বিজ্ঞান ও বিস্ময়

রক্ত পরীক্ষায় জানা যাবে আত্মহত্যার প্রবণতা

এখন ছোট্ট একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যাবে কারো মধ্যে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা রয়েছে কি-না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা মানুষের রক্তে আত্মহত্যা প্রবণতা সৃষ্টিকারী কয়েকটি ধারাবাহিক রিবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) উপাদান শনাক্ত করেছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, আত্মহত্যার চেষ্টা করা বা আত্মহত্যা করেছে এমন মানুষের রক্তে তারা অতি উচ্চমাত্রায় এই আরএনএ বায়োমার্কার লক্ষ্য করেছেন। তাই তারা বলছেন, এখন এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সহজেই বলে দেয়া যাবে কারো মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা রয়েছে কি-না। রক্তে নির্দিষ্ট ঐ আরএনএ বায়োমার্কারের তারতম্য লক্ষ্য করলেই এ তথ্য জানা যাবে।

৫ বছরের ক্ষুদে পাইলট বিমান উড়ালো

সম্প্রতি বেইজিং ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের ওপর দিয়ে ৩৫ মিনিট যাবৎ হাল্কা একটি বিমান উড়িয়ে চীনের ৫ বছর বয়সী এক শিশু সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মানুষের মধ্যে কৌতূহল জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি এ সংবাদ চীনে তীব্র বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। শিশুটির নাম ডুয়োডুয়ো। তার পিতা হি লিয়েশেং বলেছেন, সাহসিকতা ও নতুন কিছু জানার তীব্র বাসনাকে সন্তানের মনের মধ্যে স্থাপনের চেষ্টার অংশ হিসাবেই তিনি বিমান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন ডুয়োডুয়োকে। তিনি জানান, ৫ বছরের ডুয়োডুয়োকে একটি বিমান চালনা প্রশিক্ষণ কেনেদ্র প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। ইন্টারনেটে খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফেসবুক, টুইটারসহ সব ধরনের সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ও ব্লগে রীতিমতো ঝড় তোলে। প্রাথমিক রিপোর্টগুলোতে বলা হচ্ছে, আকাশে ওড়া ও চালনা পর্যন্ত বিমানের পুরো নিয়ন্ত্রণই ছিল ঐ শিশু পাইলটের হাতে। তবে যে কোন যরূরী পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ডুয়োডুয়োর পাশে একজন প্রশিক্ষিত পাইলট ছিলেন।

 মোবাইল যত কম ব্যবহার করা যায় তত ভাল

পরিবেশবিদরা বলেছেন, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন প্রযুক্তি অভিশাপের ডালায় একটি নতুন সংযোজন। এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ যা চোখে দেখা যায় না, তবে তা ‘স্লো পয়জন’-এর মতো কাজ করছে এবং মানুষের জন্য মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে আসছে। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন ও বিদ্যুতের লাইনের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন। তারা বলেন, মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই রেডিয়েশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি বিকলাঙ্গ প্রজন্ম সৃষ্টি হ’তে পারে। গত ৩১ আগষ্ট বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল লাউঞ্জে ‘মোবাইল ফোন ও মোবাইল টাওয়ার : পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক এক সেমিনারে তারা একথা বলেন। আইসিডিডিআরবি’র সিনিয়র বিজ্ঞানী ড. মনীরুল আলম সেমিনারে উপস্থাপিত তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, মোবাইল ফোন প্রযুক্তির কল্যাণে আগত দীর্ঘমেয়াদে এই রেডিয়েশন নিদ্রাহীনতা, পারকিনসন্স, আলঝেইমারস, বন্ধ্যাত্ব, মাথাব্যথা, নার্ভের সেল নষ্ট হয়ে যাওয়া, গর্ভপাত, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ব্রেইন টিউমার, ব্লাড ক্যান্সার, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগ নষ্ট হওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া, অবসাদ, বিষণ্ণতা, স্নায়ুবৈকল্যসহ মারাত্মক শারীরিক সমস্যার কারণ হ’তে পারে। তিনি আরো বলেন, এই রেডিয়েশন আমাদের মগজের মধ্যে ঢুকে ডিএনএ ভেঙে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। ক্ষতিকর রেডিয়েশন থেকে রক্ষার জন্য আমাদেরকে সচেতনভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ এগুলি যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভালো এবং টাওয়ারসমূহকে যতটুকু সম্ভব মানুষের বসবাসের স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে স্থাপন করতে হবে।