থেকে উদাসীন করে দেয়’ (ফাৎহুলবারী ‘অনুমতি গ্রহণ’ অধ্যায় ৭৯, অনুচ্ছেদ ৫২; ১১/৯৪ পৃঃ)

প্রশ্ন (১০/১০) : গোপন শিরক বলতে কি বুঝায় এবং তা কি কি? এথেকে বাঁচার উপায় কি?

-আফযাল, মাটিয়ানী, পীরগঞ্জ, রংপুর।

উত্তর : গোপন শিরক হ’ল যা বাহ্যিকভাবে দেখা যায় না। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, যা অন্ধকার রাতে কালো পাথরের উপর কালো পিঁপড়ার বিচরণের চেয়েও গোপন’ (ইবনু কাছীর)। উক্ত শিরক সাধারণতঃ নিয়ত বা সংকল্পের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আর তা হ’ল, রিয়া বা লোক দেখানো আমল করা। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল (ছাঃ) বের হয়ে আমাদের নিকটে আসলেন। এমতাবস্থায় আমরা দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন রাসূল (ছাঃ) আমাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জালের চেয়েও অধিক ভয়ংকর কিছুর সংবাদ দিব? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তা হ’ল, الشِّرْكُ الْخَفِىُّ ‘গোপন শিরক’। কোন ব্যক্তি ছালাতে দাঁড়ালে যখন অন্য ব্যক্তি তার ছালাতের দিকে লক্ষ্য করে, তখন সে আরও সুন্দরভাবে ছালাত আদায় করে’ (মুসনাদে আহমাদ হা/১১২৭০; ইবনু মাজাহ হা/৪২০৪; মিশকাত হা/৫৩৩৩)। অতএব লোক দেখানো প্রত্যেকটি আমলই গোপন শিরক, যা থেকে বেঁচে থাকা আমাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

এছাড়া কথার মাধ্যমে উক্ত শিরক হয়ে থাকে। যা ব্যক্তির অগোচরে তার নিয়তের মধ্যে ঢুকে পড়ে। যেমন ইবনু আববাস (রাঃ) উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেমন কেউ বলল, আল্লাহর কসম এবং হে অমুক! তোমার ও আমার জীবনের কসম। অথবা বলল, যদি এই কুকুরটা না থাক, তাহ’লে আমাদের কাছে চোর আসত। অথবা কেউ কাউকে বলল, যা আল্লাহ চান ও আপনি চান। অথবা যদি আল্লাহ না থাকতেন ও অমুক না থাকত। তিনি বলেন, তুমি তোমার কথায় ‘অমুক’-কে যোগ করো না। কেননা এগুলি সবই শিরক। হাদীছে এসেছে, একদিন জনৈক ব্যক্তি এসে রাসূল (ছাঃ)-কে বলল, যদি আল্লাহ চান ও আপনি চান। উত্তরে রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর সাথে শরীক করছ? (আহমাদ, আদাবুল মুফরাদ হা/৭৮৩; ইবনু কাছীর, তাফসীর বাক্বারাহ ২২)। উছায়মীন বলেন, ব্যক্তির বিশ্বাস অনুযায়ী এগুলি বড় অথবা ছোট শিরকে পরিণত হয় (আল-ক্বাওলুল মুফীদ ২/৩২৩)। অতএব এগুলি থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করলে ছোট-বড় সকল প্রকার শিরক থেকে বাঁচা যায়।-اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ (‘হে আল্লাহ! জেনেশুনে তোমার সাথে শিরক করা থেকে আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং অজ্ঞতাবশে শিরক করা থেকে আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি’ (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৭১৬; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭৩১,)

প্রশ্ন (১১/১১) : ব্রাক, আশা, প্রশিকা, কারিতাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন ইত্যাদি এনজিও প্রদত্ত বাথরূম নির্মাণের উপকরণ সমূহ গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?

-শহীদুল ইসলাম

মোগলাহাট, লালমণিরহাট।

উত্তর : সাধারণভাবে এগুলি গ্রহণ করা জায়েয। কেননা রাসূল (ছাঃ) অমুসলিমদের নিকট থেকে উপহার গ্রহণ করেছেন। আবু হুমায়েদ বর্ণনা করেন যে, আয়লার শাসক নবী করীম (ছাঃ)-কে একটি সাদা খচ্চর উপহার দিয়েছিলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন (বুখারী ২/১৯৫ পৃঃ, ‘মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করা’ অনুচ্ছেদ)। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ)-কে (জনৈক মুশরিক-এর পক্ষ থেকে) একটা রেশমী জুববা উপহার দেওয়া হয়েছিল (বুখারী ১/৩৫৬ পৃঃ, ‘মুশরিকদের উপঢৌকন গ্রহণ’ অধ্যায়)

কিন্তু ঐসব এনজিও-র উদ্দেশ্য মন্দ। কেননা এরা সমাজে কিছু কিছু ভাল কাজের আড়ালে ধর্মান্তরকরণ, নারীর পর্দাহীনতা, একসন্তান নীতি গ্রহণ প্রভৃতি ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। অতএব ঐসব প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত অনুদান গ্রহণ করলেও এদের অনৈসলামী কার্যক্রম হ’তে দূরে থাকতে হবে।

প্রশ্ন (১২/১২) : সূরা হূদের ১০৭-১০৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

-সাজ্জাদ চৌধুরী, রাজবাড়ী।

উত্তর : অত্র আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ বলেন, সেখানে (জাহান্নামে) তারা চিরকাল থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক যদি অন্য কিছু চান। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক যা চান তা করে থাকেন। পক্ষান্তরে যারা ভাগ্যবান, তারা চিরকাল জান্নাতে থাকবে, যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক যদি অন্য কিছু চান। আর এ দান হবে অবিচ্ছিন্ন’।

প্রথম আয়াতে ‘তবে তোমার প্রতিপালক যদি অন্য কিছু চান’ দ্বারা তাওহীদপন্থী কবীরা গোনাহগারদের সম্পর্কে বলা হয়েছে বলে প্রাচীন ও আধুনিক বহু মুফাসসির মত প্রকাশ করেছেন। যাদেরকে আল্লাহ ফেরেশতা, নবী ও মুমিনদের সুফারিশক্রমে জাহান্নাম থেকে পর্যায়ক্রমে বের করে নিবেন। যারা বুঝে-শুনে খালেছ অন্তরে অন্ততঃ একবার কালেমা ত্বাইয়েবা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করেছে’।

দ্বিতীয় আয়াতে ‘যতদিন আসমান ও যমীন বর্তমান থাকবে’ কথাটি আরবদের একটি প্রসিদ্ধ বাকরীতি। যা দ্বারা কোন বস্ত্তর চিরস্থায়ীত্ব বুঝানো হয় (কুরতুবী)। অত্র আয়াতে ‘তবে তোমার প্রতিপালক যদি অন্য কিছু চান’ বলে জান্নাতীদের চিরকাল শান্তিতে রাখার বিষয়টি আল্লাহর উপর অপরিহার্য নয় সেটা বুঝানো হয়েছে। বরং এটা তাঁর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তবে তাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ সর্বদা থাকবে। সেকথা আয়াতের শেষে বলে দেয়া হয়েছে যে, ‘এ দান হবে অবিচ্ছিন্ন’ (ইবনু কাছীর, হূদ ১০৭-১০৮ আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য)

প্রশ্ন (১৩/১৩) : সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় মাতা তাকে হেফযখানায় পড়ানোর নিয়ত করেন। পরবর্তীতে শত চেষ্টা করেও তাতে সফল হননি। এক্ষণে উক্ত মায়ের করণীয় কি?

-তামীমা, কালিহাতি, টাঙ্গাইল।

উত্তর : সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তাকে কুরআনের হাফেয বানানোর নিয়ত করার জন্য উক্ত মা পূর্ণ নেকী পেয়ে যাবেন। ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা‘আলা নেকী ও পাপ লিখেন। অতএব যে ব্যক্তি কোন নেকী করার সংকল্প করে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারে না, আল্লাহ তার জন্য পূর্ণ নেকী লিখে থাকেন। আর যে ব্যক্তি তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তার আমলানামায় ১০ থেকে ৭শ’র অধিক নেকী লেখা হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পাপের সংকল্প করে, কিন্তু তা কাজে পরিণত করে না, তার জন্য একটি নেকী লেখা হয়। আর যদি তা কাজে পরিণত করে তবে তার জন্য মাত্র একটি পাপ লেখা হয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৩৭৪ ‘আল্লাহর রহমত প্রশস্ত’ অনুচ্ছেদ ‘দো‘আ’ অধ্যায়)। শত চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার কারণে আল্লাহর নিকট সন্তানের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করা ব্যতীত অন্য কিছুই করণীয় নেই।

প্রশ্ন (১৪/১৪) : একটি মিথ্যা বললে সাত হাযার বছর জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে’- এ কথার কোন ভিত্তি আছে কি?

শাহরিয়ার, রাজশাহী।

উত্তর : এ মর্মে কোন হাদীছ পাওয়া যায় না। তবে মিথ্যা কথা বলা নিঃসন্দেহে কবীরা গুনাহ (হজ্জ ৩০; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০, ‘মুনাফিকের আলামত ও কবীরা গোনাহ সমূহ’ অনুচ্ছেদ; মুসলিম, মিশকাত হা/৫০৩১, ৪৮২৪)। আল্লাহ মিথ্যুকের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করেছেন। যেমন রাসূল (ছাঃ)-কে স্বপ্নে মিথ্যুকের শাস্তি দেখানো হয়েছে যে, মিথ্যুকের এক চোয়াল থেকে আরেক চোয়াল পর্যন্ত মাথা বাঁকা লোহার অস্ত্র দিয়ে চিরে ফেলা হবে। অতঃপর তা ভাল হয়ে যাবে। আবার চেরা হবে। এভাবে কিয়ামত পর্যন্ত তার শাস্তি চলতে থাকবে (বুখারী হা/১৩৮৬; মিশকাত হা/৪৬২১)। অতএব মিথ্যা কথা থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

প্রশ্ন (১৫/১৫) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, রাসূল (ছাঃ) ৬ কিলোমিটার দূরত্বে গমন করেও ক্বছর ছালাত আদায় করেছেন। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?

-আল-আমীন

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : সফরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে ৬ কিঃমিঃ নয়, বরং রাসূল (ছাঃ) ৬ মাইল দূরত্বে গিয়ে ছালাত ক্বছর করেছেন। যেমন আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে মদীনায় যোহরের ছালাত চার রাক‘আত পড়েছি। অতঃপর (৬ মাইল দূরে) যুলহুলায়ফা গিয়ে আছরের ছালাত দুই রাক‘আত পড়েছি (বুখারী হা/১০৮৯; মুসলিম হা/৬৯০, আবুদাঊদ হা/১২০২)। অন্য হাদীছে এসেছে, রাসূল (ছাঃ) তিন মাইল কিংবা তিন ফারসাখ (৯ মাইল) যাওয়ার পর দুই রাক‘আত পড়তেন (মুসলিম হা/৬৯১; আবুদাউদ হা/১২০১)

প্রশ্ন (১৬/১৬) : জনৈক লোকের শরীরে তাবীয থাকায় রাসূল (ছাঃ) তার বায়‘আত গ্রহণ করেননি। এর কোন সত্যতা আছে কি?

-রায়হান, তেরিচোক, রাণীনগর, দিনাজপুর।

উত্তর : তাবীয থাকায় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বায়‘আত গ্রহণ করেননি মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ছহীহ। উক্ববা বিন ‘আমের (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খিদমতে একদল লোক আসল। অতঃপর দলটির ৯ জনের বায়‘আত নিলেন এবং একজনকে বাকী রাখলেন। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ৮ জনকে বায়‘আত করালেন আর একজনকে ছেড়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তার সাথে একটি তাবীয আছে। তখন লোকটি হাত ভিতরে ঢুকিয়ে তাবীয ছিঁড়ে ফেলল। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তার বায়‘আত গ্রহণ করলেন (আহমাদ হা/১৭৪৫৮; ছহীহাহ হা/৪৯২)

প্রশ্ন (১৭/১৭) : আমি জীবনে বহু মানুষের কাছে দুধ বিক্রয়ের সময় ২ লিটারকে আড়াই লিটার বলে বিক্রয় করেছি। এক্ষণে সবার নিকট থেকে পৃথকভাবে ক্ষমা না নিলে এ পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় আছে কি?

-আশিক, জয়পুরহাট।

উত্তর : এটা খুব বড় পাপ। এটা মানুষের হক বিনষ্টকারী পাপ। এর জন্য প্রত্যেক ক্রেতার নিকটেই ফাঁকি দেওয়া অংশ পৌঁছাতে হবে। সম্ভব না হলে তাদের উত্তরাধিকারীদের নিকট পৌঁছাতে হবে। তাদের কাউকে না পেলে তাদের নামে পরিমাণমত টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করতে হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি তার কোন ভাইয়ের সম্মান বা অন্য কোন বিষয়ে যুলুম করে থাকে, তাহ’লে সে যেন আজই তার সমাধা করে নেয়। সেদিন আসার আগে যেদিন তার কাছে কোন দিনার ও দিরহাম থাকবে না। সেদিন তার কোন সৎকর্ম থাকলে তা থেকে যুলুম পরিমাণ নিয়ে নেয়া হবে। আর সৎকর্ম না থাকলে মযলূমের পাপসমূহ থেকে নিয়ে উক্ত যালেমের উপর চাপিয়ে দেয়া হবে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৫১২৬)

প্রশ্ন (১৮/১৮) : ‘আদম সন্তানের পেট মাটি ব্যতীত পূর্ণ হবে না’ মর্মে হাদীছটির ব্যাখ্যা কি?

-ওমর ফারূক, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ।

উত্তর : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, আদম সন্তানকে ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ দু’টি উপত্যকাও যদি দেওয়া হয়, সে তৃতীয়টির আকাংখা করবে। আদম সন্তানের পেট মাটি ব্যতীত অন্য কিছু পূর্ণ করতে পারবে না’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৭৩)। অত্র হাদীছে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষ যে দুনিয়ার প্রতি আসক্ত থাকবে তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। মৃত্যুর পর কবরের মাটি তার পেট তথা আকাংখা পূর্ণ করবে (নববী, শরহ মুসলিম)। খাদ্য গ্রহণে মাধ্যমে উদরপূর্তি হলে যেমন মানুষের ক্ষুধা মিটে যায়, তেমনি মৃত্যু মানুষের সকল আশা-আকাংখার পরিসমাপ্তি ঘটায়। অতএব ‘মাটি ব্যতীত’ অর্থ কবরের মাটি ব্যতীত।

প্রশ্ন (১৯/১৯) : কুরবানীর গোশত বণ্টনের সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে বাধিত করবেন।

-আব্দুল কাদের, ঝাড়খন্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : উক্ত বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্র লোকদের খাওয়াও’ (হজ্জ ২৮)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা নিজেরা খাও, যারা চায় না তাদের খাওয়াও এবং যারা নিজেদের প্রয়োজন পেশ করে তাদের খাওয়াও’ (হজ্জ ৩৬)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) কুরবানীর গোশত তিনভাগ করে একভাগ নিজেরা খেতেন, একভাগ যাকে চাইতেন তাকে খাওয়াতেন এবং একভাগ ফকীর-মিসকীনকে দিতেন। আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর কুরবানীর গোশত বন্টন সম্পর্কে বলেন যে, তিনি একভাগ নিজের পরিবারকে খাওয়াতেন, একভাগ গরীব প্রতিবেশীদের দিতেন এবং একভাগ সায়েল-ফকীরদের দিতেন। হাফেয আবু মূসা বলেন, হাদীছটি ‘হাসান’। তবে আলবানী বলেন, আমি এটির সনদ জানতে পারিনি। জানি না তিনি অর্থের দিক দিয়ে ‘হাসান’ বলেছেন, না সনদের দিক দিয়ে (ইরওয়া হা/১১৬০; আলোচনা দ্রষ্টব্য: মির‘আত হা/১৪৯৩-এর ব্যাখ্যা, ৫/১২০ পৃঃ)। এছাড়া ইমাম আহমাদ, শাফেঈ (রহঃ) সহ বহু বিদ্বান কুরবানীর গোশত তিনভাগ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন (সুবুলুস সালাম শরহ বুলূগুল মারাম ৪/১৮৮ পৃঃ)।

অতএব কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করা যায়। একভাগ নিজেদের ও একভাগ প্রতিবেশীদের যারা কুরবানী করেনি এবং এক ভাগ ফকীর-মিসকীনদের। প্রয়োজনে বণ্টনে কমবেশী করাতে কোন দোষ নেই (সুবুলুস সালাম শরহ বুলূগুল মারাম ৪/১৮৮; আল-মুগনী ১১/১০৮; মির‘আত ২/৩৬৯; ঐ, ৫/১২০ পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, কুরবানীর গোশত যতদিন খুশী রেখে খাওয়া যায় (তিরমিযী হা/১৫১০, মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৭৪৪)

অতএব মহল্লার স্ব স্ব কুরবানীর গোশতের এক-তৃতীয়াংশ একস্থানে জমা করে মহল্লায় যারা কুরবানী করতে পারেনি তাদের তালিকা করে সুশৃংখলভাবে তাদের মধ্যে বিতরণ করা ও প্রয়োজনে তাদের বাড়ীতে পৌঁছে দেওয়া উত্তম। বাকী এক-তৃতীয়াংশ ফকীর-মিসকীনদের মধ্যে বিতরণ করবেন (দ্রঃ মাসায়েলে কুরবানী ও আক্বীক্বা’ বই, পৃঃ ২৩)। এর ফলে কুরবানীদাতা রিয়া ও শ্রুতি থেকে নিরাপদ থাকবেন এবং তার অন্তর পরিশুদ্ধ হবে। আর এটাই হ’ল কুরবানীর মূল প্রেরণা। আজকাল অনেকে গোশত জমা করে সেখান থেকে প্রতিবেশী ও ফকীর-মিসকীনদের কিছু কিছু দিয়ে বাকী গোশত পুনরায় নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেন। এটি একটি কুপ্রথা। এর মাধ্যমে কৃপণতা প্রকাশ পায়। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

প্রশ্ন (২০/২০) : ছালাতে দ্বিতীয় রাক‘আতে শামিল মুক্তাদীর জন্য তা প্রথম রাক‘আত হিসাবে গণ্য হয়। এক্ষণে এ রাক‘আতে যে তাশাহহুদ পাওয়া যাবে সেখানে দো‘আ-দরূদ পড়া যরূরী কি?

-খোমেনী, উত্তরা, ঢাকা।

উত্তর : এ সময় ইমামের সালাম ফেরানো পর্যন্ত দো‘আ-দরূদ পড়া যায়। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)

প্রশ্ন (২১/২১) : দু’টি অংশ বিশিষ্ট প্রচলিত কালেমায়ে ত্বাইয়েবার প্রচলন কবে থেকে শুরু হয়?

-ইঞ্জিনিয়ার শিহাব, পাংশা, রাজবাড়ী।

উত্তর : এ কালেমার প্রচলন কখন থেকে হয়েছে, তা জানা যায় না। আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস বলেন, কালেমা ত্বাইয়েবাহ হ’ল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (لا اله الا الله) (তাফসীর ইবনে আববাস, কুরতুবী, ইবনু কাছীর, সূরা ইবরাহীম ২৪ আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য)। দুই অংশ বিশিষ্ট কালেমাটি কালেমা শাহাদাতের সংক্ষিপ্ত রূপ। এটাকে কালেমা ত্বাইয়েবাহ বলা ঠিক নয়। সূরা ফাৎহ-এর ২৬ আয়াতে কালেমাতুৎ তাক্বওয়া-এর ব্যাখ্যায় আতা আল-খোরাসানী বলেন, لا اله الا الله محمد رسول الله (দুররে মানছূর ৭/৪৬৬ পৃঃ, বর্ণনাটি সনদবিহীন)। এ কালেমাটি আরশের গায়ে লিখা ছিল মর্মে হাদীছটিও জাল (হাকেম হা/৪২২৭, সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮০)

প্রশ্ন (২২/২২) :  ছালাতে সালাম ফিরানোর পূর্বে বা পরে আল্লাহর কাছে কিছু চাইতে বাংলা ভাষায় দো‘আ করা যাবে কি?

-আব্দুল আউয়াল, বাগাতীপাড়া, নাটোর।

উত্তর : হাদীছে বর্ণিত ছহীহ দো‘আ সমূহ ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় সালামের পূর্বে দো‘আ করা যাবে না। কেননা নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, ‘আমাদের এ ছালাতে মানুষের কথাবার্তা সিদ্ধ নয়। এটা হ’ল তাসবীহ, তাকবীর এবং তেলাওয়াতে কুরআন (মুসলিম, মিশকাত হা/৯৭৮)। তবে কুনূতে নাযেলায় আরবীতে বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন (২৩/২৩) : হাদীছ গ্রন্থগুলি আগে সংকলিত হয়েছে না প্রচলিত চার মাযহাব আগে তৈরী হয়েছে? বিস্তারিত জানতে চাই।

-মুজীবুর রহমান

পিরিজপুর, কিশোরগঞ্জ।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগেই হাদীছ লেখা শুরু হয়। মক্কা বিজয়ের পর তাঁর ভাষণের কিছু অংশ তিনি জনৈক আবু শাহকে লিখে দিতে বলেন (বুখারী হা/২৪৩৪)। এছাড়া অন্যান্য প্রমাণও রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে হাদীছের সংকলনকার্য শুরু হয় খলীফা ওমর ইবনু আব্দিল আযীয (৯৯-১০১ হিঃ)-এর সময়ে। তাঁর নির্দেশে হাদীছ সংকলনের কাজ শুরু হয় (বিস্তারিত দ্রঃ মুছতফা আল-আ‘যমী, দিরাসাত ফিল হাদীছিন নববী ওয়া তারীখু তাদভীনিহি)।তৃতীয় শতাব্দী ছিল হাদীছ সংকলনের স্বর্ণযুগ। প্রচলিত মাযহাবের জন্ম হয়েছে ৪র্থ শতাব্দীতে। যেমন শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী (রহঃ) বলেন, ‘জেনে রাখ যে, ৪র্থ শতাব্দী হিজরীর পূর্বে কোন মুসলমান কোন একজন নির্দিষ্ট বিদ্বানের মাযহাবের তাক্বলীদের উপরে সংঘবদ্ধ ছিল না’ {হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (কায়রো : ১৩৫৫/১৯৩৬), ১/১৫২ পৃঃ}। সুতরাং প্রচলিত মাযহাব সমূহ সৃষ্টি হয়েছে হাদীছ সংকলন যুগের পরে।

প্রশ্ন (২৪/২৪) : মুহাম্মাদ আবুল কাসেম নাম রাখা যাবে কি? জনৈক আলেম বলেন, এ নাম রাখার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নিষেধাজ্ঞা আছে?

-শাহরিয়ার, হারুপুর, রাজশাহী।

উত্তর : ‘মুহাম্মাদ আবুল কাসেম’ একত্রে রাখা যাবে না (তিরমিযী হা/২৮৪১, মিশকাত হা/৪৭৬৯)। উক্ত নাম রাখা যাবে বিষয়ে হযরত আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীছটি ছিল তাঁর জন্য ‘খাছ’ (তিরমিযী হা/২৮৪৩)শুধু ‘মুহাম্মাদ’ রাখা যাবে। কিন্তু শুধু ‘আবুল কাসেম’ রাখা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখো। কিন্তু আমার উপনামে নাম রেখো না’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৭৫০)। উক্ত হাদীছটি জানার পর উমাইয়া খলীফা মারওয়ান ইবনুল হাকাম (৬৪-৬৫ হিঃ) তাঁর পুত্রের ‘কাসেম’ নাম পরিবর্তন করে ‘আব্দুল মালেক’ রাখেন। যিনি তাঁর পরে বিখ্যাত খলীফা হন (নববী, শরহ মুসলিম হা/২১৩১-এর আলোচনা দ্রঃ, ‘শিষ্টাচারসমূহ’ অধ্যায়)। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, কারো উপনাম আবুল কাসেম রাখা বৈধ নয়, তার নাম ‘মুহাম্মাদ’ হৌক বা অন্য কিছু হৌক’ (বায়হাক্বী হা/১৯১১০)। শায়খ আলবানী বিস্তারিত আলোচনার পর বলেন, উক্ত উপনাম না রাখার ব্যাপারে স্পষ্ট এবং ছহীহ হাদীছ সমূহের আলোকে আমি এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ যে, সঠিক কথা হ’ল ‘আবুল কাসেম’ উপনামটি না রাখা (المنع مطلقاً )। তার নাম ‘মুহাম্মাদ’ হৌক বা না হৌক (ছহীহাহ হা/২৯৪৬-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)

[সংশোধনী : আত-তাহরীক ১২ বর্ষ সেপ্টেম্বর ২০০৯ ১০/৪৫০ নং প্রশ্নোত্তরে ‘শুধু আবুল কাসেম রাখা যাবে’ বলা হয়েছিল। এক্ষণে উক্ত নাম রাখা হ’তে বিরত থাকা কর্তব্য হবে]

প্রশ্ন (২৫/২৫) : শুটকি মাছ খাওয়া কি জায়েয? যদি জায়েয হয় তবে হিদলের শুটকি খাওয়া যাবে কি?

-মাযহারুল ইসলাম, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।

উত্তর : জীবিত বা মৃত যেকোন মাছ খাওয়ার ব্যাপারে শরী‘আত অনুমতি দিয়েছে। পদ্ধতিগতভাবে কেউ রান্না করে খায়, কেউ শুটকি বানিয়ে খায় তাতে কোন বাধা নেই। আল্লাহ বলেন, ‘সমুদ্রের শিকার তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে’ (মায়েদা ৯৬) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং এর মৃত হালাল (আবুদাউদ হা/৮৩; তিরমিযী হা/৬৯)। হিদল বা চ্যাপা শুটকি মূলতঃ পুটি, টাকি, টেংরা ইত্যাদি মাছ থেকে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তৈরী একধরনের দেশী খাবার। সুতরাং তা ভক্ষণে কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (২৬/২৬) : ঈদুল আযহার দিন ছিয়াম পালনে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-মেহেদী, শিবগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জ।

উত্তর : উভয় ঈদের দিন ছিয়াম পালন করা নিষিদ্ধ। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূল (ছাঃ) ঈদুল ফিৎর ও ঈদুল আযহার দিন ছিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন (বুখারী হা/১৯৯১, মুসলিম হা/১১৩৭, মিশকাত হা/২০৪৮)। এছাড়া আইয়ামে তাশরীক্ব তথা ঈদুল আযহার পরবর্তী তিনদিনও ছিয়াম পালন নিষিদ্ধ (মুসলিম হা/১১৪১, মিশকাত হা/২০৫০; আবুদাঊদ হা/২৪১৯)। তবে কুরবানীদাতার জন্য ঈদের দিন কুরবানীর গোশত খাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত না খেয়ে থাকা সুন্নাত (তিরমিযী হা/৫৪২, মিশকাত হা/১৪৪০)

প্রশ্ন (২৭/২৭) : ইমামের সূরা ফাতিহা পাঠের শেষের দিকে ছালাতে যোগদান করলে প্রথমে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে, না ইমামের সাথে আমীন বলতে হবে?

-জামীলুর রহমান, মালয়েশিয়া।

উত্তর : এমন ব্যক্তি প্রথমে ইমামের আমীনের সাথে আমীন বলবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যখন ইমাম আমীন বলবে, তখন তোমরা আমীন বল’ (তিরমিযী হা/২৫০)। তারপর সূরা ফাতেহা নীরবে পাঠ করবে। কেননা সূরা ফাতেহা ব্যতীত ছালাত সিদ্ধ হয় না’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৮২২-২৩)

প্রশ্ন (২৮/২৮) : ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)’ বইয়ে বড় চাদর, লুঙ্গি ও জামা দ্বারা কাফন করতে বলা হয়েছে। অথচ আয়েশা (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসূল (ছাঃ)-এর কাফনের তিনটি কাপড়ের মধ্যে জামা ও পাগড়ী ছিল না। এক্ষণে এর সমাধান কি?

-মুহিব বিন জালালুদ্দীন, সাঘাটা, গাইবান্ধা।

উত্তর : তিনটি কাপড়ে কাফন দেওয়ার কথা বুখারী-মুসলিমের ছহীহ হাদীছে এসেছে। কিন্তু তিনটি কাপড়ের ব্যাখ্যা এসেছে আহমাদ, আবুদাঊদ, তিরমিযী সহ অন্যান্য হাদীছে ক্বামীছ, ইযার ও লিফাফাহ তথা জামা, লুঙ্গী ও বড় চাদর হিসাবে। যদিও ঐসব হাদীছগুলির সনদ দুর্বলতা মুক্ত নয়। ছাহেবে মির‘আত সব হাদীছ জমা করে বিস্তারিত আলোচনা শেষে বলেন, জামা সহ তিন কাপড়ে কাফন দেওয়া জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। মতভেদ হ’ল উত্তম হওয়ার ব্যাপারে। ‘ছালাতুর রাসূলে’ তিনটি কাপড়ে কাফন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং ব্যাখ্যায় গিয়ে বলা হয়েছে ‘অর্থাৎ একটি লেফাফা বা বড় চাদর, একটি তহবন্দ বা লুঙ্গী ও একটি ক্বামীছ বা জামা’ (ঐ, ৪র্থ সংস্করণ পৃঃ ২২৭)। যা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে বিদ্বানগণের মধ্যে কোন মতভেদ নেই (দ্রঃ মির‘আত ৫/৩৪৫)। শায়খ বিন বায (রহঃ) বলেন, জামা, লুঙ্গী ও চাদরে কাফন দেওয়া জায়েয (মাজমূ‘ ফাতাওয়া বিন বায ১৩/১২৭)

প্রশ্ন (২৯/২৯) : টয়লেটে থাকা অবস্থায় আযানের জওয়াব বা দো‘আ পাঠ করা যাবে কি?

-ইশরাত জাহান, মান্দা, নওগাঁ।

উত্তর : পেশাব-পায়খানারত অবস্থায় জবাব দিবে না। বরং তা শেষ করার পর জবাব দিবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৩৫)। সাধারণভাবে বাথরুমে দো‘আ পড়া যাবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৫৬)

প্রশ্ন (৩০/৩০) : দুগ্ধপানকারী ছেলে শিশুর প্রস্রাবে কেবল পানির ছিটা দিয়ে ছালাত আদায় করা যায়। কিন্তু কন্যা শিশুর বেলায় প্রস্রাবের স্থান পানি দিয়ে ধৌত না করলে পবিত্র হয় না, এর কারণ কি?

-আবুল কাসেম

মির্জাপুর বাজার, গাযীপুর সদর, গাযীপুর।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কন্যা শিশুর বেলায় এরূপ করতে বলেছেন (ইবনু মাজাহ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৫০১-২)। এজন্য ধৌত না করলে পবিত্র হয় না। শরী‘আতের কোন বিধানই আল্ল­াহ তা‘আলা বান্দার কল্যাণ ব্যতীত জারি করেননি, এ বিশ্বাস রেখেই আমল করতে হবে।

প্রশ্ন (৩১/৩১) : লাশ দাফনের সময় কবরের ভিতরে যে বাঁশ দেওয়া হয়, সে বাঁশ গজিয়ে বাঁশঝাড়ে পরিণত হ’লে সেই বাঁশ কাটা যাবে কি? এছাড়া কবরস্থানের গাছ কেটে বিক্রি করা যাবে কি?

-মনোয়ার আনছারী

মুকুন্দবাড়ী, আদারভিটা, জামালপুর।

উত্তর : লাশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে ও তা মাটি হয়ে গেলে সেখানে সাধারণ মাটির ন্যায় সব কিছু করা যায় (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩০১; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) পৃঃ ১২৬)।  অতএব কবরের বাঁশ বা যে কোন বৃক্ষ কেটে বিক্রি করা যাবে এবং তা বিক্রয় করে কবরস্থানের উন্নয়নে লাগানো যাবে (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩১/২০৮)

প্রশ্ন (৩২/৩২) :জনৈক ব্যক্তি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জান্নাতে প্রবেশের জন্য সর্বপ্রথম দরজা খুলবেন। এ বক্তব্য কি সঠিক?

-আব্দুস সালাম, সুলতানপুর, সাতক্ষীরা।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য সঠিক। আনাস  (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে আমার উম্মতের সংখ্যা হবে সর্বাধিক এবং আমিই প্রথম জান্নাতের দরজা খুলব’ (মুসলিম হা/১৯৬, মিশকাত হা/৫৭৪২)। অন্য হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় পৌঁছে দরজা খোলার জন্য বলব। তখন দাররক্ষী বলবে, আপনি কে? আমি বলব, মুহাম্মাদ। তখন সে বলবে, আপনার সম্পর্কে আমাকে বলা হয়েছে যে, আপনার পূর্বে আমি যেন অন্য কারো জন্য এ দরজা না খুলি’ (মুসলিম হা/১৯৭, মিশকাত হা/৫৭৪৩)

প্রশ্ন (৩৩/৩৩) : খোঁড়া ইমামের পেছনে ছালাত শুদ্ধ হবে কি?

-মুহসিন আকন্দ

 জোরবাড়িয়া, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

উত্তর : ইমামতির জন্য খোঁড়া হওয়া অন্তরায় নয়। যথাযথভাবে রুকু-সিজদা করতে পারেন না, এমন ইমামের পিছনেও ছালাত আদায় করা যায়। ওযরের কারণে ইমাম বা কোন মুক্তাদী বসে পড়তে পারেন। কিন্তু অন্যেরা দাঁড়িয়ে পড়বেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কখনো অসুস্থতার কারণে বসে বসে ইমামতি করেছেন এবং ছাহাবীগণ তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে জামা‘আতবদ্ধভাবে ছালাত আদায় করেছেন (বুখারী, মিশকাত হা/১১৩৯; মির‘আত ৪/৮৯)। অপরদিকে অন্ধ ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) মসজিদে নববীতে নিয়মিত ইমামতি করতেন (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১১২১)

প্রশ্ন (৩৪/৩৪) : ‘আল্লাহ ততক্ষণ বিরক্ত হননা, যতক্ষণ না তোমরা বিরক্ত হও’ হাদীছটির ব্যাখ্যা কি? বিরক্ত হওয়ার গুণ কি আল্লাহর গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত?

-রেযওয়ানুল ইসলাম

তাহেরপুর, রাজশাহী।

উত্তর : এটি আল্লাহর গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত। আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন যখন আমার পাশে জনৈকা মহিলা বসা ছিল। তিনি বললেন ইনি কে?  আমি বললাম, ইনি হাওলা বিনতে তুওয়াইত যিনি রাতে ঘুমান না (অর্থাৎ ইবাদতে মগ্ন থাকেন)। একথা শুনে রাসূল (ছাঃ) বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন, তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমল কর। আল্লাহর কসম, আল্লাহ অতক্ষণ বিরক্ত হননা যতক্ষণ না তোমরা বিরক্ত হয়ে পড়ো (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৩৮৮, বুখারী হা/৪৩; মুসলিম হা/৭৮৫)। অত্র হাদীছে ‘আল্লাহ বিরক্ত হন না’ এর অর্থ হ’ল আল্লাহ তা‘আলা নেকী ও ছওয়াব প্রদান থেকে বঞ্চিত করেন না। আর প্রকাশ্য অর্থে বিরক্ত হওয়া আল্লাহ তা‘আলার গুণাবলীর অন্যতম। যেমন রেগে যাওয়া, হাসা ইত্যাদি। তবে এটা সৃষ্টির কোন গুণাবলীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় (শূরা ১১; শায়খ উছায়মীন, শারহু রিয়াযুছ ছালেহীন ১/১৬১ হা/১৪২)। কোন ক্লান্তি আল্লাহকে স্পর্শ করে না (ক্বাফ ৩৮)। কোন কোন আলেম মনে করেন, অত্র হাদীছ দ্বারা আল্লাহর বিরক্তি প্রকাশ পায় না। যেমন কেউ বলল ‘আমি দাঁড়াব না যতক্ষণ না তুমি দাঁড়াবে ’ এ বাক্যটি ২য় ব্যক্তির দন্ডায়মান হওয়াকে আবশ্যক করে না। অনুরূপ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী, ‘যতক্ষণ না তুমি বিরক্ত হবে, আল্লাহ বিরক্ত হবেন না’। এটা আল্লাহর জন্য বিরক্ত হওয়া আবশ্যক করে না। তবে আল্লাহ তা‘আলা এ সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত। এ হাদীছ দ্বারা বিরক্তি সাব্যস্ত হলেও এটা অন্যদের মত নয় (ফাতাওয়া উছায়মীন ১/১৭৪)। অনুরূপভাবে বলা যায় এটা কুরআনে বর্ণিত মাকর (কৌশল), কায়দ (ফন্দি), খিদা‘ (ধোঁকা)-এর মত আল্লাহর একটি গুণ যার প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ২/৪০২)

প্রশ্ন (৩৫/৩৫) : বৃদ্ধা মহিলাদের জন্য গায়ের মাহরাম পুরুষের সামনে নেকাব বিহীন চলা জায়েয হবে কি?

-আরীফা, বুড়িচং, কুমিল্লা।

উত্তর : উক্ত বিষয়ে আল্লাহ বলেন, আর বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখেনা যদি তারা সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের বহির্বাস খুলে রাখে, তবে তাতে তাদের কোন দোষ নেই। অবশ্য এথেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন’ (নূর ৬০)। শায়খ বিন বায বলেন, বিবাহে আসক্তিহীন বৃদ্ধা মহিলাগণ আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রকাশ ব্যতীত তাদের মুখমন্ডল ও কব্জি সমেত হস্তদ্বয় খোলা রাখলে কোন গুনাহ হবে না (ফাতাওয়া আল-মারা’আতুল মুসলিমাহ ১/৪২৪)

প্রশ্ন (৩৬/৩৬) : জনৈক আলেম বলেন, এ শতাব্দীর শেষের দিকে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, যা বেশ কিছু বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত। এর সত্যতা জানতে চাই।

-আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ, নশীপুর, বগুড়া।

উত্তর : আল্লামা জালালুদ্দীন সৈয়ূতী তার আল-হাবী নামক কিতাবে (২/২৪৯-২৫৬) কিছু জাল ও যঈফ হাদীছ এবং ইস্রাঈলী কিছু ভিত্তিহীন বর্ণনা উপস্থাপন করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, পৃথিবীর বয়স সাত হাযার বছর। আর মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আগমন ঘটেছে ৬ হাযার বছরের শেষের দিকে। ফলে বাকী থাকে দেড় হাযার বছর। অতএব ১৫  শত হিজরীর সমাপ্তি ঘটার পূর্বে ক্বিয়ামত হয়ে যাবে। উক্ত বক্তব্যটি একেবারেই কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে ক্বিয়ামত কখন হবে?’ ‘এ বিষয়ে বলার জন্য তুমি কে?’ ‘এর চূড়ান্ত জ্ঞান তো তোমার প্রভুর নিকটে’ (নাযে‘আত ৪২-৪৪)

প্রশ্ন (৩৭/৩৭) : মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুল আক্বছা সর্বপ্রথম কে নির্মাণ করেন?

-তাউয়াবুল হক, ছোট বনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুল আক্বছার প্রথম নির্মাতা সম্বন্ধে কুরআন ও ছহীহ হাদীছে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে পৃথিবীর বুকে নির্মিত প্রথম মসজিদ হ’ল বায়তুল্লাহ (আলে-ইমরান ৩/৯৬)। আবু যার গেফারী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম প্রথম মসজিদ কোনটি? তিনি বললেন, মাসজিদুল হারাম, আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মাসজিদুল আক্বছা। আমি বললাম, এ দু’য়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত? তিনি বললেন, চল্লিশ বছর’ (বুখারী হা/৩৩৬৫; মুসলিম হা/৫২০)। ইবনু কাছীর রলেন, কা‘বাগৃহ প্রথম কে নির্মাণ করেন, সে বিষয়ে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন। যেমন কেউ বলেন, আদমের পূর্বে ফেরেশতাগণ। কেউ বলেন, আদম (আঃ)। কেউ বলেন, আদমপুত্র শীছ (আঃ)। তিনি বলেন, এসবই আহলে কিতাবদের বই থেকে নেওয়া। যার উপর নির্ভর করা যায় না। তবে কোন হাদীছ পেলে সেটাই মাথা পেতে নেওয়া যেত’ (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা বাক্বারাহ ১২৫ আয়াত)। পরে ইবরাহীম (আঃ) মাসজিদুল হারাম ও সোলায়মান (আঃ) মাসজিদুল আক্বছা পুনর্নির্মাণ করেন (নাসাঈ হা/৬৯৩; বিস্তারিত দ্রঃ ফাৎহুল বারী ৬/৪০৮, মিরকাতুল মাফাতীহ ২/৪৬৮)

প্রশ্ন (৩৮/৩৮) : উট যবেহ করার নিয়ম কি? সাধারণ পশুর মত উট যবেহ করা যায় কি?

-শামীম আখতার

হরিহর পাড়া, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : উট যবেহ করার সাধারণ নিয়ম হ’ল, উট দাঁড়ানো অবস্থায় তার কণ্ঠনালীতে ধারালো ছুরি চালিয়ে রক্ত প্রবাহিত করা। আর গরু-ছাগল যবেহ করার নিয়ম হ’ল, মাথা দক্ষিণ দিকে রেখে বাম কাতে ফেলে গলায় ছুরি চালানো। তবে বাধ্যগত অবস্থায় উটকে গরু-ছাগলের মত মাটিতে ফেলে যবেহ করলে নাজায়েয হবে না। যেমন বনু হারেছার জনৈক ব্যক্তি ওহোদের পাহাড়ী এলাকায় উট চরাচ্ছিল। একটি মাদী উট হঠাৎ মুমূর্ষু হয়ে পড়লে তার বুকে একটি কাঠের সুঁচালো মাথা দিয়ে আঘাত করে রক্ত প্রবাহিত করা হয়। অতঃপর রাসূল (ছাঃ)-কে এ সংবাদ প্রদান করলে তিনি তা খাওয়ার আদেশ দেন’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪০৯৬ ‘শিকার ও যবেহ’ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন (৩৯/৩৯) : হাসান (রাঃ) কি মু‘আবিয়া (রাঃ) কর্তৃক বিষ প্রয়োগ করায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন? এ ব্যাপারে সঠিক ইতিহাস জানতে চাই।

-এম. এ, ত্বালহা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।

উত্তর : হাসান (রাঃ) কিভাবে মারা গেছেন এর সঠিক তথ্য কোন ছহীহ সূত্রে পাওয়া যায় না। তবে হাফেয ইবনু হাজার বলেন, বলা হয়ে থাকে যে, তিনি বিষপানে মারা গেছেন। উমায়ের ইবনু ইসহাক বলেন, আমি এক সাথীকে নিয়ে হাসান (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আমি একাধিকবার বিষপান করেছি। কিন্তু এত বিষাক্ত বস্ত্ত ইতিপূর্বে কখনও পান করিনি। এরই মধ্যে তার ভাই হুসাইন সেখানে এসে জিজ্ঞেস করলেন। কে আপনাকে বিষ পান করিয়েছে? তিনি সেটা বলতে অস্বীকার করলেন (আল ইছাবাহ ২/৭৩ বর্ণনাটি ছহীহ, তাহযীবুত তাহযীব ৪/১২৭)। ক্বাতাদা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা ৩/২৭৪)

বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, মু‘আবিয়া (রাঃ) বা তার ছেলে ইয়াযীদের নির্দেশনায় হাসান (রাঃ)-এর স্ত্রী তাঁকে বিষ পান করিয়েছিলেন। ইবনু কাছীর বলেন, এগুলি অশুদ্ধ ও ভিত্তিহীন (আল-বিদায়াহ ১১/২০৮)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ বলেন, মু‘আবিয়া (রাঃ) হাসানকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করেছেন মর্মে কিছু  লোক যা বলে থাকে, তা কোন দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়। অতএব এ ব্যাপারে কিছু না জেনে বলার ন্যায় হবে (মিনহাজুস সুন্নাহ ৪/৪৬৯)। যাহাবী বলেন, আমি বলব, আমার গবেষণায় এটা বিশুদ্ধ নয় (তারীখুল ইসলাম পৃঃ ৪০)। ইবনু খালদূন বলেন, এটা শী‘আদের প্রচারণা। (তারীখে ইবনু খালদুন ২/৬৪৯)। সুতরাং বিষপানে তাঁর মৃত্যু হলেও কে পান করিয়েছে, তা অজ্ঞাত।

প্রশ্ন (৪০/৪০) : কোন নারী ধর্ষণের শিকার হ’লে সে কি অপরাধী হিসাবে গণ্য হবে?

-আব্দুল্লাহ ফারূক

বড়পেটা, আসাম, ভারত।

উত্তর : এক্ষেত্রে উক্ত নারী অত্যাচারিতা ও নিরপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে জনৈকা মহিলা মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন। একজন লোক তাকে একা পেয়ে কাপড়ে ঢেকে নেয় এবং তাকে ধর্ষণ করে। মহিলা চিৎকার শুরু করলে লোকটি চলে যায়। সেখান দিয়ে মুহাজিরদের একদল লোক যাচ্ছিলেন। মহিলাটি তাদেরকে বললেন যে, ঐ লোক আমার সাথে এরূপ আচরণ করেছে। তখন লোকেরা তাকে ধরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে নিয়ে আসলে তিনি মহিলাকে বললেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি ঐ ধর্ষণকারী পুরুষকে রজম করার আদেশ দিলেন (আবুদাঊদ হা/৪৩৭৯; তিরমিযী হা/১৪৫৪, মিশকাত হা/৩৫৭২, হাদীছটি হাসান, ‘হুদূদ’ অধ্যায়)

 

 

 

 

HTML Comment Box is loading comments...