প্রশ্নোত্তর

দারুল ইফতা
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

প্রশ্ন (১/১) : জনৈক আলেম বলেন, আমাদেরকে কেবল কুরআন অনুসরণ করতে হবে। হাদীছ অনুসরণের প্রয়োজন নেই। ছালাতের নফল-সুন্নাত বলে কিছু নেই। কেবল ফরয আদায় করাই যথেষ্ট। এ ব্যাপারে দলীলভিত্তিক জবাবদানে বাধিত করবেন।

-এস,এম, বদীউযযামান

ঝাউডাঙ্গা, ঝাড়খন্ড, ভারত।

উত্তর : (ক) হাদীছের ব্যাপারে এরূপ বক্তব্য স্পষ্ট কুফরী। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রাসূলের। যদি তারা এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে (তারা জেনে রাখুক যে,) আল্লাহ কখনোই কাফেরদের ভালবাসেন না’ (আলে ইমরান ৩/৩২)। তিনি বলেন, ‘তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা কখনোই মুমিন হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদীয় বিষয়সমূহে তোমাকেই একমাত্র সমাধানকারী হিসাবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমার দেওয়া ফায়ছালা সম্পর্কে তারা তাদের মনে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ পোষণ করবে না এবং অবনতচিত্তে তা গ্রহণ করবে’ (নিসা ৪/৬৫)

(খ) ‘হাদীছ’ সরাসরি আল্লাহর ‘অহী’। আল্লাহ বলেন, ‘রাসূল তাঁর ইচ্ছামত কিছু বলেন না। কেবলমাত্র অতটুকু বলেন, যতটুকু তাঁর নিকটে ‘অহী’ করা হয়’ (নাজম ৫৩/৩-৪)

(গ) হাদীছের বিরোধিতা করার কোন সুযোগ মুমিনের নেই। আল্লাহ বলেন, ‘কোন মুমিন পুরুষ ও নারীর পক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেওয়া ফায়ছালার ব্যাপারে (ভিন্নমত পোষণের) কোনরূপ এখতিয়ার নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল, সে স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত হ’ল’ (আহযাব ৩৩/৩৬)। তিনি বলেন, ‘আর রাসূল  তোমাদেরকে যা প্রদান করেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক’ (হাশর ৫৯/৭)। কুরআন ও হাদীছ দু’টিই রাসূল (ছাঃ) দিয়েছেন। অতএব দু’টিই গ্রহণ করতে হবে। একটি গ্রহণ ও অপরটি বর্জন তাঁর অবাধ্যতা করার শামিল।

(ঘ) হাদীছের অনুসরণ অর্থ আল্লাহর অনুসরণ। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল, আর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিল, আমরা তাদের উপরে তোমাকে পাহারাদার হিসাবে প্রেরণ করিনি’ (নিসা ৪/৮০)

(ঙ) হাদীছের বিরোধিতা করলে দুনিয়া ও আখেরাতে ফিৎনায় পড়া অবশ্যম্ভাবী। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যারা রাসূলের আদেশ-নিষেধের বিরোধিতা করে, তারা যেন এ বিষয়ে ভয় করে যে, তাদেরকে (দুনিয়াবী জীবনে) গ্রেফতার করবে নানাবিধ ফিৎনা এবং (পরকালীন জীবনে) গ্রেফতার করবে মর্মান্তিক আযাব’ (নূর ২৪/৬৩)।

(চ) হাদীছ হ’ল কুরআনের ব্যাখ্যা। আল্লাহ বলেন, ‘আমরা তোমার নিকটে ‘যিক্র’ (কুরআন) নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদের উদ্দেশ্যে নাযিলকৃত বিষয়গুলি তাদের নিকটে ব্যাখ্যা করে দাও এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে’ (নাহ্ল ১৬/৪৪)। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, আল্লাহ পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘তোমরা ছালাত প্রতিষ্ঠা কর’। এক্ষণে ছালাত কিভাবে আদায় করতে হবে? ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশার ছালাত কত রাক‘আত কিভাবে আদায় করতে হবে? তা জানতে হ’লে হাদীছের দিকে ফিরে যেতে হবে। এভাবে ছালাত, ছিয়াম, যাকাত ও হজ্জের নিয়ম-কানূন ইত্যাদি ইবাদতগত বিষয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, হালাল-হারাম, বিভিন্ন অপরাধের শাস্তিবিধানসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলীর বিস্তারিত বিধি-বিধান সমূহ কেবলমাত্র হাদীছের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। সুতরাং হাদীছের অনুসরণ ব্যতীত ইসলামের অনুসরণ বিলাসী কল্পনা বৈ কিছুই নয়।

‘ফরয’ ব্যতীত বাকী সবই ‘নফল’ বা অতিরিক্ত। তন্মধ্যে যেসব ‘নফল’ নিয়মিত করা হয়, সেগুলিকে ‘সুন্নাত’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর অনিয়মিত ও নিয়মিত আচরণ ও কর্মের ভিত্তিতে এগুলি শারঈ পরিভাষা হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। প্রকৃত মুমিন কখনো কেবল ফরয আদায়ে সন্তুষ্ট হবে না। বরং সে অবশ্যই সুন্নাত ও নফল সমূহ আদায় করবে। কেননা কিয়ামতের দিন ফরযের কোন ত্রুটি হ’লে নফল ইবাদতের নেকী দিয়ে সে ঘাটতি পূরণ করা হবে (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৩০)

প্রশ্ন (২/২) : হানাফী ইমামের পিছনে ছালাত আদায়ের সময় তাদের ন্যায় বিদ‘আতী রীতিতে একদিকে সালাম ফিরানোর পর সিজদায়ে সহো দিতে হবে কি?

-মেহদী হাসান

রামপুরা, ঢাকা।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ইমাম নিযুক্ত করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩৯)। সুতরাং এমন অবস্থাতেও ইমামের অনুসরণ করতে হবে। মূলতঃ ইমামের অনুসরণ হবে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় যাওয়ার জন্য। যেমন তাকবীর, রুকূ, ক্বিয়াম, সুজূদ, সালাম ইত্যাদি সময়ে। এর অর্থ এটা নয় যে, ইমাম সুন্নাত তরক করলে মুক্তাদীকেও সুন্নাত তরক করতে হবে। অতএব ইমাম বুকে হাত না বাঁধলে বা সশব্দে আমীন না বললে বা রাফ‘উল ইয়াদায়েন না করলেও মুক্তাদী ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী সেগুলি আমল করবেন। এর ফলে তিনি সুন্নাত অনুসরণের নেকী পাবেন। আর সুন্নাত পরিপন্থী আমলে বাধ্য করার জন্য ইমাম দায়ী হবেন (বুখারী, মিশকাত হা/১১৩৩)

প্রশ্ন (৩/৩) : ভিওআইপি ব্যবসা করা কি হারাম? যদি হারাম হয়ে থাকে, তবে এর মাধ্যমে প্রবাস থেকে কল করা বৈধ হবে কি?

-সৌরভ, সীতাকুন্ড, চট্টগ্রাম।

উত্তর : ভিওআইপি ব্যবসা মূলত হারাম নয়। তবে সরকারী অনুমোদন ব্যতীত অবৈধভাবে এ ব্যবসা করলে অবশ্যই গোনাহগার হ’তে হবে। এক্ষণে গ্রাহক সাধ্যমত সরকার অনুমোদিত কোম্পানী থেকে কল করার চেষ্টা করবেন। জেনে-শুনে অবৈধ ব্যবসায় সাহায্য করলে গোনাহের ভাগিদার হ’তে হবে (মায়েদা ৫/২)

প্রশ্ন (৪/৪) : পুলিশ বা সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীতে মহিলাদের চাকুরী করা বৈধ হবে কি?

-নাঈম হোসাইন

ফকীরপাড়া, পবা, রাজশাহী।

উত্তর : এসব কর্মক্ষেত্র মহিলাদের জন্য বৈধ নয়। মূলতঃ বাড়ীতে অবস্থান করাই মহিলাদের কর্তব্য (আহযাব ৩৩)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নারী হ’ল গোপন বস্ত্ত। যখন সে বের হয়, শয়তান তার পিছু নেয়’ (তিরমিযী হা/১১৭৩; মিশকাত হা/৩১০৯)। তবে প্রয়োজনে বের হ’লে পূর্ণ নিরাপত্তা ও পর্দা সহ বের হবে। অর্থাৎ শর্তসাপেক্ষে বাইরে যেতে পারবে এবং চাকুরীও করতে পারবে। বাধ্যগত অবস্থায় মহিলাদের চাকুরীর ক্ষেত্রে যেসব শর্ত প্রযোজ্য হয়, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলিতে চাকুরীর ক্ষেত্রে তা পূরণ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং তাদের জন্য এসব চাকুরী অবৈধ। আর অন্যায় কাজের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদও অবৈধ (শারহুস সুন্নাহ, বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৫৩০০; ছহীহুল জামে‘ হা/২০৮৫)

প্রশ্ন (৫/৫) : পিতার নির্দেশে স্বীয় অসম্মতিতে বিবাহ করায় স্ত্রীর প্রতি স্বামী চরম বিতৃষ্ণ। কিন্তু তালাক প্রদানে সম্মত নয়। এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি উক্ত স্বামী থেকে পৃথক থাকতে বা ডিভোর্স দিতে চায় তাতে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

-শাহানারা খাতুন, ফুলতলা, খুলনা।

উত্তর : পিতার নির্দেশে স্বীয় অসম্মতিতে বিবাহ করে থাকলেও পিতা-মাতার অনুগত হয়ে স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত। তা না হ’লে স্ত্রীর সাথে অবিচার করার কারণে তাকে আল্লাহর নিকটে জবাবদিহী করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৫৮১৯; ছহীহাহ হা/৫১৬)। একান্ত অসুবিধা দেখা দিলে তালাক দিতে হবে (তালাক ৬৫/২)। আর স্ত্রীর উচিত হবে পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা করা (নিসা ১২৮)। এরপরেও সমাধান না হ’লে স্ত্রী ‘খোলা’-এর মাধ্যমে স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হ’তে পারে (বুখারী, মিশকাত হা/৩২৭৪)

প্রশ্ন (৬/৬) : জায়গার সংকীর্ণতার কারণে নতুন জায়গা ওয়াকফ করে পূর্বপুরুষের নির্মিত মসজিদ সেখানে স্থানান্তর করা এবং আগের মসজিদের স্থানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা শরী‘আতসম্মত হবে কি?

-নাছরুল্লাহ হায়দার

কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।

উত্তর : জায়গার সংকীর্ণতার কারণে মসজিদ স্থানান্তর করার প্রয়োজন হ’লে ওয়াকফকারীর উত্তরসূরীরা অন্য কোন জমির সাথে ওয়াকফকৃত জমি এওয়ায-এর মাধ্যমে ফিরে পেলে সেখানে তারা যেকোন কাজ করতে পারে (দ্রঃ ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ১৬/৩৮ পৃঃ)। ওমর (রাঃ)-এর নির্দেশে কূফার একটি মসজিদ স্থানান্তর করা হয়। অতঃপর সে স্থানটি খেজুর বিক্রির বাজারে পরিণত হয় (ফাতাওয়া ইবনে তায়মিয়াহ ৩১/২১৭ পৃঃ)

প্রশ্ন (৭/৭) : কুরআনের আয়াত ও সূরাসমূহের বিন্যাস এবং নামকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-জাহিদুল ইসলাম

দক্ষিণ মুগদাপাড়া, ঢাকা

উত্তর : কুরআন আল্লাহর কালাম। এর আয়াতসমূহের বিন্যাস ও সূরা সমূহের নামকরণ সবই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত।  আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, হযরত ওছমান (রাঃ) বলেছেন যে, যখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর কোন আয়াত নাযিল হ’ত, তখন তিনি অহী-লেখক কাউকে ডেকে বলতেন, এই আয়াতটি অমুক সূরার মধ্যে অমুক স্থানে রাখো। সূরা আনফাল প্রথম দিককার মাদানী সূরা এবং সূরা তওবা শেষের দিককার মাদানী সূরা। দু’টি সূরার বিষয়বস্ত্ত প্রায় একই। সেজন্য সূরা দু’টিকে আমি পাশাপাশি রেখেছি। কিন্তু তিনি বলেননি যে, এটি ওটার অন্তর্ভুক্ত। সেজন্য আমি দু’টি সূরার মাঝে বিসমিল্লাহ.. লিখিনি’ (আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২২২২ ‘কুরআনের ফযীলত সমূহ’ অধ্যায়)। এতে বুঝা যায় যে, কুরআনের বিন্যাস আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। জিবরীল (আঃ) প্রতিবছর রামাযানে রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে এসে কুরআন পাঠ করতেন এবং তাঁর মৃত্যুর বছরে দু’বার পাঠ করে শুনান (বুখারী হা/৪৯৯৭, ৪৯৯৮)। এখান থেকেও বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

সূরা সমূহের নামকরণের বিষয়টি রাসূল (ছাঃ) কর্তৃক সম্পাদিত না হ’লে নামকরণ নিয়ে ছাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মতবিরোধ হ’ত। কিন্তু তা হয়নি। অতএব কুরআনের এই বিন্যাস ও নামকরণের ব্যাপারে ইজমায়ে ছাহাবাও অন্যতম প্রধান দলীল।

প্রশ্ন (৮/৮) : মিহরাব বিহীন মসজিদের নিচতলায় ইমাম দাঁড়ানোর পর উপরের তলাগুলিতে ইমামের কাতারে দাঁড়ানো যাবে কি? না প্রত্যেক তলাতেই ইমামের কাতার ছেড়ে দাঁড়াতে হবে?

-বুলবুল আহমাদ

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : উপরের তলায় ইমামের কাতার বরাবর মুছল্লীদের দাঁড়ানো জায়েয। কেননা প্রয়োজনবোধে ইমামের দু’পাশে দু’জন মুছল্লী সমান্তরালভাবে দাঁড়াতে পারেন (নাসাঈ হা/১০২৯)। অতএব উপর তলায় ইমামের মাথার উপরে সমান্তরালভাবে দাঁড়ানোয় কোন বাধা নেই।

প্রশ্ন (৯/৯) : স্বীয় আত্মাকে পাপ কাজে প্ররোচিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য করণীয় কি?

-রবীউল ইসলাম

গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

উত্তর : এক্ষেত্রে করণীয় হ’ল, (ক) সর্বদা মৃত্যুর চিন্তা হৃদয়ে জারি রাখা (খ) অহি-র বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা (গ) মন্দকাজের শাস্তি সম্পর্কে পূর্ণরূপে জানা এবং সেগুলি সর্বদা স্মরণ করা (ঘ) কবর ও জাহান্নামের আযাব সম্পর্কে জানা এবং তা স্মরণ করা। (ঙ) ছগীরা গোনাহ সমূহ পরিত্যাগ করা। কেননা ছোট গোনাহ মানুষকে বড় গোনাহের দিকে ধাবিত করে। (চ) কবীরা গোনাহ থেকে তওবা করা ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করা। (ছ) পরকালীন জীবনের জন্য সর্বদা সুন্দরভাবে প্রস্ত্ততি গ্রহণ করা’ (ইবনু মাজাহ হা/৪২৫৯; ছহীহাহ হা/১৩৮৪)

প্রশ্ন (১০/১০) : রামাযান মাসে মৃত্যুবরণ করলে কবরে আযাব হয় না এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ হয় না মর্মে যে বক্তব্য সমাজে প্রচলিত রয়েছে, তার কোন ভিত্তি আছে কি?

-সাইজুদ্দীন

নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। তবে রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, কোন (মুসলিম) ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন (নফল) ছিয়াম পালন করলে এবং এটিই তার জীবনের শেষ আমল হ’লে (অর্থাৎ এ আমলের পর মৃত্যুবরণ করলে) সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (আহমাদ হা/২৩৩৭২; ছহীহ তারগীব হা/৯৮৫)

প্রশ্ন (১১/১১) : কঠিন পরিশ্রমের কারণে বহু শ্রমিক পুরো রামাযান মাস ছিয়াম রাখতে পারে না। এরূপ অবস্থায় পরবর্তীতে ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করা যাবে কি?

-বদরুল শিকদার

পাকুড়, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

উত্তর : শরী‘আত নির্ধারিত কারণ (সফর ও অসুখ) ব্যতীত অন্য কোন কারণে ছিয়াম ত্যাগ করা যাবে না। কঠিন পরিশ্রমের কারণে ছিয়াম রাখা অসম্ভব হয়ে পড়লে উক্ত কাজ পরিত্যাগ করে অল্প পারিশ্রমিকে হ’লেও সহজ কাজ করতে হবে। কোনক্রমেই জীবিকা উপার্জনের জন্য ফরয ইবাদত পরিত্যাগ করা যাবে না। বরং এক্ষেত্রে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথার্থভাবে ভরসা করতে পার, তাহ’লে অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে রিযিক দান করবেন, যেভাবে তিনি পাখিকে রিযিক দিয়ে থাকেন। তারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয় ও সন্ধ্যায় পেট ভরে ফিরে আসে’ (তিরমিযী হা/২৩৪৪, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৫২৯৯)

প্রশ্ন (১২/১২) : কাদিয়ানীদের প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে কোন বাধা আছে কি?

-হোসাইন, রামপুরা, ঢাকা।

উত্তর : কাদিয়ানীরা অমুসলিম। কিন্তু তারা নিজেদেরকে ‘মুসলিম জামাত’ বলে দাবী করে এবং মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে তাদের দলে ভিড়ায়। এভাবে শী‘আ ও কাদিয়ানীদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পিছনে ব্যয় হয়। সুতরাং এদের প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘শয়তানেরা তাদের বন্ধুদের মনে এমন সব কুমন্ত্রণা প্রবেশ করিয়ে দেয়, যেন তারা তোমাদের সাথে ঝগড়া করে। অতএব যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে’ (আন‘আম ৬/১২১)

প্রশ্ন (১৩/১৩) : সরকারী বীমা বা ব্যাংকে চাকুরী করতে বাধা আছে কি?

-তাওকীর আহমাদ

সুরিটোলা, ঢাকা।

উত্তর : বাংলাদেশের কোন ব্যাংক ও বীমা কোম্পানী পরিপূর্ণরূপে সূদমুক্ত নয়। সুতরাং এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করা, বিনিয়োগ করা ও ঋণ গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সূদখোরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন (বাক্বারাহ ২/২৭৮-৭৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘সূদের দ্বারা সম্পদ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন তার শেষ পরিণতি হ’ল নিঃস্বতা’ (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৮২৭, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (১৪/১৪) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, নবী-রাসূলগণের দেহ মাটি হয় না বরং অক্ষত থাকে। এ বক্তব্যের সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন। এছাড়া নবী-রাসূলগণের কবরের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানা যায় কি?

-আব্দুল মজীদ

কাজলা, রাজশাহী।

উত্তর : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মাটির জন্য নবীগণের লাশ সমূহকে হারাম করেছেন’। অর্থাৎ মাটি তাদের দেহকে বিনষ্ট করতে পারে না (আবুদাঊদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৩৬১)। আমাদের নবী (ছাঃ) ব্যতীত অন্য কোন নবীর কবরের সঠিক অবস্থান জানা যায় না। যদিও কুরআন ও হাদীছের পূর্বাপর বর্ণনায় তাদের জন্মস্থান, কর্মস্থল ও মৃত্যুর স্থান বা এলাকা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায়। যেমন ফিলিস্তীনে হযরত ইবরাহীম, ইয়াকূব, ইসহাক, মূসা (আঃ) প্রমুখ নবীগণের কবর সম্পর্কে জানা যায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! যদি আমি সেখানে (বায়তুল মুক্বাদ্দাসে) থাকতাম, তাহ’লে রাস্তার পাশে লাল টিলার নিকটে তাঁর (মূসার) কবরটা দেখাতাম’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৫৭১৩)

প্রশ্ন (১৫/১৫) :  স্বামী তার স্ত্রীর মোহর আদায় না করে মৃত্যুবরণ করার পর তার আত্মীয়-স্বজন স্বামীর জমি থেকে ১ বিঘা মোহর বাবদ দেওয়ার ওয়াদা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা আদায় করেনি। এক্ষণে উক্ত স্ত্রীর করণীয় কি?

-রবীউল ইসলাম

মাকলাহাট, নওগাঁ।

উত্তর : এজন্য স্ত্রী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। ওয়ারিছগণ এটা আদায় না করলে তারা কঠিন গোনাহের ভাগিদার হবেন। এমনকি কিয়ামতের দিন এ পাপের বোঝা তাদের নিজস্ব নেকী দ্বারা পরিশোধ করতে হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১২৭)। কেননা কাফন-দাফনের পর ওয়ারিছগণের সর্বপ্রথম কাজ হ’ল মৃতের দায় পরিশোধ করা। আর এটাই হ’ল আল্লাহর নির্দেশ (নিসা ৪/১১)

প্রশ্ন (১৬/১৬) : আল্লাহ কর্তৃক জিহাদের প্রস্ত্ততি নেওয়ার আদেশ কি কেবল শাসকদের উপর? না সাধারণ মানুষও এ প্রস্ত্ততি গোপনে গ্রহণ করতে পারবে?

-দীদার বখ্শ

 মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : মুসলিম হৌক অমুসলিম হৌক প্রতিষ্ঠিত কোন সরকারের বিরুদ্ধে একক বা বিচ্ছিন্নভাবে সশস্ত্র জিহাদের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করা ইসলামের নীতি নয়। বরং সশস্ত্র জিহাদের দায়-দায়িত্ব এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্ত্ততি গ্রহণের দায়িত্ব কেবল মুসলিম শাসক বা রাষ্ট্র প্রধানের উপর বর্তায়, সাধারণ নাগরিকদের উপর নয়। আল্লাহ বলেন, তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর ও আনুগত্য কর রাসূলের ও তোমাদের মধ্যকার শাসকের’ (নিসা ৪/৫৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না... (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/১২)

তবে অবশ্যই কোন সরকারের ইসলাম বিরোধী হুকুম মানতে কোন মুসলিম নাগরিক বাধ্য নয় (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬৪)। বরং সর্বাবস্থায় তাওহীদের কালেমাকে সমুন্নত রাখা ও ইসলামী স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করা মুসলমানের উপর ফরয দায়িত্ব। অতএব এমতক্ষেত্রে সরকারের নিকটে কুরআন ও হাদীছের বক্তব্য তুলে ধরাই হ’ল বড় জিহাদ (আবুদাঊদ হা/৪৩৪৪, তিরমিযী; মিশকাত হা/৩৭০৫)। তাই মুসলিম বা অমুসলিম রাষ্ট্রে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণের সকল প্রকার বৈধ প্রচেষ্টাই হ’ল ‘জিহাদ’। যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং তাওহীদের ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে হয়।

এজন্য অবশ্যই কথা, কলম ও সংগঠনের মাধ্যমে এবং প্রয়োজনে আইনী পন্থায় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু যদি বিনা দ্বিধায় ও বিনা প্রচেষ্টায় অনৈসলামী আইন মেনে নেওয়া হয় এবং তার উপর কোন মুসলমান সন্তুষ্ট থাকে, তাহ’লে সে অবশ্যই কবীরা গোনাহগার হবে (মুসলিম হা/১৮৫৪, মিশকাত হা/৩৬৭১)। সাধ্যমত চেষ্টা সত্ত্বেও বাধ্য হ’লে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং শাসকের হেদায়াতের জন্য দো‘আ করতে হবে (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৫৯৯৬)

প্রতিষ্ঠিত কোন সরকারকে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাতের জন্য গোপন প্রস্ত্ততি গ্রহণ মূলতঃ জিহাদের নামে স্রেফ আত্মপ্রতারণা মাত্র। এর মাধ্যমে দ্বীনের বিজয় তো দূরে থাক, উল্টা নিরপরাধ সাধারণ মুসলিমরা অহেতুক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয় এর ফলে সার্বিকভাবে ইসলামের দাওয়াতকে সংকুচিত করে দেয়া হচ্ছে। আগে যেমন সর্বত্র স্বাধীনভাবে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া যেত, বর্তমানে আলেমগণ সেভাবে আর দাওয়াতী কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। অত্যাচারী শাসকদের অনৈসলামী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আলেমগণের স্বাধীন ভূমিকা বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। অতএব প্রতিষ্ঠিত ও সর্বজনস্বীকৃত শাসক বা আমীরের নির্দেশ ছাড়া গোপনে জিহাদের প্রস্ত্ততি গ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে শরী‘আত বিরোধী কাজ।

প্রশ্ন (১৭/১৭) : কোন ব্যক্তির নামের আগে শহীদ যুক্ত করে ডাকা যায় কি?

-মামূন, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা।

উত্তর : যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহই সর্বাধিক অবগত কে আল্লাহর রাস্তায় আহত হয়েছে’ (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৮০২)। ওমর ফারূক (রাঃ) একদা খুৎবায় বলেন, তোমরা বলে থাক যে, অমুক ব্যক্তি শহীদ, অমুক ব্যক্তি শহীদ। তোমরা এরূপ বলো না। বরং ঐরূপ বল যেরূপ রাসূল (ছাঃ) বলতেন। আর তা হ’ল, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুবরণ করেছে অথবা নিহত হয়েছে, সেই ব্যক্তি শহীদ’ (আহমাদ হা/২৮৫, সনদ হাসান; ফাৎহুল বারী ‘জিহাদ’ অধ্যায় ৬/৯০)। অত্র হাদীছে বর্ণিত ‘শহীদ’ বলতে শহীদ নামকরণ বুঝানো হয়নি। বরং শহীদের মর্যাদা লাভকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর রাস্তায় নিহত কোন ছাহাবীর নামের সাথে ‘শহীদ’ লকব যোগ করে ডাকা হয়নি। অতএব কারু নামের সাথে শহীদ যুক্ত করে ডাকা শরী‘আতসম্মত নয়।

প্রশ্ন (১৮/১৮) : ছালাতের সময় হাত কোথায় বাঁধতে হবে? নাভির নীচে হাত বাঁধা যাবে কি?

-আহমাদ, কালুপাড়া, বরিশাল।

উত্তর : ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে (বুখারী হা/৭৪০) এবং তা বুকের উপর রাখবে (ছহীহ ইবনে খুযায়মা হা/৪৭৯)। নাভির নীচে হাত বাঁধার হাদীছ সমূহ যঈফ। যার একটিও মুহাদ্দেছীনের নিকট দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় (মির‘আত ৩/৬৩; তুহফাতুল আহওয়াযী ১/৮৯)। অতএব নাভির নীচে হাত বাঁধা ছহীহ হাদীছ সম্মত নয়।

প্রশ্ন (১৯/১৯) : পিতা-মাতার মাথায় হাত রেখে কসম খাওয়া যাবে কি?

-শফীকুল ইসলাম

খাফজী, সঊদী আরব।

উত্তর : পিতা-মাতার মাথায় হাত রেখে কসম করা যাবে না। কেননা এর দ্বারা পিতা-মাতার নামে কসম করা বুঝায়। যা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম করল, সে ব্যক্তি শিরক করল’ (তিরমিযী হা/১২৪১; মিশকাত হা/৩৪১৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ যদি কসম করতে চায় তাহ’লে সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে অথবা চুপ থাকে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪০৭)। অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা মূর্তির নামে এবং তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪০৮)

প্রশ্ন (২০/২০): কোন মানুষের নাম তাকে অপমান করার জন্য বিকৃত করা যাবে কি?

-মনযূর হোসেন

পাঠানপাড়া, কদমতলী, সিলেট।

উত্তর : মানুষকে অপমান করার জন্য তার নাম বিকৃত করা কবীরা গুনাহ এবং তা গীবতের শামিল। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কোন সম্প্রদায় যেন অপর কোন সম্প্রদায়কে নিন্দা না করে। হ’তে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। নারীরা যেন অন্য কোন নারীকে ঠাট্টা না করে। হ’তে পারে তারা তার চেয়ে উত্তম। তোমরা পরস্পরের পিছনে বদনাম কর না এবং তোমরা পরস্পরকে মন্দ লকবে ডেকো না। ঈমানের পরে ফাসেকী কতই না মন্দ নাম! যারা এসব থেকে তওবা করে না তারাই হ’ল যালিম’ (হুজুরাত ১১)

প্রশ্ন (২১/২১): ছিয়াম অবস্থায় দাড়ি শেভ করা, নখ কাটা বা পেষ্ট দ্বারা ব্রাশ করায় ছিয়ামের কোন ক্ষতি হবে কি?

-নযরুল ইসলাম

রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

উত্তর : এসবে ছিয়ামের কোন ক্ষতি হয় না। উল্লেখ্য যে, দাড়ি শেভ করা সর্বদাই গুনাহের কাজ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা গোঁফ ছাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও’ (বুখারী হা/৫৮৯৩)

প্রশ্ন (২২/২২) : ফিৎরার চাউলের মূল্য মসজিদ নির্মাণ কাজে ব্যয় করা যাবে কি?

-সুমন, জলঢাকা, নিলফামারী

উত্তর : যাবে না। কারণ কুরআনে আল্লাহ যাকাতের যে ৮টি খাত উল্লেখ করেছেন মসজিদ তার অন্তর্ভুক্ত নয় (ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম ৪৩১ পৃঃ)। আর যাকাত যেসব স্থানে ব্যয় হয় ফিৎরাও সেখানে ব্যয় হয় (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৪৭৩)

প্রশ্ন (২৩/২৩) : শিশু সন্তান পিতা-মাতার সাথে হজ্জ পালন করলে তার কোন নেকী হবে কি বা হজ্জের ফরযিয়াত আদায় হয়ে যাবে কি? এছাড়া উক্ত সন্তানের জন্য কি পৃথকভাবে ত্বাওয়াফ ও সাঈ করতে হবে না সন্তান কোলে নিয়ে করা হ’লে সেটাই যথেষ্ট হবে?

-আব্দুর রাযযাক

মোহনপুর, রাজশাহী।

উত্তর : শিশু সন্তান পিতা-মাতার সাথে হজ্জ পালন করলে সে এবং তার পিতা-মাতা নেকী পাবে। জনৈক মহিলা স্বীয় শিশু সন্তানের হজ্জ কবুল হবে কি না জিজ্ঞেস করলে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তার হজ্জ হয়ে যাবে এবং এজন্য তুমিও নেকী পাবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২৫১০)। তবে এতে তার হজ্জের ফরযিয়াত আদায় হবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘কোন শিশু বালেগ হওয়ার পূর্বে হজ্জ করলেও পরবর্তীতে তাকে পুনরায় হজ্জ করতে হবে’ (মুসনাদ শাফেঈ, ছহীহুল জামে‘ হা/২৭২৯)। পিতা-মাতা সন্তান কোলে নিয়ে ত্বাওয়াফ-সাঈ করলে তা সন্তানের জন্য যথেষ্ট হবে, পৃথকভাবে করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন (২৪/২৪) : দরিদ্রতার কারণে ফিৎরা আদায় করতে না পারলে গোনাহগার হবে কি?

-আব্দুল হামীদ

রাণীগঞ্জ, দিনাজপুর।

উত্তর : একান্ত বাধ্যগত অবস্থা ব্যতীত সাধারণভাবে দরিদ্রতার কারণে ফিৎরা আদায় করতে না পারলে গুনাহগার হবে। কারণ ফিৎরা আদায় করা ধনী-গরীব সকল মুসলমানের উপর ফরয। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাকাতুল ফিৎর ফরয করেছেন মাথা প্রতি এক ছা‘ করে খেজুর, যব, অন্য বর্ণনায় খাদ্যবস্ত্ত প্রত্যেক মুসলিম ক্রীতদাস, স্বাধীন, পুরুষ, নারী, ছোট ও বড় সকলের উপর। আর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন (ঈদের) ছালাতে বের হবার আগেই সেটা আদায় করা হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৮১৫)। অতএব ফিৎরা আদায়ের জন্য পূর্ব থেকেই চেষ্টা করতে হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকাজে তাওফীক দান করবেন।

প্রশ্ন (২৫/২৫) : জনৈক আলেম বলেন, আকীকার গোশত সাত দিনের বেশী রাখা যাবে না। এ ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে বাধিত করবেন।

-শাহজাহান, বাহরাইন।

উত্তর : এটি কুরবানীর গোশতের ন্যায়। যা যতদিন খুশী রেখে খাওয়া যায় (আহমাদ হা/২৬৪৫৮, মুসলিম হা/১৯৭৩)। ইমাম মালেক (রহঃ)-কে আকীকার গোশত জমা রেখে খাওয়া যাবে কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এতে কোন দোষ নেই (মাওয়াহেবুল জালীল ফী শারহে মুখতাছার খালীল ৩/২৫৮)

প্রশ্ন (২৬/২৬) : বহু পুরাতন খানজাহান আলীর সময়কার কবরস্থানের জমি বায়না করার পর এলাকাবাসী বলছে, এটা কবরস্থান ছিল। মালিক অস্বীকার করছেন। এখানে ঘর-বাড়ি করা যাবে কি?

-বাবুল ইসলাম, বাগেরহাট।

উত্তর : কবর বহু পুরাতন হ’লে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা যায় (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩০১)। আর ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জমির মালিকের কথাই অগ্রাধিকার যোগ্য (তিরমিযী হা/১২৭০, মিশকাত হা/২৮৮০, সনদ ছহীহ)

প্রশ্ন (২৭/২৭) : ছালাত আদায় কালে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোন বিপদের সংবাদ পেলে ছালাত পরিত্যাগ করা যাবে কি?

- শামীম আখতার

হরিহরপাড়া, মুর্শিদাবাদ, ভারত।

উত্তর : অসুস্থতার মাত্রা অনুযায়ী মুছল্লী স্বীয় বিবেচনায় যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সহ্য ক্ষমতার বাইরে গেলে ছালাত ভঙ্গ করতে কোন বাধা নেই। অনুরূপভাবে বিপদের সংবাদের ক্ষেত্রেও অবস্থা অনুযায়ী ছালাত সংক্ষেপ করতে পারে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৩০) অথবা ছালাত ছেড়ে দিয়ে পরে তা পুনরায় আদায় করতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)

প্রশ্ন (২৮/২৮) : মহিলারা জানাযা ও কাফন-দাফন কার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে কি?

-আব্দুল্লাহ আল-মনছূর

মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

উত্তর : মহিলারা জানাযার ছালাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাছ (রাঃ)-এর জানাযায় আয়েশা (রাঃ) সহ রাসূল (ছাঃ)-এর অন্যান্য স্ত্রীগণ অংশগ্রহণ করেছিলেন (মুসলিম হা/৯৭৩)। মহিলারা স্বামী বা যেকোন মহিলার গোসল করানোর ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে (ইবনু মাজাহ হা/১৪৬৪-৬৫; মিশকাত হা/৫৯৭১)। তবে তারা দাফন কার্যে অংশগ্রহণ করবে না। কেননা এ ব্যাপারে কোন দলীল পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন (২৯/২৯) : ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাকে বিনা জানাযায় পুঁতে দিতে হবে মর্মে বক্তব্যটির কোন ভিত্তি আছে কি?

-মুসলিম, বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : উপরোক্ত কথাটি ভিত্তিহীন। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাযা করতে হবে। রাসূল (ছাঃ) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাযা নিজে পড়াতেন না। তবে ছাহাবায়ে কেরামকে পড়ার নির্দেশ দিতেন। অবশ্য মৃতের পরিশোধযোগ্য সম্পদ থাকলে বা কেউ তা পরিশোধের দায়িত্ব নিলে তিনি ছালাত আদায় করতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৯০৯। এরূপ ক্ষেত্রে কোন মুসলিম ভাই ও বোন বা সমাজ বা রাষ্ট্র তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নিলে তিনি প্রভূত নেকীর অধিকারী হবেন (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৪)

প্রশ্ন (৩০/৩০) : বিবাহিতা কন্যা পিতার গৃহে তিনদিনের বেশী থাকতে পারবে না। থাকলে সে নিজে তার খরচ বহন করবে। এ বক্তব্য কি শরী‘আতসম্মত?

-যহীরুল ইসলাম, দুবাই।

উত্তর : এগুলি সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। কেননা যেকোন মেয়ের স্বামীর বাড়ীতে যেমন অধিকার আছে, পিতার বাড়ীতেও তেমনি অধিকার রয়েছে। এই অধিকার ভোগের কোন সময়সীমা নেই। যতদিন খুশী মেয়ে তার বাপের বাড়ী থাকবে। সেখানে সে মেহমান নয়, বরং সে তার পিতার রক্তের উত্তরাধিকার। সম্ভবতঃ একটি হাদীছের ভুল ব্যাখ্যা থেকেই উক্ত কুসংস্কারের উদ্ভব হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, মেহমানদারী হ’ল তিনদিন। বাকী সময় হবে ছাদাক্বাহ। অতএব কারু জন্য উচিৎ হবে না তার বেশী দিন অবস্থান করা, যা মেযবানকে বিরক্ত করে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪২৪৪)। অর্থাৎ তিনদিন মেহমানদারী করা কর্তব্য। বাকীটা উপঢৌকন হিসাবে গণ্য হবে। যাতে তিনি নেকী পাবেন। তবে মেহমানের জন্য সেটা উচিৎ হবে না।

প্রশ্ন (৩১/৩১) : রাসূল (ছাঃ) নবুঅতপ্রাপ্তির পূর্বে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। প্রশ্ন হ’ল: কী কারণে ও কিসের ভিত্তিতে তিনি এরূপ করতেন এবং সেখানে তিনি কি ধরনের ইবাদত করতেন?

-মুহাম্মাদ নযরুল ইসলাম

কৌপাড়া, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।

উত্তর : রাসূল (ছাঃ) নবুঅতপ্রাপ্তির পূর্বে রামাযান মাসে হেরাগুহায় বেশী বেশী ইবাদত করতেন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর কাছে একাকিত্বকে পসন্দনীয় করে দিয়েছিলেন। রাতের বেলা একাকী তিনি হেরাগুহায় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৮৪১)। কিন্তু তিনি কি ধরনের ইবাদাত করতেন তার বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে তিনি জাহেলী যুগের কুসংস্কার, অনাচার-অবিচার ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ সহ পরস্পরে মারামারি, কাটাকাটি আর শির্কে ডুবে থাকা জাতিকে কিভাবে আলোর দিশা দিবেন তা নিয়েই চিন্তামগ্ন থাকতেন এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করতেন, এটা সহজেই বুঝা যায়। কারণ তাঁর ন্যায়পরায়ণতার কারণে তিনি ইতিমধ্যেই আল-আমীন উপাধি লাভ করেছিলেন।

প্রশ্ন (৩২/৩২) : মাছ চাষের জন্য পুকুরে মানুষের মলমূত্র নিক্ষেপ করা কি শরী‘আতসম্মত?

-হাফীযুর রহমান

বাগমারা, রাজশাহী।

উত্তর : এটি শরী‘আত সম্মত নয়। কারণ এতে পানি অপবিত্র হয়। রাসূল (ছাঃ) বদ্ধ পানিতে মলমুত্র ত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৪)

প্রশ্ন (৩৩/৩৩) : পানির পাত্র ঢেকে না রাখলে শয়তান পেশাব করে দেবে মর্মে শরী‘আতে কোন বর্ননা রয়েছে কি?

-মুস্তাফীযুর রহমান

তানোর, রাজশাহী।

উত্তর : উক্ত মর্মে সরাসরি কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা খাদ্যের পাত্র ঢেকে রাখ এবং পানির পাত্র বন্ধ কর। কেননা বছরে এমন একটি রাত্রি আছে, যেদিন মহামারি নাযিল হয়। সেদিন খাদ্য বা পানীয়ের ঢাকনাবিহীন খোলা পাত্রে উক্ত মহামারি প্রবেশ করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৪২৯৮)

প্রশ্ন (৩৪/৩৪) : ধানচাষের সময় নির্ধারিত দরের ভিত্তিতে অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করে ধান উঠার পর বাজার মূল্যের চেয়ে কমে পূর্ব নির্ধারিত মুল্যে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে কি?

-রাসেল

জলঢাকা, নিলফামারী।

উত্তর : উভয়ের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে এরূপ চুক্তি জায়েয (বুখারী হা/২২৪০)। একে ‘বায়‘উস সালাম’ বলা হয়। তবে এক্ষেত্রে যেন কেউ যুলুমের শিকার না হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। আল্লাহ বলেন, তোমরা অত্যাচার করো না এবং অত্যাচারিত হয়ো না’ (বাক্বারাহ ২/২৭৯)

প্রশ্ন (৩৫/৩৫) : দরূদ হিসাবে ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লে ‘আলা সাইয়িদিনা মাওলানা মুহাম্মাদ’ পাঠ করা যাবে কি? দরূদ হিসাবে এর উৎস সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।

-রফীকুল ইসলাম

নিয়ামতপুর, নওগাঁ।

উত্তর : দরূদ হিসাবে এটা পাঠ করা যাবে না। কারণ এটি ছহীহ বা যঈফ কোন বর্ণনা দ্বারাই প্রমাণিত নয়। বরং একাধিক গ্রন্থে এটি জনৈক ব্যক্তির স্বপ্নে দৃষ্ট দরূদ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে (নুযহাতুল মাজালেস ওয়া মুনতাখাবুন নাফায়েস ২৮৪ পৃঃ)। সুতরাং এসব দরূদ পরিত্যাগ করে দরূদে ইবরাহীমী পাঠ করতে হবে (বুখারী, মিশকাত হা/৯১৯)

প্রশ্ন (৩৬/৩৬) : সূর্য ডুবে গেছে মনে করে আযান দিয়ে ইফতার করে ফেললে উক্ত ছিয়ামের ক্বাযা আদায় করতে হবে কি?

-হারূন, ঝিনাইদহ।

উত্তর: ভুলক্রমে হ’লে কাযা করার প্রয়োজন নেই। কারণ অনিচ্ছাকৃত ভুল মার্জনীয় (আহযাব ৫)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের অনিচ্ছাকৃত অপরাধ ও ভুল সমূহকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে (ইবনু মাজাহ হা/২০৪৩, মিশকাত হা/৬২৮৪)। বুখারীর ১৯৫৯ নম্বর হাদীছ উল্লেখ করে জমহূর বিদ্বানগণ ক্বাযা করতে বললেও সেখানে রাসূল (ছাঃ)-এর কোন নির্দেশনা নেই বরং প্রদত্ত বক্তব্যটি হাদীছের রাবী হিশাম বিন উরওয়ার নিজস্ব রায় মাত্র। কিন্তু সেখানেও তিনি বলেছেন, আমি জানি না তাঁরা ক্বাযা করেছিলেন কি-না। অতএব এ হাদীছ থেকে ক্বাযা করার ব্যাপারে কোন নিশ্চিত নির্দেশনা পাওয়া যায় না (ফৎহুলবারী হা/১৯৫৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। সুতরাং এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসাবেই গণ্য হবে।

প্রশ্ন (৩৭/৩৭) : আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য দো‘আ করার উদ্দেশ্যে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও মৌলবী-মাওলানাদের দাওয়াত খাইয়ে থাকি। এরূপ কাজ কতটুকু শরী‘আতসম্মত?

-মু‘তাছিম ফুওয়াদ

কাউনিয়া, রংপুর।

উত্তর : এরূপ কাজ শরী‘আত পরিপন্থী। নেকীর উদ্দেশ্যে মৃতব্যক্তির নামে এসব জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হিন্দুদের ‘শ্রাদ্ধ’ অনুষ্ঠানের অনুকরণে মুসলিম সমাজে চালু হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বিদ‘আত। বরং মৃত ব্যক্তির নামে কোন স্থায়ী ছাদাক্বা করা উচিত, যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মৃতের জন্য নেকীর কারণ হয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল ৩টি আমল ব্যতীত। (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ (২) এমন ইল্ম, যার দ্বারা জনগণের কল্যাণ সাধিত হয় এবং (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩ ‘ইল্ম’ অধ্যায়)।                                                                                                                                                                                                               

প্রশ্ন (৩৮/৩৮) : সন্তান জন্মের ৭ম দিনে যদি কুরবানীর ঈদের দিন হয় তবে ক্রয়কৃত পশু শিশুর আকীকা হিসাবে দিতে হবে, না কুরবানী হিসাবে?

-নযরুল ইসলাম 
সাধুহাটি, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।

উত্তর : কুরবানী ও আকীকা দু’টি পৃথক সুন্নাত। সুতরাং তা একই দিনে হ’লে সাধ্যমতে দু’টিই আদায় করবে। নইলে কেবল আকীকা করবে। কেননা আকীকা জীবনে একবার হয় এবং তা সপ্তম দিনেই করতে হয় (আবুদাঊদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৪১৫৩; ইরওয়া হা/১১৬৫)। কিন্তু কুরবানী প্রতি বছরই করা যায়। সমাজে প্রচলিত কুরবানীর পশুতে আকীকার নিয়ত করা শরী‘আত সম্মত নয়। রাসূল (ছাঃ) বা ছাহাবায়ে কেরামের যুগে এ ধরনের আমলের অস্তিত্ব ছিল না (আলোচনা দ্রঃ নায়লুল আওত্বার ৬/২৬৮, ‘আক্বীক্বা’ অধ্যায়; মির‘আত ২/৩৫১ ও ৫/৭৫)

প্রশ্ন (৩৯/৩৯) :  অপবিত্র অবস্থায় আযান দেওয়া যাবে কি?

-মতীউর রহমান

বোয়ালমারী, ফরিদপুর।

উত্তর : যাবে। তবে পবিত্র অবস্থায় আযান দেওয়াই উত্তম (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৯৯, ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৬/৬৭)। ‘ওযূ ব্যতীত কেউ আযান দিবে না’ বলে যে হাদীছটি তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে, তা যঈফ (তিরমিযী হা/২০০)

প্রশ্ন (৪০/৪০) : হযরত আদম (আঃ) শ্রীলংকায় অবতরণ করেছিলেন মর্মে যে জনশ্রুতি রয়েছে তা কতটুকু নির্ভরযোগ্য? অথচ এর উপর ভিত্তি করে ‘আদম্স পিক’ নামে সেখানে একটি পাহাড়কে অবতরণস্থল হিসাবে গণ্য করে মাযার বানিয়ে লোকেরা পূজা করছে।

-আরীফুল ইসলাম

ছোটবনগ্রাম, রাজশাহী।

উত্তর : ছহীহ দলীলের দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোন ভিত্তি নেই। তবে মক্কার না‘মান উপত্যকায় (বর্তমান আরাফা ময়দানে) আল্লাহ আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল আদম সন্তানের রূহ ও পিপীলিকাসদৃশ দেহ হাযির করে তাদের কাছ থেকে ‘আহদে আলাস্ত্ত’ অর্থাৎ আল্লাহর প্রভুত্বের স্বীকৃতি ও তাঁর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন (আ‘রাফ ১৭২-৭৩; আহমাদ হা/২৪৫৫; মিশকাত হা/১২১)। সে হিসাবে ধারণা করা যায় যে, তিনি মক্কায় অবতরণ করেছিলেন। আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।

HTML Comment Box is loading comments...